ঘোষণা

কোভিড – ১৯ এর নেপথ্য কাহিনী, উহানের গবেষণাগারটি কি চীন ও আমেরিকার জয়েন্ট ভেঞ্চার?

| রবিবার, ২৬ এপ্রিল ২০২০ | পড়া হয়েছে 354 বার

কোভিড – ১৯ এর নেপথ্য কাহিনী, উহানের গবেষণাগারটি কি চীন ও আমেরিকার জয়েন্ট ভেঞ্চার?


আরশাদ উল্লাহ্‌,

আজ থেকে পাঁচ বৎসর পূর্বে US Centers for Disease Control (CDC) অভ্যন্তরে ২০১৪ সালের জুলাই মাসে অস্বাভাবিক কয়েকটি দুর্ঘটনা ঘটেছিল। তখন সেই সেন্টারগুলিতে অতি বিষাক্ত জীবাণুর উপর গবেষণা চলছিল। এই দুর্ঘটনার পরে কর্তৃপক্ষের মনে ল্যাবগুলির বায়োসেফ্‌টির উপর প্রশ্ন জাগ্রত হয়। তারপর কর্তৃপক্ষ দুটি ল্যাব বন্ধ করে দেয়। ল্যাবগুলি থেকে অতি বিষাক্ত জীবাণু অন্য কোন ল্যাবে পাঠানোর উপরেও নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়। কারণ, এই ল্যাবগুলি থেকে বিষাক্ত জীবাণু অন্যত্র পাঠানোর সময় অসাবধনতা বশত দুর্ঘটনা হয়েছে। Anthrax হল একটি রোগ। বিষাক্ত ব্যাকটেরিয়া Bacillus anthrocis এর সংক্রমণে বীজগুটির মত মারাত্মক একটি রোগ। একই সময়ে বিলুপ্ত গুটি বসন্তের স্যাম্পলের পুনরাবিষ্কার ছাড়াও মারাত্মক একটি ইনফ্লুয়েঞ্জা ভাইরাস অন্য একটি ল্যাবে পাঠানোর সময় অসাবধানতা বশত দুর্ঘটনাটি হয়েছিল।
CDC তদন্ত করে দুর্ঘটনার কারণগুলি পেল। কি করে বিষাক্ত জীবাণুর স্যাম্পল নিষ্ক্রিয় করে পাঠাতে হয় – তার উপর যে নির্ধারিত গাইড লাইন ও প্রক্রিয়া রয়েছে তা যথাযথ ভাবে পালন করা হয়নি। ফলে মারাত্মক দুর্ঘটনাগুলি সংঘটিত হয়। ফলে জনস্বাস্থ্যের উদ্বেগের কারণে অ্যামেরিকা সরকার ল্যাবগুলিতে ফেডার‍্যাল অর্থায়ন বন্ধ করে দেয়। এই ল্যাবগুলিতে তিন জাতের বিষাক্ত ভাইরাস influenja, Middle East respiratory syndrome ( MERS) এবং Severe acute respiratory syndrome (SARS); এই তিনটি বিষাক্ত ভাইরাসের উপর গবেষণা চলছিল। আমেরিকার উদ্দেশ্য ছিল এগুলি দিয়ে ল্যাবগুলিতে Biological weapons of mass destruction (WMD) “ব্যাপক ধ্বংসের জৈবিক অস্ত্র” তৈরী করা। কিন্তু দুর্ঘটনা হওয়ার কারণে এই প্রচেষ্টা অফিসিয়ালি বন্ধ করা হয়।
২০১৫ সালে Dr. Anthony Fauci – the Director of the National Institute of Allergy and Infectious Diseases (NIAID) , বর্তমানে তিনি করোনভাইরাস টাস্ক ফোর্সের প্রধান ডক্টর। এই ব্যক্তি SARS – CoV -2 এর উপর গবেষণা চালিয়ে যেতে যুক্ত রাষ্ট্রিয় তহবিল থেকে ৩ দশমিক ৭ মিলিয়ন ডলার চীনের উহানের গবেষণাগারে বিনিয়োগ করেন। তিনি এই ৩টি ভাইরাসের উপর গবেষণা চালাবার জন্য আমেরিকা সরকার অর্থায়ন অব্যাহত রাখবে বলে উহান ল্যাবকে লাইসেন্স দেন।
বর্তমানে উহানের গবেষণাগার থেকে SARS করোনাভাইরাস ছড়িয়ে দিয়ে বিশ্বব্যাপি Covid – 19 মহামারি সৃষ্টি করেছে কিনা তা আমেরিকা সরকার তা খতিয়ে দেখছে।
একথা সহজবোধ্য যে আমেরিকার ল্যাবগুলিতে যে দুর্ঘটনা হয়েছিল – তদ্রুপ উহানের ল্যাবেও তেমন কিছু হয়েছে ধরে নেয়া যায়। এই ব্যাপারে বেইজিং থেকে আমেরিকার দূতাবাস ২০১৮ সালের জানুয়ারি মাসে একটি তার বার্তা পাঠায়। তাতে উহানের ল্যাবে নিরাপত্তা সমস্যার উপর অবগত করে সাহায্যের আবেদন করা হয়।
তৎসঙ্গে দূতাবাস একথাও জানায় যে বিভিন্ন SARS করোনাভাইরাস মানব দেহের রিসেপ্টর ACE2 এর সাথে বিক্রিয়া করে। এই ACE2 মানব দেহে SARS করোনাভাইরাস মহামারির সময় প্রথম সনাক্ত করা হয়েছিল। তারপর জানা গেল যে ‘বাদুড়ের করোনাভাইরাস’ মানব দেহে SARS এর মত রোগ সৃষ্টি করে।
আমেরিকা তার বেইজিং দূতাবাস থেকে এই বার্তা অনেক আগে পেয়েছিল। যখন Covid-19 মহামারি বিশ্বব্যাপি চলছে – এখন আমেরিকা চলমান মহামারির জন্য চীনকে দোষারোপ করছে এবং বলছে যে চীনে তৈরী জৈব-অস্ত্র এই মহামারি সৃষ্টি করেছে। শুধু তাই নয় আন্তর্জাতিক আদালতে মোকদ্দমা করার প্রস্তুতিও নিচ্ছে।
আমেরিকার স্পাই এজেন্সি এই ভাইরাসটি উহানের ল্যাব থেকে ছড়িয়েছে কিনা তা তদন্ত করে দেখছে। যদি তা প্রমাণিত হয় – তখন আমেরিকার রিপাবলিকান ‘ল’ মেকারগণ’ সেটাকে bio-WMD থিয়োরিতে উন্নীত করতে পারবে।
যদি তথ্য উপাত্তে প্রমাণীত হয় এটা Covid – 19 দিয়ে এই বায়োলজিক্যাল WMD তৈরী করা হয়েছে –‘ ফক্স নিউজ হোস্টে’র লাউ ডোব্বের মত কিছু পন্ডিত আমেরিকাকে চীনের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করতে বলবে – এমন ধারণা করা যায়।
তা এখন অস্পষ্ট যে এই পদক্ষেপ আদৌ আইনানুগ হবে কি না। যদি ভাইরাসটি উহানের ল্যাব থেকে এসেছে প্রমাণীত হয় এবং আমেরিকার অর্থায়নে সে প্রোজেক্টটি পরিচালিত হয়েছে তাও প্রমাণীত হয় – তখন কি পরিণতি হবে? তাছাড়া ২০১৪ সালে আমেরিকাতে এই ধরণের বিষাক্ত জীবাণু দিয়ে গবেষণা নিষিদ্ধ করা হয়েছিল । তৎসত্তেও যুক্ত রাষ্ট্রীয় অর্থায়নে তা করা হয়েছে এবং বেসরকারি পর্যায়ে করে নি। এখানে NIH জড়িত তা প্রমাণীত হবে।
সেই নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার পরে আমেরিকাতেই তাদের ল্যাবগুলিতে গবেষণা করে এই দানব জীবাণু তৈরী করতে পারে – চীনের উহানের ল্যাবে অর্থায়নের প্রয়োজন হয় না। তাহলে উহানে কেন আমেরিকা জীবাণু অস্ত্র তৈরী করতে মোটা অংকের টাকা বিনিয়োগ করল?
সম্প্রতি the National Science Advisory Board for Biosecurity (NSABB) আমেরিকার একটি আন্তঃসংযোগ প্যানেল – যেটা NIHS এর জনক the US Department of Health and Human Service (HHS) যুক্ত রাষ্ট্রিয় অর্থায়নে আমেরিকাতে পরীক্ষানিরীক্ষা করছে, যা জনস্বাস্থ্যের জন্য উল্লেখযোগ্য হুমকিস্বরূপ।
উল্লেখ্য যে NSABB উপদেষ্টা বোর্ড HHS কে প্রস্তাবিত গবেষণা মূল্যায়ন করে একটি কাঠামো তৈরীর জন্য বলেছে। যেটা বিষাক্ত জীবাণু দিয়ে মহামারী সৃষ্টি করতে পারে, জিনগতভাবে একটি ভাইরাসে পরিবর্তন এনে – যা অন্য প্রজাতিগুলির জন্য সংক্রামক হবে, অথবা পুনরায় একটি বিষাক্ত জীবাণু তৈরী করতে বলে। যেমন, গুটিবসন্ত (smallpox) জীবাণু, যেটাকে পূর্বে নির্মূল করা হয়েছে। সেটাকে আবার সজীব করার কাজ।
ভ্যাকসিন ডেভলপমেন্ট এবং এপিডেমিওলজিকাল নজরদারি স্বয়ংক্রিয়ভাবে HHS এর পরামর্শে পরিচালিত হয় না। কোভিড – ১৯ মহামারীর ময়না তদন্তে, এটি সম্ভবত একটি বিপজ্জনক ছিদ্রপথ যা কোনও তদারকি ছাড়াই ব্যবহার করা যেতে পারে, এবং ভবিষ্যতে জনস্বাস্থ্যকে আরও সুরক্ষিত করার জন্য এটাকে HHS এর পর্যালোচনার আওতায় আনা উচিত।
( এশিয়া টাইমস এর আলোকে।)
আরশাদ উল্লাহ্‌
(মাইক্রবায়োলজিষ্ট)
২৬ এপ্রিল ২০২০

Facebook Comments

বাংলাদেশ সময়: ৩:০৮ পূর্বাহ্ণ | রবিবার, ২৬ এপ্রিল ২০২০

জাপানের প্রথম অনলাইন বাংলা পত্রিকা |

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত