ঘোষণা

চাল উৎপাদনে বিস্ময়কর সাফল্য, তৃতীয় অবস্থানে বাংলাদেশ

অনলাইন ডেস্ক | বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২০ | পড়া হয়েছে 89 বার

চাল উৎপাদনে বিস্ময়কর সাফল্য, তৃতীয় অবস্থানে বাংলাদেশ

ধারাবাহিকভাবে দেশে বেড়েছে চালের উৎপাদন। এ কারণে ইন্দোনেশিয়াকে পেছনে ফেলে চাল উৎপাদনে বিশ্বের তৃতীয় অবস্থানে উঠেছে এসেছে বাংলাদেশ।

বৈশ্বিক কৃষি উৎপাদন পরিস্থিতির সর্বশেষ তথ্য নিয়ে সম্প্রতি প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এই তথ্য দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের কৃষি বিভাগ ও জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা (এফএও)।

গেল বছরের পরিসংখ্যানে বাংলাদেশের অবস্থান ছিলো চতুর্থ। আর প্রথম তিনে ছিলো যথাক্রমে চীন, ভারত ও ইন্দোনেশিয়া। করোনাকালে কৃষির উপর সরকারি বিশেষ নজরদারি ও দেশে ধানের বাম্পার ফলনের কারণে বাংলাদেশ এমন সাফল্য পেয়েছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দেশে চাল উৎপাদনে প্রবৃদ্ধি হারের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে মাটির স্বাস্থ্য রক্ষা, কৃষি আধুনিকায়নের পাশাপাশি নজর দিতে হবে অভ্যন্তরীণ বাজার ব্যবস্থাপনার দিকে। নিশ্চিত করতে হবে কৃষকের ঘামের সঠিক মূল্য।

বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের কৃষি অর্থনীতি বিভাগের প্রফেসর ড. মোহাম্মদ সাইদুর রহমান বলেন, কৃষক যেন তার উৎপাদিত ফসলের দাম পাওয়া নিয়ে অনিশ্চয়তায় না ভোগেন, সেই ব্যবস্থা করতে হবে।

যেহেতু উৎপাদন বাড়ছে, কৃষকের ন্যায্য মূল্য নিশ্চিতে অভ্যন্তরীণ বাজার ব্যবস্থাপনা ঠিক রাখার পাশাপাশি নিয়মিত চাল রপ্তানির ক্ষেত্র তৈরি করতে হবে। এর জন্য প্রয়োজন পরিকল্পনা।

বাংলাদেশ পরমাণু কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের (বিনা) মহাপরিচালক ড. মির্জা মোফাজ্জল ইসলাম বলেন, মাটির স্বাস্থ্য ঠিক রাখার বিষয়ে কৃষক এখনো কম সচেতন।

সার প্রয়োগ থেকে চাষাবাদের প্রতিটি ধাপে মাটির স্বাস্থ্য রক্ষার বিষয়ে সচতেন থাকতে হবে। কৃষিকে আধুনিকায়ন করা বা কনজারভেশন অ্যাগ্রিকালচারের দিকে ঝুঁকতে হবে। জমিতে রাসায়নিক ব্যবহারে কৃষকদের আরও সতর্ক থাকতে হবে।

কৃষি মন্ত্রণালয়ের সচিব মোঃ নাসিরুজ্জামান বলেন, আগে একটি নতুন জাতের ধান কৃষক পর্যায়ে পৌঁছাতে ১০ থেকে ১২ বছর সময় লাগত। এখন তিন-চার বছরের মধ্যেই কৃষক পেয়ে যাচ্ছেন।

এসব জাত চাষাবাদের প্রক্রিয়া নিয়মিত মনিটর করা হচ্ছে। গবেষণা থেকে সম্প্রসারণ- প্রতিটি ধাপেই সরকার গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছে। এসব কারণে উৎপাদন বাড়ছে।

দেশের উৎপাদিত চালের ৫৫ শতাংশের বেশি আসে বোরো ধান থেকে। বাকিটা আসে আউশ ও আমন থেকে। কৃষি বিভাগ বলছে, বর্তমানে বাংলাদেশে চালের চাহিদা রয়েছে বছরে তিন কোটি ৫১ লাখ টন।

দেশে কৃষি উৎপাদনের তথ্য বলছে, আমন, আউশ ও বোরো—তিন মৌসুমেই চালের উৎপাদন ভালো হওয়ায় চলতি বছর চাল উৎপাদন বেড়েছে চার লাখ টনেরও বেশি।

Facebook Comments

বাংলাদেশ সময়: ১১:০৪ পূর্বাহ্ণ | বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২০

জাপানের প্রথম অনলাইন বাংলা পত্রিকা |

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত