ঘোষণা

বাংলা ছোটগল্পের বিকাশে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ভূমিকা

শিবব্রত গুহ | শনিবার, ০৮ মে ২০২১ | পড়া হয়েছে 85 বার

বাংলা ছোটগল্পের বিকাশে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ভূমিকা

বাংলা সাহিত্যের জগৎ হল সুবিশাল। এর মধ্যে একটা বড়জায়গা জুড়ে আছে বাংলা ছোটগল্প।  বাংলা ছোটগল্প ছোট – বড় সবার কাছেই জনপ্রিয়তা লাভকরেছে। বাংলা ছোটগল্পের আবেদন অনস্বীকার্য।এবার আমরা জেনে নেব,  ছোটগল্প
কাকে বলে?  এডগার পো – এর মতে, যে গল্প অর্ধ হতে এক বা দু ঘন্টার মধ্যে এক নিঃশ্বাসে পড়ে শেষ করা যায়, তাকে ছোটগল্পবলে। আবার, এইচ জি ওয়েলস বলেছেন, ছোটগল্প সাধারণত১০ থেকে ১৫ মিনিটের মধ্যেশেষ হওয়া দরকার।

বাংলা সাহিত্যে ছোটগল্পের স্রষ্টাহলেন কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর।তিনিই হলেন বাংলা সাহিত্যেরঅন্যতম শ্রেষ্ঠ ছোটগল্পকার।উপন্যাসের মতো ছোটগল্পের আদিউৎসভূমি হল ইয়োরোপ। উনবিংশশতাব্দীর দ্বিতীয়ার্ধে,  ফ্রান্স, রাশিয়া,ইংল্যান্ড, আমেরিকায় ছোটগল্পেরযে শিল্পিত বিকাশ ঘটেছে, তার প্রভাব পড়েছে,  পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে, এমনকি ভারতেও।কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের হাতেই ঘটে, বাংলা ছোটগল্পের উজ্জ্বল মুক্তি। কেবল নতুন রূপকল্প
হিসাবে নয়, বাঙালীর বাস্তব জীবনের স্বাদ আর সৌরভ, আশা আর আনন্দ,  দুঃখ  আর বেদনারশব্দ প্রতিমা হিসেবে, রবি ঠাকুরের,গল্পগুচ্ছ,  বাংলা সাহিত্যের এক উজ্জ্বল সম্পদ।রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের প্রথম ছোটগল্প,” ভিখারিনী ” – প্রকাশিত হয়েছিল,
১৮৭৭ সালে, ভারতী পত্রিকায়।এ এক বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে,ঐতিহাসিক নির্মাণ।  এর পরে,দীর্ঘ তেতাল্লিশ বছরে,  ( ১৮৯১ -১৯৩৩) ,  রবি ঠাকুর, প্রায় ৯০টিছোটগল্প রচনা করেছেন।ত্রিশ বছর বয়স থেকে,  রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর,  ছোটগল্প রচনা শুরু করেছিলেন। ছোটগল্প রচনার সাথে সাথে তাঁর জমিদারি তদারকির, একটা গভীর সম্পর্ক রয়েছে।
এর জন্য, কুষ্টিয়া,  শিলাইদহ,  পাবনা, রাজশাহী,  পতিসর প্রভৃত অঞ্চল ঘুরে বেড়াতে গিয়ে তিনিগভীরভাবে, পরিচিত হয়েছিলেন,পদ্মা, গড়াই, নাগর ও ইছামতী নদী এবং গ্রামবাংলার মানুষ ও তাদেরজীবনযাত্রা ও প্রকৃতির সাথে। যাতাঁর জীবন দর্শনকে বিরাট ভাবেপ্রভাবিত করেছিল।এসবের পরিচয় আমরা পাই রবিঠাকুরের রচিত ছোটগল্পগুলিতে।জীবনের রূপ, রং, রস এসবগুলিকে, তাঁর ছোটগল্পে তিনি সুন্দর ভাবে ফুটিয়ে তুলেছেন।যা এককথায় অনবদ্য! রবীন্দ্রনাথ ঠাকুবাংলাছোটগল্পে, জীবনদান করেন।বিষয় বস্তু হিসাবে, রবি ঠাকুরের ছোটগল্পগুলোতে,  প্রেম, প্রকৃতি,মানুষ,  অতিপ্রাকৃত ঘটনা,  সামাজিক জীবন,  নারী – পুরুষেরমনস্তাত্ত্বিক দিক ইত্যাদি স্থান পেয়েছে।  তাঁর রচিত প্রেমেরছোটগল্প হিসাবে, একরাত্রি, মহামায়া, সমাপ্তি, মাল্যদান, মধ্যবর্তিনী, শাস্তি, প্রায়শ্চিত্ত,  দুরাশা, অধ্যাপক, নষ্টনীড়, স্ত্রীর পত্র, পাত্র ও পাত্রী, মানভঞ্জন,রবিবার, শেষকথা প্রভৃতি ছোটগল্পের নাম বলা যায়।তাঁর রচিত প্রকৃতি বিষয়ক গল্পেরমধ্যে, শুভা, অতিথি ইত্যাদি উল্লেখযোগ্য। এসব গল্পে, প্রকৃতিপ্রেমিক নারী ও বালক চরিত্রগুলোহয়েছে যেন প্রকৃতির সন্তান।সমাজ জীবনের নানা ধরনের বৈচিত্র্য নিয়ে, কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর অনেক ছোটগল্প রচনা করেছেন। তাদের মধ্যে, ব্যবধান,
মেঘ ও রৌদ্র, পণরক্ষা, পোস্টমাস্টার,  কাবুলিওয়ালা,  দিদি, হৈমন্তী, কর্মফল, দান – প্রতিদান, দেনা – পাওনা, ছুটি,পুত্রযজ্ঞ প্রভৃতি সবিশেষ উল্লেখযোগ্য।রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের রচিত ছোটগল্প
গুলির,  প্রত্যেকটা চরিত্র,  একে অপরের থেকে আলাদা ও স্বতন্ত্র।প্রতিটি চরিত্র,  যেন শুধু গল্পেরচরিত্র নয়, এই সব চরিত্র প্রতিনিয়তআমাদের সমাজের আশেপাশে দেখতে পাই। এতটাই জীবন্ত তাঁরসৃষ্ট ছোটগল্পের চরিত্রগুলো!  কিঅসাধারণ সব বৈচিত্র্য এই সবচরিত্রের মধ্যে!  যার তুলনা বাংলাসাহিত্যে মেলা ভার।রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত ছোটগল্পে,অতিপ্রাকৃত রসের স্পর্শ লেগেছিল,তাদের মধ্যে,  গুপ্তধন,  জীবিত ওমৃত, মণিহারা, ক্ষুধিত পাষাণ ইত্যাদি উল্লেখযোগ্য।তাই, বাংলা ছোটগল্পের বিকাশেরবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ভূমিকা বিরাট- একথা বলা যায় নিঃসন্দেহে।

(  তথ্য সংগৃহীত )

Facebook Comments

বাংলাদেশ সময়: ১০:০৯ পূর্বাহ্ণ | শনিবার, ০৮ মে ২০২১

জাপানের প্রথম অনলাইন বাংলা পত্রিকা |

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

জুতার দাম ১০ লাখ ডলার!

০৯ ডিসেম্বর ২০২০