ঘোষণা

করোনা পরিস্থিতি এবং কৃষক ও কৃষিখাত

| শুক্রবার, ১০ এপ্রিল ২০২০ | পড়া হয়েছে 113 বার

করোনা পরিস্থিতি এবং কৃষক ও কৃষিখাত

সাইফুর রহমান কায়েস,,

দেশের কমিউনিটি সেন্টারগুলোকে অস্থায়ীভাবে হাসপাতালে রূপান্তর করা হোক। এখানে হোম কোয়ারেন্টাইন, আইসোলেশনের জন্য লোকজনকে রাখা হোক। নতুন হাসপাতাল তৈরীতে যেমন সময়,অর্থ ব্যয় হবে তেমন অনেক প্রাণের ক্ষয়ের বিষয়টিও জড়িত আছে বলে মনে করি। করোনা পরিস্থিতি আমাদের জাতীয় এবং জনজীবনে এক মহা অস্থিরতার সৃষ্টি করেছে। জনগণের প্রতি রাষ্ট্রের দায় ও দায়িত্ব অনেকাংশেই বাড়িয়ে দিয়েছে। জনগণের শতভাগ সচেতনতার বিষয়টিও এই দুর্যোগ মোকাবেলার জন্য অপরিহার্য। রাষ্ট্র এখন ত্রিমুখী লড়াইয়ের মোকাবেলা করছে। করোনা,ক্ষুধা এবং দুর্নীতি। করোনা এবং ক্ষুধার লড়াইকে পুঁজি করে এক শ্রেণির দুর্নীতিবাজেরা সংগঠিত হচ্ছে। ত্রাণের চাল চুরির মচ্ছবে মেতে উঠছে। ফলে ক্ষুধার্ত মানুষের কোরাসে আকাশ ভারী থেকে আরো ভারীতর হয়ে উঠছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একটি ভিডিও এবং স্থিরচিত্র ভাইরাল হতে দেখা গেছে। ত্রাণের জন্য ত্রাণদাতাদের গাড়ির সাথে পাল্লা দিচ্ছে অবুঝ শিশু ও তাদের হতভাগ্য মা। ক্ষুধা এদেরকে ক্রমশঃ গ্রাস করছে। আর স্থিরচিত্রটি এরকম একজন রিকশাচালক ভাই শরীর খারাপ লাগছে বলে রাস্তার উপরই মৃত্যুবরণ করেছেন। ক্ষুধার জ্বালায় হয়তো এই ভাইটি চলচ্ছক্তি হারিয়ে ফেলেছিলেন, যার পরিণতিতে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়তে হয়েছে। করোনা পরিস্থিতির মোকাবেলার জন্য রাষ্ট্রের তরফে আরো কঠোরতার পাশাপাশি সর্বস্তরের জনগণকে প্রণোদনা দিতে হবে। লকডাউন চলাকালে জনগণের দোরগোড়ায় নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যসামগ্রীর পাশাপাশি সুচিকিৎসা নিশ্চিত করতে হবে। বলা হচ্ছে মৃদুলয়ে সংক্রমণের কথা। কিন্তু পরিস্থিতি বলছে ম্যাসিভ ট্রান্সমিশন ইতিমধ্যে হয়েই গেছে। এটি প্রতিরোধ করতে গেলে মাসব্যাপী লকডাউনে যেতে হবে। তবে কিছুখাতকে এর আওতার বাইরে রাখতে হবে। কৃষিখাতকে এর আওতার বাহিরে রাখতে হবে। অল্পকিছুদিনের মধ্যেই শুরু হচ্ছে বোরোধান কাটা। এই ফসলের জন্য দারুণ বৈরী বিরূপ আবহাওয়া তথা আফাল,শিলাবৃষ্টি ও আগাম বন্যা ও অতিবৃষ্টি,বেড়িবাঁধ না থাকা। যুগ যুগ ধরে এই খাতটি অবহেলিত। ফসলহানির ঝুঁকি হ্রাসের জন্য বীমাব্যবস্থার প্রবর্তন এখন সময়ের দাবী। প্রাপ্ত ফসলের ন্যায্যতা নিশ্চিত করতে হবে। ধানের দাম নির্ধারণ একটা বড় ব্যাপার। ধান উঠার মওসুমে ধানের দরপতন রোধের জন্য সরকারের তরফে ন্যায্যমূল্য নিশ্চিতের মাধ্যনে কৃষকের কাছ থেকে সরাসরি ধান কেনার ব্যবস্থা সচল রাখতে হবে। যাতে কৃষক তার উৎপাদিত ধানের মূল্য পায়। ন্যায্যমূল্য না পেলে কৃষক ধানচাষে আগ্রহ হারাবেন। ধানের উপর কৃষকের নিজের পরিবার প্রতিপালনের বিষয়টিই যে শুধু জড়িত তা কিন্তু নয়, আমাদের জাতীয় খাদ্যনিরাপত্তাবেষ্টনীর বিষয়টিও যে জড়িত তা অনস্বীকার্য। যে কৃষক ভাই মাথার ঘাম পায়ে ফেলে আমাদের মুখে অন্ন তুলে দেন তার কথা রাষ্ট্রের মনে রাখা প্রয়োজন। কৃষকদের মাঝে বিনামূল্যে বীজ, কীটনাশক, সার ও ভূর্তকীমূল্যে কৃষিযন্ত্রপাতি বিতরণ করা উচিৎ। বিনাসুদে ঋণ বিতরণ করতে হবে। বড়শিল্পের মালিকেরা ৭২৭৫০ কোটি টাকার প্রণোদনা পেলেও এই দুর্যোগময় মূহুর্তে দেশের কৃষিখাত ও কৃষকশ্রেণী উপেক্ষিত হয়েছে বরাবরের মতো। অথচ এই খাতের অবদান কোনো অংশেই কম নয়। তাই এই খাতে প্রণোদনা প্রদান করা হোক। ধানচাষের পাশাপাশি পিয়াজসহ নানান জাতের অর্থকরী ফসল চাষে কৃষককে প্রণোদনা দেয়া হোক। আমরা ২০১৯ খ্রিষ্টাব্দের মতো পেয়াজবাজির হাতে আর নাকাল হতে চাই না। বাংলাদেশের কৃষক ফলাতে পারেন না এমন কোনো ফসল নাই। বাংলাদেশের পাহাড়ী অঞ্চলে কোকো চাষের উদ্যোগ নেয়া হোক। এতে কৃষক এবং দেশবাসী লাভবান হতে পারে। কৃষকের হাতে নগদ টাকার স্বল্পতা এবং সংকট দুটোই বিদ্যমান। তাই ফসল চাষের আগমূহুর্তে এবং ফসল কাটার মওসুমে কৃষককে নগদ টাকার সংকটে ভুগতে হয়। এ সময়টাতে কৃষককে নগদ অর্থ প্রণোদনা হিসাবে দিলে তারা আরো অধিক ফসল ফলাতে উদ্বুদ্ধ হবেন। কৃষকসূত্রে জানতে পারি যে, প্রতি বিঘা( ৩৬ শতাংশ) জমিতে ফসল ফলাতে( রোপণ থেকে কাটা পর্যন্ত) ৭ থেকে ৮ হাজার টাকা ব্যয় হয়। ধানের মণ ৮০০ টাকার কম হলে কোনোভাবেই কৃষক বাচবে না। ধানের মওসুমে ধানের দরপতন হলেও চালের মূল্য কিন্তু কমে না। মুক্তবাজার বলে বলে কৃষকের সাথে এ কেমন প্রতারণা? এই প্রতারণার জাল থেকে কৃষককে মুক্ত করতে না পারলে এইদেশ কখনো মাথা তুলে দাঁড়াতে পারবে না।

Facebook Comments

বাংলাদেশ সময়: ৭:৪৫ অপরাহ্ণ | শুক্রবার, ১০ এপ্রিল ২০২০

জাপানের প্রথম অনলাইন বাংলা পত্রিকা |

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত