ঘোষণা

নামের মূলবিন্দু : নাম হলো পরিচয় ও নিদর্শন

| শনিবার, ১১ এপ্রিল ২০২০ | পড়া হয়েছে 113 বার

নামের মূলবিন্দু : নাম হলো পরিচয় ও নিদর্শন

আরিফুল হক চৌধুরী জুয়েল,,

নাম হলো পরিচয় ও নিদর্শন।
মানুষ দুনিয়ায় আসার পর প্রথম যা লাভ করে তা হলো তার নাম-পরিচয়। মৃত্যুর পরেও মানুষের নাম বেঁচে থাকে। প্রতিটি শিশুর নাম তার জন্মগত অধিকার।

মানুষ একে অপরকে নাম ধরেই ডাকে। কারও সঙ্গে পরিচয়ের শুরুতেই জানতে চায় আপনার নাম কী?
বিশেষত একজন শিশুর সঙ্গে কারো দেখা বা পরিচয় হলে তার নাম জানতে চায়। তাই শিশুর জীবনে নামকরণের বিরাট প্রভাব পড়ে। এ কারণে সন্তানের নাম সুন্দর ও অর্থবহ হওয়া জরুরি।

শিশুর নাম রাখা নিয়ে নানা দেশে নানারকমের রীতি-নীতিও চালু আছে। এসব রীতি আবহমান কাল ধরেই প্রচলিত। কোন কোন দেশে এ বিষয়ে আইনও আছে। এসব আইনে শিশুর জন্যে কী ধরনের নাম বাছাই করা যাবে না তার কিছু ইঙ্গিতও দেয়া আছে। শুধু কী নাম হবে সেটাই নয়, নাম রাখার কিছু আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়াও আছে।

যেমন ইংল্যান্ড এবং ওয়েলসে পিতামাতাকে তাদের সন্তানের জন্মের ৪২ দিনের মধ্যে তার জন্যে একটি নাম নির্ধারণ করতে হয়। এই সময়ের মধ্যে শিশুর নাম কর্তৃপক্ষের কাছে নিবন্ধন করা না হলে গুণতে হবে বড় অঙ্কের জরিমানা।

জাপানের ক্ষেত্রে সন্তানের জন্মের দুই সপ্তাহের মধ্যে কর্তৃপক্ষের কাছে শিশুর নাম নিবন্ধন করার নিয়ম রয়েছে।

নাম রাখার ক্ষেত্রে বিধিনিষেধের ব্যাপারে সুইডেন বিখ্যাত। দেশটির সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য নষ্ট হতে পারে এরকম কোন নাম রাখার উপর নিষেধাজ্ঞা আছে দেশটিতে। সুইডেনে প্রত্যেকটি নামের জন্যে একটি লিঙ্গও নির্ধারণ করা আছে।

আবার অনেকেই ভালোবাসা প্রদর্শন করতে, দুর্যোগ বা কোনো ঘটনার সাথে মিলিয়ে সন্তানের নাম রাখার প্রবণতাও দেখা যায়।
যেমন এক বাংলাদেশি দম্পতি তুর্কি প্রেসিডেন্ট এরদোগানের প্রতি ভালবাসার দৃষ্টান্ত দেখিয়ে নিজেদের সদ্যভূমিষ্ট তিন ছেলের নাম এরদোগান রেখেছে।

২০১৯ সালে বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড় বুলবুলের দিনে পটুয়াখালী কলাপাড়া উপজেলার হনুফা বেগমের কোল আলো করে জন্ম নিয়েছিল এক শিশু কন্যা, তাই ঘূর্ণিঝড়ের সঙ্গে মিলিয়ে নবজাতকের নাম রেখেছিলো বুলবুলি।

এখন করোনাভাইরাস একটা বীভৎস আকার নিয়েছে, যার ছোবলে স্থবির হয়ে পড়েছে গোটা বিশ্ব। আর্ন্তজাতিক গণমাধ্যম ওয়ার্ল্ড নিউজ ডেইলি অনুযায়ী , উত্তর আমেরিকার দেশ ম্যাক্সিকোতে দুই নবজাতকের নাম করোনা ও ভাইরাস রেখেছেন আন্নামারিয়া হোসে রাফায়েল গঞ্জালেস নামের এক নারী।

জানা গেছে, সন্তান গর্ভাবস্থায় করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হন আন্নামারিয়া। আক্রান্ত অবস্থাতেই মেক্সিকোর বেসিক লা ভিলা হাসপাতালে যমজ সন্তান প্রসব করেন তিনি।
বিশ্বের করোনা পরিস্থিতিতে সন্তানদের জন্ম হওয়ায় তাদের নাম রাখেন করোনা ও ভাইরাস।

এদিকে ভারত জুড়ে চলছে লকডাউন। তার মধ্যেই উত্তরপ্রদেশের একটি সরকারি হাসপাতালে এক দম্পতির যমজ সন্তান জন্মগ্রহণ করে। যমজ সন্তানের জন্ম দেওয়া প্রীতি ভর্মা বলেছেন, ২৭ মার্চ দুই সন্তানের জন্ম হয়েছে। তাদের এক ছেলের নাম রেখেছে কোভিড ও মেয়ের নাম রেখেছে করোনা। সূত্র :আনন্দবাজার পত্রিকা (অনলাইন)

Facebook Comments

বাংলাদেশ সময়: ৩:২৩ পূর্বাহ্ণ | শনিবার, ১১ এপ্রিল ২০২০

জাপানের প্রথম অনলাইন বাংলা পত্রিকা |

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত