ঘোষণা

পম্পেই নগরীতে ২০০০ বছর আগেও ছিল স্ট্রিটফুড সংস্কৃতি

রুকাইয়া জাহান মিম | সোমবার, ২৮ ডিসেম্বর ২০২০ | পড়া হয়েছে 36 বার

পম্পেই নগরীতে ২০০০ বছর আগেও ছিল স্ট্রিটফুড সংস্কৃতি

৭৯ শতাব্দীতে ভিসুভিয়াস আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাতে ধ্বংস হয়ে যায় ইতালির পম্পেই নগরী। গ্রেকো-রোমান সভ্যতার অন্যতম নির্দশন এটি। স্থাপত্য শিল্পকলা ও বিনোদনের জন্য রোমানদের কাছে সবচেয়ে আকর্ষণীয় স্থান ছিল পম্পেই নগরী। সেখানে এবার মিললো একটি উন্নতমানের রেস্তোরাঁ। এটিকে আধুনিককালের স্ট্রিটফুড সংস্কৃতির অনুরূপ বলেই বর্ণনা করছেন প্রত্নতত্ত্ববিদরা।

সম্প্রতি প্রত্নতাত্ত্বিকরা দুই হাজার বছরের প্রাচীন সেই রেস্তোরাঁটি সম্পূর্ণ উন্মুক্ত করেছেন। তবে এটি এখনো দর্শনার্থীদের জন্য খুলে দেয়া হয়নি।

এই রেস্তোরাঁর আবিষ্কারকদের প্রকাশিত তথ্য এবং ছবির বর্ণনা অনুযায়ী, প্রাচীনকালে রোমান পথচারীরা গরম খাবার এবং পানীয় পান করার জন্য যে ধরনের স্ট্রিট ফুড ব্যবহার করতেন, এই রেস্তোরাঁটি সেই ধরনের হতে পারে।

লাতিন ভাষায় তার্মোপলিয়াম বা গরম পানীয়র এই রেঁস্তোরাটি প্রত্নতাত্ত্বিক পার্ক রেজিও ভি সাইটের ভেতরে আবিষ্কার করা হয়েছে।

এই রেস্তোরাঁয় খাবার গরম রাখার জন্য খাবারভর্তি টেরাকোটার পাত্রগুলো উনুনের মতো গোলাকার গর্তে সংরক্ষণ করা হতো। দোকানের সামনের অংশকে দর্শনার্থীদের কাছে আকর্ষণীয় করে তোলার জন্য রেস্তোরাঁর সামনের দেয়ালে আঁকা রয়েছে উজ্জ্বল রঙের নানা ফ্রেস্কো (মুরাল পেইন্টিং)। রেস্তোরাঁর খাবার মেন্যুর ছবিও রয়েছে সেখানে। ছবিতে দেখা যাচ্ছে, একটি মোরগ এবং উল্টো করে ঝুলানো দুটি হাঁসের ছবি।

প্রত্নতাত্ত্বিকরা বলছেন, এই রেস্তোরাঁ আবিষ্কারের ফলে তৎকালীন পম্পেই-এর রন্ধন ও খাদ্য সংস্কৃতি সম্পর্কে বিস্তারিত জানা যাবে। সেখানে উদ্ধারকৃত কিছু টেরোকোটা পাত্রে খাবারের অবশেষও পাওয়া গেছে ।

এ বিষয়ে পম্পেই প্রত্নতাত্ত্বিক পার্কের পরিচালক মাসিমো ওসানা বলেন, এটি একটি অসাধারণ আবিষ্কার। প্রথমবারের মতো আমরা একটি সম্পূর্ণ তার্মোপোলিয়াম খনন করতে সক্ষম হয়েছি। খননকৃত স্থানটি থেকে প্রত্নতাত্ত্বিকরা একটি সুসজ্জিত ব্রোঞ্জের বাটি- যা পাতেরা হিসাবে পরিচিত, কিছু চিনামাটির পাত্র- যেগুলো স্যুপ, স্ট্যু বা পানীয় তৈরির জন্য ব্যবহার করা হতো এমন অনেক নিদর্শন উদ্ধার করেছেন।

নৃবিজ্ঞানী ভ্যালরিয়া আমোরেত্তি বলেন, এই স্থানটি খাবার ও পানীয় বিক্রির কাজে ব্যবহার করা হতো। খাবার ও পানীয় হিসেবে এখানে ব্যবহৃত পাত্রগুলোতে শূকরের মাংস, মাছ, শামুক এবং গো-মাংসের চিহ্ন পেয়েছেন প্রত্নতাত্ত্বিকরা।

পম্পেই নগরীর জনসংখ্যা ১০ হাজার হলেও ধারণা করা হয় ভিসুভিয়াসের অগ্ন্যুৎপাতের সময় সেখানে ২০ হাজারের মতো লোক জমায়েত হয়েছিল। কারণ রোমানদের কাছে পম্পেই অবকাশকেন্দ্র হিসেবে যথেষ্ট জনপ্রিয়তা লাভ করেছিল। গড়ে উঠেছিল রোমান অ্যারেনা, গ্ল্যাডিয়েটরদের লড়াই থেকে শুরু করে রাষ্ট্রীয় ভাষণ সম্বলিত নানা অবকাঠামো।

৬৬-হেক্টর বা ১৬৫ একরের এই প্রাচীন শহরটির দুই-তৃতীয়াংশ এখনো অনাবিষ্কৃত। এই ধ্বংসাবশেষগুলো ১৬ শতাব্দী পর্যন্ত অনাবিষ্কৃত অবস্থায় ছিল এবং ১৭৫০ সালে প্রথম খনন কাজ শুরু হয়।

গ্রিক-রোমান সভ্যতার এক অন্যতম নিদর্শন এই পম্পেই নগরী এখন ইতালির সবচেয়ে জনপ্রিয় আকর্ষণগুলোর মধ্যে অন্যতম। এটি ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ সাইট ইউনেস্কোর তালিকাভুক্ত।

সূত্র: সিএনএন

Facebook Comments

বাংলাদেশ সময়: ১০:৩১ পূর্বাহ্ণ | সোমবার, ২৮ ডিসেম্বর ২০২০

জাপানের প্রথম অনলাইন বাংলা পত্রিকা |

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত