ঘোষণা

ক‌রোনা পরীক্ষা: বাংলাদে‌শে নে‌গে‌টিভ ফলাফর এলেও বি‌দে‌শে এসে প‌জে‌টিভ!

| মঙ্গলবার, ১৬ জুন ২০২০ | পড়া হয়েছে 84 বার

ক‌রোনা পরীক্ষা: বাংলাদে‌শে নে‌গে‌টিভ ফলাফর এলেও বি‌দে‌শে এসে প‌জে‌টিভ!

বিবেক ডেস্ক : বাংলাদেশে করোনা পরীক্ষার মান নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে জাপান ও কোরিয়া।

বাংলা‌দে‌শে ক‌রোনা পরীক্ষা ক‌রে `নেগেটিভ` পাওয়া কয়েকজন‌কে জাপান ও কো‌রিয়ায় ফের পরীক্ষা করা হ‌লে ফলাফল পজিটিভ আ‌সে।

এ কারণে দেশ দুটিতে বাংলাদেশী নাগরিকদের গ্রহণের বিষয়ে অনীহা জানিয়েছে তার ।

সম্প্রতি কভিড-১৯ নিয়ন্ত্রণসংক্রান্ত জাতীয় কমিটির অনুষ্ঠিত এক অনলাইন সভায় খোদ পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেন এ কথা জানান।

বৈঠকে পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, সম্প্রতি বাংলাদেশী কিছু নাগরিকের কভিড-১৯ পরীক্ষা করে নেগেটিভ রিপোর্টসহ তাদের জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়ায় পাঠানো হয়। সেখানে যাওয়ার পর আবার পরীক্ষা করে তাদের মধ্যে কয়েকজনের পজিটিভ এসেছে। ফলে এসব দেশে বাংলাদেশের নাগরিকদের গ্রহণে নেতিবাচক মনোভাব তৈরি হয়েছে।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ সময় করোনা পরীক্ষার গুণগত মান নিশ্চিত করার তাগিদ দেন বলে সভার কার্যবিবরণীতে উঠে এসেছে।

জানা গিয়েছে, গত এপ্রিলে জাপান বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের উড়োজাহাজ ভাড়া করে তিন-চারটি চার্টার্ড ফ্লাইট পরিচালনা করে। ওইসব ফ্লাইটে যাওয়া যাত্রীদের বাংলাদেশে পরীক্ষা চালিয়ে নেগেটিভ রিপোর্ট পাওয়া গিয়েছিল। কিন্তু জাপান যাওয়ার পর পরীক্ষা করলে তাদের মধ্যে চারজনের করোনা পজিটিভ শনাক্ত হয়। এরই পরিপ্রেক্ষিতে বাংলাদেশ থেকে বাণিজ্যিক ফ্লাইট পরিচালনার ক্ষেত্রে মে মাসের প্রথমদিকে শর্ত আরোপ করে দেশটি। এ কারণে বাংলাদেশী কোনো নাগরিক এখন জাপানে যেতে পারছেন না।

একই ঘটনা ঘটেছে দক্ষিণ কোরিয়াগামী চার্টার্ড ফ্লাইটের আরোহী যাত্রীদের ক্ষেত্রেও। বাংলাদেশে পরীক্ষা চালিয়ে এসব যাত্রীর সংক্রমণ শনাক্ত না হলেও দক্ষিণ কোরিয়ায় পরীক্ষা চালিয়ে পাঁচজন সংক্রমিতকে শনাক্ত করা হয়।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেন বলেন, জাপান সরকার বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের একটি উড়োজাহাজ চার্টার্ড করে। সেই উড়োজাহাজে যাত্রী কারা তা ঠিক করেছে ঢাকার জাপান দূতাবাস। সেখানে আমাদের কোনো দায়দায়িত্ব ছিল না। কোন যাত্রী যাবে, কী নিয়মে যাবে তারাই ঠিক করেছে। কিন্তু জাপানে যাওয়ার পর তাদের মধ্যে চারজনের পজিটিভ পাওয়া গেছে। আমরা জানি না তারা নেগেটিভ সার্টিফিকেট নিয়ে গিয়েছিল কিনা।

তিনি বলেন, পরে তারা অনেক দেশের ফ্লাইট বন্ধ করেছে। সে তালিকায় বাংলাদেশও আছে। তবে তারা কখনো আমাদের দোষারোপ করেনি। কারণ যাচাই-বাছাইয়ের সব দায়দায়িত্ব ঢাকার জাপান দূতাবাসের ছিল। দক্ষিণ কোরিয়ায়ও চার্টার্ড ফ্লাইট গিয়েছে। নামার পর পরীক্ষা করে সেখানেও পাঁচজন পজিটিভ পাওয়ার কথা শুনেছি। এ ফ্লাইটেও যাত্রী হিসেবে কারা যাচ্ছে, সেসব করেছিল যারা চার্টার্ড করে সেই প্রতিষ্ঠান। সেখানেও আমাদের কোনো দায়দায়িত্ব ছিল না। তবে কভিড টেস্টের ক্ষেত্রে আমাদের এখনো কোনো স্ট্যান্ডার্ডাইজ হয়নি বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে বিজিএমইএ সহসভাপতি এমএ রহিম (ফিরোজ) বলেন, ৪ জুন আমাদের একটি টেস্টিং সেন্টার চালু হয়েছে। আরো তিন-চারটি টেস্টিং ফ্যাসিলিটি চালুর পরিকল্পনা আছে। টেস্ট সুবিধাসংক্রান্ত অবকাঠামোগত কিছু বিষয় আগামী ১০ দিনের মধ্যে সম্পন্ন হবে। পরীক্ষা করা হচ্ছে না এটি ঠিক নয়। শ্রমিকদের পরীক্ষা হচ্ছে এবং পর্যায়ক্রমে পরিমাণ আরো বাড়বে। আমাদের তত্ত্বাবধানে বর্তমানে বিভিন্ন হাসপাতালে আক্রান্ত শ্রমিকরা চিকিৎসা নিচ্ছেন। হাসপাতাল সুবিধা নিশ্চিতে আমাদের নিজস্ব কিছু উদ্যোগ সমঝোতা পর্যায়ে রয়েছে। এখন আমরা শিল্প ও শ্রমঘন বিভিন্ন স্থানে নমুনা সংগ্রহ বৃদ্ধির বিষয়ে কাজ করছি।

Facebook Comments

বাংলাদেশ সময়: ১০:৩৩ পূর্বাহ্ণ | মঙ্গলবার, ১৬ জুন ২০২০

জাপানের প্রথম অনলাইন বাংলা পত্রিকা |

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত