ঘোষণা

সুলাইমান সাদীর করোনা দিনের একগুচ্ছ কবিতা

| বুধবার, ০৬ মে ২০২০ | পড়া হয়েছে 90 বার

সুলাইমান সাদীর করোনা দিনের একগুচ্ছ কবিতা

চলো ফিরে আসি

ঘাসের আদরে কাটানো বিকেলগুলো মিস করছি
মিস করছি মন খারাপ করা সেইসব সূর্যাস্ত
নদীর নামে মহামারী লিখে দিয়ে চলো আমরা ফিরে আসি যারযার কাছাকাছি
যার যেখানে ঘর, পড়ে আছে নিস্পাপ আদর
ফিরে আসি
ঘরপালানো ভোরগুলো খুব মিস করছি
মিস করছি ভরদুপুরে চষে বেড়ানো সেইসব গলিঘুপচি
বাতাসের নামে মহামারী লিখে দিয়ে চলো আমরা ফিরে আসি একদম পাশাপাশি
কাঁধে কাঁধ রেখে গেয়ে যাই জীবনের গান, মৃত্যুর শোকত্রোস্ত
আমার গায়ে সংক্রমিত তোমার গন্ধ খুব মিস করছি
মিস করছি দীর্ঘকবিতার মতো চুঁইতে থাকা পারস্পরিক চুম্বন
রোদের নামে মহামারী লিখে দিয়ে চলো এবার ফিরে আসি জলজ্যান্ত বাস্তবে
যেখানে আমাদের থাকার কথা, নিরিবিলি নিরাপদ আর সুখস্বর্গবাহী

মুক্তি ও মৃত্যুর বাণী শোনাতে শোনাতে গড়িয়ে এলো অন্ধকার
মানুষ ও মৃত্তিকার গল্পে এভাবে যেসব সভ্যতা ঢুকে যায়, কোদালের মতো খুঁড়তে থাকে কবর, করোনা।
বেদনার বিউগল ফেলে আসি মাঝপথে
না শিক্ষার্থী না ইসামসিহ
দুরবীন সময় ঝাপটা খায় বদনসিবের পর্দাব্যাপী
একেকটা কানাগলি সিরাতুল মুসতাকিম বানিয়ে ফেলেন মহামতিগণ
শূন্যতার সবগুলো দরোজা খুলে দিয়ে প্রবেশ করতে থাকেন মুদিগণ, হাতুরে ডাক্তারগণ, ফেরিঅলাগণ
এমন ঘন ঘন আসা-যাওয়া আমাদের ক্লান্ত করে
লকডাউন নামিয়ে আনে পিঙ্ক কালারের চাঁদ, বিপর্যস্ত জোছনা
সরকারি প্রেমিকারা চালডালনুনতরকারি থলেয থলেয় ঝুলিয়ে যান জনালায় জানালায়
তখন তোমাকে মনে মনে পড়ি, জপের মালা গলায় ঝুলিয়ে ঘুমিয়ে যাই সন্ধেবেলা
ও ছায়া ও চতুর জোছনা
ভোরের আজান শুনতে শুনতে মিলিয়ে নিও সমস্ত হিসেব
ও করুণ কাকুতি
তরুণীর বুকের স্পন্দনে রেখে যেয়ো একমুঠো প্রেম পূর্ণতা
শহরের সব জানালা খিল এঁটে দিলে ভূমিকাহীন হয়ে পড়ে দূরের ল্যাম্পপোস্ট
স্টেডিয়ামের কুকুরগুলো হাঁফাতে থাকে একজোড়া টিকিটের খোঁজে
আস্তাকুঁড়ের ইঁদুরগুলো মাসগুজার শুকনো জুটা সরাতে সরাতে হতাশাগ্রস্ত
এ গ্রীস্মে শহুরে ছারপোকারা রক্তহীন হয়ে পড়বে সদ্য ছুটি নেয়া শীতের দিনের মতো
শুধু কিছু ভয়ঙ্কর কঙ্কাল কান পেতে থাকবে তালা ভাঙার শব্দে
এমন সাইলেন্ট সময়ে কিছু কবিতা ছাড়া কারো গায়ে অলঙ্কার থাকবে না
নতুন প্রেমিকা ছাড়া কারো চোখে জ্বলবে না আশা ও সম্ভাবনার আলো

মৃত্যুক্ষুধা

এই নাও আমি হাত পেতে দিলাম
পাতের সবগুলো নলা রেখে দাও পাশে

তোমার দালানকোঠা ঘর মরীচীকা অন্তর
সমূহ মৃত্যুর মোহ যেভাবে ছড়াচ্ছে দেহে

কেমন উত্তেজক তোমার হাসি, কপালের রেখা
বৃত্তের মতো সত্যের মতো কেমন সুন্দর তুমি

তোমার নির্দয় ব্যাগে কাঁচা কয়েনের ঝনঝন
আমার দেহে মৃত্য, আমার পেটে হাহাকার ক্ষুধা

তোমাকে হাজির করে অন্তরে নামি হাঁটুজল
চিকচিক বালুর বেডে নিস্তেজ বিভীষীকা

হোহো, কি করুণ তোমার পাতের ভাতে
চেয়ে আছে আমার মৃত্যুচোখ ক্ষুধাচোখ

এই নাও আমি হাত পেতে দিলাম
পাতের সবগুলো নলা রেখে দাও পাশে

ফুসফুস

আমার নিঃশ্বাস হয়ে ফুরফুরে হাওয়ার স্রোতে ঢুকে গেল তোমার নাভিশ্বাস
তোমার সর্বাঙ্গগ্রাসী চাউনিতে ছেয়ে গেল আমার দেহ হৃদয় ও মানসমনন
আমি টের পেলাম, তুমি এলে। সর্দি কাশি ও সামান্য জ্বরে কাবু হয়ে গেলাম
আমি তোমাকে আলিঙ্গন করলাম, তুমি আমার পুরোটা দেহ ভ্রমণ করলে
আমার দেহ চষে শুঁষে নিলে আমার শক্তি, সাহস। দখল করে নিলে ফুসফুস

তুমি আমাকে এভাবেই আপন করে নিলে আমার দেহমন, পৃথিবীসমেত
আমার রাষ্ট্র সমাজ ও পঞ্চায়েত জুড়ে ছড়ালে আমাদের বিষাক্ত নিঃশ্বাস
তুমি প্রেম না পরমাত্মা, তুমি জীবন না মৃত্যু; করুণা, নাহ—করোনা তুমি

আশাবাদ

এই কালো মেঘ কেটে যাবে
কেটে যাবে কান্নাকাল
বেহেশতের দুয়ার খুলে আবারও বইবে সুবাতাস

এই মৃত্যুমিছিল থেমে যাবে
কেটে যাবে হতাশাকাল
নাকের পশম ছেটেছুটে আবার নিব আমরা সতেজ নিঃশাস

এই মহামারী থেমে যাবে
কেটে যাবে করোনাকাল
কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে আবার গড়ব সভ্যতা ঝেড়ে ফেলে সকল অবিশ্বাস

Facebook Comments

বাংলাদেশ সময়: ৬:২১ পূর্বাহ্ণ | বুধবার, ০৬ মে ২০২০

জাপানের প্রথম অনলাইন বাংলা পত্রিকা |

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

অশ্রু

১৩ জুলাই ২০২০

শিখে গেছি

২৫ জুলাই ২০২০

ঝিরিঝিরি পাতার গাছটি

০৪ সেপ্টেম্বর ২০২০

 হিংসুটে

১৩ জুলাই ২০২০

অর্ধ গোলাপ

১৭ আগস্ট ২০২০

সুন্দর মন

০৯ নভেম্বর ২০২০

অচেনা প্ল্যাটফর্ম

১৫ নভেম্বর ২০২০

ঘিলু শুকিয়ে ঝরেপড়া পরিচয়

১৪ সেপ্টেম্বর ২০২০

ক‌রোনা

১৫ আগস্ট ২০২০

তখন তুমি

১৬ নভেম্বর ২০২০

জন্মদিনের এপিটাফ

০১ জুলাই ২০২০

বদলে যাওয়া

১২ সেপ্টেম্বর ২০২০