ঘোষণা

দশ হাজার সীমান্ত পিলারে ‘পাকিস্তান’ মুছে ‘বাংলাদেশ’

অনলাইন ডেস্ক | বৃহস্পতিবার, ০৮ অক্টোবর ২০২০ | পড়া হয়েছে 47 বার

দশ হাজার সীমান্ত পিলারে ‘পাকিস্তান’ মুছে ‘বাংলাদেশ’

বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তে ১০ হাজারের বেশি পিলারের গায়ে খোদাই করে লেখা ‘পাক/পাকিস্তান’ পরিবর্তন করে ‘বিডি/বাংলাদেশ’ লিখল বর্ডার গার্ড অব বাংলাদেশ (বিজিবি)। বিজিবি সদর দফতরে ৭ অক্টোবর (বুধবার) সংবাদ সম্মেলনে একথা জানান বাহিনীর পরিচালক (অপারেশন্স) লেফটেন্যান্ট কর্নেল ফয়জুর রহমান।

তিনি বলেন, ফেব্রুয়ারি থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ৮ মাসে ৩৭২ কোটি ৯ লাখ ৫৯ হাজার টাকা মূল্যের বিভিন্ন প্রকার চোরাচালান ও মাদকদ্রব্য জব্দ করা হয়েছে। অভিযানে ২ হাজার ৬৩ চোরাকারবারিকে এবং অবৈধভাবে সীমান্ত অতিক্রমের দায়ে ৩৪৪ বাংলাদেশি নাগরিক ও ৯৬ ভারতীয় নাগরিককে আটক করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে।

ফয়জুর রহমান বলেন, সীমান্তে ১০ হাজার ২৪০টি পিলার ছিল, যেগুলো অনেক আগের। এগুলোতে ‘পাক’ অথবা ‘পাকিস্তান’ লেখা ছিল। সীমান্তে দায়িত্বরত বিজিবি সদস্যরা এগুলোকে ‘বিডি’ বা ‘বাংলাদেশ’-এ কনভার্ট করার বিষয়টি আমাদের বিবেচনা করতে বলেন। পরে ডিজি (মহাপরিচালক) মহোদয় এগুলো বদলের সিদ্ধান্ত নেন। বিজিবি সদস্যরা নিজেদের ঘাড়ে সিমেন্ট-বালু নিয়ে নিজেদের পরিশ্রমে সীমান্তে সব পিলারে এ লেখা বসিয়েছেন।

ফয়জুর রহমান জানান, বিজিবি পার্বত্য সীমান্ত এলাকায় ৮১৫ কিলোমিটার সীমান্ত সড়ক নির্মাণের পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। বর্তমানে ৩১৭ কিলোমিটার সড়ক নির্মাণাধীন। এছাড়া ৭৩টি আধুনিক কম্পোজিট বিপি নির্মাণ অনুমোদন হয়েছে। বিজিবি ‘আলোকিত সীমান্ত প্রকল্প’র মাধ্যমে সীমান্তবর্তী কর্মহীন ও অসহায় মানুষের মধ্যে ভ্যান গাড়ি, সেলাই মেশিন, গবাদি পশু, চা-স্টল বিতরণ করে কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করেছে। পাশাপাশি বিজিবির ব্যবস্থাপনায় বিভিন্ন সাহায্যকারী সংস্থার সহায়তায় এ পর্যন্ত সীমান্তবর্তী ২৮ জেলার প্রায় ১ লাখ ২০ হাজার দুস্থ, অসহায় ও হতদরিদ্র পরিবারের মাঝে ত্রাণসামগ্রী বিতরণ করা হয়েছে।

সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে পরিচালক বলেন, শুধু বিজিবি নয়, কোনো আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বন্দুকযুদ্ধ চায় না। আমাদের একমাত্র টার্গেট থাকে অপরাধীকে গ্রেফতার করা। ওই সময় অনেক অপরাধী আমাদের আক্রমণ করে, গুলি ছোড়ে, তখন আত্মরক্ষার্থে এবং সরকারি সম্পদ রক্ষার্থে এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।

বিএসএফের গুলিতে কতজন বাংলাদেশি নিহত হয়েছেন- এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘সংখ্যাটি নিশ্চয়ই আপনাদের কাছে রয়েছে। সম্প্রতি বিজিবি-বিএসএফের মহাপরিচালক পর্যায়ের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। সেখানে বিএসএফ প্রধানকে এ বিষয়ে বলা হয়েছে। এরপর থেকে এমন কোনো ঘটনা ঘটেনি।’ তবে মঙ্গলবার চাঁপাইনবাবগঞ্জে তিনজন নিহত হওয়ার তথ্য দিয়েছেন আমাদের যুগান্তর প্রতিনিধি।

অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বক্তব্য অনুযায়ী সীমান্ত দিয়েই মাদক প্রবেশ করছে, বিজিবি আরও তৎপর হলে বিষয়টি ঠেকানো যেত। এ বিষয়ে তিনি বলেন, এটা যিনি বলেছেন, এটা তার ব্যক্তিগত মতামত, পুলিশ সদর দফতরের বক্তব্য নয়। আমরা প্রায়ই মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে বা সরাসরি পুলিশ সদর দফতরের সঙ্গে তথ্য বা মতামত শেয়ার করি। কেন্দ্রীয়ভাবে কোনো সাজেশন এলে বিষয়টি নিয়ে অবশ্যই আলোচনা করা হবে। দেশের ৪ হাজার ৪২৭ কিলোমিটার সীমান্তে বিজিবির সদস্যরা ২৪ ঘণ্টা হাজির রয়েছেন। সীমান্ত দিয়ে যেই মাদকই আসছে আমরা সেগুলো জব্দ করছি।মাদক কারবারে বিজিবি সদস্যদের সম্পৃক্ততার অভিযোগের বিষয়ে পরিচালক বলেন, রাষ্ট্রীয় আইনের পাশাপাশি বিজিবির নিজস্ব আইন রয়েছে। আমরা সেই আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হয়ে দায়িত্ব পালন করি। তাছাড়া বিজিবি অনেকবার রিফর্মও করা হয়েছে। এটা বলতে পারি যে, সীমান্তে মাদকের সঙ্গে বিজিবির সম্পৃক্ততা জিরো।

মিয়ানমারের রাখাইন সীমান্তে সে দেশের সেনাবাহিনীকে তাদের সশস্ত্র উপস্থিতি বাড়াতে দেখা গেছে, এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিজিবির এ কর্মকর্তা বলেন, সীমান্তে বিজিবি সদস্যদের কতটুকু উপস্থিতি থাকা প্রয়োজন, এ বিষয়ে কেন্দ্রীয় দায়িত্বশীলরা নিশ্চয়ই আরও ভালো জানেন। আমাদের সীমান্ত রক্ষার জন্য যতটুকু দরকার, ঠিক তত পরিমাণ বিজিবি সদস্য মোতায়েন রয়েছে। সীমান্তে আমাদের লোকজন সতর্ক রয়েছে। বিজিবির বর্তমানে জনবল বেড়েছে, আমাদের অংশে যে দায়িত্ব রয়েছে, তার সর্বোচ্চটাই আমরা নিয়োজিত করছি।

Facebook Comments

বাংলাদেশ সময়: ১০:০৪ পূর্বাহ্ণ | বৃহস্পতিবার, ০৮ অক্টোবর ২০২০

জাপানের প্রথম অনলাইন বাংলা পত্রিকা |

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত