ঘোষণা

গণতন্ত্রই সংশোধন করল গণতন্ত্রের ভুল

মাহফুজ আনাম | শুক্রবার, ২৯ জানুয়ারি ২০২১ | পড়া হয়েছে 206 বার

গণতন্ত্রই সংশোধন করল গণতন্ত্রের ভুল

ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং জো বাইডেন।

আমেরিকানরা তাদের গণতান্ত্রিক অধিকার প্রয়োগ করে ২০১৬ সালে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত করে। চার বছর পর তারা আবার গণতান্ত্রিক অধিকার প্রয়োগ করেই ট্রাম্পকে পরাজিত করে তাদের সেই বিপর্যয়কর ভুল সংশোধন করে। মাঝের সময়টাতে ভুলের জন্য তাদের ভুগতে হয়েছে। তবে তারা গণতান্ত্রিক পদ্ধতির প্রতি আস্থা হারায়নি, নিয়ম ভাঙেনি। চার বছর অপেক্ষা করে গণতন্ত্রের মাধ্যমেই ভুলকে ‘ঠিক’ করেছে।

এখানে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় শেখার আছে।

প্রথমত, আমেরিকার জনগণ গণতন্ত্র ও নির্বাচন ব্যবস্থার ওপর থেকে আস্থা ও বিশ্বাস হারায়নি।

দ্বিতীয়ত, যে আত্মসংশোধন তারা করেছে তা সম্ভব হয়েছে গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্যই। প্রতিষ্ঠানগুলো হচ্ছে- বিচার বিভাগ, আইনসভা, প্রশাসনিক ব্যবস্থা এবং মিডিয়া।

তৃতীয় এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা হলো- গণতন্ত্রের মাধ্যমে ভুল হতেই পারে এবং মানুষের সিদ্ধান্ত সঠিক নাও হতে পারে। লোকরঞ্জনবাদ (পপুলিজম), উগ্র জাতীয়তাবাদ ও ধর্মভিত্তিক প্রচারণা, এমনকি কুসংস্কার ও বিদ্বেষপূর্ণ প্রচারণার মাধ্যমেও অনেকে নির্বাচিত হতেই পারেন। তারা গণতন্ত্রকে ক্ষমতায় আরোহণের সিঁড়ি হিসেবে ব্যবহার করেন মাত্র। একবার নির্বাচিত হয়ে গেলে তারা আর গণতন্ত্রের পথে হাঁটেন না। সেক্ষেত্রে আত্মসংশোধনের একমাত্র নিশ্চিত উপায় হচ্ছে- গণতন্ত্রের প্রতিষ্ঠানগুলোকে শক্তিশালী করে গড়ে তোলা। যাতে স্বাধীনতা, আইনের শাসন এবং ব্যক্তিগত ও সম্মিলিত অধিকারের ওপর যেকোনো আঘাত এই প্রতিষ্ঠানগুলো মোকাবিলা করতে পারে।

আদালত যদি নায্যতা ও ন্যায়বিচারের মাধ্যমে সরকারের যেকোনো স্বেচ্ছাচারী সিদ্ধান্ত মোকাবিলা করে, জনস্বার্থ রক্ষায় ভূমিকা রাখে, তাহলে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার পথ সুসংহত হয়। এতে জনপ্রতিনিধিরা সবসময় জনগণের অধিকার রক্ষায় চাপে থাকবে, সরকারি সংস্থাগুলো কোনো চাপে পড়ে নয় বরং প্রতিষ্ঠিত রীতি ও আইন অনুযায়ী কাজ করবে এবং যত বাধাই আসুক না কেন, মিডিয়া সবসময় সত্য ও বাকস্বাধীনতার অধিকার তুলে ধরবে।

একের পর এক রায়ের মাধ্যমে মার্কিন বিচার বিভাগ ট্রাম্পের অনেক সিদ্ধান্তের বিপর্যয়কর পরিণতি প্রশমিত করেছে। এর মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো- দেশটির বিচার বিভাগ গত নভেম্বরের নির্বাচনে প্রকাশিত ‘জনগণের ইচ্ছা’কে রক্ষা করেছে। ভোটে ব্যাপক জালিয়াতির অভিযোগে ট্রাম্প-সমর্থকরা যুক্তরাষ্ট্রের মোট ৬১টি আদালতে অভিযোগ দায়ের করে। কিন্তু, প্রমাণ না থাকায় আইনি প্রক্রিয়ায় মামলাগুলো খারিজ করে দেন আদালত। যদি দু-একটি মামলার রায়ও ট্রাম্পের ভিত্তিহীন অভিযোগের পক্ষে যেত, তাহলে সুষ্ঠুভাবে ক্ষমতা হস্তান্তরের কী হতো! কেবল দ্রুত সিদ্ধান্ত দিয়েছে তাই নয়, আদালত অত্যন্ত তৎপর ছিলেন, যাতে নির্বাচনের প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত বা বিলম্বিত না হয়।

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক ব্যবস্থায় ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণ নিশ্চিত করতে আইনসভার দুই কক্ষেরই ভূমিকা রয়েছে। বার বার শুনানি এবং অভিশংসন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে স্বেচ্ছাচারীভাবে নির্বাহী ক্ষমতার ব্যবহার ব্যাপকভাবে ঠেকানো হয়েছে। যদিও সিনেট এবং হাউস অব রিপ্রেজেন্টেটিভের লক্ষ্য ছিল সম্পূর্ণ বিপরীত। ট্রাম্প সবসময়ই জানতেন, তিনি যা করছেন তার সবটা থেকে তিনি নিস্তার পাবেন না। মার্কিন ইতিহাসে প্রথমবারের মতো দুইবার অভিশংসনের মুখে পড়েছেন ট্রাম্প। যদিও প্রথমবার শেষ পর্যন্ত সিনেট তাকে দোষী সাব্যস্ত করেনি। দ্বিতীয়বারের প্রক্রিয়া চলমান।

নির্বাচিত হওয়ার পর নির্বাহী ক্ষমতা থাকার পরও সুসংহত প্রশাসনিক ব্যবস্থার কারণে বিশেষ প্রসিকিউটর নিয়োগ এবং পরবর্তীতে ইউক্রেনের বিষয়ে তার নেওয়া সিদ্ধান্তের বিষয়ে একটি স্বাধীন তদন্ত পরিচালনা বন্ধ করতে পারেননি ট্রাম্প। এর সবই হয়েছিল বিচার বিভাগের মাধ্যমে। এই বিচার বিভাগ প্রেসিডেন্টের অধীনেই সরকারের নির্বাহী শাখার একটি অবিচ্ছেদ্য অঙ্গ। তাদের রীতি ও আদর্শ এতটাই শক্তিশালী যে, নিজের সম্পূর্ণ বিরুদ্ধে যাওয়ার পরও ট্রাম্প ও মুলার তদন্ত থামাতে পারেননি। ওয়াটারগেট কেলেঙ্কারির পর স্বাধীন তদন্তের মুখে পড়েছিলেন প্রেসিডেন্ট রিচার্ড নিক্সনও।

ট্রাম্পের অধীনে মার্কিন গণতন্ত্র যে বিপদগুলোর মুখোমুখি হয়েছিল, সে সম্পর্কে আমেরিকার জনগণকে বোঝাতে মিডিয়া একটি বড় ভূমিকা পালন করেছে। আমেরিকায় জনমত তৈরিতে গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলো কীভাবে সহায়তা করেছে, এটি তার আরেকটি উদাহরণ। সব মার্কিন গণমাধ্যম যে একই সুরে কথা বলেছে তা নয়। সিএনএন এবং ফক্স নিউজ ছিল দুই বিপরীত মেরুর মতো। স্বাধীন গণমাধ্যম ছাড়া মার্কিন গণতন্ত্রের অবস্থা একবার কল্পনা করুন। ট্রাম্প তার প্রতিটি কাজে চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছেন এবং প্রত্যেকবার মিথ্যাচার করার কয়েক মিনিটের মধ্যেই তা উন্মোচিত হয়েছে। তিনি সাংবাদিকদের সব ধরনের বিষোদগার করেছিলেন এবং তাদের প্রতিবেদনগুলোকে মিথ্যা বলে আখ্যায়িত করেছেন। শেষ পর্যন্ত স্বাধীন গণমাধ্যমই সবার ওপরে স্থান পেয়েছে। সেই সঙ্গে সবার ওপরে স্থান পেয়েছে ‘জনগণের ইচ্ছা’ এবং আমেরিকান গণতন্ত্র।

ট্রাম্পকে আমেরিকার ক্ষমতা থেকে সরে যেতে দেখার জন্য গোটা বিশ্ব উন্মুখ ছিল। প্রতি মিনিটই যেন হয়ে উঠছিল খুবই দীর্ঘ এবং বিপজ্জনক। বাইডেনের শপথ অনুষ্ঠানে তিনি কোনো ধরনের প্রতিবন্ধকতা তৈরি করবেন কি না সে প্রশ্ন ঘুরপাক খেয়েছে সবার মনেই। আমেরিকানরা এবং আমরা যারা সারা বিশ্বে ছড়িয়ে আছি, ট্রাম্প যুগের পরিসমাপ্তি দেখতে তারা প্রায় প্রতিটি মিনিট গণনা করেছি। আমি কখনও ভাবিনি যে কোনো বিদায়ী আমেরিকান প্রেসিডেন্টকে নিয়ে আমি এমন কথা কখনও বলব, কিন্তু এখন বলছি- আপদ বিদায় হলো।

ক্ষমতা ছেড়ে দেওয়ার সময় প্রশাসনের যে বিধ্বস্ত অবস্থা ট্রাম্প তৈরি করেছেন, তা আগে খুব কমই দেখা গেছে। এই পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে তার উত্তরসূরিকে বেশ বেগ পেতে হবে। প্রতিশ্রুতি হিসেবে শপথ নেওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ট্রাম্পের সবচেয়ে বিতর্কিত ১৭টি সিদ্ধান্ত বাতিল করতে নির্বাহী আদেশে সই করেছেন জো বাইডেন। তার সিদ্ধান্তের মধ্যে রয়েছে কোভিড-১৯ মোকাবিলায় বিভিন্ন উদ্যোগ, প্যারিস জলবায়ু চুক্তিতে ফেরা, কয়েকটি মুসলিম দেশের ওপর দেওয়া নিষেধাজ্ঞা বাতিল, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থায় ফেরা ইত্যাদি।

ট্রাম্প আমাদের এমন একটি যুক্তরাষ্ট্রে নিয়ে গিয়েছিলেন, যার সম্পর্কে আমাদের ধারণা ছিল না এবং কখনই এর অস্তিত্বের কথা চিন্তা করিনি। জো বাইডেন এবং কমলা হ্যারিসকে তাদের দেশটিকে এই অবস্থা থেকে ফিরিয়ে সেই বিশ্বনেতা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে হবে, যা দেখতে আমরা প্রত্যাশা করি।

যে মানুষটি ওভাল অফিসে এসেছিলেন ‘আমেরিকার শ্রেষ্ঠত্ব’ প্রতিষ্ঠার প্রতিশ্রুতি দিয়ে, সেই মানুষটি অফিস ছেড়েছেন যুক্তরাষ্ট্রকে সবচেয়ে লজ্জাজনক পরিস্থিতিতে ফেলে। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো- তিনি মার্কিন স্বাধীনতার ঘোষণা এবং এর সংবিধানের মৌলিক মূল্যবোধকে অস্বীকার করেছেন, যা শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে আমেরিকানদের গর্বিত করে আসছে। ইতিহাসের প্রতি ট্রাম্পের অবজ্ঞা দেখে মনে হয়েছে, তার সম্ভবত কোনো ধারণাই ছিল না যে, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর যখন ইউরোপ নিজেকে পুনর্গঠন করছিল এবং যখন বেশিরভাগ উপনিবেশ তাদের স্বাধীনতা অর্জন করেছিল তখন তাদের বেশিরভাগই নিজেদের স্বাধীনতা সংগ্রামে আমেরিকানদের মতো একই মূল্যবোধকে অনুকরণ করার চেষ্টা করেছিল। দেশগুলো তাদের নিজ নিজ সংবিধান প্রণয়ন করার সময়ও আমেরিকান সংবিধান থেকে অনুপ্রাণিত হয়েছে। (আমাদের স্বাধীনতা ঘোষণা এবং সংবিধানও আমেরিকানদের দ্বারা অনুপ্রাণিত)।

আফসোসের বিষয় হলো, ট্রাম্প সাত কোটিরও বেশি ভোট পেয়েছেন। ভোটের এই হিসাব বলছে, আগামী দিনে কঠিন চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হবে বাইডেন-হ্যারিসকে।

যে দেশকে আমরা স্বাধীনতা ও বৈচিত্র্যের দেশ হিসেবে জানি, আইনের শাসন ও প্রতিটি নাগরিকের মূল্যবোধের অধিকারের দেশ হিসেবে জানি, সে দেশে কী এমন হলো? মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এখন বর্ণবাদ, সহিংসতা, কুসংস্কার, সংকীর্ণতা এবং অজ্ঞতায় ভরপুর শ্বেতাঙ্গদের আধিপত্যবাদী আদর্শের ভয়াবহ রূপ প্রকাশ পাচ্ছে। তথ্য ও বিজ্ঞানের প্রতি তাদের অবজ্ঞা, অন্যান্য জাতি ও সংস্কৃতির মানুষের প্রতি ঘৃণা পুরো বিশ্বকে হতবাক করেছে। অনেক আমেরিকান অবাক হয়ে ভাবছেন, কবে তাদের দেশ সেই নীতি থেকে এতটা বিচ্যুত হলো, যে নীতি তাদের রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার সময় তৈরি হয়েছিল।

ট্রাম্প আকাশ থেকে পড়েননি। তিনি যে রাজনীতির প্রতিনিধিত্ব করছেন তা দীর্ঘকাল ধরে আমেরিকান উদারপন্থার নীচেই জ্বলজ্বল করছে। আর তার কারণেই এই শ্বেতাঙ্গ শ্রেষ্ঠত্ববাদীরা এত শক্তিশালী এবং বিস্তৃত। সম্ভবত ট্রাম্প চলে গেলেও সেটার পরিসমাপ্তি ঘটবে না।

শিকাগো বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাসবিদ ক্যাথলিন বেলিউ ২০১৯ সালের জুলাই মাসে তার প্রকাশিত ‘ব্রিং দ্য ওয়ার হোম’ বইয়ে শ্বেতাঙ্গ শ্রেষ্ঠত্ববাদীদের শক্তির উত্থানের ব্যাখ্যা দেওয়ার চেষ্টা করেছেন। তার মতে, ‘আমেরিকার শ্বেতাঙ্গ শ্রেষ্ঠত্ববাদী আন্দোলন একটি বিপ্লব চায়। এর সৈনিকরা একে অপরের থেকে বিচ্ছিন্ন নয়, সংঘবদ্ধ। তারা শ্বেতাঙ্গ আধিপত্য ও উগ্র সমাজতন্ত্রবিরোধী ক্যাডার।’ এসব কীভাবে শুরু হয়েছে সে সম্পর্কে লেখক বলেন, ‘(ভিয়েতনাম) যুদ্ধ থেকে আমেরিকা ফিরে আসার সময় তাদের মনে হয়েছে, তাদের জিততে দেওয়া হয়নি। যুদ্ধে অভিজ্ঞ একদল সেনা সদস্য ও সক্রিয় দায়িত্বপ্রাপ্ত সামরিক কর্মী এবং তাদের বেসামরিক কর্মীরা এই সিদ্ধান্তে উপনীত হন যে, তাদের দেশ ন্যায়সঙ্গত কারণেই যুদ্ধ করেছে। তারা ক্লানসম্যান, নব্য-নাৎসি, স্কিনহেডস, র‌্যাডিক্যাল ট্যাক্স প্রটেস্টার এবং শ্বেতাঙ্গ বিচ্ছিন্নতাবাদীসহ বিভিন্ন জঙ্গি গোষ্ঠীর সদস্যদের একত্রিত করে একটি আলাদা আন্দোলন শুরু করে। স্বতন্ত্র সেলের মাধ্যমে তারা সংঘবদ্ধ হয়, যাতে ধরা না পরে। শ্বেতাঙ্গ আন্দোলন পরিচালিত হয়েছে সুশৃঙ্খলভাবে পরিচালিত হত্যাকাণ্ড, সশস্ত্র সন্ত্রাস, জালিয়াতি এবং অবৈধ অস্ত্র চোরাচালানের মাধ্যমে।’

