ঘোষণা

ক্রমেই অনিশ্চিত হয়ে পড়ছে টোকিও অলিম্পিক

ওমর শাহ | সোমবার, ০৪ জানুয়ারি ২০২১ | পড়া হয়েছে 270 বার

ক্রমেই অনিশ্চিত হয়ে পড়ছে টোকিও অলিম্পিক

আদৌ কি টোকিও অলিম্পিক হবে না? তেমন প্রশ্নই ঘুরপাক খেতে শুরু করেছে। কারণ নতুন করে জাপানে করোনা সংক্রমণ শুরু হয়েছে, যা নিয়ে প্রশাসন ভীষণ উদ্বিগ্ন।

২০২০ সালের অলিম্পিক যে হবে না, সেটা গত মার্চেই মেনে নিয়েছিল অলিম্পিক আয়োজক কমিটি। ধারণা করা হয়, এক বছর পর সফলভাবেই অলিম্পিক আয়োজন করা যাবে। তত দিনে করোনার টিকা আবিষ্কার হবে এবং দর্শক নিয়েই অলিম্পিক হবে বলে আশা করা হয়েছিল।

করোনার বেশ কিছু টিকা চলে এসেছে এরই মধ্যে। কিন্তু অলিম্পিক আয়োজন নিয়ে দুশ্চিন্তা থেকেই গিয়েছে।

জাপানে করোনার নতুন ধরনের সংক্রমণের প্রমাণ মিলেছে। টোকিওতে নতুন করে আক্রান্তের সংখ্যারও দৈনিক রেকর্ড হয়েছে গত বৃহস্পতিবারই। টোকিও অলিম্পিক আদৌ আয়োজিত হবে কিনা, সেই নিয়ে রীতিমতো প্রশাসন চিন্তায় পড়ে গিয়েছে।

এর আগে কোনও অলিম্পিককে পিছতে হয়নি। সেদিক থেকে টোকিও অলিম্পিক হার মেনেছে করোনাভাইরাসের কাছে। তবুও ২০২১ সালে অলিম্পিক আয়োজন করে একটি বার্তা দিতে চেয়েছিল জাপান। কিন্তু প্রতি পদে করোনার বাধা আসছে, সেই কারণে জাপানের প্রশাসন যারপরনাই উদ্বিগ্ন।

আর মাত্র ছয় মাস বাকি, কিন্তু ১৪০ কোটি ডলারে নির্মিত অলিম্পিক স্টেডিয়ামে আদৌ কোনও অ্যাথলিটের পা পড়বে কিনা সেটিও বিশ বাঁও জলে। গত নভেম্বরেই টোকিও ঘুরে গেছেন আন্তর্জাতিক অলিম্পিক কমিটির (আইওসি) প্রধান টমাস বাখ।

আইওসি সভাপতি বলেছিলেন, ২০২১–এর ২৩ জুলাই থেকে আগস্টে অলিম্পিক আয়োজন করেই তাঁরা প্রমাণ করতে চান, মানুষ করোনাভাইরাসকে পরাজিত করেছেন। কিন্তু দুই মাসের মধ্যে পরিস্থিতি নতুন করে ভাবাবে সেটি কেউই ভাবতে পারেনি।

অন্য অনেক দেশের তুলনায় জাপানে করোনা পরিস্থিতি বেশ ভাল। এখন পর্যন্ত ২ লাখ ৩০ হাজার আক্রান্তের খবর এসেছে। আর মৃতের সংখ্যা প্রায় সাড়ে তিন হাজার। কিন্তু নতুন বছরের শুরুতেই সংক্রমণ বৃদ্ধি দেশটির কর্মকর্তাদের দুশ্চিন্তায় ফেলে দিয়েছে।

কোভিড-১৯–এর নতুন ধরনের হদিস মেলায় আপাতত দেশটিতে অনাবাসীদের প্রবেশ নিষিদ্ধ করেছে জাপান। এই অবস্থায় ছয় মাস পর ১১ হাজার অ্যাথলিট, অংশগ্রহণকারী দেশের কর্মকর্তা, কোচ, সাংবাদিক ও স্বেচ্ছা কর্মীদের নিয়ে অলিম্পিক আয়োজন নিয়ে সন্দিহান হয়ে উঠেছেন অনেকেই।

বুধবার টোকিওর গভর্নর ইউতিকো কোইকে সবাইকে সতর্ক করেছেন এবং বর্ষপূর্তির আয়োজনে সীমা টানতে অনুরোধ করেছেন।

‘আনন্দের আগে জীবন’-এর ডাক দিয়ে সবাইকে নববর্ষে ঘরে থাকতে বলেছিলেন। ২৪ ঘণ্টা পরই কোইকে জানিয়েছেন, টোকিওতে এক দিনে ১ হাজার ৩০০ নতুন রোগী পাওয়া গিয়েছে, যেটা আগের দৈনিক রেকর্ডের প্রায় দেড় গুণ।

জাপানের প্রধানমন্ত্রী ইয়োসুহিদে সুগা অবশ্য অভয় দিয়েছেন বিশ্ববাসীকে। তিনি বলেছেন, ‘‘আমরা পরিস্থিতির দিকে নজর রাখছি। অলিম্পিক যথাসময়েই হবে, আমরা সেই লক্ষ্যেই এগিয়ে চলেছি।’’ তিনি জানেন অলিম্পিক কোনও কারণে বাতিল হলে আর্থিকভাবে কত লোকসান হবে দেশটির।

টোকিওর স্বাস্থ্যসেবা এমনিতেই সামর্থ্যের শেষ বিন্দু দিয়ে লড়াই করছে। এমন অবস্থায় শহরে অলিম্পিকের জন্য হাজার হাজার অ্যাথলিট ও কর্মকর্তাদের উপস্থিতি শহরের স্বাস্থ্যব্যবস্থা সামলাতে পারবে কি না, সে প্রশ্নও উঠছে।

গত মাসেই নতুন করে ২৮০ কোটি ডলার খরচের হিসেব দিয়েছে অলিম্পিক কমিটি। যার মধ্যে করোনা প্রতিরোধেই ব্যয় করা হয়েছে ৯০ কোটি ডলার। সব মিলিয়ে অলিম্পিকের জন্য খরচ ১ হাজার ৫৪০ কোটি ডলার খরচ ছাড়িয়ে গেছে। এই অর্থ দেশের জনগনের থেকে আদায় করবে প্রশাসন। তা হলেও অলিম্পিক যদি কোনও কারণে বাতিল হয়, তা হলে জাপানের অর্থনীতি ভেঙে পড়বে।

Facebook Comments

বাংলাদেশ সময়: ১১:৪৪ পূর্বাহ্ণ | সোমবার, ০৪ জানুয়ারি ২০২১

জাপানের প্রথম অনলাইন বাংলা পত্রিকা |

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

ad