ঘোষণা

তমসার ঢেউ ভেঙে

দীলতাজ রহমান | রবিবার, ১৩ ডিসেম্বর ২০২০ | পড়া হয়েছে 87 বার

তমসার ঢেউ ভেঙে

 

রাত বেড়েই চলেছে। কিন্তু‘ ঘর গোছানোর সময় কাজটা যেন কমছে না। কোথায় যে কোন জিনিসটি রাখবে এসব ঠিক করতে প্রায় দেড় সপ্তাহ পার হয়ে যা্চ্ছে ফারজানার। সব জিনিসই তাকে নতুন কিনতে হলো।
বাইরে অঝোরে বৃষ্টি ঝরছে। শ্রাবণ মাস তাই সহসা বৃষ্টি থামার কোনো কারণ নেই। কমলেও আবার আসবে। বাতাসের বেগ পেয়ে বিরাট ঝাপটা আসতেই হাতের বইগুলো মায়ের হাতে রেখে জানালার দিকে এগিয়ে গেলো ফারজানা। পর্দা সরিয়ে মুখটা বাড়াতেই সবিস্ময়ে বললো-মা দেখো আজ পূর্ণিমা। বৃষ্টির ধারাগুলো গলানো রুপোর ঢলের মতো মনে হচ্ছে। এত উপর থেকে দেখতে কী অপূর্ব লাগছে। নিচে দু-চারটে গাছপালা না থাকলে ভুলেই যেতাম আমরা এখানে পুরনো ‘পৃথিবীর বাসিন্দা’।
মেয়ের এমন সব কথা শুনে আপ্লুত হওয়ার মতো বোধ মর্জিনা বেগম সেই কবেই হারিয়েছেন। কো

নোদিন ছিলো কিনা তাও মনে করার মতো স্মৃতিশক্তি তার নেই।
বিকৃতি দেখা না দিলেও মানসিকভাবে অনেকটা অথর্ব তিনি। শুধু নিজের আত্মজা ওই ফারজানা ছাড়া আর কাউকে তিনি চেনেন না এখন। হয়তো এই না চেনার ভানটা তিনি ইচ্ছে করেই করেন। কারণ অতটা বিমূঢ় হওয়ার মতো বয়স তার এখনো হয়নি। অভ্যেসবশত সমাধা করার চেষ্টা করছেন, সংসারে প্রতিটি কাজই। জীবনের প্রতি অনীহা পুষতে পুষতে কপালের ভাঁজগুলোতে এতই প্রকট, হঠাৎ করে যে-কেউ দেখে তাকে মানসিক রোগী ভেবে বসবে।
ফারজানা জানে তার এ উচ্ছাসের সাড়া সে মায়ের থেকে পাবে না। গ্রিল ধরে তখনো দাঁড়িয়ে থাকা ফারজানার বিমুগ্ধতা হঠাৎই রূপ নিলো অবর্ণনীয় এক বেদনায়। কিন্তু ভেঙে পড়লে তো তার চলে না, তাকে বাঁচতে হবে মেরুদণ্ড সোজা করেই। সে শুধু তার একার জন্য নয়। মায়ের পোড়া জীবনের স্বপ্নটুকুও যে মা তারই দু’চোখে পুরে দিয়েছেন। সমস্ত জীবন অসহ্য গ্লানিতে নিমজ্জিত থেকেও মা কেমন ফারজানার জন্য মৃত্যুর চেয়েও বেশি কষ্ট করে বেঁচেছেন। এখন ফারজানার সময় এসেছে মায়ের সেই বেঁচে থাকাটাকে যথার্থ করে তোলার। মর্জিনা বেগম যেমন নিজের সঙ্গে অমানবিক আপস করেছেন, সেই অন্যায়ের ওপর পা রেখেই তারই মেয়ে নিজের অজান্তেই হয়ে উঠেছে সবার প্রতি বেপরোয়া, আপসহীন। ফারজানার বোধও স্

বার্থপরতার দীনতায় অস্বচ্ছ নয় বরং সে তার মতোই উজ্জ্বল শান্তিকামী।

প্রসূনকে ভালোবেসে বিয়ে করেছিলো ফারজানা। দীর্ঘদিনের জানাশোনার পর প্রস্তাবটি অবশ্য প্রসূনই দিয়েছিলো। ফারজানা ভাবতে সময় নিয়েছিলো আরো বছরখানেক। একটি সরকারি কলেজে শিক্ষকতা করছে ফারজানা। প্রসূনও আধা-সরকারি একটি প্রতিষ্ঠানের নির্বাহী কর্মকর্তা। মাত্র ছ’মাসের সংসার তাদের। কূল উপচানো ভালোবাসার প্লাবনের মধ্যেও যখন উঁকি দিলো দ্বন্দ্বের প্রাণঘাতী ঝিলিক, আরো প্রকট হয়ে তা চরম আকার ধারণ করার আগেই ফারজানা সরে এলো। সসম্মানে। প্রসূনকেও কোনো ধরনের অসম্মান না করে।
কারণ পারস্পরিক বিশ্বাস ও সহমর্মিতার শপথ নিয়ে বিকল্পহীন যে সম্পর্কটিকে সে জীবনে প্রতিষ্ঠা দিয়েছে, সেই মানুষটিকে আগেই সে প্রতিপক্ষ করে তুলতে চায় না। কৃত্রিম একটু দূরত্ব শুধু সৃষ্টি করে তাকে একটা সুযোগ দেয়া হলো নিজেকে শুধরে নেয়ার। বিয়ের আগে প্রসূন থাকত তার বড় ভাইয়ের সঙ্গে একই বাড়িতে। বিয়ের পর ফারজানা সেই বাড়িতে কিছুদিন ছিলো। পরে ওরা তিন কামরার একটা বাসা নিয়ে মনের মতো করে সেটি সাজিয়ে তোলে। প্রসূনের ভাবীর সঙ্গে তার মায়ের বনিবনা হতো না বলে ফারজানা পরম আগ্রহভরে শাশুড়িকেও সঙ্গে এনেছিলো।

প্রতিদিন শাশুড়ির জিনিসপত্র গোছগাছ করে দেয়া থেকে শুরু করে কাপভর্তি চা নিয়ে ফারজানা যখন তখন সামনে হাজির হয়ে জাগিয়ে তুলেছিলো শাশুড়ির বিস্মৃত আত্মবিশ্বাস। ছোট বউয়ের কৌতূহল মেটাতে নিজেরও বউকালের স্মৃতিকথার ঝাঁপি খুলতেন তিনি প্রায়ই।
কলেজে যাওয়ার সময় আলমিরার চাবির গোছাটি শাশুড়ির হাতে গুঁজে দিয়ে রান্নার আইটেম থেকে শুরুকরে প্রতিটি কাজে তার পরামর্শ নিয়ে ফারজানাই তাকে দিয়েছিলো ওই সংসারে সর্বময় কর্ত্রীর সম্মান। যা তিনি হারিয়েছেন বহু বছর আগে, স্বামীর মৃত্যুর পরপর। তারপর এতটা বছর কেটেছে বড় ছেলের গৃহে নিতান্তই আশ্রিতের মতো। তবু তিনি ছেলেদের কান ভারী করেননি। নীরবে সয়েছেন পুত্রবধূর অকারণ গঞ্জনা।
‘বাবার রেখে যাওয়া টাকা দিয়েই তো ভাইয়া ব্যবসা শুরু করেছিলো’ মাঝে মাঝে মায়ের সঙ্গে একমত হয়ে প্রচণ্ড ক্ষেপে ওঠে প্রসূন। একটা বোঝাপড়ায় যেতে চায় সে। তাকে থামিয়ে দেয় ফারজানা। থাক না! তুমি, আমি দুজনে চাকরি করছি। আমাদের অবস্থা যথেষ্ট সচ্ছল। ভাইয়ার ছেলেমেয়েগুলো বড় হয়েছে। অনেক খরচ ওদের। তাছাড়া ভাইয়ার ব্যবসাটি এমন বড় কিছু নয়।
এমন সব পরিস্হিতে অনেকক্ষণ না তাকিয়ে থেকে পারে না প্রসূন ফারজানার আশ্চর্য দুটি চোখে। তারপর বলে, আমি যা এতবড় করে ভাবি, তুমি এত তুচ্ছ করে দেখার শক্তি কোথায় পাও?
শুধু সামনের দিকে তাকাও তাহলে জীবনটাকে আরো অর্থবহ, আরো সুন্দর মনে হবে। সংকীর্ণতাকে জয় করা না গেলে মহৎ হবে কী করে?
তবে তাই হোক, তোমার আলোয় আমার দুচোখ ভরে দাও।
ফারজানাকে হঠাৎ বিষণ্ন হয়ে যেতে দেখে কাছে টেনে নেয় প্রসূন, হঠাৎ, হঠাৎ। কী ভাবো বলো তো?
না… কিছু না। আসলে একটা কথা বলতে সুযোগই হয় না তোমাকে।
এখন বলে ফেলো।
আমার মাকে আমাদের কাছে এনে রাখা দরকার।

কেন?
বলার ধরন দেখে প্রসূনের এই ‘কেন’ শব্দটি নির্মমভাবে ছুঁড়ে মারা বিষাক্ত তীরের মতো বিঁধে যায় ফারজানার বুকে। প্রসূন শুধু তার স্বামীই নয়, দীর্ঘদিনের বন্ধু, প্রেমিকও বটে। তারই বাহুডোরে বাঁধা এমন আবেগঘন মধুর একটি সময়েও ফারজানার বিশ্বাসের স্তম্ভটি চূর্ণ হয়ে গেলো। আবার সেই কবেকার মতো বিবর্ণ হয়ে উঠলো তার পৃথিবী। প্রসূনের বাহু থেকে নিজেকে মুক্ত করে ছিটকে কিছুটা দূরে তার মুখোমুখি বসে দৃষ্টির আগুনে ঝলসে দেয় সে প্রসূনের বদ্ধমূল ধারণা। শীতল কণ্ঠে প্রশ্ন ছোড়ে-‘কেন নয়?’ আর এটা আমার জন্য অতি অবশ্যই করণীয় একটি কর্তব্য। তীক্ষ উত্তর ফারজানার।
তোমার মায়ের ওখানে কী অসুবিধা? অনেক পরিবারেই তো পিতার দ্বিতীয় স্ত্রী থাকে।
এই একটি বিষয়ে আমি কোনো কৈফিয়ত কাউকে দিতে বাধ্য নই।
তুমি ভুলে যাচ্ছো এটা আমার ঘর।
ও হ্যাঁ, তাই তো, ভাববার অবকাশ হয়নি বলেই বাবার ঘর ছেড়ে সরাসরি তোমার ঘরে ঢুকে পড়েছি নিজের একটি ঘর তৈরি না করে।
তোমার মা-মেয়ের সংসারে থাকতে চাইবেনই-বা কেন?

তোমার মা, তোমার মা করবে না তো। আমি কি কখনো তোমাকে তোমার মা করে বলেছি? দেখে-শুনে এতদিনে তোমার শেখা উচিত ছিলো!
যা-ই হোক, উনি এখানে এসে থাকলে আমার আত্মীয়স্বজন, বন্ধুরা কী ভাববে। তাছাড়া আমার মা এখানে থাকেন।
আত্মীয়স্বজন, বন্ধুদের কথা বাদ দাও। তোমার মায়ের কথাও। তুমি কী ভাবছো সেটাই বড় কথা। তাছাড়া, আমি কি তোমার চেয়ে বেতন কম পাই?
টাকার খোটা দিচ্ছো?
নয় কেন? তোমার দৃষ্টিভঙ্গি এমন মানবিকতা বিবর্জিত, জানলে…। তুমি কী জানতে না আমি আমার মায়ের একমাত্র সন্তান।
কিন্তু তিনি তো আশ্রয়হীন নন!