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং বাকী গণতান্ত্রিক বিশ্বের জন্য যা সবচেয়ে উদ্বেগজনক পূর্বাভাস।

মার্কিন রাজনীতির এই বিয়োগাত্মক নাটকটি কী প্রভাব ফেলবে তা একটি সর্বজনীন প্রশ্ন। বাইডেন-হ্যারিসের জয়ে এটা শেষ হবে, বাস্তবতা তেমন ইঙ্গিত দিচ্ছে না। জনগণ ভেবেছিল, প্রথম কৃষ্ণাঙ্গ প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার জয় আমেরিকান উদারপন্থী যুগের প্রতিষ্ঠা এবং এটি বর্ণবাদের কফিনে শেষ পেরেক। কিন্তু বাস্তবতা একেবারেই বিপরীত। এর ফলে শ্বেতাঙ্গ আধিপত্যবাদীদের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়। ফলে ক্ষমতায় আসেন ট্রাম্প। একটি উন্মুক্ত প্রশ্ন হচ্ছে- নির্বাচনে বাইডেনের বিজয় কি উদারপন্থীদের তাদের দেশে গণতন্ত্র সুপ্রতিষ্ঠিত করতে আরও উদ্যমী করে তুলবে? নাকি তারা আত্মতুষ্ট এবং অপ্রস্তুত হয়েই থাকবে? ট্রাম্প যখন তার যাত্রা শুরু করে তখন এমনই হয়েছিল। যে সাত কোটি বা তারও বেশি মানুষ ট্রাম্পকে ভোট দিয়েছিল সবসময় শুধু তাদের কথাই ভেবেছেন ট্রাম্প।

আমাদের সমাজে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার উচ্চাকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নে মার্কিন অভিজ্ঞতা থেকে যে শিক্ষা নেওয়ার আছে তা হলো- আমাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করাই গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার জন্য যথেষ্ট নয়। সংসদ, বিচার বিভাগ, সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে নজরদারির মাধ্যমে আমাদের গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান, নাগরিক সমাজ এবং গণমাধ্যমকে গণতন্ত্র বিকাশে সহায়তা করতে হবে। সার্বক্ষণিকভাবে গণতন্ত্র রক্ষায় এগিয়ে আসতে হবে। যেভাবে মার্কিন প্রতিষ্ঠানগুলো ট্রাম্পের প্রতিটি প্রচেষ্টা থেকে গণতন্ত্রকে রক্ষা করেছে।

মাহফুজ আনাম: দ্য ডেইলি স্টারের সম্পাদক ও প্রকাশক

Facebook Comments

বাংলাদেশ সময়: ১১:৪৪ পূর্বাহ্ণ | শুক্রবার, ২৯ জানুয়ারি ২০২১

জাপানের প্রথম অনলাইন বাংলা পত্রিকা |

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

৩০ বছরে কোথায় গণতন্ত্র

০৭ ডিসেম্বর ২০২০