ঘোষণা

করোনাভাইরাস মোকাবেলা ও রাষ্ট্রের, জনগণের দায় এবং স্যাডিষ্ট সায়মা হাসান

| সোমবার, ৩০ মার্চ ২০২০ | পড়া হয়েছে 132 বার

করোনাভাইরাস মোকাবেলা ও রাষ্ট্রের, জনগণের দায় এবং স্যাডিষ্ট সায়মা হাসান

সাইফুর রহমান কায়েস

দুস্থ মানুষের সহায়তায় যারা এগিয়ে এলেন, করোনার ভ্যাকসিন পরীক্ষার জন্য যারা নিজের জীবনকে তুচ্ছজ্ঞান করে মানবতার কল্যাণে এগিয়ে এসেছেন তাদের প্রতি আমার বিনম্র শ্রদ্ধা। তারাই একটি মানবিক পৃথিবীর রূপকার। আর যারা কথায় কথায় আল্লাহর গজব বলে গুজব ছড়াচ্ছেন তাদের প্রতি ধিক্কার জানাচ্ছি। এরা হচ্ছেন মানবিক পৃথিবীর বিপ্রতীপে ফ্রাংকেনষ্টাইন স্বরূপ। এই ফ্রাংকেনষ্টাইনদের শক্ত হাতে দমন করা প্রয়োজন।
করোনাভাইরাস নামক দানবকে প্রতিহত করতে যেসকল মহাপ্রাণ ব্যক্তিবর্গ স্বাস্থ্যখাতে দিনরাত নিরলস শ্রম ও মেধা অকাতরে বিনিয়োগ করে যাচ্ছেন তারা হচ্ছেন সামনের কাতারের যোদ্ধা তথা ডাক্তার, সেবিকা, গণমাধ্যম কর্মী। তাদের প্রতি স্যালুট। নিজের জীবনের বড় ঝুঁকি নিয়ে তারা সেবা দিয়ে যাচ্ছেন বলে তাদের প্রতি রাষ্ট্রের দায় ও দায়িত্ব দুটোই আছে। আপদকালীন সময়ের জন্য স্বাস্থ্যঝুঁকিহ্রাস বীমা প্রবর্তন করার জন্য জোর দাবী জানাচ্ছি।
প্রান্তিক শ্রেণির মানুষ যারা বাধ্য হয়েই ঘর থেকে বের হন জীবিকা ও জীবনের তাগিদে তারা মারাত্মকভাবে খাদ্য নিরাপত্তাহীনতার কবলে পড়েছেন লকডাউনের জন্য। তাদের জন্য বিনামূল্যে খাদ্য সরবরাহ করা আমাদের অস্তিত্বের প্রশ্নে খুবই জরুরী। যেখানে বিশ্বের পরাশক্তিসম্পন্ন দেশগুলি এই মহামহিম দুর্যোগকে মোকাবেলা করতে হিমশিম খাচ্ছে সেখানে আমাদের কিছুই হবে না গোছের ভাব নিয়ে বসে থাকা আর বোকার স্বর্গে বাস করা একই কথা। সরকারের দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রীদের কাণ্ডজ্ঞানহীন বাৎচিৎ সরকারের ভাবমূর্তিকে খাটো করছে। তাই এইসব আবালদের এখন থামানো প্রয়োজন। পরিমিতিবোধ এই সময়ে খুবই বাঞ্ছনীয়।
আমরা একটু যশোরের মণিরামপুরের এসি ল্যাণ্ডের কাণ্ডজ্ঞানহীনতার প্রতি আলোকপাত করতে চাই। তিনি একজন স্যাডিষ্ট। আর স্যাডিষ্ট বলেই বাপের বয়সী দুজন মানুষকে কানধরে দাঁড় করিয়ে মোবাইলে ভিডিও ধারণ করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল করেছেন। যেটি পেশাগতভাবে শিষ্টাচার বহির্ভূত কর্মকাণ্ড বলেই প্রতীয়মান হয়েছে। সায়মা হাসানের যোগ্যতা এবং অবধারণ ক্ষমতা নিয়ে প্রশ্নটি থেকেই যায়। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের তরফে আপাতত তাকে প্রত্যাহার করে বিভাগীয় কমিশনারের অফিসে সংযুক্তির বিষয়টি গণমাধ্যমে চাউর হলেও এটি আমাদের বিবেককে অনেকদিন পর্যন্ত তাড়িত করবে যতোদিন পর্যন্ত না তিনি চাকুরী থেকে চূড়ান্তভাবে বরখাস্ত হবেন। কেনোনা এইদেশের সংবিধান বলছে জনগণ হচ্ছেন প্রজাতন্ত্রের মালিক আর সায়মা হচ্ছেন চাকর। তাহলে মালিকের সাথে চাকরের এ কেমন আচরণ? এই আচরণের আচড় কিন্তু চূড়ান্তভাবে সরকারের ঘাড়েই পড়ে। তাই তাকে দ্রুততম সময়ের মধ্যে শৃঙ্খলা ও আচরণবিধি লঙ্ঘনের কারণে চাকুরী থেকে অব্যাহতি দেয়া হোক।
করোনাভাইরাস মহাদুর্যোগকালে সবাইকে এগিয়ে আসা প্রয়োজন। আমাদের সীমিত সামর্থ্যের পরিকল্পিত ব্যবহারের মাধ্যমে দুর্যোগ মোকাবেলায় সবার অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে। বড়বড় শিল্পমালিকদেরকে এ কাজে শরীক হতে সরকারের তরফে চাপ সৃষ্টি করা হোক। আলিবারা, দরবেশবাবা সকলের প্রতিই রইলো মিনতি।

 

————-

লেখক-

একজন এন জি ও কর্মী এবং কলামিষ্ট।

Facebook Comments

বাংলাদেশ সময়: ৪:৪৪ অপরাহ্ণ | সোমবার, ৩০ মার্চ ২০২০

জাপানের প্রথম অনলাইন বাংলা পত্রিকা |

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত