ঘোষণা

মেষপালক মুসা মিয়া

সাইফুর রহমান কায়েস | সোমবার, ০৪ জানুয়ারি ২০২১ | পড়া হয়েছে 349 বার

মেষপালক  মুসা মিয়া

শনির হাওরের শিশু মুসা মিয়া মেষ পালক। ভবিষ্যতে সে পাইলট হতে চায়। আকাশ ছুঁতে চাওয়ার আকাঙ্খা তার প্রবল।
স্বপ্নবাজ এই শিশুর চোখে দেখি আমি অরূপ রূপের আলো। ৫ম শ্রেণীতে উত্তীর্ণ হতে যাচ্ছে এই শিশুটি। তার পালে ৫০টির মতো ভেড়া ছিল। এর মধ্যে সদ্যোজাত বাচ্চা মেষও ছিল। সে অল্পতেই আমার মিতায় পরিণত হয়ে গেছে। হাত দিয়ে তুলে ধরে মেষশাবকটি দেখালো। শনির হাওরের বিশাল প্রান্তরে সে উদাসী হয়ে আকাশের পানে তাকিয়ে ছিলো। মোবাইলে ছবি তুলতে প্রথমে সে রাজি হয় নি। ফেসবুকে ভাইরাল কথাটির সাথে এই মুসা মিয়াও এতোদিনে পরিচিত হয়ে উঠেছে। তাই অনুরোধ করায় সম্মতি দেয়। মেঠোপথের আরেক পাশে ছোট্ট নদীতে বাঁধা ছিলো ব্র‍্যাকের শিক্ষাতরী। যে তরীটি ভাটিবাংলার শিশুদের শিক্ষার ক্ষেত্রে একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ। ঝরে পড়া শিশুদেরকে শিক্ষার পাদপ্রদীপের আলোয় নিয়ে আসতে পেরেছে।
শনির হাওরের লামাপাড়া বাজারে আমরা ময়রার দোকানে মিষ্টি আর নিমকি খেলাম। বেলা তখন জোহর। মসজিদ থেকে ভেসে আসছে আজান। সূর্য কিছুটা পশ্চিমে হেলে পড়তে শুরু করেছে। শীতের সময় রোদের প্রতাপ অতটা নাই। মিহিন চিকন রোদের আলোতে পথ চলতে খুব ভালোই লাগছিলো। আমার দীর্ঘদিনের প্রিয় সহকর্মী পায়েলের হৃদয়ের ধমনীতে সাতরে কালিদহ পেরুবার বাসনা জাগ্রত হওয়ায় পালসার রেখে গ্রামীণ সেতুর খাড়া সংযোগ সড়ক পেরুতে হাঁটা শুরু করলাম। ওয়াচ টাওয়ার দেখতে চেয়েছিলেন তিনি। কিন্তু পায়েলের আবেগ এতোই উপচে পড়ছিলো যে তিনি ভুলেই গিয়েছিলেন যে কালিদহ সায়র সাঁতরে পেরুনো যায় না। দূর আকাশের প্রান্ত সীমায় আবছা পাহাড় আমাদেরকে হাতছানি দিচ্ছিল বাগলী,কলাগাও,সালামতপুর গ্রামগুলিও আমাদেরকে হাতছানি দিয়ে ডাকলেও সেখানে যাবার কোন অবস্থা ছিলো না। ইস!

অবশ্য পাহারাদার আমাদের বদনখানি ঘুটঘুটে আঁধারে দেখতে পায় নি। তাই রক্ষে। প্রসূণ এখনো সুযোগ পেলে এই কথাটি মনে করিয়ে দিয়ে খুচায়। আমিও একলা একলা হাসি। কি বাদরামির জীবন আমি ফেলে এসেছি। প্রসূন প্রিয়া রায় আর সঞ্চিতার সাথে দ্বিচারণ করতো। প্রেমকুমার প্রসূন গান জানতো। আমি অভাগী/ বাঘে খাওরা ননদিনীরে ডরাই ডরাই থাকি। এই গানটি খুব সুন্দর করে গাইতো। তার প্রেমিক স্বভাবের জন্য আমরা বন্ধুরা তাকে সুযোগ পেলেই খুচাতাম। হাসাহাসি করতাম। সে মাথার মাঝখান দিয়ে সিঁথি তুলতো। কানজোখা চুলে শ্যামলা গড়নে তাকে কৃষ্ণের মতোই লাগতো। একসময় প্রসূন বাঁশি বাজাতো ভালো।
আমরা লামাপাড়া মোটর সাইকেল রেখে হাঁটা শুরু করলাম। আমি ভাঙ্গা পা আর কোমরে ব্যথার জন্য অতো জোরে হাঁটতে পারছিলাম না। পায়ের ব্যথায় বাচি না। তার উপর স্নানাগারে পা পিছলে পড়ে গিয়ে কনুই আর কোমরে ব্যথা পেলাম হারুডিহি হাওর এলাকায় ঘুরতে গিয়ে। প্রথমে খুব বেশি চোট টের পাই নি। কিন্তু দিন যতো যাচ্ছে ব্যথা ততোই বাড়ছে। মরার উপর খাড়ার ঘা। ঘাতসয়ে যদি বেচে যেতে পারি তাহলে একটি স্থিতিশীল জীবন পাবো। ঋদ্ধ জীবন পাবো। চিনুয়া আচেবে, স্টিফেন হকিং প্রমুখ আমার প্রেরণা। আমি দেহের জড়তার চেয়ে মানসিক জড়তা কাটিয়ে উঠার উপর জোর দিয়ে থাকি।
আমি পথ হাঁটছিলাম আর নতুন চিন্তায় বিভোর হচ্ছিলাম। পায়েল অবয়বপত্রে চ্যানেল টোয়েন্টিফোর’র খবর শুনছিলেন আর আমাকে শুনাচ্ছিলেন। পরিবহন সংগঠনের শ্রমিকদের ষণ্ডামির কথাই প্রচার করছিলো। তাদের মাস্তানীতে বিআরটিসি বাস চলাচল বন্ধ হবার উপক্রম,বাস ভাঙচুর, কাউন্টার ম্যানেজারকে হামলা করে হাসপাতালে পাঠিয়ে দিয়েছে। যতোসব বিশৃঙ্খলা আর মাস্তানী চলছে জনগণের সেবাদান নিয়ে। ঘি মাখন সব খাবে পুঁজির মালিকেরা। কিন্তু বলির পাঠা হচ্ছে জনগণ। রাষ্ট্রের ভেতরে এইসব লুম্পেনেরা আরবকটি রাষ্ট কায়েম করতে চায়। পায়েল বলছিলেন মানুষের জিম্মিদশার কথা। তিনি খবর শোনার এক ফাঁকে উঠে গিয়ে ঢাউস সাইজের চারটি গুলগুইল্লা কিনে আনেন। আমরা পরিমল ময়রার দোকানে বসা থাকতে সেলামত উল্লাহ নামের একজন মুরব্বী এসে বসলেন পাশে। তিনি নাসির বিড়ি ফুকছেন আর স্বভাবসুলভ ভঙ্গিতে কাশি দিচ্ছেন। আমাদের পরিচয় জানতে চাইলেন। বাড়িঘর কই জানতে চাইলেন। আমার লেখক পরিচয় জেনে তিনি একটু উল্লসিত হলেন। আমি আরো বললাম একটি ঋণদানকারী প্রতিষ্ঠানের কর্মী আমরা। এখানে হাওর দেখতে,আয় বৃদ্ধিমূলক কর্মসূচী পরিদর্শনে এসেছি। রথ দেখতে কলা বেচতে এসেছি।কারণ হাওর সবসময়েই আমার মনোযোগের কেন্দ্রে রয়েছে। এই হাওরেই আমি দেখতে পাই ব্রহ্মা,বিষ্ণু ও শিবকে।তার সাথে আমাদের আলাপ খুব অল্পতেই জমে উঠছে। পায়েল ইতিমধ্যেই তাকে মিষ্টি খাওয়ালেন। সাথে নিমকীও। তিনি খুব তৃপ্তি ভরে খেলেন। খাওয়া শেষ হলে তিনি আবার বিড়ি ঁতে লাগলেন।

আমি হাওরে অঞ্চলে ভেসে বেড়ানো মিথ নিয়ে কাজ করছি ইদানিং। হাওরের জীবন যাপন,আচার,ব্রত,কৃত্য ও কীর্তন আমাকে দারুণভাবে আকৃষ্ট করেছে। এই ভেতরে আমি খুঁজে পাই গভীর জীবনবোধের মন্ত্রণা। এখানে জীবনের ভেতরে ভাঙ্গন নেই, আছে গড়েপিঠে নেবার আকুলতা। খুব সহজিয়া সুর কান পাতলেই শোনা যায়। জটিলতা এখানে অনুপস্থিত। আমি সালামত উল্লাহ চাচাকে একটু গল্পের গভীরে নিয়ে যেতে চাই। ভাটিবাংলায় একসময় ওয়ার করে মারামারি চলতো। সালামত উল্লাহকে এধরনের ঘটনার কথা বলতেই তিনি বানিয়াচংয়ের আগুয়া আর সাঙ্গরের কথা বলতে লাগলেন। যেটি অই এলাকার দাঙ্গাপ্রবণ এলাকাগুলির মধ্যে প্রসিদ্ধ। তিনি টানা একযুগ ধানের মওসুমে বেনী কামলা দিতে গেছেন। তার দেখা বিষয়গুলো আমাদেরকে শোনাতে চান। জমিতে শ্যালো মেশিনে পানি দেয়ার খাল কাটাকে কেন্দ্র করে কি তুমুল মারামারি বেধে গেলো। বিনাযুদ্ধে কেউওই সূচাগ্র মেদিনী ছাড়তে নারাজ। তাই মারামারি,লুটপাট,অগ্নি সংযোগ চললো টানা এক সপ্তাহ। মহল্লার সর্দারেরা সকল নারী,পুরুষদের ডাকলেন। মারামারিতে অংশ নিতে চাপ সৃষ্টি করতে লাগলো। যারা মারামারিতে অংশ নেবে না তারা পাচের বাদ হবেন। একলক্ষ টাকা জরিমানা ঘোষণা করলেন। অগত্যা কিশোর,কিশোরী,যুবক, যুবতী,বুড়া-বুড়ি যারা ছিলো সবাই যোগ দেয়ায় ঘিতে আগুন লাগলো। চলতে থাকলো হামলা মামলা। তীর ধনুক,টেটা দিয়ে মারামারি। টেটা যার শরীরে বিধেছে তার অবস্থা করুণ হয়ে পড়েছে। বড়শিগাঁথা গেথে যায় শরীরে। উলফত আলীর শরীরে জমির আলীর ছোড়া টেটা বিঁধ গেলো। উলফত আলী ঢাল দিয়ে ঠেকাতে গিয়ে ব্যর্থ হন। প্রতিপক্ষের ধাওয়া খেয়ে পড়ে যান মাটিতে। ঝুপ বুঝে আগুয়ার জমির আলীকে লক্ষ্য করে টেটা ছুড়েন। উলফাত আলী তখনি কুপোকাত হন। তার অবস্থা খারাপের দিকে যেতে থাকলে জেলা সদরের হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পুলিশ এসেও পরিস্থিতি সামাল দিতে পারে নি। বিভিন্ন সামাজিক,রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের সহযোগীতা চাওয়া হয়। তাদের হস্তক্ষেপে দাঙ্গার আগুন কিছুটা কমে আসে।
উন্নত চিকিৎসার জন্য উলফাত আলী সিলেট ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি হন। প্রায় একমাস ডাক্তারদের তত্ত্ববধানে থাকেন। কিছুটা সুস্থ হলে বাড়ি ফিরে পূর্ণ শয্যাশ্রমে থাকেন।
এদিকে উলফাত আলীর ছেলে মঈনের সাথে জমির আলীর মেয়ে বিলকিস একই ক্লাসে পড়তো ইকরাম হাই স্কুলে অষ্টম শ্রেণীতে। এই সুবাদে দুজনের মন দেয়া নেয়া সবার অলক্ষ্যেই চলছিলো। তারা এসএসসি পাশের পর শচীন্দ্র কলেজে ইন্টারমিডিয়েট ভর্তি হলো। একসময় পাশ করলো। সকল টেটার আঘাতকে তুচ্ছ করেই তাদের প্রেম চলতে লাগলো। জনান্তিকে বিষয়টি আর অজানা থাকলো না। চায়ের সাথে টোষ্ট ভিজিয়ে খাবার মতো তাদের প্রেমকাহিনীও মুখরোচক গপ্পে পরিণত হতে লাগলো। আরেক আলিফ লায়লার প্রেম গাঁথা আগুয়ার হাওরে ভেসে ভেড়াতে লাগলো। একে একে এই খবরটি চেয়ারম্যান শাহ আলমের কানেও পৌছে গেলো। হাওরের পানি নেমে গেলেও প্রেমজোয়ারে যেনো আর ভাটা আসে না। দুকূল ছাপিয়ে গেলে পরে পারিবারিকভাবে বসার দিন তারিখ ধার্য হলো। মঈন আর বিলকিসের বাবাদের নিয়ে চেয়ারম্যান সাব বসলেন অগ্রাণ মাসে। এদের মন দেয়ানেয়ার বিষয়টি তখন সামনে আনলেন। মঈন বিলকিস তাদের ভালোবাসাবাসির খবরটি স্বীকার করলো। তারা বিয়ে করতে চায় বলে চেয়ারম্যানকে জানালো। চেয়ারম্যানসাব তাদের বাবাদেরকে গোপালের দই, মিষ্টি আনতে বললেন। উলফাত আর জমির আলী দুজনে মিলেই লোক পাঠালেন মিষ্টির জন্যে। আধাঘন্টা পরেই দই,মিষ্টি নিয়ে লোক হাজির হয়েছে। বিয়ের দিন চেয়ারম্যানের বাড়িতে বসেই ধার্য হলো। পরের শুক্কুরবার আকদ হবে৷ আংটি পরানো হবে। উনিশকুড়ি থেকে রেডিমেইড লেহেঙ্গা কেনার কথাও তখন পোক্ত হলো। দুপক্ষই চেয়ারম্যান সাবকে নিয়ে বিয়ের বাজার করতে যাবেন বলে স্থির হলো। উলফাত আলী বেয়াইয়ালা পাতলেও টেটার দুখ শুধু দেহে নয়,মনেও পোষণ করে রেখেছে সবার অজান্তে। আট বছর আগের ঘটনাটি মন থেকে মুছে ফেলতে পারে নি। দুরভিসন্ধি কাজ করছিলো তার ভেতর। জমির আলীর মনে বিষয়টি তখন ঝাপসা হয়ে এসেছিলো। আট বছর আগের ঘটনাটি সে ভুলেই গিয়েছিলো। এটি মনে করে আর তিক্ততা বাড়াতে চান না। শত্রু থেকে বন্ধুতে পরিণত হবার এক আশ্চর্যজনক মওকা কিছুতেই হাতছাড়া করতে চান না। এজন্য তিনি বিলকিসের বাবা হবার জন্য গর্ব বোধ করেন। উলফাতও ছেলে মঈনের সুবাদে জমির আলীর বেয়াই হবার সুযোগ পাচ্ছেন। প্রতিশোধ নিতে পারবেন বলে মনে মনে ফন্দি আঁটেন।
বিয়ের লেহেঙ্গা কেনা হলো উনিশকুড়ি থেকে। নয় হাজারীর ঘর থেকে জামাইয়ের জন্য স্যুট-কোট, কনের জন্য শাড়ী কাপড় কেনা হলো। সুবোধ বণিকের স্বস্তি জুয়েলার্স থেকে অলংকার কেনা হলো। শুক্কুরবারে দুইশ মানুষের ধুমধাম আপ্যায়নের মাধ্যমে আকদ সম্পন্ন হলো। দুই মাস পরে বরকনের সম্বর্ধনার দিন ধার্য হলো অইদিনই চেয়ারম্যানের মধ্যস্ততায়। দুই মাস পর মাসে মহা ধুমধামে বিয়ে উত্তর সম্বর্ধনা অনুষ্ঠিত হয়ে গেলো এক হাজার লোককে খাইয়ে। স্থানীয় এমপি,চেয়ারম্যান সাব, নেতা, পেশাজীবিসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন অই অনুষ্ঠানে।
চত্তির মাসে মেয়েপক্ষের দাওয়াতে প্রথম ছেলেপক্ষ আত্মীয়স্বজন নিয়ে বেড়াতে গেলো। পরে মেয়েপক্ষ বেড়াতে গেলো ছেলেপক্ষের দাওয়াতে। এরপর ছেলেমেয়ে ঘুরতে গেলো কুয়াকাটা সমুদ্রসৈকতে। কুটম্বিতা ভালোই জমে উঠেছে তাদের মধ্যে। জমির আলী আট বছর আগে ঘটে যাওয়া ঘটনাটি মধুর সম্পর্কের আড়ালে চাপা দিয়ে দিলেন। কিন্তু উলফাত আলী নাছোড়বান্দা। তিনি কিছুতেই ভুলেন নি। তলে তলে ফন্দি আঁটেন কি করে টেটা ফিরিয়ে দেয়া যায়। বৈশাগ্যিয়া ধান উঠে গেলে পরে বেয়াই জমির আলীকে উলফাত আলী নিজের বাড়িতে দাওয়াত দেন। জমির আলী তো বেজায় খুশি এমন বেয়াই পেয়ে। এলেন হেসে খেলে তিনদিন থাকলেন বেয়াইয়ের বাড়ি। চারদিনের দিন তিনি যেতে চাইলেন। বেয়াই উলফাত আলী থেকে যেতে অনুরোধ করলেন। জমির আলী জরুরী কাজ আছে বলে যেতে চাইলে উলফাত আলী তার অন্য দুই ছেলেকে টেটা আনতে বলেন। আর বলেন বেয়াইসাব টেটা ফেরৎ নিয়ে যান বলেই বাপছেলে তিনজন মিলে জমির আলীকে ঝাপটা দিয়ে ধরলেন। লুঙ্গিটাকে উপর থেকে খুলে চিৎপটাং করে শুইয়ে দিলেন। তার টেটা তার পাছায় ঢুকিয়ে দিলেন। তারপরে তাকে হাসপাতালে পাঠালেন আর বললেন বেয়াইসাব এইদিনটির জন্য আমি আটবছর অপেক্ষায় ছিলাম। আপনার দেয়া টেটা আপনাকে আজ ফিরিয়ে দিতে পেরে আমি সব দুখ ভুলে গেছি। এইবার একমাস হাসপাতালের খাওন খেয়ে আসেন।
ভাটিবাংলার প্রতিহিংসা প্রবণতার এই গল্পটি সালামত উল্লাহ এক নিশ্বাসেই যেনো আউড়ে গেলেন। একটি হতাশ্বাসের সাথে দীর্ঘশ্বাসের বিষয়টিও আমাদের কারো দৃষ্টিকে এড়াতে পারে নি। লামাপাড়া বাজারে তখনও পুরো বিকেল হয় নি। বেইল ভাটিতে পড়তে যাচ্ছে কেবল। সালামত উল্লাহ আবার একটি নাসির বিড়ি ফুকতে ফুকতে ধুয়ার কুণ্ডলী টাঙ্গুয়ার বাতাসে ছড়িয়ে দিয়ে চাপাইয়াতি নিজ গ্রামের দিকে হাটা দিলেন। আমি আর পায়েল তার চলার পথের দিকে অপলক তাকিয়ে রইলাম। আবার দুজনে গুড়ের চা পান করে সালামতপুরের দিকে পালসারে চড়ে ফিরে আসতে থাকলাম। মেষপালক শিশু মুসা মিয়া তখন তার মেষের পাল তাড়িয়ে শঙ্খসুরে বাড়ি ফিরছে।

# সাইফুর রহমান কায়েস #
প্রধান সম্পাদক
শব্দকথা টোয়েন্টিফোর ডটকম

—————————————————————————————

Facebook Comments

বাংলাদেশ সময়: ১০:১১ অপরাহ্ণ | সোমবার, ০৪ জানুয়ারি ২০২১

জাপানের প্রথম অনলাইন বাংলা পত্রিকা |

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

চন্দ্রাবলী

১৬ নভেম্বর ২০২০

এডুকেশন

২৩ ডিসেম্বর ২০২০

অনুগল্পঃ মানুষ

১০ ডিসেম্বর ২০২০

চারাগাছ

২৬ জানুয়ারি ২০২১

কারিগর

২৪ জানুয়ারি ২০২১

স্বর্গ থেকে বিদায়

০৯ ডিসেম্বর ২০২০

বাটপার

১৩ আগস্ট ২০২০

নিশি মানব

২৫ জুন ২০২১

মালতি

২৫ জুলাই ২০২০

 ফুটপাথ

৩০ জুলাই ২০২০

অলিভিয়া

০৭ এপ্রিল ২০২১