ঘোষণা

স্বর্গ থেকে বিদায়

বহ্নিশিখা ঘটক | বুধবার, ০৯ ডিসেম্বর ২০২০ | পড়া হয়েছে 364 বার

স্বর্গ থেকে বিদায়

 

 

— আপনি খেলাধুলো করেন?
সরকারি চাকরির ইন্টারভিউ দিতে সুদৃপ্ত পায়ে ঘরে ঢুকতেই বোর্ডের একজন সদস্য প্রশ্ন করে উঠেছিলেন চাকরি প্রার্থী সুদীপ্তাকে। তারপর তার নঞর্থক মাথানাড়া দেখে দৃশ্যতই হতাশ হয়ে গিয়েছিলেন।

না খেলাধুলোর চর্চা সে কখনো সেভাবে করেনি।।কিন্তু সব শিশুর মতো খেলতে ভালোবাসতো । স্কুল থেকে ফিরেই ছুটতো মাঠে । ছেলে মেয়ে সবাই মিলে কতোরকম খেলা! কিন্তু মেয়ে বলে সেই ছেলেরাই যখন তাদেরকে ক্রিকেট খেলা থেকে বাদ দিয়েদিল খুব দুঃখ পেয়েছিল। ভদ্রলোকের প্রশ্নে ছোটোবেলার দুখি মুখটা ক্ষণেকের জন্য উঁকিও দিয়েছিল সেদিন ।

তবু ইউ-পি-এস-সির ইন্টারভিউ সে ভালভাবেই উতরে গিয়েছিল । সরকারি অফিসের বড়বাবুর পোস্টটা এসে গিয়েছিল হাতের মুঠোয় । সে কতোদিন আগের কথা!

আজ আবার কতোবছর পর সেই একই রকম প্রশ্ন,
— আপনি কি গান করেন ? না , আপনার গলা শুনে মনে হল। খুব মিষ্টি কন্ঠস্বর!

প্রশ্নকর্তা রবীন্দ্র সরোবরের একটি বেঞ্চে সুদীপ্তার পাশে বসা এক অপরিচিত মহিলা ।

সকালে হাঁটতে বেরিয়ে ক্লান্ত হয়ে বেঞ্চের একপাশে সবে বসেছে , রান্নার মাসি ফোন করে জানালো, আজ সে আসতে পারবে না। শরীর খারাপ, জ্বর হয়েছে । পাশে বসে মহিলাটি তার সঙ্গে সে কথোপকথন শুনেছেন । তারপর এই প্রশ্ন । আর সেটাই সুদীপ্তাকে পঁচিশ বছর আগের কথা মনে পড়িয়ে দিল। ফলে আবার সেই ঘাড়নাড়া । আবার সেই বেদনার ছেঁড়া তারে অসতর্ক আঙুল ছুঁয়ে যাওয়া । ছোটবেলায় বাবার অনিচ্ছায় তার গান শেখার ইচ্ছে যে ধূলায় মিশে গিয়েছিল ।

তখন ক্লাস সিক্সে । পাশের বাড়ির লিপিকা গান শেখে মাস্টারমশাইয়ের কাছে । রোজ সকালে সুদীপ্তা
যখন বই নিয়ে বসে ক্লসের পড়া তৈরি করে, সে সময় লিপিকা হারমোনিয়াম নিয়ে গলা সাধতে বসে । সুদীপ্তার খুব ইচ্ছে করে ওর মতো গান শিখতে । গলা সাধতে । ওদের বাড়িতেও তো একটা হারমোনিয়াম আছে । তার অবস্থান সেই শিশু বয়স থেকেই দেখে আসছে খাটের তলায় । শুনেছে ওটা মায়ের
হারমোনিয়াম। কিন্তু মাকে কোনদিন হারমোনিয়াম বাজিয়ে গান গাইতে দেখেনি বা গুনগুন করে গাইতে ও শোনেনি ।
ছোটবেলায় কোনো প্রশ্ন জাগেনি মনে – কেন মা গান গায় না? মার কাজ ছেলে মেয়ে নিয়ে সংসার সামলানো । যেমন আর সব মায়েরা করে । সেটাই স্বাভাবিক মনে হয়েছে ।

পরে বড়ো হয়ে জানতে পেরেছিল মা খুব ভালো ক্লসিকাল শিখেছিল। বিয়ের পরেও সেই চর্চা কিছুদিন চালিয়েছিল।

রোববার সকালে ক্লাস থাকতো গুরুজীর বাড়িতে। মা খুব ভোরে উঠে রান্না করে রেখে গানের ক্লাসে যেতো। বারোটার মধ্যে ফিরে সবাইকে খেতে দিত। একদিন বাড়ি ফিরতে বেলা হচ্ছে দেখে বাবা পৌঁছে গেছিল সেই গুরুজীর বাড়ি । মা তখন তার সতীর্থ একটি ছেলের সঙ্গে যুগলবন্দি আলাপে এতো মগ্ন যে
বাবার উপস্থিতি টের পায় নি। বাবা কাউকে কিছু না বলে বাড়ি ফিরে এসেছিল। তাঁর মনে হয়েছিল গান শেখার অজুহাতে মায়ের ঐ ছেলেটির সঙ্গে দেখা করাই মূল আকর্ষণ । ছেলেটির সঙ্গে নিশ্চয়ই কোনো বিশেষ সম্পর্ক আছে মার। ফলতঃ তারপর থেকেই মার সঙ্গীত সাধনায় ইতি। যদিও মাকে কোনো অনুযোগ বা দোষারোপ করা হয়নি । শুধু বলা হয়েছিল- ঐসব ক্লসিকাল গান শিখে কী হবে । তার চেয়ে সংসারটা করুক মন দিয়ে ।
ঘোর সংসারী হয়েে উঠেছিল তারপর সে। আর হারমোনিয়াম আশ্রয় নিল খাটের তলায় । আর মার কোল জুড়ে এল প্রথম পুত্র সন্তান । অভিমানে দুঃখে মা আর কোনোদিন হারমোনিয়াম স্পর্শ করেনি।
এ কাহিনী মা-ই বলেছিল অসতর্ক মুহূর্তে অতীতচারী হয়ে । তখন সুদীপ্তা কলেজে পড়ে ।
মায়ের জলে ভেজা চোখের দিকে তাকিয়ে সুদীপ্তা বলেছিল, তুমি এর কোনো প্রতিবাদ করলে না মা?
– কীভাবে প্রতিবাদ করবো। আমার তো অর্থনৈতিক কোনো স্বাধীনতা ছিলনা। গৃহবধূ । আর তোর বাবাতো মুখে কোনোদিন কোনো অবিশ্বাস প্রকাশ করেনি । ওর ধারণা যে ভুল তা বোঝাতে আমি সংসার নিয়ে সুখী দেখাতাম । সঙ্গীত আমার জীবনে কোনোদিন মূল্য পায়নি , এটা বোঝাতে চেষ্টা করেছি
তবে দেখেছি সেই থেকে তোর বাবার কাছে গান বাজনা শেখা একদম চক্ষুশূল ।
তুই গান শিখতে চাইলে জানতাম তোর বাবা শিখতে দেবেনা । তাই তোকে বলেছিলাম-
” বরং মন দিয়ে পড়াশোনা করে নিজের পায়ে দাঁড়া । ” জানিসতো এ যুগে মেয়েদের নিজের মতো করে বাঁচতে চাইলে তাদের পায়ের তলায় মাটি থাকার খুব দরকার ।

সুদীপ্তা অবাক হয়ে মাকে দেখছিল । কেমন নতুন লাগছিল তার মাকে। কতো আধুনিক মনস্ক ! এই মাকে সে কোনোদিন দেখোনি । শ্বশুর-শাশুড়ি-ননদ দুই ছেলে মেয়ে স্বামী নিয়ে ভরভরন্ত সংসার । তাদের সবার দেখভালের দায়িত্ব মার । রান্না করা ,তাদের সেবা যত্ন করা ,সবরকম কষ্ট সহ্য করা মায়ের
আড়ালে একজন সুরসাধক মা যে চাপা পড়ে আছে বুঝতেই পারেনি । ঘর্মক্লান্ত মুখ তেল-হলুদ লাগা আঁচল দিয়ে মুছতে মুছতে ভৈরবীর সরগম মুখর সকালগুলোও মুছে ফেলতে চেষ্টা করতো কি মা? তার মায়ের যে এতো কষ্ট বুকের ভেতরে জমা ছিল কে জানতো ? সুদীপ্তা চোখের জলে ভেসে মাকে জড়িয়ে
ধরেছিল।

সুদীপ্তার গান শেখার ইচ্ছের কথা শুনে বাবা বলেছিল- গান শিখে কী হবে? তুমি কি লতা মঙ্গেশকর হবে?
তখন খুব অভিমান হয়েছিল সুদীপ্তার বাবার প্রতি । পড়াশোনার সঙ্গে সঙ্গে গানও শেখে তার কতো বন্ধু । শুধু তার বেলাতেই যতো দোষ!
তারপর থেকে কোনো দিন আর গান শেখার কথা বলেনি সে।
এখন একটি সুন্দর প্রভাতে রবীন্দ্র সরোবরের বেঞ্চে বসে একজন অপরিচিতার কাছে
সেই বিষাদ অতীত সরিয়ে সে খুব সরল ভাবে বললো –

— কিন্তু গান আমি খুব ভালবাসি । জানেন, একদিন স্বপ্ন দেখছিলাম আমি লতা মঙ্গেশকরের মতো গান গাইছি ।
— উনি তো আমাদের সবার কাছেই স্বপ্ন । বলে সজোরে হেসে উঠলেন মহিলা ।

হাসির একটা বিরাট শক্তি আছে । মুহূর্তে পারস্পরিক দূরত্ব অতিক্রম করতে পারে ।

পরও আপন হয়ে ওঠে । সুদীপ্তার কাছে তাঁর আন্তরিক হাসিটা ওর ভেতরের আগল খুলে দিল। বলল,
— জানেন, খুব ইচ্ছেকরে গান শিখি। কিন্তু এই বুড়ো বয়সে-লোকে বলবে -ভীমরতি —
— কেন হবে না? ভদ্রমহিলা তাকে কথা শেষ করতে দেননা।
গান শেখার কোনো বয়স নেই । আমি তো শিখি , বাষট্টি বছর বয়সে । আমার তুলনায় আপনি তো ছেলেমানুষ ।
–বলেন কী? আমাকে ছেলেমানুষ লাগছে?
— হ্যাঁ, আপনার বয়স মনে হয় অনেক কম।
— বলুন তো কতো?
— চল্লিশের কাছাকাছি হবে।
— না, পঞ্চাশ পেরিয়ে গেছি ।
— তা হোক । আপনার মতো অনেকেই আসেন গান শিখতে । ভর্তি হয়ে যান আমাদের স্কুলে ।
তারপর গানের স্কুলের তত্ত্ব তালাশ সব নিয়ে ফোননম্বর আদান প্রদান করে সুদীপ্তা ঘরে ফিরে এল। আজ সে নিজের পায়ে দাঁড়িয়েছে। আজ আর কোনো বাধা নেই ।

বাবাও অনেক দিন সব ধরাছোঁয়ার বাইরে চলে গেছে । শাসন করার কেউ নেই । মা-তো তারো আগে সব দুঃখ বেদনার অতীত হয়ে গেছে ।

ভর্তি হয়ে গেল একদিন সেই গানের স্কুলে ।
শুরু হল তার অনেক দিনের আকাঙ্ক্ষার গানের পথ চলা । ক্লাস সপ্তাহে একদিন – বৃহস্পতিবার । এই যথেষ্ট । সারা সপ্তাহ অফিসে বড়বাবুগিরি করার পর এ যেন এক দম ফেলার জায়গা । বিশেষ করে ক্লাস শেষে ক্লাসিকালের শিক্ষক হেডস্যার পরিতোষ সাহা মাঝে মাঝেই ওদের ক্লাসে চলে আসেন ।
সবার খোঁজ খবর নেন । কেমন গান শেখা হচ্ছে । কোনো অসুবিধা আছে কিনা- এইসব । আসলে পরিতোষ স্যার খুব গল্প করতে ভালোবাসেন। আর এই ক্লাসের সবাই প্রায় তাঁর কাছাকাছি বয়সের । তাই সবার সঙ্গে গল্প আড্ডায় জমজমাট হয়ে ওঠে ক্লাস শেষের কিছুক্ষণ । চা সিঙাড়া আসে । স্যারের অর্ডারে।
সুদীপ্তার কাছে ক্লাসটা যেন মনে হয় নন্দন কানন ।

এই ক্লাসটা সেই শিক্ষার্থীদের, যারা শুধু শখের জন্য শিখতে আসে । কোনো ডিগ্রির পরীক্ষায় বসেনা। নয় নয় করে জনা দশেক এমন ছাত্র ছাত্রী আছে । লেকের পাড়ে দেখা হওয়া সেই মহিলা রেখা দাসও এই ক্লাসেরই ছাত্রী । সুদীপ্তা তাঁকে এখন রেখাদি বলে ডাকে । তবে তিনি প্রায়ই আসেননা। অনেকেই ক্লাস
কামাই করে । যেহেতু কোনো বাধ্যবাধকতা নেই । কিন্তু সুদীপ্তা নিয়মিত আসে । ওর ভালো লাগে আসতে । যদিও বৃহস্পতিবার ক্লাস । আর ওর অফিস থাকে । ছুটে ছুটে আসতে হয় অফিস থেকে। ও বলেছিল দিনটা পাল্টে শনিবার করতে । কিন্তু সেটা হবার ছিলনা। ঐদিন সব ইমপরট্যান্ট ক্লাসগুলো থাকে।
অগত্যা ।

সুদীপ্তার ভর্তি হবার মাস ছয় পরেই এসে গেল রবীন্দ্র জয়ন্তী । স্কুলে তার প্রস্তুতি চলছে জোরকদমে। অভিজ্ঞ ভালো ছাত্র-ছাত্রীদের নিয়ে প্রোগ্রাম সাজানো হয়েছে । তার উৎসাহ দেখে সম্ভবত নবাগত তাকেও নেওয়া হল সমবেত সঙ্গীতের দলে । বলে দেওয়া হয়েছে গাইতে হবেনা শুধু ঠোঁট নাড়লেই হবে ।
যাকে বলে লিপ দেওয়া ।
অনুষ্ঠানের আগের দিন অনেক রাত পর্যন্ত চলল রিহার্সাল। কিন্তু সুদীপ্তা গানের অভিনয় নয়, গান তুলে গাইতেই চায় । তাই সারাদিন অফিস করেও দীর্ঘ সময় রিহার্সালে থাকল।

অনুষ্ঠান হবে লেকের পাড়ে নজরুল মঞ্চে । আনন্দে উত্তেজনায় সে তখন কিশোরী ।বলা হয়েছে লালপাড় সাদা শাড়ি পরে আসতে হবে ।

এদিকে সুদীপ্তার তেমন কোনো শাড়ি নেই । তড়িঘড়ি একটা সিল্কের শাড়ি কিনেও ফেলল। তারপর স্কুলের ছাত্রীর মতো সেই লালপাড় সাদাশাড়ি পরে খোঁপায় জুঁই ফুলের মালা জড়িয়ে পরদিন সন্ধ্যায় অকুস্থলে এসে হাজির ।

কিন্তু কোথায় যেন একটা তালকাটা ভাব । সঙ্গীত শিক্ষায়তনের হেড স্যারের মুখ গম্ভীর । নতুন বলে বেশিরভাগ লোকই তার অপরিচিত । রেখা দাস তখনও আসেনি । অন্য কাউকে যে কিছু জিজ্ঞেস করবে তাও পারছেনা। বেশ খানিক পরে রেখা দাস এলে তাঁকে জিজ্ঞেস করে জানতে পারল যে,
স্যারের সবচেয়ে দামি রিস্ট ওয়চটা কাল রিহার্সেলের সময় চুরি হয়ে গেছে । সুদীপ্তা অবাক । কই, কালকে কেউ তো তাকে বলেনি সে কথা ! আর হাত থেকে কী করে চুরি হলো?
– ওঁর ঘড়ির ব্যান্ডটা একটু ডিসটার্ব করছিল
কদিন ধরে । কাল ফাইনাল রিহার্সালের সময়ও হাতেই ছিল। কিন্তু শেষে ঘড়ির চেনটা খুলে যায় । তাই তিনি ওটা তাঁর চেম্বারে টেবিলে রেখেছিলেন । রিহার্সাল শেষে ওটা আনতে গিয়ে দেখেন টেবিলে নেই । তখন সবাই প্রায় চলেগেছে । তুমিও। তাই জানতে পারনি।
– সব জায়গায় খোঁজা হয়েছে? কোথায় পড়ে আছে কে জানে ।
– হ্যাঁ, তন্নতন্ন করে খোঁজা হয়েছে ।
-আপনি জানলেন কী করে রেখাদি? আপনি তো রিহার্সালে ছিলেন না।
– অমিতা, যে পরিতোষ স্যারের ক্লাসিকালের ছাত্রী,
আমাদের ফ্ল্যাটে থাকে , ও-ই বলল। স্যার নাকি খুব রেগে আছেন । ওই ঘড়িটা উনি যেবার জার্মানিতে প্রোগ্রাম করতে যান সেবার ওখানকার সবচেয়ে বড়ো কোম্পানি থেকে কিনেছিলেন । তাঁর ধারনা স্কুলেরই কেউ নিয়েছে । ধরতে পারলে তাকে বের করে দেবেন । স্কুলে কোনো চোর থাকবে , উনি চাননা।

খারাপ লাগাটা চারিয়ে গেল সুদীপ্তার মধ্যেও। রবীন্দ্র জয়ন্তীর আনন্দটা কেমন যেন ম্লান হয়ে গেল মুহূর্তে ।

পরের বৃহস্পতিবার সুদীপ্তা অফিস থেকে তাড়াতাড়ি ফিরে গানের ক্লাসে যাবার প্রস্তুতি নিচ্ছে, এমন সময় সেখান থেকে ফোন এল — সবাইকে আজ আধঘণ্টা আগে আসতে হবে । পরিতোষ স্যার বলেছেন ।
তড়িঘড়ি চা না খেয়েই ছুটলো সুদীপ্তা । ততক্ষণে মাত্র তিনজন এসেছে । তাঁর ঘরে স্যার চেয়ারে বড়ো গম্ভীরমুখে বসে আছেন । আর সবাই দাঁড়িয়ে । তাকে দেখে
বললেন, সেদিন রিহার্সালে যারা যারা ছিল তাদের সবাইকে আসতে বলেছি । দেখো, ঘড়িটা তোমাদের মধ্যে যে নিয়েছ তাকে ফেরত দিতে বলা হচ্ছে । ভালয় ভালয় ফেরত দিলে কিছু বলা হবে না । নইলে থানায় ডায়েরি করব । তারপর থানা-ই যা করার করবে।

শুনেই অপমানে বিবর্ণ হয়ে গেল সুদীপ্তার মুখটা । স্যারকেও কেমন অচেনা লাগছে । এই তিনিই কতোদিন সুদীপ্তার প্রশংসায় মুখর হয়েছেন ওর নিষ্ঠা দেখে । আরও ছোট থেকে ওর গান শেখা উচিত ছিল- এও বলেছেন । একজন উচ্চপদস্থ সরকারি কর্মকর্তার পদ যে ও সামলাচ্ছে সেটাও তাকে একটু অন্যদের থেকে আলাদা সম্ভ্রম এনে দিয়েছিল বলে মনে হয়েছিল এতদিন । সেই মানুষ ওকেও সন্দেহের তালিকায় রাখতে পারলেন !

ইতিমধ্যে একএক করে ছাত্রছাত্রীরা এসে দাঁড়াচ্ছে লাইন দিয়ে । ঘরটা যেন হয়ে উঠেছে
থানা আর তারা সব ক্রিমিনাল — টি আই প্যারেডে দাঁড়িয়ে আছে ।

সুদীপ্তা দাঁড়িয়ে থাকতে থাকতে পাথর হয়ে গেছে । তার এতদিনের শিক্ষা- সংস্কৃতি , অর্জিত সম্মান , মানুষের ভালবাসা, শ্রদ্ধার সমস্ত আবরণ খুলে পড়ে যাচ্ছে । কান, মুখ লজ্জায় ,অপমানে রক্তিম হয়েগেছে । চোখ ঝাপসা হয়ে আসছে ।
সেই ঝাপসা দৃষ্টিতেই অবাক হয়ে দেখল তার এতদিনের লালন করা সঙ্গীতচর্চার ইচ্ছেগুলো ক্ষণজীবী পতঙ্গের মতো চেহারা নিয়েছে । আর তৎক্ষনাৎ সঞ্জাত অপমান আর ক্ষোভের আগুনে সেই পতঙ্গেরা কেমন ভাবে আত্মাহূতি দিচ্ছে ।

 

বহ্নিশিখা ঘটক

কলকাতাপশ্চিমবঙ্গ,
ভারতবর্ষ ।

 

 

 

 

 

Facebook Comments

বাংলাদেশ সময়: ৫:৩৬ অপরাহ্ণ | বুধবার, ০৯ ডিসেম্বর ২০২০

জাপানের প্রথম অনলাইন বাংলা পত্রিকা |

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

চন্দ্রাবলী

১৬ নভেম্বর ২০২০

এডুকেশন

২৩ ডিসেম্বর ২০২০

অনুগল্পঃ মানুষ

১০ ডিসেম্বর ২০২০

চারাগাছ

২৬ জানুয়ারি ২০২১

কারিগর

২৪ জানুয়ারি ২০২১

মালতি

২৫ জুলাই ২০২০

বাটপার

১৩ আগস্ট ২০২০

 ফুটপাথ

৩০ জুলাই ২০২০

মেষপালক  মুসা মিয়া

০৪ জানুয়ারি ২০২১

আমাদের গল্টু

১৩ ফেব্রুয়ারি ২০২১

অলিভিয়া

০৭ এপ্রিল ২০২১