ঘোষণা

বিশ্বে বাস দুর্ঘটনায় মৃত্যুর হার বাংলাদেশেই বেশি কেন?

সাদিয়া জাহান হুমায়রা | বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২০ | পড়া হয়েছে 43 বার

বিশ্বে বাস দুর্ঘটনায় মৃত্যুর হার বাংলাদেশেই বেশি কেন?

সড়কপথে বাস দুর্ঘটনায় মৃত্যুর হার বিশ্বে বাংলাদেশেই সবচেয়ে বেশি বলে জানিয়েছেন বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা।

সংস্থাটির পরিসংখ্যান অনুযায়ী, দেশে সড়কপথে চলমান প্রতি ১০ হাজার বাসের বিপরীতে বাস দুর্ঘটনায় প্রতি বছর ২৮৭ জনের প্রাণহানি ঘটে।

পুলিশের তথ্য বলছে, দেশে গতবছর সড়ক দুর্ঘটনাজনিত মোট প্রাণহানির মধ্যে বাসের সম্পৃক্ততা ছিল কমবেশি ২৬ শতাংশ।

সড়কে প্রাণহানির সঙ্গে যানবাহনটির এ ব্যাপক সম্পৃক্ততার জন্য মূলত ফিটনেসের অভাবকেই দায়ী করছেন সংশ্লিষ্টরা।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দেশে চলমান বাসগুলোর শুধু বডি দেশের আর চেসিস বিদেশ থেকে আনা হয়। স্থানীয়ভাবে বডি বানানোর সময় মালিকদের চাহিদা অনুযায়ী এতে সিট বসানো হয়।

বেশি সিট বসানো হলে বাসের ভারসাম্য ঠিক থাকে না। আবার সিটগুলোর ওয়েল্ডিংও হয় নিম্নমানের। ফলে দুর্ঘটনায় প্রাণহানি স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি হয়।

এছাড়া চালকের অদক্ষতাকেও বাস দুর্ঘটনায় এতো বেশি প্রাণহানি ঘটার অন্যতম কারণ হিসেবে চিহ্নিত করেছেন সংশ্লিষ্টরা।

বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির তথ্য বলছে, সারাদেশে প্রায় দুই লাখ বাস-ট্রাক চালকের প্রয়োজনীয় দক্ষতা নেই। অনেকটা বাধ্য হয়েই এসব অদক্ষ চালকের হাতে বাস ছেড়ে দিচ্ছেন পরিবহন মালিকরা।

সড়কে বাস দুর্ঘটনার পেছনে এসব অদক্ষ চালক অনেকাংশেই দায়ী বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা।

নিরাপদ সড়ক করতে সরকারের পদক্ষেপ:

নিরাপদ সড়ক করতে গত কয়েক বছরে সরকার বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করলেও সড়ক নিরাপদ করা যায়নি।

নিরাপদ সড়ক প্রতিষ্ঠায় সরকার যেসব উদ্যোগ গ্রহণ করেছে তা হল:

কঠোর শাস্তির বিধান করে নতুন আইন প্রণয়ন করা হয়েছে।

চালকের যথাযথ ট্রেনিং এবং গাড়ির ফিটনেস নিশ্চিত করার জন্য গ্রহণ করা হয়েছে নানামুখী সিদ্ধান্ত।

ক্রটি দূর করার জন্য পুরাতন সড়কগুলোর সংস্কার সাধন করা হয়েছে।

আধুনিক প্রযুক্তিতে তৈরি করা হচ্ছে নতুন সড়ক।

২০২১ সালের মধ্যে সড়ক দুর্ঘটনা অর্ধেকে নামিয়ে আনার লক্ষ্যে কাজ চলমান রয়েছে।

জাতীয় সড়ক নিরাপত্তা বিষয়ক কৌশলগত কর্মপরিকল্পনা-২০২০ গ্রহণ করা হয়েছে।

এর মাধ্যমে সরকার সড়ক দুর্ঘটনা ৫০ শতাংশ কমিয়ে আনতে চায়।

দুর্ঘটনা রোধে প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শ, সরকার গঠিত কমিটির সুপারিশ, পুলিশের নির্দেশনা সবই হয়েছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সঙ্কট যে তিমিরে ছিল, সেখানেই আছে। উদ্যোগ হয়েছে ঠিকই, বাস্তবায়ন দৃশ্যমান নয়।

প্রসঙ্গত, প্রতিবছর ২২ অক্টোবর বিশ্বব্যাপী নিরাপদ সড়ক দিবস হিসেবে পালিত হয়ে আসছে। যথাযথ মর্যাদায় বাংলাদেশেও নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে দিবসটি পালিত হয়েছে।

 

Facebook Comments

বাংলাদেশ সময়: ৭:২৮ অপরাহ্ণ | বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২০

জাপানের প্রথম অনলাইন বাংলা পত্রিকা |

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত