ঘোষণা

চারাগাছ

হরিদাস পাল | মঙ্গলবার, ২৬ জানুয়ারি ২০২১ | পড়া হয়েছে 203 বার

চারাগাছ

নতুন আমাকে কিছুই দেয় নি। তবে হ্যাঁ, ওর বিয়েতে একটি চারাগাছ দিয়েছিল। হাতে গিফট তুলে দিতেই ধরিয়ে দিল একটি চারাগাছ ।দু – জনের মধ্যে একটা সম্পর্ক গড়ে উঠেছিল ঠিকই, কিন্তু তা ধরে রাখা যায়নি। কারণ একটাই ‘বেকারত্ব ‘।
আমাদের প্রেম ভালবাসা কলেজ জীবন থেকে। ওর চাইতে আমিই বেশি গভীরে ডুব দিয়েছিলাম। ও ছিল চালাক, বুদ্ধিমত্তা। প্রেমটেম যাই করুক, পড়াশোনা একদম ঠিকঠাক। একদিন বলেছিলাম, ” আজ ক্লাস নয়, ‘দীপ্তি’ হলে হিট ছবি, সদ্য রিলিজ। চল্ দেখে আসি, একঘেয়েমি কাটবে । ”
ও রেগে গিয়েছিল, ” কী-ই, ক্লাস বাদ দিয়ে সিনেমা? তোর থেকে আশা করিনি । ওই সিনেমা দেখলেই বুঝি প্রেম ভালবাসা উথলে পড়ে ? একঘেয়েমি কাটে? দ্যাখ্, ওসবের জন্য অঢেল সময় পড়ে আছে।এসময়টা চলে গেলে আর ফিরে আসবে ? সামনেই এক্সাম। ”
তারপর আর কোনদিন সিনেমার কথা বলিনি, এমনকি কোন হীরো বা হীরোইনের নাম পর্যন্ত না।

আমরা দু -জনেই ফিজিক্সের অনার্সের ছাত্র ছিলাম। ও ফার্স্ট ক্লাস পেল, আর আমার না ফার্স্ট না সেকেন্ড। থেকে গেলাম ওই একই ক্লাসে। পরের বার পাস হল, তবে সেকেন্ড ক্লাস।

রেজাল্ট ভাল ছিল বলে চাকরি পেতে ওর কোন সমস্যা হয়নি। কিন্তু সমস্যা ছিল আমারি। তিন বছর অপেক্ষা করেও যখন দেখল আমার কোন হিল্লে হল না, ও একদিন বাড়ি এসে বলল, ” বাবা – মা ব্যস্ত হয়ে পড়েছে বিয়ের জন্য, দু জায়গা থেকে দেখেও গেছে। একজন বিদেশে কর্মরত। সফট ওয়ার ইঞ্জিনিয়ার। ছেলে একা, বাবা – মা নেই। এক বোন ছিল, তাও পড়তে পড়তে বিয়ে হয়ে গেছে। একেই বেশি পছন্দ। তোর জন্য তো অপেক্ষা করেছিলাম, কী করব বল্? ”
সেদিন আমি শুধু নীরবে শুনে গেছি আর ভিতরে ভিতরে খুব কেঁদেছি। ওকে বুঝতে দিই নি।

বিয়ের পরপরই চলে গেল ও ক্যালিফোর্নিয়া।যাবার আগে বলেছিল, ” গাছটা যে লাগিয়েছিস, যত্ন নিচ্ছিস তো? দেখিস্ গরু ছাগলে যেন না খেয়ে ফেলে!”

তখন আমার বেকারত্বের জ্বালা, প্রেম – ভালবাসায় যেন চৈত্রের খরা। হন্যে হয়ে ঘুরছিলাম এখানে ওখানে সেখানে। চারাটির প্রতি তেমন যত্ন নেওয়া হত না। যাক্, পরে অনেক কাঠখড় পুড়িয়ে একটা ছোটমোট চাকিব হয়েছে, অফিস ক্লার্ক।

একদিন একটা আননোন নাম্বার থেকে ফোন এল।কানের কাছে নিতেই বলে উঠল, ” কীরে, গলা চিনতে পারছিস? ”
প্রথমে ভাবলাম কোন মেয়ে বুঝি ফাজলামো শুরু করছে। একেতেই মরছি আমার জ্বালায়, তারমধ্যে আবার রং তামাশা, রাগত গলায় বললাম, ” আপনি কে? কাকে ফোন করেছেন? মনে হয় ক্রস লাইন। ”
কোন সাড়া শব্দ নেই, রাগে কেটে দিলাম। কিছুক্ষণ বাদে আবার। একবার ভাবলাম বাজতে থাকুক, রিসীভ করব না । মনটা খচখচ করতে লাগল, শত হলেও মেয়ে তো । রাগ যতই হোক, আলাদা একটা টান থাকবেই। কানের কাছে নিতেই মা বলে উঠলেন, ” এই খেতে আয়, আমার শরীর ভালো না, মেঘ ডাকছে। তোকে দিয়েই বিছানায় যাব। ”
” কীরে এখনও খাস্ নি? তুই বুঝি দেরি করেই খাস্। এ অভ্যেস কিন্তু ভাল না। ”
” আ: , খুব মুস্কিলে পড়লাম তো! আমি কখন খাই না খাই তা আপনার কী? আচ্ছা বলুনতো আপনি কে বারবার জ্বালাচ্ছেন? আবার কিন্তু মোটেই ভাল লাগছে না। নামটা চটপট বলে ফেলুন, নইলে কিন্তু কেটে দিচ্ছি । ”
কাটার নাম শুনেই হো হো করে হেসে উঠল, ” কীরে অভিরূপ, আমার গলা চিনতে চিনতে পারলি না? এত তাড়াতাড়ি ভুলে গেলি? ভুলে যাবারই কথা, সম্পর্কটা যে হল না! আমি নতুন। বিয়ের পর এই প্রথম যাচ্ছি কলকাতা, তবু করোনার দাপটে। ভেবেছিলাম সিম পাল্টিয়েছিস, ফোনে পাব না। যাক্, বিয়ে করেছিস? এই, চারাগাছ কত বড় হল রে? গাছের প্রতি আমার একটা বিশেষ টান বরাবরই। গিয়ে কিন্তু তোর সাথে দেখা করব। ”
” কথায় দেখছি
কোন দাড়ি কমা নেই। একটু দম্ নে। এতো প্রশ্নের উত্তর এভাবে দেওয়া সম্ভব নয়। এখানে এলেই সব জানতে পারবি, ফোনে কিছু বলব না। শুধু এটুকু জেনে রাখ, দাম্পত্য জীবনে এখনও আবদ্ধ হই নি। তোর সঙ্গীসাথী সাথে আনিস্ কিন্তু। ”
” সঙ্গীসাথী ” কথাটা বলতেই অল্প থেমে অস্ফুট স্বরে বলল, ” ওকে? আমি একা …শুধু একটি চারা নিয়ে …!”

Facebook Comments

বাংলাদেশ সময়: ৯:৩৪ অপরাহ্ণ | মঙ্গলবার, ২৬ জানুয়ারি ২০২১

জাপানের প্রথম অনলাইন বাংলা পত্রিকা |

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

চন্দ্রাবলী

১৬ নভেম্বর ২০২০

এডুকেশন

২৩ ডিসেম্বর ২০২০

মালতি

২৫ জুলাই ২০২০

অনুগল্পঃ মানুষ

১০ ডিসেম্বর ২০২০

 ফুটপাথ

৩০ জুলাই ২০২০

বাটপার

১৩ আগস্ট ২০২০

স্বর্গ থেকে বিদায়

০৯ ডিসেম্বর ২০২০

কারিগর

২৪ জানুয়ারি ২০২১

সোনাদিঘি

১৪ জুলাই ২০২০

মেষপালক  মুসা মিয়া

০৪ জানুয়ারি ২০২১

বিটলবণের স্বাদ

২৪ সেপ্টেম্বর ২০২০