ঘোষণা

টোকিওজুড়ে একটাই প্রশ্ন অলিম্পিক হবে তো

ওমর শাহ | শুক্রবার, ১৫ জানুয়ারি ২০২১ | পড়া হয়েছে 292 বার

টোকিওজুড়ে একটাই প্রশ্ন অলিম্পিক হবে তো

নতুন করে করোনা সংক্রমণ রুখতে গত সপ্তাহে টোকিও এবং আশেপাশের এলাকায় জরুরি অবস্থা ঘোষণা করতে বাধ্য হয়েছিলেন জাপানের প্রধানমন্ত্রী ইয়োশিহিদে সুগা। একই সঙ্গে এই আশ্বাসও দিয়েছিলেন, নির্বিঘ্নেই এবং সমস্ত প্রতিযোগীদের সুরক্ষিত রেখেই আয়োজিত হবে অলিম্পিক।

কিন্তু কোভিডের সংক্রমণের মাত্রা যে হারে আবার বাড়তে শুরু করেছে তাতে বাস্তব চিত্রটা রাতারাতি পাল্টে গেছে। আন্তর্জাতিক অলিম্পিক সংস্থা আগেই জানিয়ে দিয়েছে, এ বার আর অলিম্পিক স্থগিত রাখা সম্ভব নয়। কিন্তু আগামী জুলাই মাসে অলিম্পিক আয়োজন আদৌ সম্ভব হবে কি না, তা নিয়েই জোরালো প্রশ্ন উঠতে শুরু করে দিয়েছে।

আর সেই সম্ভাবনা আরও প্রকট হয়ে গেছে সাম্প্রতিক সময়ের দু’টি জনসমীক্ষায়। জাপানের কয়েকটি সমীক্ষক সংস্থা জনতার মতামত জানতে চেয়েছিল এই পরিস্থিতিতে অলিম্পিক আয়োজন কতটা বাস্তবোচিত হবে?

৮০ শতাংশ মানুষ জানিয়ে দিয়েছেন হয় অলিম্পিক  স্থগিত রাখা হোক অথবা সময়সীমা আরও একবার পিছিয়ে দেওয়া হোক। সেই জনমতই উদ্বেগ বাড়িয়ে দিয়েছে টোকিও অলিম্পিক্স আয়োজক কমিটির সদস্যদের।

টোকিও সোফিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞানের অধ্যাপক কোইচি নাকানো বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে বলেছেন, “জাপানের বড় অংশের মানুষ এখন অলিম্পিক আয়োজনের তীব্র বিরোধী হয়ে পড়েছেন। এবং সেই বিরোধিতা বেড়ে গেছে গত সপ্তাহে সরকার জরুরি অবস্থা জারি করার পরে। সকলের মধ্যেই একটা ধারণা তৈরি হয়েছে যে, এই বছরেও অলিম্পিক আয়োজন কোনও অবস্থায় সম্ভব নয়।”

তবে অলিম্পিক বাতিল হওয়ার সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে আরও কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। দেশীয় অর্থনীতির সঙ্গে বিভিন্ন দেশের সঙ্গে আন্তর্জাতিক সম্পর্কে চিড় ধরার মতো সম্ভাবনাও তৈরি হয়েছে দেশ জুড়ে অলিম্পিক বিরোধিতার হাওয়ায়।

ইতিমধ্যে এক বছর অলিম্পিক পিছিয়ে যাওয়ায় করদাতা এবং সম্প্রচারকারী চ্যানেলগুলোকে বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়তে হয়েছে। তারই সঙ্গে এমন ইঙ্গিতও মিলেছে যে, কোনও কারণে টোকিও অলিম্পিক স্থগিত হয়ে গেলে চীন সেই দায়িত্ব পালন করতে প্রস্তুত।

নাকানোর কথায়, “এশীয় মানচিত্রে জাপানের যে শক্তপোক্ত অবস্থান ছিল, তা দারুণভাবে ব্যাহত হতে পারে অলিম্পিক স্থগিত হয়ে গেলে। বিশেষ করে, তার সঙ্গে চিরকালীন প্রতিপক্ষ চীনের স্বার্থ জড়িয়ে পড়ায়।”

নাকানো আরও মনে করেন, অলিম্পিক স্থগিত হলে জাপানের রাজনীতিতেও ভয়ঙ্কর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।

তবে আয়োজক কমিটির সদস্যরা এখনও মনে করেন, নির্দিষ্ট সময়েই অলিম্পিক আয়োজিত হবে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে আগত প্রতিযোগীদের করোনার হাত থেকে সুরক্ষিত রেখেই তা আয়োজিত হবে।

বরং এক ধাপ এগিয়ে আয়োজকেরা এই দাবিও করছেন যে, আগামী মার্চে গোটা দেশজুড়ে দশ হাজার রানার অলিম্পিিক মশাল নিয়ে দৌড়বেন।

এদিকে টোকিও মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালের ভাইরাস বিশেষজ্ঞ আতসুয়ো হামাদার জানিয়েছেন, দেশের সম্মান রক্ষা করতে গিয়ে যদি সংক্রমণের মাত্রা আরও বেড়ে যায়, তা হলে হিতে বিপরীত হবে। তখন সংক্রমণ রোখা অসম্ভব হয়ে পড়তে পারে।

তিনি আরও মনে করেন, করোনাকে রুখতে যে ধরনের বিশেষ জৈব সুরক্ষিত বলয় তৈরি করে বিভিন্ন দেশে খেলাধুলো শুরু হয়েছে, সেই পদ্ধতি অলিম্পিক্সে প্রয়োগ করা সম্ভব হবে না। সে ক্ষেত্রে খরচের মাত্রা আরও বেড়ে যেতে পারে, যা দেশের অর্থনীতিতে বড় নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে ভবিষ্যতে। সব মিলিয়ে টোকিও অলিম্পিক্স নিয়ে অনিশ্চয়তার ছায়া ক্রমশ দীর্ঘ হচ্ছে।

Facebook Comments

বাংলাদেশ সময়: ১১:৪৪ পূর্বাহ্ণ | শুক্রবার, ১৫ জানুয়ারি ২০২১

জাপানের প্রথম অনলাইন বাংলা পত্রিকা |

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

ad