ঘোষণা

রূপকথা

| রবিবার, ২৬ এপ্রিল ২০২০ | পড়া হয়েছে 94 বার

রূপকথা

নয়ন যোসেফ গমেজ
রূপকথা আমাদের পাশের গ্রামের মেয়ে। আমাদের গ্রাম পূর্বে; ওদের পশ্চিমে। মধ্যে সেন্ট ফ্রান্সিস জেভিয়ার ক্যাথলিক গির্জা। রূপকথা বড্ড সাদাসিধে। আজকের মেয়েরা এতোটা সাদাসিধে নয়। অথচ রূপকথা! রূপকথা যেন সাদাসিধে থাকতেই বেশি ভালবাসে। ওর হাসি সত্যিই নির্মল। চাহনিতে জটিলতা নেই। কথায় নেই ঘুর-প্যাঁচ। আর এ-ই রূপকথার সৌন্দর্য।
রূপকথারা চার বোন। বড় দু’জনার বিয়ে হয়ে গেছে। ছোটজনা এখনো অভিমানী বালিকা। পরিবারে রূপকথার ভূমিকা অনেক। ঘরকন্যার কাজে রূপকথার হাত পড়লে মনে হয় ও যেন আড়াই বছরের পুরনো গ্রামীণ গৃহবধু। বসন্তের পড়ন্ত বিকেল। আমি আর রূপকথা পাশাপাশি বসা। অদূরে ওর দু’জন বান্ধবী। ওরা কথা বলছে। আমরা নীরব। নিস্তব্ধ। হঠাৎ সেন্ট ফ্রান্সিস জেভিয়ার গির্জায় সন্ধ্যার ঘণ্টা বেজে উঠল। ঢং-ঢাং-ঢং…।
তখনো সূর্য ডোবেনি। পশ্চিমাকাশে লালচে-সোনালী আভা ঝলমল করছে। আমি উঠে দাঁড়ালাম। রূপকথারাও। আচম্কা আমার চোখে চোখ রেখে রূপকথা একটি কথা জানতে চাইলো। আমি স্মিত হেসে বললাম, এই শোন, রাতের সব তারা-ই তো লুকিয়ে থাকে দিনের আলোর গভীরে…। কথাটি শুনে রূপকথা হাসলো। হাসলাম আমিও। সে-ই শেষ হাসি।
একদিন এক জমকালো অনুষ্ঠানে হঠাৎ এক অপরিচিত যুবক আমার সামনে এসে হাসিমুখে হাত বাড়িয়ে দিল। সৌজন্যবশত হাত মিলানোর সঙ্গে সঙ্গেই যুবকটি বলল-আমি রূপম, রূপকথার স্বামী। আপনি রূপকথাকে চিনেন? আমিও হেসে বললাম, রূপকথা। ওহ্, হ্যাঁ! রূপকথা, আমাদের পাশের গ্রামের মেয়ে। আমাদের গ্রাম পূর্বে, ওদের পশ্চিমে। মধ্যে সেন্ট ফ্রান্সিস জেভিয়ার ক্যাথলিক গির্জা…।

Facebook Comments

বাংলাদেশ সময়: ১১:২৭ পূর্বাহ্ণ | রবিবার, ২৬ এপ্রিল ২০২০

জাপানের প্রথম অনলাইন বাংলা পত্রিকা |

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

মালতি

২৫ জুলাই ২০২০

 ফুটপাথ

৩০ জুলাই ২০২০

চন্দ্রাবলী

১৬ নভেম্বর ২০২০

বাটপার

১৩ আগস্ট ২০২০

সোনাদিঘি

১৪ জুলাই ২০২০

বিটলবণের স্বাদ

২৪ সেপ্টেম্বর ২০২০

ফেরা

১৪ মার্চ ২০২০

জোছনায় কালো ছায়া

০৪ সেপ্টেম্বর ২০২০