ঘোষণা

মসজিদের শহর বাগেরহাটের ষাট গম্বুজ মসজিদ বিশ্ব ঐতিহ্য

রীতা আক্তার | রবিবার, ০১ আগস্ট ২০২১ | পড়া হয়েছে 103 বার

মসজিদের শহর বাগেরহাটের ষাট গম্বুজ মসজিদ বিশ্ব ঐতিহ্য

খুলনার প্রচীন মসজিদের শহর বাগেরহাটের নাম ছিল খলিফাতাবাদ৷ শহরটির প্রতিষ্ঠাতা খান-ই-জাহান ছিলেন এক সাধক পুরুষ৷ ষাট গম্বুজ মসজিদসহ এখানকার নানা প্রাচীন স্থাপনা ইউনেস্কোর বিশ্ব ঐতিহ্যের তালিকায় স্থান পায় ১৯৮৫ সালে৷

বাংলাদেশের দক্ষিণ পশ্চিমে অবস্থিত বাগেরহাট জেলার অন্তর্ভুক্ত বাগেরহাট শহরের একটি অংশ ছিল এই শহরটি। বাগেরহাট খুলনা থেকে ১৫ মাইল দক্ষিণ পূর্ব দিকে এবং ঢাকা থেকে ২০০ মাইল দক্ষিণ পশ্চিমে অবস্থিত। এই শহরের অপর নাম ছিলো খলিফতাবাদ এবং এটি শাহী বাংলার পুদিনার শহর নামেও পরিচিত ছিল]। ১৫শ শতকে তুর্কি সেনাপতি খান-ই-জাহান এই শহরটি গড়ে তোলেন বিশ্বের হারিয়ে যাওয়া ১৫টি শহরের একটি তালিকা তৈরী করেছিলো ফোর্বস, আর ৫০টির বেশি ইসলামিক স্থাপত্যের সমন্বয়ে তৈরী এই শহরটি এই তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। ১৯৮৩ সালে এই শহরটি ইউনেস্কোর বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী স্থান হিসাবে তালিকাভুক্ত করা হয় “স্থাপত্য কর্মের একটি অসাধারণ নিদর্শন হিসেবে যা মানব ইতিহাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ বর্ণনা করে। ঐতিহ্যবাহী স্থানগুলোর মধ্যে ষাট গম্বুজ মসজিদ অন্যতম পরিচিত।


বাংলাদেশের দক্ষিণে অবস্থিত বাগেরহাটে ঠাকুর দিঘি নামে একটি স্বাদু পানির জলাশয়ের পূর্ব তীরে অবস্থিত ষাট গম্বুজ মসজিদ বাংলাদেশের অন্যতম প্রাচীন মসজিদ এবং একে বর্ণনা করা হয়েছে “ঐতিহাসিক মসজিদ যা মুসলিম বাংলার স্বর্ণযুগের প্রতিনিধিত্ব করে”। মসজিদটি এই কারণে অসাধারণ যে এর ৬০টি পিলার আছে যা ৭৭টি অসাধারণভাবে বাঁকানো “নিচু বর্গাকার গম্বুজ” ধারণ করে যা সময়ের সাথে ক্ষয় হচ্ছে; এর বেশ কয়েকটি চারকোণা গম্বুজ আছে যেগুলো বাংলা স্থাপত্যরীতিতে তৈরি। খান জাহান আলি ১৪৪০ সালে এই মসজিদটি প্রতিষ্ঠা করেন। এটি প্রার্থনা, সম্মেলন কেন্দ্র এবং মাদ্রাসা হিসেবে ব্যবহার হত। ৭৭টি গম্বুজ ছাদের উপর অবস্থিত এবং চারটি ছোট গম্বুজ মসজিদের চার কোণার মিনারে তথা টাওয়ারে অবস্থিত। মসজিদের পূর্ব দেয়ালে ১১টি বিরাট আকারের খিলান যুক্ত দরজা আছে। মাঝের দরজাটি অন্যগুলোর চেয়ে বড়। উত্তর ও দক্ষিণ দেয়ালে আছে ৭টি করে দরজা। মসজিদের চার কোণায় ৪টি মিনার আছে। এগুলোর নকশা গোলাকার এবং এরা উপরের দিকে সরু হয়ে গেছে। এদের কার্নিশের কাছে বলয়াকার ব্যান্ড ও চূড়ায় গোলাকার গোলাকার ব্যান্ড আছে। মিনারগুলোর উচ্চতা,ছাদের কার্নিশের চেয়ে বেশি। সামনের দুটি মিনারে প্যাঁচানো সিঁড়ি আছে এবং এখান থেকে আযান দেবার ব্যবস্থা ছিল। পশ্চিম দেয়ালে ১১ টি “মিহরাব” আছে যাতে পাথর ও টেরাকোটার কারুকার্য এবং মেঝেটি ইটের তৈরি। দেয়াল এবং “মিহরাব” গুলো সালফেট দ্বারা আক্রান্ত হয়েছিল। অধিকাংশ ক্ষতি সংস্কার করা হয়েছে। মসজিদটির অধিকাংশই টেরাকোটা এবং ইট দ্বারা সজ্জিত এবং বিশাল সংখ্যক পর্যটক আকৃষ্ট করে।


শহরটির পরিকল্পনায় ইসলামিক স্থাপত্যরীতির প্রভাব আছে; বিশেষত মসজিদের কারুকার্যে মুঘল এবং তুর্কী স্থাপত্যরীতির প্রভাব আছে। এই শহরে ৩৬০টি মসজিদ, , অসংখ্য সরকারি ভবন, গোরস্থান, সেতু, সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা এবং জলাধার ছিল। এগুলো তৈরি করা হয়েছিল পোড়ামাটি দিয়ে যেগুলো শতাব্দীর পর শতাব্দী লবণাক্ত পরিবেশ দ্বারা আক্রান্ত হয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে যখন এই ঐতিহাসিক শহরকে জঙ্গল থেকে মুক্ত করা হয় তখন এর গঠন কাঠামো পর্যবেক্ষণ করে বোঝা যায় যে এই শহরটি দুইটি অঞ্চলে উন্নয়ন হয়েছিল। মূল অঞ্চলটি হচ্ছে ষাট গম্বুজ মসজিদ এবং এর আশেপাশের এলাকা। আর এর পূর্ব দিকে অন্য অঞ্চলটি উলুঘ খান জাহানের মাজার ঘিরে অবস্থিত। দুইটি অঞ্চলের মধ্যবর্তী ব্যবধান ৬ কিমি.।

 

 

 

Facebook Comments

বাংলাদেশ সময়: ৯:৫৭ অপরাহ্ণ | রবিবার, ০১ আগস্ট ২০২১

জাপানের প্রথম অনলাইন বাংলা পত্রিকা |

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত