ঘোষণা

দেশের সংশ্লিষ্টদের কথা ও কাজের ধরনে মনে হয় সব যেন সাংঘর্ষিক

| সোমবার, ০৬ এপ্রিল ২০২০ | পড়া হয়েছে 103 বার

দেশের সংশ্লিষ্টদের কথা ও কাজের ধরনে মনে হয় সব যেন সাংঘর্ষিক

 

করোনা পরিস্থিতি : দায়িত্বশীলদের দায়িত্বহীন আচরণ

পি. আর. প্ল্যাসিড

গত ফেব্রুয়ারির ১৩ তারিখ আমি সস্ত্রীক দেশে গিয়েছিলাম। যাবার সময় ঢাকা শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমান বন্দরে দেখলাম স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের একজন কর্মকর্তা হাতে ছোট একটি যন্ত্র একের পর এক প্রায় সকল যাত্রীর কপালে ঠেকিয়ে শরীরের তাপমাত্রা পরীক্ষা করছেন! আমাদেরও তাই করেছেন। এরপর একটি ছোট ফরম পূরণ করতে দিলে যথাযতভাবে তা পূরণ করলাম। ফরমটিতে লিখতে হয়েছে নিজের নাম, বয়স, কোন দেশের নাগরিক, কোন এয়ার লাইন্সে কোন দেশ থেকে ভ্রমণ করেছি, এর আগে সম্প্রতি অন্য কোন দেশ ভ্রমণ করেছি কি না। সব সঠিকভাবে লিখে জমা দিয়ে এরপর ইমিগ্রেশনের কাজ শেষ করে বেরিয়ে এলাম।

দেশে যাবার পর ঢাকা এবং গ্রামের বাড়ি যেখানে যখন যাবার দরকার, তা গিয়েছি। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সব কাজ শেষ করে আমার জাপান ফিরে আসার আগ মুহূর্তে হঠাৎ করেই টেলিফোন পেলাম স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে। যিনি ফোন করেছিলেন তিনি আমার স্ত্রীকে একজন চাইনিজ নাগরিক মনে করে তার সাথে কথা বলতে চাইলে তাকে আমি জানালাম, আগের দিনই আমার স্ত্রী জাপানে ফিরে গেছেন। আমি তাকে বুঝিয়ে বললাম, স্ত্রীর পাসপোর্ট যেখানে দেখানো হয়েছে, কোন এয়ারপোর্ট থেকে কোন এয়ারলাইন্সে আমরা ভ্রমণ করেছি সব বিস্তারিত বলার পরেও কেন আপনারা তাকে চাইনিজ বলছেন? তাকে কোনভাবেই বিষয়টি মানাতে পারছিলাম না যে, আমার স্ত্রী চীনের নাগরিক নয়, সে জাপানের নাগরিক।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সেই কর্মকর্তাকে বললাম, এয়ারপোর্টে আপনাদের জনে জনে চেক করার ভিডিওচিত্র একটি টিভি সংবাদে প্রচার করা হয়েছে, সেখানেও আমার স্ত্রীকে চাইনিজ নাগরিক বলা হয়েছে। কেন এই তথ্যগত ভুল?
এরপর ঢাকা এবং গ্রামের বাড়ি গিয়ে যেখানে যখন যাবার কথা গিয়েছি। সময়ের সব কাজ শেষ করা হলে জাপান ফিরে যাবর আগ মুহূর্তে হঠাৎ করেই টেলিফোন পেলাম স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে। যিনি ফোন করেছিলেন তিনি আমার স্ত্রীকে একজন চাইনিজ নাগরিক মনে করে তার সাথে কথা বলতে চেয়েছিলেন। তাকে জানালাম আগের দিনই আমার স্ত্রী জাপানে ফিরে গেছেন। আমি তাকে বুঝিয়ে বললাম, স্ত্রীর পাসপোর্ট দেখানো হয়েছে, কোন এয়ারপোর্ট থেকে কোন এয়ারলাইন্সে আমরা ভ্রমণ করেছি সব বিস্তারিত বলার পরেও কেন চাইনিজ বলা হচ্ছে? তাকে কোনভাবেই মানাতে পারিনি আমার স্ত্রী চীনের নাগরিক নয়, জাপানের নাগরিক।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সেই কর্মকর্তাকে বললাম, এয়ারপোর্টে আপনাদের জনে জনে চেক করার ভিডিওচিত্র একটি টিভি চ্যানেল তাদের সংবাদে প্রচার করেছে, সেখানেও আমার স্ত্রীকে চাইনিজ নাগরিক উল্লেখ করা হয়েছে। এই তথ্যগত ভুল কেন আপনাদের? দায়িত্ব পালনে এত অমনোযুগীইবা কেন? তখন কোন উত্তর তিনি আমােক দিলেন না। তাতেই বোঝা যায়, প্রবাসীদের অযথা অপদস্থ করছেন তারা। আসলে মূল সমস্যা গোড়ায়। সঠিক দায়িত্ব পালন করতে ব্যর্থ বা না করেই প্রবাসীদের দোষ দিয়ে যেন খালাশ। সত্যিকারের করোনা ভাইরাস যদি কোন যাত্রী বহন করেও থাকেন, তাহলে তো বলতে হবে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কর্মকর্তারাই সুনিপুনভাবে ছড়িয়ে দিচ্ছেন অন্যের শরীরে।

করোনাভাইরাসের কারণে এরই মধ্যে প্রবাসীদের হেয় করতে কতো ঘটনাই না দেশে ঘটে গেলো। সবকিছু বলে শেষ করা যাবে না। শুধু এটাই প্রশ্ন জাগে মনে, ধর্মালয় বন্ধ বা ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হচ্ছে যে কারণে, সেই একই কারণে গার্মেন্টস কেনো চালু থাকবে? আমাদের দেশের মতো আয়তনে ছোট এবং ঘনবসতিপূর্ণ দেশে যা সম্ভব নয়, তা জনসাধারণের সামনে বললেইতো হয়। এতে দোষের তো কিছু দেখছি না। অন্য কোন উন্নত দেশের সাথে আমাদের উন্নয়নশীল দেশের তুলনা করলে যে হবে না, তা কম-বেশি দেশের সব মানুষই জানে। তারপরেো ”করোনার চেয়ে আমরা বেশি শক্তিশালী” ধরণের কথা বলাটা কি এই দুর্যোগপূর্ণ সময়ে কোন দায়িত্ববান মানুষের মুখে শোভা পায়?

মনে হচ্ছে নিরুপায় হয়ে দেশে লকডাউন ঘোষণা করা হয়েছে কিন্তু এই লকডাউনের কারণে দেশে ভালোর চেয়ে যে কতটা খারাপ অবস্থা হতে পারে- সেটা কি লকডাউন দেবার আগে কেউ ভেবে দেখেছেন? লকডাউন দেয়া জরুরী, কিন্ত এর পাশাপাশি মানুষের কিভাবে কি করতে হবে, পরবর্তীতে কি সমস্যা হতে পারে? সেই সমস্যা মোকাবেলা করতে কি করতে হবে? এসবের কোন গাইড লাইনই নাই।

বর্তমান পরিস্থিতি মোকাবেলায় এক মন্ত্রণালয়ের সাথে সংশ্লিষ্ট অন্য মন্ত্রণালয়ের কোন আলোচনা বা বোঝাপড়া বা সমঝোতা আছে বলে মনে হয় না। কিভাবে তারা এমন সিদ্ধান্ত দিচ্ছেন? দেখতে পাচ্ছি এক প্রতিষ্ঠান কিছু বললে বা করলে অন্য প্রতিষ্ঠান বলছে বা করছে ঠিক তার উল্টোটাই।

অতিসম্প্রতি গার্মেন্টস চালু নিয়ে যা ঘটেছে, এতে করে মানুষকে মনে হয় সংশ্লিষ্টরা সাধারণ গার্মেন্টস কর্মীদের গিনিপিগ মনে করছে। লকডাউন কি, কেন বা এসময়ে কি করতে হবে- তার কোন সুস্পষ্ট গাইড লাইন না থাকায় যা হবার তাই হচ্ছে দেশের সর্বত্র। সেই চিত্র তো আমরা অহরহ দেখতে পাচ্ছি। এর মধ্যে পরিকল্পনা ছাড়া দূরপাল্লার সকল বাস-পরিবহন বন্ধ রেখে গার্মেন্টস খোলার ঘোষণায় যেভাবে লোকজন দল বেধে ঢাকামুখী হয়েছে, এর ফলই বা কি হবে? এমন কোথাও কি বলা আছে যে, সরকার বললে করোনা করুনা করবে, না বললে করবে না বা এমন কিছু? তাহলে এই যে দলে দলে মানুষ ঢাকা আসছে-যাচ্ছে, এতে কি আক্রান্তের সম্ভাবনা নেই নাকি?
যদি এমন বলা হতো যে ‘আল্লাহর মাল আল্লাহই রক্ষা করার মালিক’, তাহলে এতো কিছুর কি দরকার ছিলো? দেশে আর্মি বা পুলিশ নামিয়ে রাস্তাঘাট শুন্য করা হয়েছে। এই সুযোগে ওষুধের দোকানে যে ডাকাতি হলো, সেই ডাকাতির দায়ভার নেবে কে? সশস্ত্র বাহিনী কেন তার নিরাপত্তা দিতে ব্যর্থ?

মজার বিষয় হলো, একদিকে বলা হচ্ছে কেউ রাস্তায় বের হতে পারবে না, অন্য দিকে ঢাকা উত্তরের মেয়র বলছেন, লোক পাঠিয়ে ঘরের যেসব জায়গাগুলোতে পানি জমা থাকে সেগুলোর ব্যবস্থা করতে। তাহলে বিষয়টি কেমন সাংঘর্ষিক মনে হচ্ছে না?

আমি সংশ্লিষ্টদের কোন কাজের বিরোধিতা করছি না, সমালোচনা করছি। এই সমালোচনা স্বাধীনভাবে করার সুযোগ সবাইকে দিলে তাদের কাজের ভুলগুলো তারা সহজেই বুঝতে পেরে একসময় সুন্দর ও সফল হবেন বলে আশা করি।

লেখক : জাপানপ্রবাসী লেখক-সাংবাদিক।

Facebook Comments

বাংলাদেশ সময়: ১০:৫১ অপরাহ্ণ | সোমবার, ০৬ এপ্রিল ২০২০

জাপানের প্রথম অনলাইন বাংলা পত্রিকা |

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত