ঘোষণা

জিয়াং জিয়াংয়ের বাবা-মায়ের সময় বাড়াবে টোকিও

ওমর শাহ | শনিবার, ০৩ অক্টোবর ২০২০ | পড়া হয়েছে 114 বার

জিয়াং জিয়াংয়ের বাবা-মায়ের সময় বাড়াবে টোকিও

চীন থেকে ইজারা করে নেয়া পান্ডা দম্পতি রি রি ও শিন শিন এর মেয়াদ বাড়ানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে জাপানের রাজধানী টোকিও সরকার। ২ অক্টোবর এক সংবাদ সম্মেলনে এ কথা জানায় টোকিওর গভর্নর।

রি রি ও শিন শিন দম্পতির কন্যা সন্তান জিয়াং জিয়াং টোকিও চিড়িয়াখায় বেশ জনপ্রিয়তা পেয়েছে। যদিও চলতি বছরের শেষ নাগাদ পরিকল্পনা অনুযায়ী জাপানের রাজধানী ছেড়ে চীনে চলে যাবে বলে জানিয়েছেন টোকিও গভর্নর ইউরিকো কোইকি।

কোইকি আরো বলেন, টোকিওর ইউনো জুলজিকাল গার্ডেনে পুরুষ পান্ডা রি রি ও নারী পান্ডা শিন শিন উভয়ের ইজারার মেয়াদ বাড়ানোর জন্য চীনের সাথে আলোচনার চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে।

চীনের মালিকানাধীন পান্ডা জিয়াং জিয়াংকে ২০১৭ সালের জুনে টোকিওর ইউনো জুলজিকাল গার্ডেন চিড়িয়াখানায় জন্মগ্রহণ করে। পান্ডা সাবকটির বাবা-মাকে ২০১১ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে ১০ বছরের চুক্তিতে চীন থেকে জাপানে আনা হয়।

 

টোকিওর দর্শনার্থীদের কাছে পান্ডারা খুব পছন্দসই। তাই টোকিও বাসীর ইচ্ছাকে প্রাধান্য দিয়ে রি রি ও শিন শিন দম্পতিকে জাপানে রাখতে মেয়াদ আরো বাড়াতে চীনের সাথে আলোচনা চালিয়ে যাওয়ার কথা জানিয়েছেন গভর্নর কাইকো।

এদিকে জিয়াং জিয়াংকে প্রজননের উদ্দেশ্যে চীনে পাঠানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে টোকিও। এই বিষয়টি টোকিওদের বোঝানোর জন্য কর্তৃপক্ষ চেষ্টা করবে বলেও জানান তিনি।

২০১৭ সালের ডিসেম্বরে জিয়াং জিয়াংকে সর্বপ্রথম জনসম্মুখে প্রদর্শন করার পর থেকে এই চিড়িয়াখানাটিতে প্রচুর ভিড় জমান দর্শনার্থীরা। চিড়িয়াখাটির একটি আকর্ষণীয় স্থান হলো পান্ডাদের থাকার স্থানটি।

জিয়াং জিয়াং মূলত ২ বছর বয়সে জাপান ছেড়ে চীন যাওয়ার কথা ছিল, তবে তাকে টোকিওতে রাখার সময়কাল গত বছরের মে মাসে বাড়ানো হয়। তার সুবাদে জিয়াং জিয়াং টোকিওতে রয়েছে।

গত মাসে চিড়িয়াখানাটির দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের চীনের সিচুয়ান প্রদেশে স্তন্যপায়ী প্রাণীদের প্রাকৃতিক আবাসের অনুকরণ করে রি রি ও শিন শিনের জন্য একটি নতুন বিশাল পান্ডার ঘর খোলা হয়ে। যাতে তারা প্রাকৃতিক আবাস পায়।

শান্তির দেবদূত পান্ডা:

পান্ডা চীন দেশীয় প্রাণী। বড়সড় ভাল্লুকের মতো দেখতে পান্ডারা স্তন্যপায়ী। চীনের মধ্যাঞ্চলের কিছু পাহাড়ি বনে দেখা মেলে এদের। একটা সময় অন্যান্য এলাকায় এরা বাস করলেও এখন সিচুয়ান, সাংশি আর গানসু প্রদেশেই কেবল দেখা যায়।

এদের পা, ঘাড়, কান আর চোখের চারপাশ ঘন কালো লোমে আবৃত। শরীরের বাকি অংশ সাদা লোমে ভরা। শরীরের ঘন লোম এদেরকে প্রবল শীত থেকেও রক্ষা করে।

বিশাল শরীরের হলেও এরা অত্যন্ত নিরীহ। চীনে তাই পান্ডাকে ‘শান্তির প্রতীক’ হিসেবে মনে করা হয়। তারা সহজে কাউকে আক্রমণ করে না। কেউ তাদের বিরক্ত করলে এরা ভয়ঙ্কর হয়ে উঠতে পারে।

আকার আকৃতিতে পান্ডারা ছোট নয়। পূর্ণবয়সী পান্ডার উচ্চতা ২ থেকে ৩ ফুট পর্যন্ত আর দৈর্ঘ্যে ৪ থেকে ৬ ফুট পর্যন্ত হয়। পুরুষ পান্ডারা তুলনামূলক মেয়ে পান্ডাদের চেয়ে বড়সড় হয়।

তবে মজার বিষয় হলো- চিড়িয়াখানায় থাকা পান্ডারা ৩৫ বছর বয়স পর্যন্ত বাঁচতে পারে। এদের প্রধান খাবার বাঁশ। দিনের প্রায় ১৬ ঘণ্টা সময়ই এদের কাটে খাওয়ার কাজে। বাঁশ ছাড়াও কিছু লতাপাতা, ঘাস, ফলমূল, পোকা ইত্যাদিও খায় পান্ডা।

তাদের বাচ্চা হয় সাধারণত আগস্ট-সেপ্টেম্বর মাসে। একটি থেকে দুটি বাচ্চা একসঙ্গে জন্ম নেয়। জন্মের সময় এদের ওজন হয় মাত্র ৯০ থেকে ১৩০ গ্রাম। নবজাতক পান্ডা চোখেও যেমন দেখতে পায় না, তেমনি এদের দাঁতও থাকে না।

এরা কেবল মা পান্ডার বুকের দুধ খেয়েই বড় হতে থাকে। দুয়েক সপ্তাহের মধ্যেই এদের শরীরের রঙ হয় ধূসর। জন্মের মাসখানেক পর এদের শরীরের রঙ বড় পান্ডাদের মতো হয়ে থাকে।

আড়াই মাসের মধ্যেই শিশু পান্ডা হামাগুড়ি দিতে শেখে। আর ছয় মাসের মধ্যেই অল্প অল্প করে বাঁশ খাওয়া শুরু করে পান্ডারা।

এক বছর বয়সের মধ্যেই পান্ডার ওজন প্রায় ৪৫ কেজি হয়ে যায়। জন্মের দেড় থেকে দুই বছর পর্যন্ত তারা মা পান্ডার অধীনেই থাকে। পান্ডাদের ঘ্রাণশক্তি অত্যন্ত প্রখর। একটি পান্ডা অন্য একটি পান্ডাকে চিনে থাকে তার গায়ের গন্ধ দিয়েই।

তাছাড়া রাতের বেলায়ও খাবার বাঁশকে চিনে নিতে সে গন্ধের সাহায্য নেয়। তবে এরা নানারকম ডাকও দিতে সক্ষম। প্রায় ১১ ধরনের ডাক পান্ডারা দিতে পারলেও এগুলোর কোনো অর্থ বিজ্ঞানীরা বের করতে পারেননি।

পান্ডারা চার পায়ে চললেও কখনও কখনও মানুষের মতো দুই পায়ে দাঁড়াতে পারে। তবে পেছনের দুটি পায়ে খুব বেশি জোর না থাকায় এরা বেশি সময় এভাবে দাঁড়িয়ে থাকতে পারে না।

এরা সাঁতারও জানে। আর গাছে চড়তেও বেশ ওস্তাদ পান্ডারা। খেলাধুলার অংশ হিসেবে এরা ঢাল বেয়ে গড়িয়ে পড়ে। এরা প্রবল শীতে গাছের কোটর বা গুহায় আশ্রয় নেয়।

তথ্যসূত্র: কিয়োডো নিউজ

সম্পাদনা: পি আর প্ল্যাসিড

Facebook Comments

বাংলাদেশ সময়: ৬:৩৯ অপরাহ্ণ | শনিবার, ০৩ অক্টোবর ২০২০

জাপানের প্রথম অনলাইন বাংলা পত্রিকা |

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত