ঘোষণা

স্মৃতি হত‍্যা

| শনিবার, ১৬ মে ২০২০ | পড়া হয়েছে 30 বার

স্মৃতি হত‍্যা

আশিকুর রহমান খান
.
নাকের নোলক হারানোই আজকের দিনটা কাল করে দিলো বিদিশার।ঘরের ভিতর,বাইরে ছন্নছাড়া হয়ে খুঁজেই চলছেন তিনি।উঠানোর ঠিক ঐ দিকটার ঘর রীতিমত ঝংকার বয়ে আসছে।উঠোনের ঐ দিকের ঘরটা বিদিশার শ্বাশুড়ি ডাঃ রোদেলা পারভীনের।বিদিশার স্বামী রাতুল তাহার একমাত্র সন্তান।রাতুল সাহেব বিসিএস শিক্ষা কর্মকর্তা, স্থানীয় একটা সরকারি কলেজে ইংরেজি বিভাগের লেকচারার।
নোলক হারানো একটা সামান্য ছলনা মাত্র, ডাঃ রোদেলা পারভীন সুযোগ পেলেই বউয়ের উপর অমানবিক নির্যাতন চালিয়ে যান প্রতিনিয়ত।
রাতুল-বিদিশার বিয়ের বয়স এক বছর ছুই-ছুই।প্রতিটি মুহূর্ত চাপা কষ্ট বয়ে বেড়াতে হচ্ছে বিদিশাকে‌।গত ঈদে রাতুল সাহেবের বাবা মারা যাবার একযুগ পূর্ন হয়।
ডাঃ রোদেলা পারভীন পরিবারের সর্বসর্বা।মায়ের পরিচালনায় বড় হয়েছেন রাতুল সাহেব।তাই ভীষণ রকমের মা ভক্ত।গত রাতেও বিদিশারর সাথে এসব নিয়ে কথা হয় রাতুল সাহেবের..
-আমার বাবা গরীব,তাই বলে তোমার মা আমাকে মানুষের কাতারে রাখবে না?
আমি আর পারছি না রাতুল।
-দেখো বিদিশা,আমাদের হয়ত মা এখনো মন থেকে মেনে নিতে পারেন নাই।দেখবা তুমি আমাদের ফুটফুটে একটা সন্তান এলে সব দ্বন্দ্ব চুকে যাবে।
-তুমি তো সারাদিন কলেজ, ক্লাস নিয়েই ব‍্যাস্ত। মাস্টার সাহেব।আমার সহ্যের সীমা কবেই পার হয়ে গেছে রাতুল।
এভাবেই মান-অভিমানের হিসাব মিলাতে মিলাতে রাতুলের বুকে ঘুমিয়ে পড়ে বিদিশা।
-নবাবের বেটি কয়টা বাজে?
-মা,শরীরটা একটু খারাপ।তাই উঠতে দেরি হলো।আপনি চা টা নিন,আমি দ্রুত রান্না বসিয়ে দিচ্ছি।
চোখের কোণে এক ফোঁটা জল লুকিয়ে এভাবে বলেই চলে আসলো বিদিশা।
আচ্ছা,বাবা বড়লোক না হলে কি ভালো বউ হওয়া যায় না,বউমা ডাক শোনা যায় না?
এমন হাজারো প্রশ্নের জবাবদিহিতা নিজের সাথেই।
ডাঃ রোদেলা পারভীন অবসরে গেলেও প্রতিমাসের মোটা অংকের পেনশন তাকে অহংকারী করে তুলেছে।
বিদিশার বাবা বোরহান সাহেব তাদের তুলনায় নিন্তান্ত গরিব।একটা ঔষুধ কোম্পানির সেলসম‍্যান।
বিদিশা বড় কন‍্যা একটা পাবলিক ইউনিভার্সিটি থেকে রসায়নে স্নাতক পাশ করেছে।বিদিশার ছোট ভাই এবার ইন্টার দিবে।
বোরহান সাহেব সন্তান দুজনকে যোগ‍্য করে তোলার আপ্রাণ চেষ্টা করেছেন।
বিদিশা-রাতুল একই ইউনিভার্সিটি ক‍্যাম্পাসে পড়ত।ভাবের আদান-প্রদানের পূর্নাঙ্গ রুপ দিতে মা এর অনুমতি ছাড়াই বিদিশাকে বিয়ে করে ঘরে আনেন রাতুল।
বিদিশা ৩মাসের অন্তঃসত্ত্বা।
রাতুলের মুখের দিকে তাকিয়ে, দুজনের ভালোবাসার পুষ্প পেটে ধারন করেই শ্বাশুড়ির বাঁকা কথা অনায়াসে সহ‍্য করছে বিদিশা।
হঠাৎ ঢাকা যেতে হচ্ছে রাতুল সাহেবকে।৭দিনের আইসিটি ট্রেনিং।
ময়না পাখির মত বুলি আওড়িয়ে মা এর কাছে রেখে গেলেন বিদিশাকে‌।
ছেলের অনুপস্থিতির সুযোগ পেয়ে নির্যাতনের মাত্রা বাড়িয়ে দিলেন ডাঃ রোদেলা পারভীন।
রাতুল সাহেবের ট্রেনিং এর ৬ষ্ঠ দিন আজ।
সকাল থেকেই ডাঃ রোদেলা পারভীন বিদিশার বাবার নামে নানা বানোয়াট কথা বলে যাচ্ছেন।
সপ্তাহজুড়ে এমন মানসিক নির্যাতন বিদিশাকে আগ্রাসী করে তোলে।
৭ম দিন ভোরে বিদিশা আত্মহত্যা করে নিজের ঘরেই।
রাত ৯টায় বাসায় আসেন রাতুল সাহেব।মা আর নিজেকে আইনের হাত থেকে গুটিয়ে নিতে গর্ভধারণ জটিলতায় মারা যান বিদিশা এমন নীলনকশা একে সে যাত্রায় বেঁচে যায় রাতুল সাহেবের পরিবার।
মাস খানেকের মাথায় মা এর পছন্দ মত খালাত বোন প্রিজমকে বিয়ে করতে হয় রাতুল সাহেবের ‌। ডাঃ রোদেলা পারভীনের দূর সম্পর্কের বোনের মেয়ে প্রিজম, পড়াশোনা আমেরিকাতে।
চেহারা,বংশ মর্যাদা সব কিছুতেই প্রিজম প্রশংসার দাবিদার।
আজ রাতুল সাহেবের দ্বিতীয় বিয়ের ১বছর পূর্তি।
রাতুল সাহেব ফিসফিসিয়ে প্রিজমের কানে অনুরোধের ভঙ্গিতে বলছে,’চলো না একটু মাদার প‍্যালেস বৃদ্ধাশ্রমের দিকে যাই’
বৃদ্ধাশ্রমের ১০৩ নম্বর রুমে শুয়ে থাকা ডাঃ রোদেলা পারভীন ও নিয়ম করে প্রতিনিয়ত কল্পনা করেন তার ১ম পুত্রবধুর সেবা-যত্নের মুহূর্তগুলো।

Facebook Comments

বাংলাদেশ সময়: ৬:৪৪ অপরাহ্ণ | শনিবার, ১৬ মে ২০২০

জাপানের প্রথম অনলাইন বাংলা পত্রিকা |

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

মালতি

২৫ জুলাই ২০২০

 ফুটপাথ

৩০ জুলাই ২০২০

চন্দ্রাবলী

১৬ নভেম্বর ২০২০

বাটপার

১৩ আগস্ট ২০২০

সোনাদিঘি

১৪ জুলাই ২০২০

বিটলবণের স্বাদ

২৪ সেপ্টেম্বর ২০২০

ফেরা

১৪ মার্চ ২০২০

জোছনায় কালো ছায়া

০৪ সেপ্টেম্বর ২০২০

রূপকথা

২৬ এপ্রিল ২০২০