ঘোষণা

ডক্টর সেলিম জাহানীয় ঘরানা, মননবিশ্বের বাহিরানা,যুক্তিবাদ ও যুক্তিবাদিতা এবং করোনা পরিস্থিতির বাস্তবতা

| শনিবার, ০৪ এপ্রিল ২০২০ | পড়া হয়েছে 98 বার

ডক্টর সেলিম জাহানীয় ঘরানা, মননবিশ্বের বাহিরানা,যুক্তিবাদ ও যুক্তিবাদিতা এবং করোনা পরিস্থিতির বাস্তবতা

#সাইফুর রহমান কায়েস#

মূল্যষ্ফীতি রীতিমতো করোনাভাইরাস আতংকের চেয়েও ভয়াবহ রূপ ধারণ করেছে। প্রত্যেকটি পণ্যের দাম বেড়ে গেছে। সামনে রোজা আসছে। আবার পণ্যের দাম বাড়বে। এই খড়গ দেশের মানুষকে সইতে হবে। ফলে করোনায় যতো না মানুষ মারা যাবে তারচেয়ে কয়েকগুণ বেশি লোক মারা যাবে খাদ্যসামগ্রীর চাহিদা মিটাতে না পেরে। ফলে রাষ্ট্রকে করোনা এবং জনগণের ক্ষুধা- এই দ্বিমুখী লড়াইয়ে অবতীর্ণ হতে হচ্ছে।
মানুষের আয় বা সঞ্চয় কোনোটাই এখন স্থিতিশীল নয়। প্রান্তিক শ্রেণীর মানুষের আয় কমে গেছে, আয়ের সূত্র স্থবির হয়ে গেছে। মানুষ বেকার হয়ে পড়েছে এখনি। যাদের কাছে এই মূহুর্তে কিছু সঞ্চয় আছে তারাও এখন শংকিত আগামীতে কিভাবে চলবেন তা নিয়ে। খুব স্বস্তিকর পরিস্থিতিতে আসলে কেউই নেই।
আমাদের সাধারণ ভোক্তাদের মধ্যে আগাম মজুদের প্রবণতা যতোদিন না অবদমিত হবে ততোদিন পর্যন্ত বিক্রেতাগণ মূল্যষ্ফীতিকে উস্কে দিতে সঞ্চালকের ভূমিকা পালন করবে।

মুনাফাখুরি মাথাচাড়া দিয়ে উঠবে। দেশের জিএনপি এবং জিডিপি হ্রাস পাবে। বেকারত্ব বাড়বে। বড়বড় শিল্পমালিকদের সম্পদের ফেসভ্যালু কমে যাবে। ফলে তারা তাদের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান তথা কলকারখানা থেকে শ্রমিক ছাটাই করতে বাধ্য হবেন। নতুন করে শিল্প গড়ে উঠবে না। পুঁজি লগ্নির বিষয়টি থমকে যাবার ফলে ব্যাংক এবং এনজিওর হাতে অলস টাকার পরিমাণ বেড়ে যাবে। ক্ষুদ্র ও মাঝারী গোছের শিল্প মালিকদের অনেকেই ব্যবসা হারাবেন। একই কারণে ব্যাংক এবং এনজিওর খেলাপী ও মন্দ ঋণের হার বেড়ে যাবে। এই কারণে তারাও শিল্প মালিকদের মতো বেইল-আউট দাবী করতে পারেন।
করোনা সংকট কেটে গেলে সামাজিক অস্থিরতা সৃষ্টির সম্ভাবনাকে উড়িয়ে দেয়া যায় না। একে মোকাবেলার জন্য সরকারকে সুপরিকল্পিত প্রণোদনামূলক কর্মসূচী গ্রহণ করতে হবে এখন থেকেই। অন্যথায় এটি দীর্ঘমেয়াদী হতে পারে। যমে প্রাণ নিলো আপত্তি নেই, কিন্তু যম যে বাড়ি চিনেছে সেখানেই আমাদের আপত্তি। ব্যবসা বাণিজ্যের,শিল্পের মন্দাভাব কাটিয়ে উঠা যতো সহজ, সামাজিক মন্দা কাটিয়ে উঠা ততো সহজ নয়। এটি শুধু সমাজকেই নয়, রাষ্টের ভিতকেও কমজোরি করে দেয়।
সরকারী তরফে চা শ্রমিকদেরকে কাজ করতে বলা হয়েছে সামাজিক জনদূরত্ব বজায় রেখে। এই শিল্পের অবদানও কিন্তু জাতীয়ভাবে কম নয়। কিন্তু এই শিল্পের যারা শ্রমিক, মূল চালিকাশক্তি তাদের মজুরী মাত্র দিনে ১০৪ টাকা। এই টাকাটাও আবার সপ্তাহান্তে তাদের হাতে উঠে না। নানা ধরনের ডিডাকশন এদেরকে জেরবার করে। অথচ একই ব্যক্তি যখন বাইরে ইটভাটায় কাজ করেন তখন চার থেকে পাঁচশো টাকা সাথে একবেলা খাবার পান। এদের বাড়ি থেকে গাড়ি দিয়ে নিয়ে যায়, আবার দিনান্তে বাড়ি পৌছে দিয়ে যায় ইটভাটার মালিকের লোকজন। ফলে চাশিল্পের মালিকগ্রুপ লাভবান হলেও চা শ্রমিকেরা থেকে যান একেবারেই প্রান্তিক মানুষের কাতারে। এদের জীবনে ব্রতকৃত্যাচার বলে কিছুই থাকে না। রাষ্ট্রের তরফেও তেমন কল্যাণকর উদ্যোগ এদের জীবনমানোন্নয়নে নেয়া হয় না।

ফলে এরা রাষ্ট্রের ভেতরে রাষ্ট্রহীন নাগরিকে পরিণত হয়ে পড়েন। অন্য জনগোষ্ঠীর কাছে এরা চিড়িয়াখানার প্রাণিবিশেষে পরিণত হন। ফলে এই নৃতাত্ত্বিক জনগোষ্ঠী শিক্ষাসহ অন্যান্য মৌলিক মানবাধিকার প্রাপ্তির নিশ্চয়তা থেকে ছিটকে পড়েন। ফলে তারা স্থানীয় চোলাই মদ উৎপাদন ও বিপণন, চাবাগানের ছায়াবৃক্ষ নিধন,চা চোরাচালানের মতো অপরাধে জড়িয়ে পড়েন। করোনাভাইরাস সংকট মোকাবেলা করতে হলে এদের সম্পৃক্তির প্রয়োজন অনস্বীকার্য। রাষ্ট্রের মতো এরাও দ্বিমুখী লড়াইয়ের মুখোমুখি এখন। জীবনের নানামুখী সমস্যার পাশাপাশি করোনা এখন এদের জীবনে গোদের উপর বিষফোঁড়ার মতো।
ভাটির জনপদ সমৃদ্ধ অঞ্চলে অপ্রতুল শিক্ষার পরি ও অবকাঠামোগত সংকট এবং অপ্রতুলতা, যোগাযোগ ব্যবস্থার একমুখিতা তথা বারিষায় নাও আর হেমন্তে পাও নির্ভরতা, বিদ্যুদ্বিহীন এলাকা ও বিদ্যুতের অপ্রতুলতা,অধিকহারে বিদ্যুদ্বিভ্রাট এসব বিষয়ের সমাধান করাও জরুরী। স্বাস্থ্যব্যবস্থার ভঙ্গুরতা এবং অপ্রতুলতা একটি সমৃদ্ধ জাতিগঠনের অন্তরায়। স্বাস্থ্যব্যবস্থার সংকটের জন্য অনিরাপদ মাতৃত্ব ও শিশু ও মাতৃমৃত্যুর হার বেশি। এই অঞ্চলের জন্য ভ্রাম্যমাণ চিকিৎসা তরী ব্যবস্থার উন্নয়ন ও চালুক্রমে জনস্বাস্থ্য সেবার নেটওয়ার্ক বিস্তৃত করা যেতে পারে। শিক্ষার প্রসারে ডিজিটাল ষ্কুলের প্রবর্তন করা যেতে পারে। যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নে সাবমারসিবল রোডের বদলে সারাবছর চলাচলের উপযোগী রাস্তা নির্মাণ করতে হবে। রাস্তা নির্মাণকালে স্থানীয় জীববৈচিত্র‍্য সুরক্ষার দিকে নজর দিতে হবে। ভাসান পানি চলাচলের সুবিধা নিশ্চিতক্রমে টেকসই যোগাযোগ ব্যবস্থার প্রবর্তন এখন সময়ের দাবী।এই অঞ্চলের অবারিত ফসলের মাঠ স্বনির্ভর বাংলাদেশের কথা বলে। তাই একে দূরে ঠেলে সংকটকে সম্ভাবনায় রূপান্তর করা যাবে না।
আপনার লেখার চারিত্র‍্য হচ্ছে যুক্তিবাদ এবং বাস্তবধর্মীতা এবং প্রিডিকশন, অতিসাম্প্রতিকতা। যেটি একজন সৃষ্টিধর মানুষকে বৃহত্তর পরিসরে সামষ্টিক মানুষ হিসাবে প্রতিস্থাপন করে। স্যালুট মান্যবর।
আমরা যখন সেলিম জাহানীয় ঘরানায় বন্দি হই তখন সাধুসঙ্গ, আনন্দসঙ্গ এবং ব্রাহ্মচর্যা লাভের দেশনা পাই। তার লেখার নিগূঢ়ে শিল্পমূল্য এবং বাস্তবমূল্য দুটোই আছে। যখন অর্থনীতিক বিষয়ে আলোকপাত করেন তখন সেটি একটি ডুবন্ত জাহাজকে মাঝ দরিয়া থেকে তটে ভিড়িয়ে দেয়,একটি জাতিকে সংকট থেকে উদ্ধার করে মুক্তির সোপানতলে ভিড়িয়ে দেয়। একটি জাতির প্রধান চালিকাশক্তি হচ্ছে অর্থনীতি। এটি স্থবির হবার সাথে সাথে অন্যান্য নিয়ামকগুলোও অচল হয়ে পড়ে বাস্তবিকপক্ষে। অর্থনৈতিকভাবে শক্তিশালী দেশগুলি জনকল্যাণমুখী কর্মকান্ড পরিচালনা করে থাকে। করোনাভাইরাস দ্বারা আক্রান্ত ফ্রান্স দ্রুত ব্যবস্থা নিয়ে তাদের নাগরিকদেরকে ঘরে থাকার আহবান জানিয়েছে। তাদের রাষ্ট্রপ্রধান ম্যাক্রন ঘোষণা দিয়েছেন কাউকেই না খেয়ে মরতে হবে না। ফলে রাষ্ট্রের প্রতি জনগণের আস্থার জায়গাটি সৃষ্টি হয়েছে। আর বাংলাদেশে প্রধানমন্ত্রীর তরফে এধরনের ঘোষণা না আসায় মানুষকে লক ডাউন, কোয়ারেন্টাইনের কথা বলে ঘরে রাখা যাচ্ছেনা। জনগণের উপর

—————–

সাইফুর রহমান কায়েশ, একজন কবি-কলামিস্ট এবং এন জি ও কর্মী।

Facebook Comments

বাংলাদেশ সময়: ৭:৩৬ অপরাহ্ণ | শনিবার, ০৪ এপ্রিল ২০২০

জাপানের প্রথম অনলাইন বাংলা পত্রিকা |

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত