ঘোষণা

অভিন্ন নদীর পানি বণ্টনে যৌথ নদী কমিশনের বৈঠকে সম্মত ভারত

অনলাইন ডেস্ক | বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২০ | পড়া হয়েছে 49 বার

অভিন্ন নদীর পানি বণ্টনে যৌথ নদী কমিশনের বৈঠকে সম্মত ভারত

অভিন্ন নদীর পানি বণ্টনে যৌথ নদী কমিশনের বৈঠকে সম্মত ভারত!
দীর্ঘদিন ধরে ঝুলে থাকা তিস্তা নদীর পানি বণ্টনের বিষয়টির সমাধান করতে ভারতের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে বাংলাদেশ সরকার।

২৯ সেপ্টেম্বর (মঙ্গলবার) পররাষ্ট্রমন্ত্রী পর্যায়ের যৌথ পরামর্শক কমিশনের (জেসিসি) ষষ্ঠ বৈঠকে এ আহবান জানায় বাংলাদেশ।

জেসিসি বৈঠকের যৌথ বিবৃতিতে তিস্তা ইস্যুতে দুপক্ষের মন্ত্রী পর্যায়ে বৈঠকের ঐকমত্য হয়েছে। প্রতিবারই ভারতের সাথে উচ্চপর্যায়ের সভায় জেআরসি বৈঠক শিগগিরই অনুষ্ঠানের তাগাদা দেয়া হলেও শেষ পর্যন্ত তা হয়নি।

বৈঠকে বাংলাদেশের নেতৃত্ব দেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. আব্দুল মোমেন ও ভারতের নেতৃত্ব দেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর।

ভারতের শীর্ষ পর্যায় থেকে বারবার প্রতিশ্রুতি দেয়া সত্ত্বেও এই চুক্তি সই হচ্ছে না। এবার তা বাস্তবায়নে জোর দিয়েছে বাংলাদেশ।

২০১১ সালের সেপ্টেম্বরে ভারতের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিংয়ের ঢাকা সফরের আগে দুই দেশের পানি সম্পদ মন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠকে যৌথ ঘোষণায় তিস্তার পানিবণ্টন চুক্তির বিষয়ে দুই পক্ষ একমত হয়েছিল।

মনমোহন সিংয়ের সফরেই বহু প্রতীক্ষিত তিস্তার পানিবণ্টন চুক্তি হওয়ার কথা থাকলেও পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরোধিতায় তা আটকে যায়।

নরেন্দ্র মোদীর বিজেপি সরকার ভারতের ক্ষমতায় আসার পর তিস্তা চুক্তি নিয়ে আশার কথা কথা শোনা গেলেও মমতার মত বদলায়নি।

দুই দেশের যৌথ নদী কমিশনের (জেআরসি) বৈঠকও আটকে আছে প্রায় ১০ বছর ধরে। ২০১০ সালে সর্বশেষ বৈঠক হয়েছিল। জেআরসি বৈঠকও ‘শিগগির’করার বিষয়ে আলোচনা হয়। তবে দিনক্ষণ ঠিক হয়নি।

তিস্তা ছাড়াও অন্য ছয়টি যৌথ নদীর- মনু, মুহুরী, খোয়াই, গোমতী, ধরলা ও দুধকুমার- পানি বণ্টনের বিষয়ে অন্তর্বর্তী চুক্তির বিষয়ে ফ্রেমওয়ার্ক তৈরির উপর গুরুত্ব দেন তারা।

যৌথ ঘোষণায় দ্রুত সময়ে যৌথ নদী কমিশনের মন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠক যেন হয়, সে বিষয়ে উদ্যোগ নিতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানান দুই পররাষ্ট্রমন্ত্রী।

আলোচনায় আরও যেসব বিষয়

করোনাভাইরাস মহামারীর প্রেক্ষাপটে ভারতের সঙ্গে বিশেষ বিমান যোগাযোগ চালুর বিষয়েও বৈঠকে আলোচনা হয়।

এছাড়াও ভারতের লাইন অব ক্রেডিটের আওতায় উন্নয়ন প্রকল্পগুলো যেন সময়মতো বাস্তবায়ন হয় সে বিষয়ে বৈঠকে আলোচনা হয়েছে।

জ্বালানি ও বিদ্যুৎ সহযোগিতার ক্ষেত্রে বাংলাদেশ-ভারতের সঙ্গে নেপাল এবং ভুটানের ত্রিপক্ষীয় সহযোগিতা সম্প্রসারণের বিষয়েও আলোচনা হয়েছে।

ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফের গুলিতে ক্রমবর্ধমান হারে বাংলাদেশী হত্যা শূন্যে নামিয়ে আনার প্রতিশ্রুতি বারবার দিলেও বাস্তবে তার প্রতিফলন ঘটছে না। এ বিষয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে সরকার।

ভারতে বাংলাদেশী পণ্য রফতানির ক্ষেত্রে অশুল্ক বাধা ও যথাযথ বাণিজ্যিক সুবিধার অভাবের বিষয়টি জেসিসি বৈঠকে উত্থাপন করা হয়।

বাংলাদেশী পণ্য রফতানির বাধাগুলো দূর করতে ভারতকে মান সনদ, নির্দিষ্ট বন্দরের বাধ্যবাধকতা এবং বন্দরের অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতাগুলো সমাধানের তাগিদ দেয় সরকার। বাংলাদেশ একই সাথে বিনিয়োগ নীতির ক্ষেত্রে সমতা আনার অনুরোধ জানায়।

নিত্য প্রয়োজনীয় খাদ্যপণ্যের ওপর পূর্ব ঘোষণা ছাড়া নিষেধাজ্ঞা না দেয়ার জন্য ভারতকে অনুরোধ করা সত্বেও ভারত গত বছরের মতো চলতি মাসেও কোনো ধরনের পূর্ব ঘোষণা ছাড়াই হঠাৎ করে পেঁয়াজ রফতানি বন্ধ করে দেয়।

বৈঠকে পেঁয়াজ রফতানি আকস্মিকভাবে বন্ধের ভারতীয় সিদ্ধান্তে বাংলাদেশের বাজারের ওপর নেতিবাচক প্রভাব তুলে ধরা হয়।

জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের অস্থায়ী সদস্য হিসেবে রোহিঙ্গাদের টেকসই ও নিরাপদ প্রত্যাবাসনে ভারত আরো অর্থপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে বাংলাদেশের প্রত্যাশার কথা জানানো হয়।

এ ছাড়া জেসিসি বৈঠকে দুই দেশের জনগণের মধ্যে বন্ধন আরো বাড়ানোর উপায় নিয়ে আলোচনা হয়েছে।

Facebook Comments

বাংলাদেশ সময়: ২:২৩ অপরাহ্ণ | বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২০

জাপানের প্রথম অনলাইন বাংলা পত্রিকা |

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত