ঘোষণা

বেড়েই চলছে রোহিঙ্গা সন্ত্রাসী গ্রুপের অপরাধের মাত্রা

হিমালয় আহমেদ | শুক্রবার, ০৯ অক্টোবর ২০২০ | পড়া হয়েছে 61 বার

বেড়েই চলছে রোহিঙ্গা সন্ত্রাসী গ্রুপের অপরাধের মাত্রা

 

বাংলাদেশের কক্সবাজারে শরণার্থী শিবিরে আশ্রিত রোহিঙ্গা সন্ত্রাসী গ্রুপের সদস্যদের অপরাধের মাত্রা বেড়েই চলছে। এসব সন্ত্রাসী গ্রুপের অত্যাচারে ক্রমেই উত্তপ্ত হয়ে উঠছে কক্সবাজারের রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলো। রোহিঙ্গাদের মধ্যে অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব, ইয়াবা ও আধিপত্য বিস্তার নিয়ে প্রতিনিয়ত সংঘর্ষের ঘটনা ঘটছে।

এতে সাধারণ রোহিঙ্গা ও স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে। ১ অক্টোবর থেকে উখিয়ার কুতুপালং রোহিঙ্গা ক্যাম্পে চলমান সংঘর্ষে প্রাণ হারিয়েছে ৭ রোহিঙ্গা। আহত হয়েছে আরো শতাধিক রোহিঙ্গা।

ক্যাম্পগুলোতে এক ডজন সন্ত্রাসী গ্রুপ সক্রিয় হয়ে উঠেছে। ক্যাম্পের অভ্যন্তরে গড়ে উঠা দোকানপাট থেকে চাঁদা আদায়, মিয়ানমার থেকে নিয়ে আসা ইয়াবা ও নানা প্রকার মাদক ও অস্ত্র বাণিজ্য, সংগঠনভিত্তিক এলাকা দখল নিয়ে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে প্রতিনিয়ত চলছে সংঘর্ষ ও গোলাগুলির ঘটনা।

গত ৪ অক্টোবর ২ জন, ৫ অক্টোবর একজন ও ৬ অক্টোবর ৪ জন রোহিঙ্গা নিহত হয়েছেন। এখনও উত্তেজন চলছে। তবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সজাগ থাকায় ক্যাম্পের পরিস্থিতি এখন নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।

এ ঘটনায় কক্সবাজার র্যাব-১৫ টেকনাফের চাকমারকুল এলাকায় অভিযান চালিয়ে ৯ রোহিঙ্গা সন্ত্রাসীকে আগ্নেয়াস্ত্রসহ আটক করেছে।

প্রাণ বাঁচাতে কয়েক’শ সাধারণ রোহিঙ্গা নারী-পুরুষ ও শিশু কুতুপালং ক্যাম্প ছেড়ে অন্য ক্যাম্পে নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নিয়েছে। বর্তমানে ক্যাম্পের অভ্যন্তরে দোকানপাট বন্ধ রয়েছে।

আশ্রয় নেওয়ার পর এক বছর রোহিঙ্গারা নীরব থাকলেও যত দিন যাচ্ছে রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলোতে অপরাধ বাড়ছে। ক্যাম্পগুলোকে মাদক, ইয়াবা, অস্ত্রের মজুত বানিয়ে ফেলেছে। অপরাধের মাত্রা বেড়ে এখন রোহিঙ্গাদের মধ্যেই প্রায় প্রতি রাতে সংঘর্ষ হয়।

ভাবমূর্তি নষ্ট করছে বাংলাদেশিদের:

এছাড়া বিভিন্ন দেশে কাজ করা এক কোটি বাংলাদেশির ভাবমূর্তি নষ্ট করছে কিছু সংখ্যক রোহিঙ্গা। যারা বাংলাদেশের পাসপোর্ট নিয়ে বিভিন্ন দেশে অবস্থান করছেন।

আসল পরিচয়পত্র গোপন করে কক্সবাজারের ভাষা শিখে বাংলাদেশি পাসপোর্ট নিয়ে বিদেশ চলে যায়৷ পাসপোর্ট নিচ্ছে বাংলাদেশের আর টাকা পাঠাচ্ছে মিয়ানমারে। এতে কোনো রেমিটেন্স বাংলাদেশ পায় না।

অন্যদিকে, তারা বিভিন্ন দেশে গিয়ে অবৈধ কর্মকাণ্ডে জড়াচ্ছে। এতে বিদেশের মাটিতে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি নষ্ট হচ্ছে।

বছরে নিহত হয়েছে অর্ধশতাধিক:

গত এক বছরে রোহিঙ্গা সন্ত্রাসী গ্রুপগুলোর অভ্যন্তরীণ বিরোধ ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ ক্যাম্পে নিহত হয়েছে ৪৬ রোহিঙ্গা।

এদের মধ্যে পুলিশ ও বিজিবির সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত হয়েছে ২৩ জন। নিহতদের প্রায় সবাই সন্ত্রাসী গ্রুপের সদস্য। এরা ইয়াবা ও মানব পাচারসহ নানা অপরাধে জড়িত।

খুন থেকে গুম, মাদক পাচার থেকে আদম পাচার এমন কোনো অপরাধ নেই যে সন্ত্রাসী গ্রুপের সদস্যরা করে না।

হাকিম ডাকাত, মাস্টার মুন্না, হাফেজ জাবের, আনাস, ইসলাম মাহমুদ, সেলিম, সাইফুসহ এরকম এক ডজন সন্ত্রাসী বাহিনী নিয়ন্ত্রণ করছে ৩৪টি রোহিঙ্গা ক্যাম্প।

উখিয়া টেকনাফের ৩৪টি ক্যাম্পে ১১ লাখের বেশি রোহিঙ্গা। বিশাল এই রোহিঙ্গা গোষ্ঠীকে পরিচালিত করার মতো কোনো সংগঠন অথবা নেতৃত্ব তাদের মধ্যে নেই। তবে বেশির ভাগ ক্যাম্পে কর্তৃত্ব করছে সন্ত্রাসী গ্রুপ।

প্রত্যাবাসনবিরোধী হতে বাধ্য করছে সাধারণ রোহিঙ্গাদের:

রোহিঙ্গা ক্যাম্পে ব্যবসা-বাণিজ্য নিয়ন্ত্রণ ও চাঁদাবাজি করে বিপুল অর্থবিত্তের মালিক হচ্ছে রোহিঙ্গা সন্ত্রাসীরা। অবৈধ ব্যবসা-বাণিজ্যের কারণে তারা সাধারণ রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসনবিরোধী হতে বাধ্য করছে।

সন্ত্রাসীদের ভয়ে সাধারণ রোহিঙ্গারা তাদের ইচ্ছার কথা প্রকাশ করতে পারে না। ক্যাম্পে গত এক বছরে অর্ধশত খুন হয়েছে। এদের মধ্যে অনেকেই স্বদেশে ফিরে যেতে আগ্রহ দেখিয়েছিল।

মিয়ানমারের সেনাবাহিনীর সঙ্গে যোগাযোগ আছে এমন কিছু লোক ক্যাম্পে রোহিঙ্গাদের চলাফেরার ওপর নজরদারি রাখে।

সন্ত্রাসী গ্রুপগুলো রোহিঙ্গাদের ভাসানচরে না যাওয়ার জন্যও প্রচার চালাচ্ছে বলে জানিয়েছে সাধারণ রোহিঙ্গারা। রোহিঙ্গা সন্ত্রাসীরা আইন প্রয়োগকারী সংস্থাকেও চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিচ্ছে।

যতই দিন যাচ্ছে ততই অপরাধ ও মাদকপ্রবণ হয়ে উঠছে:

যতই দিন যাচ্ছে রোহিঙ্গারা ততই অপরাধ ও মাদকপ্রবণ হয়ে উঠছে। গত এক বছরে রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে মাদক পাচারের অভিযোগে শতাধিক মামলা হয়েছে।

বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় মাদক সিন্ডিকেট কাজ করে যাচ্ছে রোহিঙ্গা শিবিরে। রোহিঙ্গাদের আসার পর যে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হয়েছে তাতে এই ব্যবসার সুযোগ আরো বৃদ্ধি করেছে।

এদিকে মিয়ানমার থেকে খালি হাতে এক কাপড়ে চলে আসা জনগোষ্টির কাছে নগদ টাকার মূল্য অনেক বেশি। যে কোন উপায়েই যদি তারা নগদ উপার্জনের সন্ধান পায় তাহলে সেটা ছেড়ে আসতে চায় না। সেখানে মাদকের ব্যবসা তাদের হাতে যথেষ্ট টাকা পয়সা এনে দিয়েছে।

তাই ভাসানচরে সরকার যতো সুন্দর বাসস্থানই গড়ে দিক, যতো শাকসবজির বাগানই থাক, যেখানে তারা মাদকের এমন ব্যবসা চালিয়ে যাওয়া যাবে না। মূলত মাদক এবং এর সঙ্গে নানাবিধ হিসাব-নিকাশ করে রোহিঙ্গারা কক্সবাজার ছাড়তে চাচ্ছে না।

Facebook Comments

বাংলাদেশ সময়: ৫:৪৪ অপরাহ্ণ | শুক্রবার, ০৯ অক্টোবর ২০২০

জাপানের প্রথম অনলাইন বাংলা পত্রিকা |

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত