ঘোষণা

রাজনীতির চেরাগ

৭ বছরে ২৪৫০ বিঘা জমির মালিক দুই ভাই

বিবেক ডেস্ক | রবিবার, ৩০ আগস্ট ২০২০ | পড়া হয়েছে 139 বার

৭ বছরে ২৪৫০ বিঘা জমির মালিক দুই ভাই

ফরিদপুরের সেই দুই ভাই সাজ্জাদ হোসেন ওরফে বরকত ও ইমতিয়াজ হাসান ওরফে রুবেলের নেশা ছিল জমি দখল। যে জমিই পছন্দ হতো, নামমাত্র দামে তাঁরা নিয়ে নিতেন। জমির মালিক বিক্রি করতে না চাইলে ভয় দেখিয়ে দখল করে নেওয়া হতো। এ কাজে তাঁদের যেমন সন্ত্রাসী বাহিনী ছিল, তেমনি পুলিশ বাহিনীকেও কাজে লাগাতেন। প্রয়োজনে জমির মালিককে পুলিশ দিয়ে গ্রেপ্তার করাতেন। এভাবে সাত বছরে তাঁরা ২ হাজার ৪৫০ বিঘা জমির মালিক হয়েছেন। ঢাকায় মানি লন্ডারিং আইনের মামলায় গ্রেপ্তারের পর সিআইডির জিজ্ঞাসাবাদ ও আদালতে দেওয়া স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে এসব কথা বলেছেন দুই ভাই।

মানি লন্ডারিং মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা, সিআইডির সহকারী পুলিশ সুপার উত্তম কুমার বিশ্বাস প্রথম আলোকে বলেন, বরকত ও রুবেল জিজ্ঞাসাবাদে বলেছেন, তাঁদের হাতে টাকা এলেই জমি কিনে রাখতেন। সেই জমি বিভিন্ন ব্যাংকে বন্ধক দিয়ে ঋণ নিতেন। টেন্ডারবাজি, চাঁদাবাজির টাকা এভাবে বৈধ করার চেষ্টা করতেন।

সিআইডির কর্মকর্তারা বলছেন, দুই ভাইয়ের নামে যে প্রায় আড়াই হাজার বিঘা জমি কেনা হয়েছে, তার বেশির ভাগই ফরিদপুর শহর ও আশপাশের। শুধু জমি নয়, তাঁদের নামে পাওয়া গেছে ৪৯টি ব্যাংক হিসাবের তথ্য। এসব হিসাবে তিন হাজার কোটি টাকার বেশি লেনদেন হয়েছে। তবে এসব হিসাবে বড় অঙ্কের কোনো অর্থ গচ্ছিত পায়নি সিআইডি। জমানো টাকা সম্ভবত আগেই সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।

মানি লন্ডারিং মামলায় বরকত-রুবেল ছাড়া আরও জবানবন্দি দিয়েছেন ফরিদপুর শহর আওয়ামী লীগের সভাপতি নাজমুল ইসলাম খন্দকার ওরফে লেবী, জেলা শ্রমিক লীগের কোষাধ্যক্ষ বিল্লাল হোসেন, শহর যুবলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আসিবুর রহমান ফারহান ও জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি নিশান মাহমুদ ওরফে শামীম। সবার জবানবন্দিতে উঠে এসেছে এত কম সময়ে কীভাবে তাঁরা বিপুল সম্পদের মালিক হলেন তার বিবরণ। সে বিবরণ যেকোনো গল্পকে হার মানাবে।

ফরিদপুরের দুই ভাইয়ের জবানবন্দিতে অঢেল সম্পদের বিবরণ। সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করে ক্ষতিগ্রস্তদের ফিরিয়ে দেওয়ার দাবি।

ছয়জনের জবানবন্দিতেই একজন ‘গডফাদার’–এর নাম এসেছে। যাঁর আশ্রয়-প্রশ্রয়ে তাঁরা ফুলেফেঁপে উঠেছেন। টেন্ডারবাজি, দখলবাজি, চাঁদাবাজি—সব কাজের জন্য গডফাদারকে দিতে হয়েছে ২ শতাংশ হারে কমিশন।

আলোচিত এই গডফাদার হলেন সাবেক মন্ত্রী খন্দকার মোশাররফ হোসেনের ভাই এবং জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি খন্দকার মোহতেশাম হোসেন ওরফে বাবর। ফরিদপুরের রাজনীতিকে কলুষিত করতে বহিরাগতদের আগমন ঘটেছিল তাঁরই হাত ধরে।

মোহতেশাম হোসেন বাবর অবশ্য দেড় বছর ধরে ফরিদপুরে যান না। কেন যান না, তা নিয়ে নানা গল্প আছে। তবে ফরিদপুরে না গেলেও ঢাকায় বসে কলকাঠি নাড়তেন, কমিশনও নিতেন তিনি। বরকত-রুবেল সিআইডির কাছে দেওয়া জবানবন্দিতে বলেছেন, ‘বাবর চাচা’কে কমিশন না দিয়ে কাজ করা যেত না।

এ ব্যাপারে জানতে গত শুক্র ও শনিবার কয়েক দফা মোহতেশাম হোসেনের সঙ্গে ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়। তিনি ফোন ধরেননি। তিনি বলেছিলেন, করোনার কারণে তিনি বাসার বাইরে বের হন না। আবার বাড়িতে কাউকে আসতে দেন না। সে সময় টেলিফোনের কথোপকথনে তিনি তাঁর বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেছিলেন, রাজনীতিতে তাঁর কিছু ভুল ছিল। এসব তিনি ইচ্ছা করে করেননি।

ফরিদপুরের রাজনীতিতে আজকের যে পরিবর্তন, তা শুরু হয় আওয়ামী লীগের জেলা সভাপতি সুবল চন্দ্র সাহার বাড়িতে হামলার পর। গত ১৬ মে রাতে এই হামলা হয়। হামলার ঘটনার তদন্তে নেমে পুলিশ জানতে পারে, এ ঘটনায় আওয়ামী লীগের একটি অংশ জড়িত। এ অংশের সদস্যরা অন্য দল থেকে এসে আওয়ামী লীগে যোগ দিয়েছিলেন। এরপর সরকারের উচ্চপর্যায়ের নির্দেশে ফরিদপুরে শুরু হয় শুদ্ধি অভিযান।

সেই অভিযানে গত ৭ জুন প্রথম গ্রেপ্তার হন বরকত–রুবেল। বড় ভাই সাজ্জাদ হোসেন ওরফে বরকত গ্রেপ্তারের সময়ও ছিলেন শহর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক। আর ছোট ভাই ইমতিয়াজ হাসান ওরফে রুবেল একটি পত্রিকার মালিক হয়ে প্রভাব খাটাতে থাকেন।

দুই ভাই ধরা পড়ার পর একে একে গ্রেপ্তার হন শহর আওয়ামী লীগের সভাপতি নাজমুল ইসলাম খন্দকার ওরফে লেবী, শহর আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহফুজুর রহমান ওরফে মামুন, জেলা শ্রমিক লীগের কোষাধ্যক্ষ বিল্লাল হোসেন, শহর যুবলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আসিবুর রহমান ফারহান, ফরিদপুর পৌরসভার বর্ধিত ২৫ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মনিরুজ্জামান, শহর আওয়ামী লীগের মহিলাবিষয়ক সম্পাদক বন্যা মণ্ডল, কোতোয়ালি স্বেচ্ছাসেবক লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হামিদুর রহমান, ১৬ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি নারায়ণ চক্রবর্তী, জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি নিশান মাহমুদ ওরফে শামীমসহ ১৮ জন। তাঁদের বিরুদ্ধে মোট ১১টি মামলা হয়। একটি মামলা করে সিআইডি সদর দপ্তর। মানি লন্ডারিং আইনের সেই মামলার পর সিআইডি বরকত-রুবেলের বাড়ি, গাড়ি, পরিবহন প্রতিষ্ঠান, হোটেল, রেস্টহাউস থেকে শুরু করে সব স্থাপনা ও যানবাহন জব্দ করে। ১১টি মামলায় গ্রেপ্তার হওয়া ১৮ জনের সবাই ফরিদপুর ও ঢাকার আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।

সিআইডির করা মানি লন্ডারিং মামলায় বরকত-রুবেল ছাড়াও জবানবন্দি দিয়েছেন নাজমুল ইসলাম খন্দকার ওরফে লেবী, বিল্লাল হোসেন, আসিবুর রহমান ওরফে ফারহান ও নিশান মাহমুদ ওরফে শামীম। বরকত ও রুবেল গত ২৪ জুলাই ঢাকা মহানগর ম্যাজিস্ট্রেটের আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। বাকি চারজনের মধ্যে ২৫ আগস্ট জবানবন্দি দেন নাজমুল ইসলাম খন্দকার, বিল্লাল হোসেন ও আসিবুর রহমান। ২৬ আগস্ট জবানবন্দি দেন জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি নিশান মাহমুদ। বরকত-রুবেলকে অন্য মামলায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ফরিদপুরে নেওয়া হয়েছে। বাকিদের কারাগারে পাঠানো হয়।

পুলিশ ও আদালত সূত্র জানিয়েছে, নাজমুল ইসলাম খন্দকার আদালতে দেওয়া স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে বলেছেন, ২০১৬ সালের দিকে বরকত-রুবেলের সঙ্গে তিনি, সাবেক মন্ত্রী মোশাররফ হোসেনের এপিএস যুবলীগ নেতা এ এইচ এম ফোয়াদ এবং ফরিদপুর শিল্প ও বণিক সমিতির সভাপতি সিদ্দিকুর রহমান মিলে গোপন বৈঠক করেন। সেই বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়, সরকারি প্রতিষ্ঠানের সব কাজ তাঁরা ভাগাভাগি করে নেবেন। ফরিদপুরের পাসপোর্ট অফিস, পৌরসভা, বিআরটিএ ও ফুটপাত নিয়ন্ত্রণের দায়িত্ব পড়ে তাঁর ওপর। তাঁর পক্ষে শহর যুবলীগের যুগ্ম আহ্বায়ক তরিকুল ইসলাম ওরফে নাসিম চাঁদা আদায় করতেন।

জবানবন্দিতে নাজমুল বলেন, এসব উৎস থেকে আদায় করা অর্থের ২ শতাংশ ভাগ দিতে হতো সাবেক মন্ত্রীর ভাই বাবরকে। একটি ঠিকাদারি কাজ থেকে পাওয়া অর্থের হিসাব দিয়ে তিনি জানান, ওই কাজ থেকে পাওয়া সাড়ে পাঁচ কোটি টাকার মধ্যে তিনি ৫০ লাখ টাকা ভাগ পান। বাবরকে দেন দুই কোটি টাকা আর মোশাররফ হোসেনের এপিএস ফোয়াদ নেন তিন কোটি টাকা। নাজমুল আরও বলেন, এভাবে আয় করা টাকা দিয়ে তিনি ঢাকার বায়তুল আমান হাউজিং এলাকায় একটি ফ্ল্যাট, একটি গাড়ি ও ফরিদপুরে জমি কিনেছেন।

সাবেক মন্ত্রীর ভাই বাবরের মালিকানাধীন রাজ পোলট্রি ফার্মের কর্মচারী ছিলেন বিল্লাল। একদিন হঠাৎ তিনি জেলা শ্রমিক লীগের অলিখিত অর্থ সম্পাদক হয়ে বসেন। এরপর বরকত-রুবেলের দেখাদেখি ঠিকাদারি ব্যবসা শুরু করেন। গণপূর্ত, শিক্ষা প্রকৌশল, বিএডিসি ও পৌরসভার ঠিকাদারি কাজ বাগিয়ে নিতেন তিনি।

আদালতে দেওয়া জবানবন্দিতে বিল্লাল বলেন, গত সাত–আট বছরে তিনি প্রায় ১০০ কোটি টাকার কাজ করেছেন। প্রতিটি কাজের জন্য বাবরকে দিয়েছেন ২ শতাংশ হারে কমিশন। ফরিদপুর সদরের কৃষ্ণনগর ইউনিয়নের পাচ্চর এলাকায় ১২০ বিঘা জমির ওপর তাঁর একটি ইটভাটা আছে। এটা দেখাশোনা করেন তাঁর ভায়রা বাবলু। এ ছাড়া জেলার চণ্ডীপুরে ২৫ বিঘা জমিতে আরও একটি ইটভাটা আছে। এই ভাটার জমির ১০ বিঘা সরকারি খাসজমি। ঢাকার মোহাম্মদপুরে ও ধানমন্ডিতে তাঁর দুটি ফ্ল্যাট আছে। ব্যক্তিগত গাড়ি আছে তিনটি।

শহর যুবলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আসিবুর রহমান ওরেফে ফারহান জবানবন্দিতে জানিয়েছেন, ফরিদপুর-৩ আসনের (সদর) সাংসদ ও সাবেক মন্ত্রী খন্দকার মোশাররফ হোসেন ফরিদপুর শহরসহ আশপাশের যে জায়গায় সভা–সমাবেশ করতেন, সেখানে গিয়ে স্লোগান দিতেন তিনি। এভাবেই শহর যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক হন। টেন্ডারবাজি, চাঁদাবাজি নিয়ন্ত্রণের জন্য ফরিদপুরে যে সিন্ডিকেট গড়ে উঠেছিল, তিনি ছিলেন সেই দলে। এসব করে ঢাকার মিরপুরে একটি ফ্ল্যাট কেনেন। ফরিদপুর শহরের বিল মাহমুদপুরে তাঁর জমি রয়েছে। শহরের হিতৈষী স্কুলের সামনে ‘রেইন ফরেস্ট’ নামে একটি চায়নিজ রেস্তোরাঁর মালিকও তিনি।

ছয় ফুট চার ইঞ্চি উচ্চতার সুদর্শন নিশান মাহমুদ শামীম সরকারি রাজেন্দ্র কলেজে পড়াশোনার সুবাদে ২০১৫ সালে জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি হন। তিনি ছিলেন মোশাররফ হোসেনের এপিএস ফোয়াদের অনুসারী। ফরিদপুরে যে সরকারি দপ্তরে ঠিকাদারি কাজ হতো, সেখানেই পাহারা বসাতেন তিনি। নিজেদের লোক ছাড়া অন্য কেউ যাতে দরপত্র কিনতে বা ফেলতে না পারেন, সেটা নিশ্চিত করতেন তিনি। এ জন্য হেলমেট বাহিনী নামে তাঁর একটি বাহিনী ছিল, এই বাহিনী নিয়ন্ত্রণ করতেন ফোয়াদ। তাঁর নির্দেশেই চলত পুরো বাহিনী। শামীম স্বীকার করেন, ২০১৯ সালের ২২ ডিসেম্বর ফরিদপুর সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সামছুল আলম চৌধুরীর ওপর হামলায় তিনি জড়িত ছিলেন। মানি লন্ডারিং মামলায় ২১ আগস্ট পুলিশ তাঁকে গ্রেপ্তার করে।

ফরিদপুরের অনেক মানুষ অভিযোগ করেছেন, বরকত-রুবেলরা জমি কেনার নামে দখল করতেন। যে জমি পছন্দ হতো, সেটা বিক্রি করতে না চাইলেও যেকোনোভাবে সেই জমি তাঁরা কবজা করতেন। কেউ জমি বেচতে রাজি না হলে তাঁর জমিতে রাতারাতি বালু ফেলে বিক্রির জন্য চাপ দিতেন। আবার কোনো কোনো জমির মালিকের আত্মীয়কে দিয়ে মামলা করিয়ে জমির মালিককে জেলে ঢোকাতেন। এসব ঘটনায় পুলিশের কাছে গিয়ে কেউ প্রতিকার পেয়েছে এমন নজির নেই।

ফরিদপুর শহরের চর কমলাপুর এলাকার বাসিন্দা ইব্রাহিম সিকদার বাইপাসে সাড়ে ৫ শতাংশ জমি কেনেন। ওই জমির ওপর চোখ পড়ে রুবেল-বরকতের। ইব্রাহিম প্রথম আলোকে বলেন, ‘একদিন রুবেল আমাকে ফোন করে তাঁর অফিসে ডেকে নিয়ে একটি দলিলে সই করতে বলেন। প্রাণের ভয়ে সই করে চলে আসি। পরে জানতে পারি, তাঁরা জমিটির মালিক হয়েছেন হেবামূলে। দলিল হেবা করতে হলে আত্মীয় হতে হয়। অথচ বরকত–রুবেলের সঙ্গে তাঁর কোনো আত্মীয়তা নেই।’

ফরিদপুর শহরতলির বাইপাস–সংলগ্ন ব্রাহ্মণকান্দা গ্রামে বিধবা যমুনা রানী নিয়োগী নিজের ৩৭ শতাংশ জমি বিক্রির উদ্যোগ নেন। কথাও হয় জমির ক্রেতাদের সঙ্গে। দাম ঠিক হয় প্রতি শতাংশ সাড়ে তিন লাখ টাকা। এ খবর বরকত ও রুবেলদের কাছে চলে যায়। এরপর সেই জমি ২ লাখ ২০ হাজার টাকা শতাংশ দরে বিক্রি করতে বাধ্য হন তিনি। রানী নিয়োগী বলেন, ‘জমির চেয়ে প্রাণ বড়। সে কারণে আর কথা বলিনি।’

বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের চাকরিজীবী নাসরিন আক্তার ২০১১ সালে বাইপাস এলাকায় ৫ শতাংশ জমি কেনেন ১৮ লাখ টাকা দিয়ে। সেই জমি রুবেল-বরকতদের কাছে বাধ্য হয়ে বিক্রি করেন মাত্র পাঁচ লাখ টাকায়।

অবসরপ্রাপ্ত করপোরাল গোলাম মোস্তফা মিয়া রাজবাড়ী সড়কের পাশে ১০ শতাংশ জমি কেনেন ৩০ বছর আগে। তিনতলা ভবনের জন্য ভিত্তিস্থাপন করেন। ২০১৮ সালে বাড়িসহ সেই জমিটি দখল করে নেন বরকত–রুবেল। মোস্তফা জানান, তাঁর হাতে ১০ লাখ টাকা গুঁজে দিয়েছিলেন দুই ভাই। দাম বলতে সেটাই পেয়েছিলেন।

ফরিদপুর সদর উপজেলার প্রকৌশলী কার্যালয়ের হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা মোকাদ্দেস হোসেন অভিযোগ করেন, শহর বাইপাসে তাঁর ১০ শতাংশ জমি ছিল। একদিন দেখেন, সেই জমির সীমানাপ্রাচীর ভেঙে দখল করা হয়েছে। এলাকার লোকজন বললেন, ‘ওরা নিয়েছে, কিছু বলিস না।’ ভয়ে তিনি আর কিছু বলেননি।

বরকত–রুবেলদের বিরুদ্ধে এ ধরনের অভিযোগের কোনো শেষ নেই। ভুক্তভোগীরা বলছেন, দুই ভাইয়ের এই অপকর্মে স্থানীয় পুলিশ ও জেলা প্রশাসন প্রকাশ্যে সহায়তা করেছে। কেউ অভিযোগ নিয়ে গেলে পুলিশ শুনত না। একই আচরণ করেছেন জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারাও। এ ক্ষেত্রে অপরাধীদের বড় সহায়ক শক্তি ছিল রাজনৈতিক পরিচয়। তাঁরা সবাই ছিলেন সাবেক মন্ত্রী খন্দকার মোশাররফ হোসেনের ঘনিষ্ঠজন।

ফরিদপুর জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি, আইনজীবী সুবল চন্দ্র সাহা বলেন, সরকার যদি উদ্যোগ নেয়, তাহলে দেওয়ানি আদালতের মাধ্যমে এসব অবৈধ সম্পদের ব্যাপারে একটা সিদ্ধান্ত নিতে পারে।

জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ মাসুদ হোসেন বলেন, রুবেল–বরকত চক্র যে সম্পদ অর্জন করেছে, তা কখনো বৈধভাবে করেনি। মানুষের ওপর জুলুম করে এসব সম্পদ করেছে। এই সম্পত্তি সরকারের অনুকূলে বাজেয়াপ্ত করে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তিদের মধ্যে ফিরিয়ে দেওয়া উচিত। সূত্র : প্রথম আলো

Facebook Comments

বাংলাদেশ সময়: ১:৪১ অপরাহ্ণ | রবিবার, ৩০ আগস্ট ২০২০

জাপানের প্রথম অনলাইন বাংলা পত্রিকা |

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত