ঘোষণা

কেনিয়ায় বাদাম সম্রাট বাংলাদেশি মোহাম্মদ খান

বিবেক ডেস্ক | রবিবার, ২৬ জুলাই ২০২০ | পড়া হয়েছে 217 বার

কেনিয়ায় বাদাম সম্রাট বাংলাদেশি মোহাম্মদ খান

দশ বছর আগে কেনিয়ার রাজধানী নাইরোবি গিয়েছিলেন বাংলাদেশের মোহাম্মদ খান। তার কাধে থাকা ব্যাগটিই ছিলো তখন তার একমাত্র সম্বল । কিন্তু গত ১০ বছরে সেখানকার একজন উদ্যোক্তা হয়ে উঠেছেন তিনি। সম্প্রতি তাকে নিয়ে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে দেশটির সংবাদ মাধ্যম ডেইলি নেশন।

বাংলাদেশি এ উদ্যোক্তা সে দেশের বিখ্যাত ‘ম্যাকাডামিয়া’ বাদাম নিয়ে কাজ শুরু করেন। রাজধানী নাইরোবির উত্তরাঞ্চলীয় শিল্প ও বাণিজ্যিক শহর ‘থিকা’য় গিয়ে কাজ শুরু করেন। তখন থিকায় কয়েকটি ফ্যাক্টরি ম্যাকাডামিয়া বাদাম প্রক্রিয়াজাত করছিল। তবে থিকা শহরে ক্ষুদ্র পরিসরে এটির প্রক্রিয়াজাত করা হত। সেই বাদাম সম্পর্কে তথ্য নিতে থাকেন তিনি।

ফসল সহজলভ্য ও বসবাস করা যায় এমন একটি স্থান খুঁজতে থাকেন কারখানা স্থাপনের জন্য। শেষ পর্যন্ত তিনি থিকা’র লডদার স্ট্রিটে বাদামের কারখানা স্থাপন করেন।

বাদাম নিয়ে অনেক গবেষণার পর তিনি আবিষ্কার করেন যে ম্যাকাডামিয়া বাদাম খেলে শরীরের খারাপ কোলেস্টেরলের মাত্রা হ্রাস পায়। যা মানুষের হার্ট অ্যাটাক ও স্ট্রোকের ঝুঁকি হ্রাস করতে পারে। এছাড়াও এটি ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য খুব দরকারী বিশেষ করে টাইপ-২ ডায়াবেটিসে।

মোহাম্মদ খান এমবাডু, মেরু, নয়েরি ও কিরিনিগাসহ ম্যাকাডামিয়া আছে এমন এলাকা পরিদর্শন করে। সেখান গিয়ে কাঁচা বাদামের সন্ধ্যান পান। এক পর্যায়ে, সেখানকার লোকদের কাছ থেকে কাঁচামাল কিনতে সহায়তা করে এমন আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিজনেস পার্টনার্স ইন্টারন্যাশনালের কাছে আর্থিক সহায়তাও চান।

এখন থিকা শহরে তার ম্যাকাডামিয়া বাদামের বিশাল কারখানা রয়েছে। তার কারখানা অন্যদের থেকে আলাদা একই সাথে বিশ্বব্যাপী দৃষ্টি আকর্ষণ করছে। সেই কারখানায় কাজ করা বা পরিদর্শন করা প্রত্যেককেই স্বাস্থ্যবিধি বজায় রাখতে হয়।

বাদামের মানের ব্যাপারে কোনও রকম আপোষ করেন না তিনি। দূষিত বাদাম এড়ানো তার অগ্রাধিকারের মধ্যে একটি। তিনি ৯ বছরেরও বেশি সময় ধরে এটি অনুসরণ করে ব্যবসা পরিচালনা করছেন।

তার কারখানার হাইজিন নিয়মগুলোর মধ্যে রয়েছে প্যাকেজিং রুমে প্রবেশের আগে মেডিকেল ক্লিয়ারেন্স থাকা, কোনও আতর বা পারফিউম বা সুগন্ধী ব্যবহার না করা ও পিপিই পরিধান করা। পরিষ্কার ও পরিচ্ছন্নতার কারণে তার ব্যবসায়ের বিশেষ খ্যাতি রয়েছে। বিশেষত রফতানির বাজারে।

বাদামের স্বাস্থ্য উপকারিতা

ম্যাকাডামিয়া বাদামগুলো স্বাদ অনেকটা তাজা নারকেলের মতো। গবেষণায় দেখা গেছে, এ বাদামগুলো ডায়াবেটিস, হৃদরোগের মতো অন্যান্য গুরুতর রোগ প্রতিরোধে ভূমিকা রাখতে পারে। এই ম্যাজিক বাদাম রক্তচাপ কমানোসহ ক্যান্সারের ঝুঁকি হ্রাস, মস্তিষ্ক ভালো রাখাসহ ওজন হ্রাস ও অন্ত্রের উন্নতি সাধন করতে পারে।

খানের কারখানা ব্যতিক্রম কেন?

তার কারখানা প্রথমে কৃষকদের কাছ থেকে বাদাম সংগ্রহ করার পর শক্ত খোলটি ক্র্যাকিং মেশিনের সাহায্যে পরিষ্কার করা হয় । এরপর আরেক মেশিন দিয়ে ভাল ও খারাপ মানের বাদামগুলোকে আলাদা করা হয়। অন্য কারখানায় কম মানের বাদাম পরিষ্কার করার পর রেখে দিলেও খানের কারখানায় তা পুরোপুরি বাদ দেওয়া হয়।

ম্যানুয়ালি বাছাই করে খারাপ বাদামগুলোকে বাদ দিতে হয়। দ্বিতীয়বার ভালো খারাপ যাচাই করার জন্য শ্রমিক রয়েছে। সাধারণত ১১.৩ কেজিতে প্যাকেজিং করা হয় তার কারখানায়।

সুস্বাস্থ্যের জন্য বেশিরভাগ মানুষের প্রতিদিন খাবারে বাদাম অন্তর্ভুক্ত করা দরকার। স্বাস্থ্য সুবিধাগুলো না বুঝার কারণে বেশিরভাগ মানুষের ধারণা বাদাম বিলাসবহুল খাবার।

অন্যান্য দেশে জন্মানো ম্যাকাডামিয়া বাদামের চেয়ে কেনিয়ার বাদামের জৈব ও স্বাস্থ্য উপকারিতা বেশি। কেনিয়ার ম্যাকাডামিয়ার বাদামগুলো বাণিজ্যিক দেশগুলোর তুলনায় আরো বেশি কালো রঙের হয়। কেনিয়া ছাড়াও অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ড, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও মালাউ এ ম্যাকডামিয়া বাদাম হয়।

বাংলাদেশী এ উদ্যোক্তা জানান, প্রায় এক দশক আগে এক কেজি বাদামের দাম ছিল ৪৫-৫০ কেনিয়ান শিলিং। আর ২০১৯ সালে এক কেজির দাম ২৪০ শিলিং।

তার প্রধান বাজার হচ্ছে রফতানি করা। তিনি প্রতি মাসে ৩২ হাজার ৬৬০ কেজি প্যাকেট ম্যাকডামিয়া বাদাম বিক্রি করেন। করোনা মহামারী অন্যান্য ব্যবসায়ীয় মতো তিনিও বড় ধরনের ধাক্কা খেয়েছেন।

নয় বছর ব্যবসা করার অভিজ্ঞতার পরে ম্যাকডামিয়া তেল, ল্যাকটোজ উপযুক্ত ম্যাকডামিয়া দুধ ও প্রসাধনী পণ্য উৎপাদন করতে সহায়তা করেছে। অন্যান্য দেশে রফতানি করার পাশাপাশি নিজ দেশ বাংলাদেশেও পণ্য বিক্রি করার আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।

Facebook Comments

বাংলাদেশ সময়: ১২:১৭ অপরাহ্ণ | রবিবার, ২৬ জুলাই ২০২০

জাপানের প্রথম অনলাইন বাংলা পত্রিকা |

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত