ঘোষণা

জাপানের শীর্ষ পদে নারী নির্বাহী বৃদ্ধির পরিকল্পনা

ওমর শাহ | বৃহস্পতিবার, ২৬ নভেম্বর ২০২০ | পড়া হয়েছে 76 বার

জাপানের শীর্ষ পদে নারী নির্বাহী বৃদ্ধির পরিকল্পনা

২০৩০ সালের মধ্যে জাপানের প্রধান কোম্পানিগুলোর নির্বাহী পদগুলোয় ৩০ শতাংশ নারী কর্মীকে দেখতে চাইছে দেশটির শীর্ষ ব্যবসায়িক লবি।

আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ থাকতে জাপানের বেসরকারি খাত যে তাদের কর্মী বহরে বৈচিত্র্য নিয়ে আসতে চাইছে, এ সিদ্ধান্তের মাধ্যমে তা স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।

জাপান বিজনেস ফেডারেশন নামে দেশটির শীর্ষস্থানীয় ব্যবসায়ী সংগঠন শীর্ষ পদে নারী কর্মীর সংখ্যা বৃদ্ধির এ পরিকল্পনা ঘোষণা করে। সরকারি উপাত্তে দেখা গেছে, ২০১৯ সালে জাপানের তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলোয় নারী নির্বাহীর সংখ্যা মাত্র ৫ দশমিক ২ শতাংশ।

করপোরেট খাতের শীর্ষ পদে নারীদের উপস্থিতি কম থাকায় ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের লিঙ্গবৈষম্য সূচকে অগ্রসর অর্থনীতিগুলোর মধ্যে সবার নিচে অবস্থান করছে জাপান। শীর্ষ পদে নারী-পুরুষের সমতা সূচকে গত বছর বিশ্বের ১৫৩টি দেশের মধ্যে জাপানের অবস্থান ছিল ১২১তম।

টোকিও শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত ১০০ শীর্ষ কোম্পানি পর্যবেক্ষণ করে দেখা গেছে, ২০২০ সালের জুলাই নাগাদ ওই কোম্পানিগুলোর পরিচালনা পর্ষদ পর্যায়ে নারী উপস্থিতি ১২ দশমিক ৯ শতাংশে দাঁড়িয়েছে।

গত বছরের চেয়ে যা ২ দশমিক ৪ শতাংশ বেশি। দ্য থার্টি পার্সেন্ট ক্লাবের জাপান চ্যাপ্টারের বরাতে এ তথ্য নিশ্চিত হয়েছে। ব্রিটেনভিত্তিক সংগঠনটি কোম্পানির শীর্ষ পদে নারী প্রতিনিধিত্ব বাড়ানোর চেষ্টা করছে।

জাপানের মোট জনসংখ্যায় নারী ও পুরুষের অনুপাত ১০০: ৯৪ দশমিক ৮। এ পরিস্থিতি বিবেচনায় শ্রমশক্তিতে নারীদের অংশগ্রহণ ৫০ শতাংশের কাছাকাছি নিয়ে যাওয়ার দাবি তুলছে লবি প্রতিষ্ঠানগুলো।

জাপান বিজনেস ফেডারেশনের চেয়ারম্যান হিরোয়াকি নাকানিশি এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, জাপানের বর্তমান সামাজিক কাঠামো বিবেচনায় সুস্পষ্ট লক্ষ্যমাত্রা গ্রহণ না করে শীর্ষ পদে নারীদের অংশগ্রহণ বাড়ানো সম্ভব নয়। উচ্চাবিলাসী মনে হলেও আমাদের এ লক্ষ্যমাত্রা হাতে নিতে হবে। ব্যবসায় বৈচিত্র্য নিয়ে আসতে এবং সমন্বয়মূলক করতে নারী উপস্থিতি জরুরি।

২০০৩ সালে জাপান সরকার তার এক পরিকল্পনায় জানিয়েছিল, ২০২০ সালের মধ্যে শীর্ষ পদে ৩০ শতাংশ নারী দেখতে চায়। কিন্তু সে লক্ষ্য যে পূরণ হয়নি, তা বলাই বাহুল্য। আগামী ডিসেম্বর জাপানের মন্ত্রিসভা সংশোধিত লক্ষ্যমাত্রা হাতে নিতে পারে। লিঙ্গসমতা নিশ্চিতে মন্ত্রিসভা নতুন পাঁচ বছর মেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ করতে পারে।

আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার (আইএলও) পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, বিশ্বের অন্যান্য অগ্রসর দেশের তুলনায় জাপানে নারী নির্বাহীর সংখ্যা খুবই কম। যুক্তরাষ্ট্র ও সুইডেনের কোম্পানিগুলোয় নির্বাহী পর্যায়ে নারী উপস্থিতি ৪০ শতাংশ। ব্রিটেন ও ফ্রান্সে তা ৩০ শতাংশের বেশি।

বিশ্লেষকরা বলছেন, জাপানের দীর্ঘদিনের ঐতিহ্য অনুসরণ করে কর্মীদের জ্যেষ্ঠতা ও কাজের অভিজ্ঞতার সময়সীমা বিবেচনায় পদোন্নতি ও বেতন বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত গ্রহণের বিষয়টি বড় একটি প্রতিবন্ধকতা।

এখনো অনেক কোম্পানি দীর্ঘ কর্মঘণ্টায় গুরুত্বারোপ করছে, যেখানে পুরুষ কর্মীদের চেয়ে পিছিয়ে যাচ্ছেন নারীরা। সন্তান জন্মদান ও লালনপালনের সময় নারীদের লম্বা ছুটি গ্রহণ করতে হয়, যেখানে পুরুষ সহকর্মীদের চেয়ে পিছিয়ে যান নারীরা।

ততথ্যসূত্রঃ কায়দো নিউজ

Facebook Comments

বাংলাদেশ সময়: ৩:৩৮ অপরাহ্ণ | বৃহস্পতিবার, ২৬ নভেম্বর ২০২০

জাপানের প্রথম অনলাইন বাংলা পত্রিকা |

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত