ঘোষণা

শেষ দেখা

রাণা চ্যাটার্জী | মঙ্গলবার, ২৪ নভেম্বর ২০২০ | পড়া হয়েছে 585 বার

শেষ দেখা

 

বহুবার মেয়েটি দেখা করতে চেয়েছিল..
ইতস্তত কুণ্ঠাবোধে ছেলেটি,”থাক না, সে না
হয় হবে একদিন ,ম্যাসেজেইতো বেশ সাবলীল ।”

“না-না-না,আসতেই হবে,তুই না আমার বন্ধু ,
তবে কিসের এতো জড়তা রে..”!

ততদিনে ফেসবুক,আপন থেকে আপনতরো বন্ধনে,দুটি হৃদয় কে নিয়ে গেছিল এক উচ্চতায়,
শর্তহীন বন্ধু তকমা,নিদারুণ নিবিড় অনুরণন।

ছেলে মেয়ে নাকি বন্ধু হতে পারে না,নিশ্চয়ই
প্রেমিক প্রেমিকা বা অন্য কোনো রসায়ন !
সভ্য সমাজের আধুনিক মননে এ এক আশ্চর্য্য
কৌতূহলী পেঁয়াজ আস্তরণ।

এ এক ভারী সঙ্কোচের দিনলিপি, প্রতিষ্ঠিত না হতে পারার ক্ষত,ভ্রূকুটিতে গুটিয়ে রাখে স্বত্তা,
যদি কোনোদিন সামনে এলে হারাতে হয় বন্ধুত্ব!

অনেক ঠোক্কর খাওয়া,আবেগ আলপথ পার করে,
নিজের পায়ে আজ প্রতিষ্ঠিত মেয়েটি মোটেও
চিনতে ভুল করেনি ,হঠাৎ পাওয়া বন্ধুকে ।
ষষ্ঠ ইন্দ্রিয় জানান দিয়েছিল দারুন মনের মানুষ,
যাকে ভরসা করে সব কথা বলা যায় ।

অফিস গন্তব্যের ট্রেনলাইনে,কোন এক রেলগ্রুপে,
প্রত্যহ ট্রেনের নির্ঘণ্ট দেওয়া নিত্য যাত্রীটিকে, কৃতজ্ঞতাস্বরূপ,স্মাইল ইমেজ দিতে কার্পণ্য হয়নি,
তারপর এভাবেই কেটে গেছে আরও মাস তিনেক।

এক প্রাকৃতিক দুর্যোগের ঘনঘটায়,ট্রেন ব্লকেজ..
এতদূর বাড়ি ফেরার উৎকণ্ঠা মুহূর্তে,
‘ম্যাম বাড়ি পৌঁছাবেন কি করে, সাবধানে যাবেন’
দমকা হাওয়ার হিমেল স্রোত,যেন পিঠ চাপড়ে,
মনে ভরসা দিয়ে বলেছিল,…
‘কিচ্ছুটি হবে না বন্ধুর সুরক্ষা বলয় তো পাশেই ‘।

“ও ম্যাম, কাল শনিবার যাবেন নাকি অফিস?”
হ্যাঁ যাব তো ,আপনি ?

“হ্যাঁ আসছি ,একসাথে ফিরব,দেখা হবে কাল”
“বাব্বা,আমার কি সৌভাগ্য,আসুন দেখা হচ্ছে”

“আজ কি টিফিন দিচ্ছো গো মা”-মেয়ের প্রশ্নে অবাক,বহুদিন পর,খাবারের প্রতি মেয়ের আগ্রহ!
উৎসাহে কাল রাতে বানানো মুগ ডাল বরফি,
খানিক বেশি করে ভরে দিয়েছিলেন ব্যাগে।

“আমি বাসে,এক ঘন্টার মধ্যেই স্টেশন যাচ্ছি”..
“আচ্ছা আমিও বেরুবো এখনই, কলিগের বাইকে” “সাবধানে কিন্তু”-ম্যাসেজের রিপ্লাই দেওয়া হয়নি”।

“কি আশ্চর্য্য,এতক্ষণ ধরে গরমে দাঁড়িয়ে বাস,
ট্রেন মিস করবো নাকি!”
” দাঁড়ান ম্যাম,সামনে বিরাট জ্যাম !
ভেসে ওঠা দুচার পথচারীর কথা “নেমে পড়ো
সব,আর যাবে না,সামনে বাইক এক্সিডেন্ট!”

“ও মা,সে কি ! ইস অপেক্ষা করছে রূপাই..,
আর কুড়ি মিনিট মাত্র ট্রেনের!”

“বাস খালি করুন সব,আর যাবে না,এক্সিডেন্ট”
“ইস মাগো মা,শরীর টা যেন থেঁতলে গেছে,কোথায়
বাড়ি কে জানে!মায়ের কোল খালি করে “!

ব্যাগ থেকে ফোনটা বের করে,’দূর বাবা তুলছেই না,হ্যাঁ তুলেছে তুলেছে ,পৌঁছে যাচ্ছি ধৈর্য ধরো”

“হ্যালো কে বলছেন,
এনাকে চেনেন,একটা বাইক দুর্ঘটনা হয়েছে”
” তারমানে!”
হে ভগবান, পেছনে ফিরতেই , এক পুলিশ অফিসার মোবাইলটা হ্যালো হ্যালো করছেন ,
“চোখ দিয়ে হড়হড় করে বাঁধভাঙা চোখের জল, এইভাবে কিনা প্রথম দেখা শেষ দেখা হতে হবে!”

 

রাণা চ্যাটার্জী

পশ্চিমবঙ্গ,কলকাতা

 

 

Facebook Comments

বাংলাদেশ সময়: ১০:২৯ অপরাহ্ণ | মঙ্গলবার, ২৪ নভেম্বর ২০২০

জাপানের প্রথম অনলাইন বাংলা পত্রিকা |

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

অশ্রু

১৩ জুলাই ২০২০

শিখে গেছি

২৫ জুলাই ২০২০

পাখির ভাষা

১৪ নভেম্বর ২০২০

বিষাক্ত গাছ

১৮ ডিসেম্বর ২০২০

এগারো নং বাড়ির গেট

২৬ এপ্রিল ২০২১

রজনীগন্ধা

০২ ডিসেম্বর ২০২০

অন্য কৃষ্ণকলি

১৩ ফেব্রুয়ারি ২০২১

মনের কোঠরে

২০ নভেম্বর ২০২০

তোমার  ব্যস্ততা

০৭ এপ্রিল ২০২১

 হিংসুটে

১৩ জুলাই ২০২০

ঝিরিঝিরি পাতার গাছটি

০৪ সেপ্টেম্বর ২০২০

অর্ধ গোলাপ

১৭ আগস্ট ২০২০