ঘোষণা

বাঁচতে চায় ফুলের শিশুরা

   পারমিতা রাহা হালদার | সোমবার, ১৫ মার্চ ২০২১ | পড়া হয়েছে 216 বার

বাঁচতে চায় ফুলের শিশুরা
অষ্টমীর সকাল,  পুজোর আমেজ থমকে হঠাৎ নিস্তব্ধতা। খবর ছড়ালো পাড়ার পাগলীটার আট বছরের মেয়েটাকে কারা যেন রাতের আঁধারে ধর্ষণ করে সম্পূর্ণ নগ্ন অবস্থায় নর্দমায় ফেলে দিয়েছে। খরর শুনে ছুটলো নীলা। পাগলীটা যেদিন প্রসব যন্ত্রণায় ছটফট করছিল নীলা ছুটে গেছিল সাহায্য করতে। পাগলীর নাড়ি কেটে পিতৃ পরিচয় হীন ফুটফুটে মেয়েকে কোলে তুলে দিয়েছিল। আজ এতগুলো বছর পার করেও পাগলীর মধ্যে মা হয়ে ওঠার মমতা অনুভব করতো নীলা।
               আট বছরের মেয়েটার গলা কেটে নিষ্ঠুর ভাবে হত্যা করে প্রমাণ বিলুপ্ত করা হয়েছে। নীলা আদর করে মেয়েটার নাম রেখেছিল গৌরী। কিছু সময়ের পর মন্ডপে মন্ডপে কুমারী পূজো। একদিকে কত আট বছরের কুমারী গৌরী আজ দূর্গা সাজবে। শক্তিরূপিনীর পুজো করবে সমাজ। অন্যদিকে পাগলীর কোল জুড়ে চিরনিদ্রায় শুয়ে আছে তার দুর্গা। অত্যাচারের দগদগে ঘা শরীর জুড়ে! কোথাও সিগারেটের ছ্যাঁকা তো কোথাও চড় থাপ্পড় বা কামড়ে আঁচড়ে দেওয়ার রক্ত জমাট। থেঁতলে দেওয়া যোনি বেয়ে তাজা রক্ত স্রোত বলে দিচ্ছে পাশবিকতার চরম নিদর্শন।
                     পাগলী চিৎকার করে কাঁদছে নিজের বুক চাপড়ে। হতাশ চোখে আকুতি  ফুটে উঠেছে বিচারের আবেদন। চারিদিকে লোকের ভিড় আর গুঞ্জন। সবাই নাট্যমঞ্চের নাটক দেখতে ব্যস্ত। নীলাকে দেখে পাগলী জড়িয়ে ধরল। নীলা একটা কাপড় দিয়ে গৌরীকে ঢেকে দিল। নীলা অনুভব করলো গৌরী, প্রভাতের সূর্যোদয়ের সাথেই নিষ্ঠুর পৃথিবী ত্যাগ করেছে কিম্বা একটা ক্ষীণ আশা….।
                   হসপিটালে নিয়ে যাওয়ার জন্য তোড়জোড় করতেই ভিড় ঠেলে পুলিস এলো। ওনারাই  সাহায্যের হাত বাড়িয়ে  গৌরী কে হসপিটালে নিয়ে গেলেন। শেষ আশা ব্যর্থ করে ময়নাতদন্তের জন্য গৌরীর দেহ চলে গেল।
          পাগলীকে ধরে বসলো নীলা। দশ বছর আগে হঠাৎ পাগলী এসেছিল। তারপর এক ঝড় বৃষ্টির রাতে কাপুরুষের দল পাগলী কে ধর্ষণ করে ফেলে রেখে যায় রাস্তার পাশে। পাগলীর মাতৃত্ব দশা দেখে সমাজ অবশ্য চুপ করে থাকেনি যথেষ্ট প্রতিবাদ করেছে, পাথর ছুঁড়ে মেরে।
                   গৌরীর বডি এলো সাথে রিপোর্ট। সারারাত ধর্ষকরা গৌরীকে বেঁধে ধর্ষণ করেছে । আহারে ওই টুকু ফুলের শিশুর প্রতি এ কি জান্তব পাশবিকতা! খাবলে নেওয়া দগদগে ক্ষত দাগ আট বছরের শিশুটির শরীর জুড়ে।
            আজ অষ্টমীর সকালে আলোঝলমল ড্রেসে কত গৌরীরা সেজে উঠেছে। কেউ কুমারী রূপে আর কেউ বা চিরনিদ্রায় শায়িত । শঙ্খধ্বনি ঢাকঢোলের কলতানে পাগলীর কান্না ঢেকে গেল চিরতরে।
Facebook Comments

বাংলাদেশ সময়: ৭:১৫ অপরাহ্ণ | সোমবার, ১৫ মার্চ ২০২১

জাপানের প্রথম অনলাইন বাংলা পত্রিকা |

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

চন্দ্রাবলী

১৬ নভেম্বর ২০২০

এডুকেশন

২৩ ডিসেম্বর ২০২০

অনুগল্পঃ মানুষ

১০ ডিসেম্বর ২০২০

চারাগাছ

২৬ জানুয়ারি ২০২১

মালতি

২৫ জুলাই ২০২০

কারিগর

২৪ জানুয়ারি ২০২১

 ফুটপাথ

৩০ জুলাই ২০২০

বাটপার

১৩ আগস্ট ২০২০

স্বর্গ থেকে বিদায়

০৯ ডিসেম্বর ২০২০

মেষপালক  মুসা মিয়া

০৪ জানুয়ারি ২০২১

আমাদের গল্টু

১৩ ফেব্রুয়ারি ২০২১

সোনাদিঘি

১৪ জুলাই ২০২০