আর কথা বাড়াতে রুচিতে বাড়ে ফারজানার। তবে এই প্রসঙ্গটির জোরেই ফারজানাকে বাধ্য করে নিজের একটি ঘর খুঁজে নিতে এবং তা অতি দ্রুত।
এক দুঃসহ স্মৃতির আস্তরণ মন থেকে খুবলে তুলে ফেলতে চেয়েছিলো ফারজানা। কিন্তু পারলো না। পিছিয়ে গেলো সে। প্রসূনকে চিনতে তার ভুল হয়ে গেছে। উচ্চ শিক্ষিত হয়েও এত হীনমন্যতা ওর মধ্যে রয়ে গেছে ভাবতে পারেনি। মাকে বাদ দিয়ে ফারজানা শূন্য।
সামান্য একজন জুনিয়র অফিসার। মানুষ হিসেবে সে একেবারে আদর্শহীন, তারই ঘরে জন্মে সে যে আজকের এই ফারজানা হতে পেরেছে সে শুধু তার মায়ের জন্য। সেই মাকে আকণ্ঠ গ্লানিতে নিমজ্জিত রেখে সংসার এবং সম্পর্ক টিকিয়ে রাখতে আপস করবে ফারজানা! অসম্ভব। আপসের জীবন ফারজানা দেখে এসেছে। কী ঘৃণার! কী বেদনার! কী গ্লানির! অসহ্য! বমি আসে ফারজানার।
দুঃস্বপ্ন দেখে জেগে ওঠার মতো কী এক গুমোট যন্ত্রণায় ইকনোমিক্সের ওই লেকচারার ফারজানা চৌধুরীকে কুঁরে কুঁরে খায় তা শুধু ফারজানা চৌধুরীই জানে। অন্য সবাই এ সমাজে হয়তো তা হরহামেশাই দেখেতে অভ্যস্ত বলে ভুলে গেছে। কিন্তু আগুন যার শরীরে লেগেছিলো, তার মতো আর কেউ মনে রাখে না।
প্রচণ্ড শোরগোলের শব্দে ঘুম ভাঙে শিশু ফারজানার। সেদিন দেখেছিলো মহল্লার সব বাজে লোকগুলো একত্রিত হয়ে তার বাবাকে বাধ্য করেছে তাদের বাড়ির কাজের মেয়েটিকে বিয়ে করতে। কারণ মেয়েটির গর্ভে যে সন্তান, অনাগত সেই সন্তানের বাবাও ফারজানার বাবা।
ঘটনার আকস্মিকতায় বোবা হয়ে রইলেন মর্জিনা বেগম। লম্পট স্বামীটির সুখের বাসর তাতে বরং নির্বিঘ্নই হলো।
কিন্তু দীর্ঘদিনের কষ্টে কেনা সম্বলমাত্র একখণ্ড জমি যখন সে তার নববধূটির নামে লিখে দিলো খবরটা মর্জিনা বেগমের কানে যেতেই অনেকদিন পর শব্দ করে কেঁদে ওঠেন তিনি। একমাত্র সন্তানকে কোলে নিয়ে মুলি বাঁশের বেড়ার গেটের বাইরে পা রাখতেই অমানুষ স্বামী তার কোল থেকে ছোঁ মেরে কেড়ে নিলো বাচ্চাটিকে। কিন্তু স্ত্রীকে যেতে বাধা দিলো না। কিন্তু মা ছাড়া বাচ্চাটি ক’দিনে মরণোন্মুখ হয়ে উঠলে তাকে তার মার কাছে পাঠাতে হলো।

মর্জিনা বেগমের দরিদ্র পিতাও তার মেয়েকে সাফ সাফ জানিয়ে রাখলো তুমি যেতে না চাইলে থেকে যাও। কিন্তু ওই হারামির বাচ্চার সন্তানের জায়গা আমার বাড়িতে হবে না। যে আমার বংশের মুখে চুনকালি দিয়েছে তার বাচ্চাকে কেন আমি পালতে যাবো!
অনিবার্য আত্মহননে কঠিন সম্মোহিত পথটি ছেড়ে মর্জিনা বেগম ফিরে এলেন সন্তানের জন্য। ফারজানা কোনোদিনও আর দেখেনি মাকে বাবার ছায়াটি মাড়াতে। অপমান, যন্ত্রণা, আর দারিদ্রের কষাঘাত ছাড়া আর কী পেয়েছে মা? যে ছিলো তার চাকরানি, অপ্রকৃতিস্হের মতো উল্টো দীর্ঘ সময় ধরে তারই দাসীগিরি করেছেন তিনি। সংসার নামক ওই নরক থেকে, জীবন নামক অসহ্য সেই গ্লানি থেকে তা শুধু তারই মুখ চেয়ে তার মায়ের মুক্তি নেয়া হয়নি।
কলেজে ওঠার পরপরই মামাতো ভাইয়ের প্রণয়ফাঁদে জড়িয়েছিলো ফারজানা। পাত্রপক্ষ বিয়ের প্রস্তাব পাঠালে বাবা আপদ বিদায়ের আশায় সে প্রস্তাবে অগ্রসর হলেও, রক্তশূন্য ফ্যাকাসে মুখে গভীর উৎকণ্ঠা নিয়ে মা-ই দিয়েছিলো আজকের এই প্রত্যয়ের মন্ত্রজীবনে কখনো দুঃসময় এলে ঠেকাবি কী দিয়ে? ওইটুকু বিদ্যে দিয়ে যে কোনো চাকরি জুটবে না। আমাকে দেখেও শিখলি না হতভাগী? মানুষ হতে না পারলে জ্যান্ত ছিঁড়ে খাবে ক্ষমতাবান কুকুরগুলো। মাথা উঁচু করে একা চলতে পারবি না।
মায়ের সেই কঠিন মন্ত্রে নিমিষে মিলিয়ে গিয়েছিলো ফারজানার প্রথম ভালোবাসা। তারপর থেকে যেভাবে সে নিজেকে নির্মাণ করতে বাধ্য হয়েছে, সেতো কখনো এই অআধুনিকতা ও হীনমন্যতাকে মেনে নেবে না?
কথা কাটাকাটির পর থেকে যে-ক’টা দিন ফারজানা প্রসূনের সঙ্গে ছিলো, বিবাদ এড়িয়ে গেছে। কারণ ও পথে সমাধান আসবে বলে তার মনে হয়নি। ঠুনকো হলেও চিরকালীন সংস্কার, বলয় ভেদ করে বেরিয়ে আসা বোধহয় খুব সহজও নয়। আর প্রতিপক্ষকে যদি দুর্বল ভেবে রাখা হয়। নিজের পিতাকে ঘৃণা করতে শেখার মধ্য দিয়ে যার বেড়ে ওঠা, অন্তর্দ্বন্দ্বের বিষময় ছোবল থেকে সে-ই কী অতো সহজে মুক্তি পাবে। তবু এবার ফারজানা একটু স্বস্তি, একটু সুখ চায়। নিজের দোষে যেন কোনো বিপর্যয় ডেকে না আনে সে।
বহুতল ভবনের দু’কামরার এই ছোট ফ্ল্যাটটি খুঁজে পেতে ফারজানাকে তার কলিগরাই সহযোগিতা ক

রেছে। দশদিন হলো সে এখানে মাকে নিয়ে উঠেছে। প্রথম দিন কলেজ থেকেই ও বাসায় আর ফিরে যায়নি। তবে শাশুড়িকে বলেছিলো, ক’দিন আমি মায়ের কাছে থাকবো। আপনার ছেলের সঙ্গে কথা হয়েছে। আর লিখে রেখে এসেছে প্রসূনকে মুখ ফুটে বলতে গেলে হয়তো চেঁচামেচি হবে। তাতে হয়তো ভাঙনও অনিবার্য হয়ে উঠতো। আলাদা করে আমার যে একটা ঘরের প্রয়োজন ছিলো এ কথাটি তুমিই বুঝিয়েছো। এ জন্য তোমাকে ধন্যবাদ। প্রতিপক্ষের মতো নয়, উপায়হীনভাবে এ পদক্ষেপটি আমাকে নিতে হলো। তুমি ইচ্ছে করলে নিঃসংকোচে আমার ঘরে আসতে পারো। তবে অবশ্যই আমার শাশুড়িমাতাকে সঙ্গে করে আনবে। তাকে ছাড়াও আমাদের সংসার আমি ভাবতে চাই না।
আমাকে কষ্ট দিতে নিজেও কষ্ট পেয়ো না। তাতে শুধু জীবনের অপচয় ঘটবে। স্বীকার করছি তোমাকে ছাড়া আমি কষ্ট পাচ্ছি। এইটুকু জীবনে এত বেদনা, এত কষ্টের মধ্য দিয়ে হেঁটেছি যে আর কোনো তুচ্ছ কষ্টের উত্তাপও অসহ্য ঠেকে।

দীলতাজ রহমান

কথা সাহিত্যিক

 

Facebook Comments

বাংলাদেশ সময়: ১:১৩ অপরাহ্ণ | রবিবার, ১৩ ডিসেম্বর ২০২০

জাপানের প্রথম অনলাইন বাংলা পত্রিকা |

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

চন্দ্রাবলী

১৬ নভেম্বর ২০২০

মালতি

২৫ জুলাই ২০২০

 ফুটপাথ

৩০ জুলাই ২০২০

অনুগল্পঃ মানুষ

১০ ডিসেম্বর ২০২০

বাটপার

১৩ আগস্ট ২০২০

স্বর্গ থেকে বিদায়

০৯ ডিসেম্বর ২০২০

সোনাদিঘি

১৪ জুলাই ২০২০

এডুকেশন

২৩ ডিসেম্বর ২০২০

বিটলবণের স্বাদ

২৪ সেপ্টেম্বর ২০২০

ফেরা

১৪ মার্চ ২০২০