ঘোষণা

ঢাকাতেই পুরুষদের চেয়ে নারীরা ডিভোর্স দিচ্ছেন বেশি

| শনিবার, ১৪ মার্চ ২০২০ | পড়া হয়েছে 107 বার

ঢাকাতেই পুরুষদের চেয়ে নারীরা ডিভোর্স দিচ্ছেন বেশি

মুজিব রহমান।।

সাবলম্বী নারীরা এটা পারছেন। ঢাকাতেই পুরুষদের চেয়ে নারীরা বেশি ডিভোর্স দিচ্ছেন। আমাদের সমাজ ব্যবস্থায় নারীদের উপর নিপীড়ন করার একটি প্রবনতা রয়েছে। এটা শিক্ষিত অশিক্ষিত সব পর্যায়েই দেখছি। স্ত্রীকে অসম্মান করা, ছোট করা অহরহই দেখি। স্ত্রী কম বুঝে এটা প্রমাণ করতেও অনেকে কুণ্ঠিত হন না। আজই একজন কর্মজীবী নারী বললেন, ‘কর্ম ছাড়ছি না। এমনিতেই বিভিন্ন রকম যন্ত্রণা করে, যদি কর্ম ছেড়ে দেই তবে যন্ত্রণা দেয়া হাজারগুণ বাড়িয়ে দিবে। তখন কিছু করার থাকবে না।’

শাবনুরের ডিভোর্সটা আলোচিত হচ্ছে। তার ভক্ত অনেকে কষ্ট পাচ্ছেন। আমি তাঁর ভক্ত নই। তবে শাবনুরের মুক্তি পাওয়াটা কেউ দেখছেন না। যদি অভিযোগ সত্য হয়, তবে মদ্যপ ও পরকীয়ায় অভ্যস্ত একজন স্বামীর ঘর কেন করবে একজন সাবলম্বী নারী? আরো আগেই ডিভোর্স দেয়া উচিৎ ছিল। বাঙালি নারী বলে, এতোকাল অপেক্ষা করেছে।

শাবনুর অনিক দুজনেই চলচ্ছিত্রের লোক ছিলেন। তাতে তাদের সুখী হওয়ার সম্ভাবনা ছিল। দুজন চরম ভিন্ন মতের মানুষও সুখী হতে পারে যদি তারা ভিন্ন মতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হন। তসলিমা নাসরিন আর রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহ ভালবেসে বিয়ে করেছিলেন। দুজনেই কবিতা লেখেন, সংস্কৃতিমনা, মুক্তমনের প্রগতিশীল মানুষ। কিন্তু তাদের সংসার টিকেনি। শমী কায়সারকে বিয়ে করার জন্য রিঙ্গো মুসলিম হয়েছিলেন। বিয়ের পরে তাদের সংসার টিকেছিল মাত্র দুই বছর। রিঙ্গো ফিরে যায় ভারতে। শমীর পরের স্বামী আরাফাতের নাম এসেছে পাপিয়ার খদ্দের হিসেবে। কি হবে কে জানে? আমার পরিচিত প্রভাবশালী আরো নারীর স্বামীও রয়েছে ওই খদ্দেরের তালিকায়। তারা সবাই অতীব সুন্দরী নারী অথচ স্বামীগণ অবিশ্বস্ত। শুনে এক বন্ধু বলল, আমি যেনো ওই নারীদের বলে দেই বদমাশ স্বামীদের গালে যেন থাপ্পর দেয়। ডিভোর্স দি ইয়ার (২০১৭) ছিল মিথিলা-তাহসান এর ডিভোর্স। দুজনেই ছিলেন কণ্ঠশিল্পী, গীতিকার, মডেল, অভিনয় শিল্পী, চাকরিজীবী- কতো মিল। কিন্তু পরস্পরের প্রতি অবিশ্বাস, অশ্রদ্ধা নিয়ে গেছে ডিভোর্সের দিকে। মিথিলা বিয়ে করেছেন ভারতীয় চলচিত্র নির্মাতা সৃজিত মুখার্জিকে। অপু বিশ্বাসই আত্মবিশ্বাসী ছিলেন না। তাকে যথেষ্ট অসম্মান করার পরও ডিভোর্স নিজে দিতে চান নি। অথচ আত্মসম্মান রক্ষার জন্য তারই উচিৎ ছিল ডিভোর্স দেয়ার। হয়তো নিজের ধর্ম ছেড়ে আসা, নিজের সন্তান ইত্যাদিও তিনি বিবেচনা করেছেন। সৈয়দ শামসুল হকের ক্ষেত্রে দেখেছি, তসলিমা নাসরিন নৈতিক স্খলনের অভিযোগ আনলেও তাঁর স্ত্রী বিষয়টি আমলে নেননি। অবশ্য অভিযোগের সময় দুজনেরই যথেষ্ট বয়স হয়েছিল।
ভিন্নমত থাকার পরেও অন্তত ভিন্নমতের উপর শ্রদ্ধা ও উদারতার কারণে অনেক সংসার টিকে যায়। অনেকে সন্তানের দিকে চেয়ে স্বামীর নির্যাতন সহ্য করেন। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই কর্মহীন নারীরা মুখ বুঝে সহ্য করেন। খুব কম হলেও স্ত্রীর হাতেও স্বামী নির্যাতিত হওয়ার ঘটনা ঘটে। অকর্মন্য ও মাদকাসক্ত স্বামীরাও মেনে নেয় যতদিন না স্ত্রী তালাক দেয়।
শাবনুরের ডিভোর্সটা আমার ভাল লেগেছে। কষ্ট করে অসম্মানজনক জীবনের চেয়ে আলাদা হয়ে নতুন করে শুরু করাটা মন্দ নয়।শুভ কামনা।

Facebook Comments

বাংলাদেশ সময়: ১১:৪৬ পূর্বাহ্ণ | শনিবার, ১৪ মার্চ ২০২০

জাপানের প্রথম অনলাইন বাংলা পত্রিকা |

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত