ঘোষণা

আজ বিশ্ব শিশুশ্রম প্রতিরোধ দিবস

বিবেকবার্তা ডেস্ক | শনিবার, ১২ জুন ২০২১ | পড়া হয়েছে 128 বার

আজ বিশ্ব শিশুশ্রম প্রতিরোধ দিবস

শিশু শ্রম বাংলাদেশের একটি অন্যতম সমস্যা। দেশের নিম্ন বিত্ত পরিবারের বেশির ভাগ শিশু কোন না কোন ভাবে শিশু শ্রমে নিয়োজিত। ঘর থেকে বের হলে দেখা যাবে পথেঘাটে শিশুরা নানা কাজে নিয়োজিত। কেউ ফুল বিক্রি করছে, কেউ ইট ভাটায় কাজ করছে, খাবার হোটেলে কেউ কাজ কারছে এরকম নানাবিধ কাজে শিশুরা কাজ করে যাচ্ছে। আর এর প্রধান কারণ হচ্ছে দরিদ্রতা। বাংলাদেশের ৮০% লোক দরিদ্রতার শিকার। অনেক পরিবারে দেখা যায়, পরিবারে সদস্য সংখ্যা বেশি এবং উপার্জনক্ষম ব্যক্তি একজন। সেখানে সংসার চালানো খুব কষ্টসাধ্য ব্যপার। যার কারনে পরিবারে বড় থেকে শুরু করে ছোটরাও উপার্জন করতে ঘরের বাইরে বের হয়ে আসে। এই একুশ শতকে এসেও এর কোন পরিবর্তন লক্ষ করা যায় নি। নেই প্রতিকার।যার ফলে দিন দিন বেড়েই চলেছে শিশু শ্রম।
‘মুজিববর্ষের আহ্বান, শিশুশ্রমের অবসান’ এই প্রতিপাদ্য নিয়ে আজ ১২ জুন পালিত হচ্ছে বিশ্ব শিশুশ্রম প্রতিরোধ দিবস। বিশ্বের বিভিন্ন দেশের মতো বাংলাদেশও যথাযোগ্য মর্যাদায় দিবসটি পালন করছে। বাংলাদেশের শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়, আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা (আইএলও) ও ইউনিসেফসহ বেশ কয়েকটি বেসরকারি সংস্থা যৌথভাবে দিবসটি উপলক্ষে বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করেছে।
রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ তার বাণীতে বলেন, শিশুশ্রম একটি জাতীয় সমস্যা। উন্নত ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়তে হলে শিশুর সার্বিক কল্যাণ নিশ্চিত করে তাদের সুযোগ্য নাগরিক হিসেবে গড়ে তোলার কোনো বিকল্প নেই। আর সেজন্যই শিশুশ্রম নির্মূল করে বাধ্যতামূলক শিক্ষা প্রদানের মাধ্যমে শিশুর যথাযথ বিকাশ নিশ্চিত করতে হবে। বাংলাদেশ এ বছর স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী এবং জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের শততম জন্মবার্ষিকী উদযাপন করছে। তাই শিশুদের সার্বিক বিকাশ নিশ্চিত করতে যথাযথ কর্মসূচি গ্রহণ করার এখনই সময়। সরকার এসডিজি বাস্তবায়নের মাধ্যমে ২০২১ সালের মধ্যে ঝুঁকিপূর্ণ শিশুশ্রম নিরসন এবং ২০২৫ সালের মধ্যে দেশকে সকল ধরনের শিশুশ্রম হতে মুক্ত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে। সরকার শিশুশ্রম নিরসনে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে অঙ্গীকারবদ্ধ।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তার বাণীতে বলেন, আমরা দেশের ভবিষ্যৎ প্রজন্ম তথা শিশুদের শিক্ষা, নিরাপত্তা ও সুস্বাস্থ্য নিশ্চিত করতে বদ্ধপরিকর। আমাদের সরকার জাতিসংঘের শিশু অধিকার সনদ ও ঝুঁকিপূর্ণ শিশুশ্রম-বিষয়ক আইএলও কনভেনশন অনুসমর্থন করেছে। আমরা শিশুশ্রম নিরসনের লক্ষ্যে ‘জাতীয় শিশুশ্রম নিরসন নীতি-২০১০’ প্রণয়ন করেছি।

শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, প্রতিবারের মতো এবারও বাংলাদেশ গুরুত্বের সঙ্গে দিবসটি পালন করছে। দিবসটির এবারের প্রতিপাদ্য ‘মুজিববর্ষের আহ্বান, শিশু শ্রমের অবসান’। দিবসটি উপলক্ষে কয়েকটি জাতীয় পত্রিকায় বিশেষ ক্রোড়পত্র প্রকাশ করা হবে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় শিশুশ্রম-নিরসনে বিভাগীয়, জেলা ও উপজেলা কমিটিগুলোর সক্ষমতা বৃদ্ধিতে কাজ করে যাচ্ছে। এ পর্যন্ত মোট ৮টি সেক্টরকে শিশুশ্রমমুক্ত ঘোষণা করা হয়েছে। শিশুদের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ ৩৮ ধরনের কাজ চিহ্নিত করে তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে। এ তালিকা হালনাগাদ করার কার্যক্রম চলমান রয়েছে। ঝুঁকিপূর্ণ কাজে নিযুক্ত শিশুদের প্রত্যাহার করে বৃত্তিমূলক ও কারিগরি শিক্ষা প্রদান করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৭৪ সালে শিশু আইন প্রণয়ন ও প্রাথমিক শিক্ষাকে বাধ্যতামূলক করেন। বর্তমান আওয়ামী লীগ সরকার উন্নয়ন ও সুরক্ষার বিভিন্ন কার্যক্রমের সাথে জাতীয় শিশু নীতি-২০১১, শিশু আইন-২০১৩, বাল্যবিবাহ নিরোধ আইন-২০১৭ প্রণয়ন করেছে। এছাড়া জাতীয় ও আন্তর্জাতিক শিশুদিবস উদযাপন, সুবিধাবঞ্চিত পথশিশুদের পুনর্বাসন এবং বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুর বিকাশে কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।
২০১৯ সালে জাতিসংঘ ২০২১ সালকে ‘আন্তর্জাতিক শিশু শ্রম নিরসন বর্ষ’ হিসেবে ঘোষণা করে। আইএলও ১৯৯২ সালে প্রথম শিশুশ্রম প্রতিরোধ দিবস পালনের সিদ্ধান্ত নেয়। সেই অনুযায়ী ২০০২ সালের ১২ জুন থেকে আইএলও বিভিন্ন কর্মসূচির মাধ্যমে প্রতি বছর ‘শিশু শ্রম প্রতিরোধ দিবস’ হিসেবে দিনটি পালন করে আসছে।

 

সম্পাদনা -রীতা আক্তার

 

Facebook Comments

বাংলাদেশ সময়: ১২:১৫ অপরাহ্ণ | শনিবার, ১২ জুন ২০২১

জাপানের প্রথম অনলাইন বাংলা পত্রিকা |

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত