ঘোষণা

বাংলাদেশ-পাকিস্তানের সম্পর্ক উন্নয়নে চীনের প্রভাব দেখছে ভারত

সুলতানা ফারহীন | রবিবার, ১৭ জানুয়ারি ২০২১ | পড়া হয়েছে 355 বার

বাংলাদেশ-পাকিস্তানের সম্পর্ক উন্নয়নে চীনের প্রভাব দেখছে ভারত

দক্ষিণ এশিয়ার ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে গুরুত্বপূর্ণ অবস্থানে রয়েছে বাংলাদেশ। তাই এই অঞ্চলে আধিপত্য প্রতিষ্ঠায় শক্তিশালী দেশগুলো বরাবরই বাংলাদেশকে পাশে রাখতে চায়। তারই ধারাবাহিকতায় ভারত ও চীন নানা ধরণের চুক্তি ও বড় বিনিয়োগের মাধ্যমে বাংলাদেশের সঙ্গে সুসম্পর্ক গড়ে তুলতে চাইছে।

অতি সম্প্রতি বিভিন্ন ইস্যুতে ভারতের সঙ্গে কুটনৈতিক টানাপোড়ন আর এর মাঝেই বাংলাদেশের সঙ্গে পাকিস্তানের সম্পর্ক উন্নয়নের চেষ্টা ভারতে জন্য গলার কাঁটা হয়ে দাঁড়িয়েছে বলে ভারতীয় বিভিন্ন গণমাধ্যমের প্রকাশিত হয়েছে।

সম্পর্ক উন্নয়নে বাংলাদেশের ওপর থেকে ভিসা নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করেছে পাকিস্তান। বাংলাদেশকেও পাকিস্তানী নাগরিকদের ওপর ভিসা নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের অনুরোধ করেছে দেশটি।

তবে শর্ত হিসেবে বাংলাদেশ বরাবরের মতোই ৭১ সালের গণহত্যার জন্য পাকিস্তানকে ক্ষমা চাওয়ার আহবান জানিয়ে আসছে। সম্প্রতিকালে পাকিস্তানের বিভিন্ন মিডিয়াতেও একাত্তরে গণহত্যার জন্য ক্ষমা চাওয়া যায় কিনা তা নিয়ে উন্মুক্ত অলোচনা হয়েছে।

পাকিস্তান যদি ক্ষমা চাওয়ার পথেই হাঁটে, তাহলে দুই দেশের সম্পর্ক আরো এগিয়েও যেতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

এদিকে ঢাকায় দায়িত্ব পালন করা ভারতের সাবেক কূটনীতিক পিনাক চক্রবর্তী বলেন, বাংলাদেশের সঙ্গে পাকিস্তানের সম্পর্ক উন্নয়নের জন্য সহায়তা করছে চীন। চীন এমনটি করতে চাইছে কারণ তারা চায় যে ভারতের প্রতিবেশীর দেশগুলোতে শক্ত ঘাঁটি গড়ে তুলতে। এটি তাদের স্ট্রিং পার্ল কৌশলের একটি অংশ।

পর্যবেক্ষকদের মতে বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের বড় বিনিয়োগকারী চীন। ফলে দুই দেশের সম্পর্ক উন্নয়নে চীনের প্রভাব থাকা সাভাবিক। বাংলাদেশ যতোটাই চীন-পাকিস্তান ব্লকে যাবে ততোটাই ভারতকে চাপে রাখতে পারবে চীন।

এদিকে সুসম্পর্ক অব্যহত রাখতে দৌড়ঝাপ শুরু করেছে ভারতের কুটনীতিকরা। তারা একাধীকবার বাংলাদেশ সফর করেছেন এবং বাংলাদেশের উন্নয়নে সবসময় পাশে থাকার অঙ্গিকার করছেন।

ভারতের পর্যবেক্ষকরা বলছেন, ২০১০ সালে বাংলাদেশে যুদ্ধাপরাধীদের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়ার পর পাকিস্তানের সংসদে এর তীব্র নিন্দা জানানো হয়েছিল। এর ফলে বাংলাদেশর সঙ্গে পাকিস্তানের যে সম্পর্কের অবনতি হয়েছিল। কিন্তু তা আবার স্বাভাবিক হওয়ার ইঙ্গিত দিচ্ছে পাকিস্তানের হাইকমিশনার ইমরান আহম্মেদ সিদ্দিকির বৈঠক এবং প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাম্প্রতিক ফোনালাপ।

তাদের মতে, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা স্বাধীন পররাষ্ট্রনীতিতে বিশ্বাস করেন। আর এ জন্যই বাংলাদেশের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখতে বিতর্কিত নাগরিকত্ব আইন এবং তিস্তা চুক্তির দ্রুত বাস্তবায়ন করা উচিৎ।

Facebook Comments

বাংলাদেশ সময়: ১২:৩৭ পূর্বাহ্ণ | রবিবার, ১৭ জানুয়ারি ২০২১

জাপানের প্রথম অনলাইন বাংলা পত্রিকা |

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

জুতার দাম ১০ লাখ ডলার!

০৯ ডিসেম্বর ২০২০