ঘোষণা

কবিগুরুর ১৫৯তম জন্মদিন আজ

| শুক্রবার, ০৮ মে ২০২০ | পড়া হয়েছে 103 বার

কবিগুরুর ১৫৯তম জন্মদিন আজ

বিবেকবার্তা প্রতিবেদক : ‘তোমার প্রকাশ হোক কুহেলিকা করি উদ্ঘাটন/সূর্যের মতন।/রিক্ততার বক্ষ ভেদি আপনারে করো উন্মোচন।/উদয়দিগন্তে ওই শুভ্র শঙ্খ বাজে/মোর চিত্তমাঝে/চির-নূতনেরে দিল ডাক/পঁচিশে বৈশাখ।’

কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ‘হে নূতন’ গানে চির নতুনের মধ্যে দিয়ে তার নিজের পৃথিবীকে আগমনের শুভক্ষণকে তুলে ধরেছিলেন। আজ পঁচিশে বৈশাখ। কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ১৫৯ তম জয়ন্তী। তবে ১৫৯ বছরের মধ্যে লকডাউনে সীমাবদ্ধতার ভেতর দিয়ে পালন হচ্ছে কবিগুরুর জন্মদিন।

কবির জন্মদিন উপলক্ষে বাণী দিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বাঙালির মনন ও সৃজনে রবীন্দ্রনাথ এক অবিচ্ছেদ্য অংশ। বিশ্বের বুকে বাঙালি ও বাংলা সাহিত্যকে মহিমার সঙ্গে তুলে ধরতেও রয়েছে কবিগুরুর ভূমিকা। আর তাঁর সাহিত্যকর্ম, সংগীত, জীবনদর্শন, মানবতা, ভাবনা- সবকিছুই সত্যিকারের বাঙালি হতে অনুপ্রাণিত করে। এ দেশের জাতীয় সংগীত রচনা করে বাঙালির চেতনা ও লাল-সবুজের পতাকায় নিজেকে উন্নীত করেছেন সম্মান ও ভালোবাসার আসনে। তিনিই বিশ্বের একমাত্র কবি যিনি বাংলাদেশ, ভারতসহ দুই দেশের জাতীয় সংগীতের রচয়িতা। ‘আমার সোনার বাংলা আমি তোমায় ভালোবাসি’ জাতীয় সংগীতের মধ্য দিয়ে এ দেশের প্রকৃতি, মানুষ ও মানবিকতার কথা বাঙময় করে গেছেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর। কবির জাতীয় সংগীত শুধু জাতিসত্তার চেতনায় অনুরণন তোলে না মুক্তিযুদ্ধের সময় তাঁর গান ও কবিতা এ দেশের মুক্তিকামীদের শিহরিত, আন্দোলিত ও আলোড়িত করেছিল। রবীন্দ্রনাথ মিশে আছেন বাঙালির অস্তিত্বে, সৃজনে ও মননে। যার কারণে বাঙালির মানসপটে তাঁর জন্য রয়েছে অকৃত্রিম ভালোবাসা ও গভীর শ্রদ্ধা। কবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ছিলেন একাধারে কবি, ছোটগল্পকার, ঔপন্যাসিক, নাট্যকার, গীতিকার, সুরকার ও চিত্রকর। রবীন্দ্রনাথের ৫২টি কাব্যগ্রন্থ, ৩৮টি নাটক, ১৩টি উপন্যাস ও ৩৬টি প্রবন্ধ ও অন্যান্য গদ্যসংকলন তাঁর জীবদ্দশায় ও মৃত্যুর পর প্রকাশিত হয়েছে। আর নিজের এসব সৃষ্টিকর্মে তিনি মানবতা ও অসাম্প্রদায়িকতার বিষয় তুলে ধরেছেন। ‘গীতাঞ্জলি’ কাব্যগ্রন্থের জন্য ১৯১৩ সালে নোবেল পুরস্কার লাভ করেন রবীন্দ্রনাথ।

বাঙলির মানসপটে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর সদাই বিরাজমান। তিনি আমাদের অহংকার। বাঙালির জীবনের যত ভাবনা, বৈচিত্র্য আছে, তার পুরোটাই লেখনী, সুর আর কাব্যে তুলে ধরেছেন কবিগুরু।

তার সাহিত্যকর্ম, সঙ্গীত, জীবনদর্শন, মানবতা, ভাবনা- সবকিছুই সত্যিকারের বাঙালি হতে অনুপ্রেরণা দেয়। কবিগুরুর ১৫৮তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বাণী দিয়েছেন। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জন্ম ১২৬৮ বঙ্গাব্দের আজকের দিনে। মা সারদাসুন্দরী দেবী এবং বাবা বিখ্যাত জমিদার ও ব্রাহ্ম ধর্মগুরু দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর। ১৮৭৫ সালে মাত্র ১৪ বছর বয়সে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের মাতৃবিয়োগ ঘটে।

পিতা দেবেন্দ্রনাথ দেশ ভ্রমণের নেশায় বছরের অধিকাংশ সময় কলকাতার বাইরে অতিবাহিত করতেন। তাই ধনাঢ্য পরিবারের সন্তান হয়েও রবীন্দ্রনাথের ছেলেবেলা কেটেছিল ভৃত্যদের অনুশাসনে।

শৈশবে তিনি কলকাতার ওরিয়েন্টাল সেমিনারি, নরম্যাল স্কুল, বেঙ্গল একাডেমি ও সেন্ট জেভিয়ার্স কলেজিয়েট স্কুলে পড়াশোনা করেন। ছেলেবেলায় জোড়াসাঁকোর বাড়িতে অথবা বোলপুর ও পানিহাটির বাগানবাড়িতে প্রাকৃতিক পরিবেশের মধ্যে ঘুরে বেড়াতে বেশি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করতেন।

৮ বছর বয়সে তিনি কবিতা লেখা শুরু করেন। ১৮৭৮ সালে ব্যারিস্টারি পড়ার উদ্দেশে তিনি ইংল্যান্ড যান। সেখানে তিনি ব্রাইটনের একটি পাবলিক স্কুলে ভর্তি হন। ১৮৭৯ সালে ইউনিভার্সিটি কলেজ লন্ডনে আইনবিদ্যা নিয়ে পড়াশোনা শুরু করেন।

প্রায় দেড় বছর ইংল্যান্ডে কাটিয়ে ১৮৮০ সালে কোনো ডিগ্রি না নিয়ে দেশে ফিরে আসেন। ১৮৮৩ সালের ভবতারিণীর সঙ্গে তিনি বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। বিবাহিত জীবনে ভবতারিণীর নামকরণ হয়েছিল মৃণালিনী দেবী।

এর মধ্যেই চলতে থাকে তার সাহিত্যচর্চা। ১৮৯১ সাল থেকে পিতার আদেশে নদিয়া, পাবনা, রাজশাহী ও উড়িষ্যার জমিদারি তদারকি শুরু করেন রবীন্দ্রনাথ। কুষ্টিয়ার শিলাইদহের কুঠিবাড়িতে তিনি দীর্ঘ সময় অতিবাহিত করেন।

১৯০১ সালে রবীন্দ্রনাথ সপরিবারে শিলাইদহ ছেড়ে চলে আসেন বীরভূম জেলার বোলপুর শহরের উপকণ্ঠে শান্তিনিকেতনে। বাংলা ভাষা ও সাহিত্যকে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর পৌঁছে দিয়েছেন বিকাশের চূড়ান্ত সোপানে। বাংলা ভাষার সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ সাহিত্যিক রবীন্দ্রনাথকে গুরুদেব, কবিগুরু ও বিশ্বকবি অভিধায় ভূষিত করা হয়। রবীন্দ্রনাথের ৫২টি কাব্যগ্রন্থ, ৩৮টি নাটক, ১৩টি উপন্যাস ও ৩৬টি প্রবন্ধ ও অন্যান্য গদ্যসংকলন তার জীবদ্দশায় ও মৃত্যুর পর প্রকাশিত হয়েছে।

কর্মসূচি : বৈশ্বিক দুর্যোগ করোনা মহামারীর কারণে কবিগুরুর ১৫৯তম জন্মবার্ষিকীতে থাকছে না কোনো আয়োজন। তবে প্রধানমন্ত্রীর ডিজিটালি উদ্যাপনের পরামর্শ অনুযায়ী সংস্কৃতি মন্ত্রণালয় ডিজিটালি প্রচারের জন্য একটি অনুষ্ঠান ধারণ করেছে। ধারণকৃত এ অনুষ্ঠানটি আজ সকাল ১০টায় দেশের বিভিন্ন চ্যানেলে প্রচার করা হয়েছে। এ ছাড়া ছায়ানটের ইউটিউব চ্যানেলে দেখা যাবে ‘ওই মহামানব আসে’ শীর্ষক বিশেষ অনুষ্ঠান। এ আয়োজনের গ্রন্থনা করেছেন ছায়ানট সভাপতি সন্জীদা খাতুন। http://www.bit.ly/chhayanaut এই ঠিকানা থেকে অনুষ্ঠানটি দেখা যাবে।

Facebook Comments

বাংলাদেশ সময়: ৮:৩৬ পূর্বাহ্ণ | শুক্রবার, ০৮ মে ২০২০

জাপানের প্রথম অনলাইন বাংলা পত্রিকা |

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

অশ্রু

১৩ জুলাই ২০২০

শিখে গেছি

২৫ জুলাই ২০২০

ঝিরিঝিরি পাতার গাছটি

০৪ সেপ্টেম্বর ২০২০

মালতি

২৫ জুলাই ২০২০

 হিংসুটে

১৩ জুলাই ২০২০

 ফুটপাথ

৩০ জুলাই ২০২০

অর্ধ গোলাপ

১৭ আগস্ট ২০২০

সুন্দর মন

০৯ নভেম্বর ২০২০

অচেনা প্ল্যাটফর্ম

১৫ নভেম্বর ২০২০

চন্দ্রাবলী

১৬ নভেম্বর ২০২০

ঘিলু শুকিয়ে ঝরেপড়া পরিচয়

১৪ সেপ্টেম্বর ২০২০