ঘোষণা

সাধারন মানুেষর ক্রয় ক্ষমতার বাইের চলে যাচ্ছে নিত্য পণ‌্যের দাম

বিবেকবার্তা ডেস্ক | শুক্রবার, ১১ জুন ২০২১ | পড়া হয়েছে 90 বার

সাধারন মানুেষর ক্রয় ক্ষমতার বাইের চলে যাচ্ছে নিত্য পণ‌্যের দাম

করোনা মহামারীর কারনে সাধারন মানুষরে আয় কমে গেছে বেড়েছে ব্যয়।আয়ের বেশির ভাগ টাকা খরচ হচ্ছে খাদ্যপণ্য কিনতে। ২০২১-২২ অর্থবছরের বাজেটে পণ্যের দাম কমবে এটাই ছিল সাধারন মানুষের আশা।সে মোতাবেক সরকারের পক্ষ থেকেও পণ্যের দাম বাড়ানো হয়নি। তবে বাজারে চিত্র পুরোই উল্টো।
কর আরোপ না করলেও বাজেট প্রস্তাবের কয়েক দিনের ব্যবধানে চাল-ডাল থকে শুরু করে আটা-ময়দা, পেঁয়াজ, আদা, রসুন, ডিম ও শিশুখাদ্য গুঁড়াদুধসহ ১৩টি নিত্যপণ্যের দাম রীতিমতো লাগামহীন। এমন পরিস্থিতিতে রীতিমতো মাথায় হাত নিম্ন আয়ের মানুষের। অন্যদিকে বাজেট ঘোষণার পর মুড়ি, সাবান, সিলিন্ডার গ্যাস ইত্যাদি পণ্যের দাম কমার কথা থাকলেও কোনো পণ্যের দাম কমেনি বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা।
বৃহস্পতিবার প্রকাশিত সরকারি সংস্থা ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশ (টিসিবি)’র দৈনিক বাজার মূল্য প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত এক মাসের ব্যবধানে ১৩ পণ্যের দাম বেড়েছে। মাসের ব্যবধানে প্রতি কেজি চাল সর্বোচ্চ ৩ দশমিক ৩৬ শতাংশ বেড়েছে। কেজিতে ময়দার দাম বেড়েছে ১ দশমিক ১৫ শতাংশ।
ভোজ্যতেলের মধ্যে প্রতি লিটারে বেড়েছে সর্বোচ্চ ৮ দশমিক ১১ শতাংশ। প্রতি কেজি ডালের সর্বোচ্চ দাম বাড়ানো হয়েছে ১১ দশমিক ৭৬ শতাংশ। দেশি পেঁয়াজে মাসের ব্যবধানে দাম বাড়েছে কেজিতে ১৮ দশমিক শূন্য ৭ শতাংশ। রসুন মাসের ব্যবধানে ১১ দশমিক ১১ শতাংশ বাড়তি দরে বিক্রি হচ্ছে।
আদার দাম কেজিতে বেড়েছে ১৩ দশমিক শূন্য ৪ শতাংশ, দারুচিনি ৪ দশমিক ৯৪, রুই মাছ ৯ দশমিক শূন্য ৯, গুঁড়াদুধ শূন্য দশমিক ৭৯ শতাংশ দাম বেড়েছে। এছাড়া মাসের ব্যবধানে প্রতি কেজি চিনির দাম বেড়েছে ৫ দশমিক শূন্য ৭ শতাংশ। প্রতি কেজি প্যাকেটজাত লবণের দাম বেড়েছে ৮ দশমিক ৮৮ শতাংশ। প্রতি হালি (চার পিস) ফার্মের ডিমের দাম বেড়েছে ১৫ শতাংশ।
বাজেটে নতুন করে পণ্যের ওপর কর আরোপ করা হয়নি। বরং কিছু পণ্যের দাম কমানো হয়েছে। তার পরও ক্রেতা বাজারে তার সুফল পাচ্ছে না। তাই বাজারের অসাধুদের রোধে কঠোর মনিটরিং করতে হবে।বাজার তদারকি সংস্থাগুলোকে আরও কার্যকর ভূমিকা পালন করতে হবে। সরবরাহ কমলে পণ্যের দাম স্বাভাবিকভাবেই বাড়ে। তবে ভোজ্যতেলের দিকে সরকারের বিশেষভাবে নজর দিতে হবে। কারণ এখানে বাজার সিন্ডিকেট কাজ করে। অল্প সংখ্যক লোক এই বাজার নিয়ন্ত্রণ করছে।
রাজধানীর কাওরান বাজার, মালিবাগ কাঁচাবাজার, নয়াবাজার ঘুরে ও খুচরা বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার খুচরা বাজারে প্রতি কেজি ভালো মানের মিনিকেট চাল বিক্রি হচ্ছে ৬৪-৬৫ টাকা। এই চাল বাজেটের আগে বা এক মাস আগে বিক্রি হয়েছে ৬০ থেকে ৬২ টাকা।একইভাবে প্রতি কেজি বিআর-২৮ চাল বিক্রি হচ্ছে ৫২-৫৪ টাকা, যা আগে বিক্রি হয়েছে ৪৮-৫০ টাকা। এছাড়া মোটা চালের মধ্যে স্বর্ণা জাতের চাল প্রতি কেজি বিক্রি হচ্ছে ৫০-৫১ টাকা, যা আগে বিক্রি হয়েছে ৪৫-৪৬ টাকা।
পাইকারি বাজারে পণ্যের দাম বাড়িয়েছে। যে কারণে বাড়তি দরে বিক্রি করতে হচ্ছে। তবে পাইকারি বাজারে পণ্যের সরবরাহের ঘাটতি নেই। তার পরও পাইকাররা বাড়তি দরে বিক্রি করছে। বিক্রেতারা বাজেটের অজুহাত খোঁজে।সরকার দাম না বাড়লেও সেটাই করেছে। ফলে খুচরা বাজারে বাড়তি দরেই বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছে।ভুক্তভোগী হচ্ছে সাধারন আয়ের মানুষেরা।

সৌজন্য- যুগান্তর
সম্পাদনা- রীতা আক্তার

Facebook Comments

বাংলাদেশ সময়: ৮:৪২ অপরাহ্ণ | শুক্রবার, ১১ জুন ২০২১

জাপানের প্রথম অনলাইন বাংলা পত্রিকা |

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত