ঘোষণা

করোনাকালে জাপানে যেমন আছেন বাংলাদেশী প্রবাসীরা

অনলাইন ডেস্ক | সোমবার, ০৬ জুলাই ২০২০ | পড়া হয়েছে 33 বার

করোনাকালে জাপানে যেমন আছেন বাংলাদেশী প্রবাসীরা

আসিফ সরকার, জাপান থেকে : নভেল করোনা ভাইরাস বিশ্বের প্রায় ২০০ টি দেশের মধ্য হানা দিয়েছে । এসব দেশের তালিকায় রয়েছে বিশ্বের অন্যতম ধনী দেশ জাপানও। এ দেশে বাস করছে ১৭ হাজারের উপরে বাঙালি শিক্ষার্থী ও কর্মজীবী মানুষ। করোনা কালে কেমন কাটছে তাদের জীবন ধারা? দ্যা নিউ ইর্য়ক মেইলের পক্ষ থেকে মুখোমুখি হয়েছি কয়েকজন বাঙালি প্রবাসী ও শিক্ষার্থীদের।

তারা জানিয়েছেন দেশটির আইনের প্রতি শ্রদ্ধা রেখে জরুরি অবস্থা মেনে নিয়ে তারা জাপানি নাগরিকদের মতোই নিজেদের ঘরবন্দি রেখেছিলেন। এ সময়ে জরুরি কোনো প্রয়োজন ছাড়া বাসা থেকে বের হয়েছিলেন না। জীবন জীবিকার সঙ্কট দেখা দিলেও জাপান সরকারের ঘোষিত প্রণোদনার প্রতি আস্থা রেখে কর্মক্ষেত্রে যাওয়া থেকে বিরত ছিলেন। ইতিমধ্য জাপান সরকার আবে শিনজু প্রমোদনের ১০মান ইয়েন যার পরিমান বাংলাদেশী টাকায় ৮০ টাকার সমপরিমান। তাছাড়াও জাপান সরকারের পক্ষ হতে দেশী ও বিদেশীদের মধ্য যেসকল শিক্ষার্থীও কোম্পানীতে চাকরিরত এবং ব্যবসায়িকরা আর্থিক সংকটের মধ্যে ছিলেন তাদেরকে ৩ মাসের বাড়িবাড়া সহ নগদ অর্থ ঋণ প্রদান করেছেন।জাপানে পড়তে আসা শিক্ষার্থীদের কথা সরকার বিবেচনা করে যারা কাজ করতে পারে নাই তাদেরকে ১০ মান করে বাংলাদেশের ৮০ হাজার টাকার সমপরিমান প্রদান করেছেন।

বাঙালি প্রবাসী বাবুল হক দ্যা নিউ ইর্য়ক মেইলকে জানান, বিশ্ব পরিস্থিতির সঙ্গে তাল মিলিয়ে আমাদের জীবন যাপন করতে হচ্ছে। গোটা বিশ্বই এখন একটি সঙ্কটের মাঝ দিয়ে যাচ্ছে। পরিস্থিতি মেনে নিয়েই আমাদের করোনা মোকাবেলা করে যেতে হবে। স্বাস্থ্যবিধি মেনে আমরা এতদিন বাসা বাড়িতেই অবস্থান করেছিলাম। মে মাসের ২৫ তারিখ বৃহস্পতিবার সরকার জরুরি অবস্থা শিথিল করায় কর্মক্ষেত্রে ফিরে আসার সুযোগ পেয়েছি।

বিদেশী কোম্পানীতো চাকুরীরত নাছির উদ্দিন জানান, আমরা দীর্ঘদিন জাপান সরকারের নির্দেশনা মেনে বাসা বাড়িতেই অবস্থান করেছিলাম। এ সময়ে পবিত্র মাহে রমজানের বিশেষ আমল নামাজ ও কোরআন তেলাওয়াতে কাটানোর চেষ্টা করেছিলাম। সন্ধ্যায় মাঝে মাঝে পার্কেও বেড়াতে গিয়েছিলাম।জাপানে বর্তমান সময়ে করোনা ভাইরাসের আক্রান্তর হার হ্রাস পাওয়ার ফলে কোম্পানীতে কাজ করার চিন্তা করতেছি।

জাপান প্রবাসী বাংলাদেশী মো:খাইরুল ইসলাম জানান, জাপানে নোভেল করোনা ভাইরাস হানা দেবার পর গত জানুয়ারি মাস থেকে আমার তেমন কোন কাজ নেই। প্রায় বন্ধ, মাঝেমধ্যে অল্প অল্প করে একটু কাজ করি কিন্তু তাতে আমার দৈনন্দিন খরচ বহন করতে পারছি না। এতে করে আমার প্রবাস জীবন ও দেশের পারিবারিক জীবন খুব কষ্টের মধ্যে পরিচালিত হচ্ছে। যদিও জাপান সরকার জাপানের সকলের জন্য ১০ মান ইয়েন বরাদ্ধ করেছে কিন্তু আমি দরখাস্ত করেছি প্রায় দেড় মাস হয়ে গেল এখনো টাকা পাচ্ছি না । সেজন্য অর্থনৈতিকভাবে সমস্যায় আছি তবে এখানে কারো কোন হাত নেই। সবই আল্লাহ তালার তরফ থেকে পরীক্ষা।

তারপরও আলহামদুলিল্লাহ এই দেশে শতভাগ চিকিৎসা নিরাপত্তা আছে বলে আমরা দেশে তুলনামূলকভাবে ভাল আছি এই দেশে। সব জায়গায় এলকোহল এবং মাস্ক শতভাগ ব্যবহার করা হয়। সেজন্য মানসিক ভাবে আল্লাহ তায়ালা ভাল রাখছেন কিন্তু দেশের জন্য অনেক চিন্তিত। দেশে আমাদের পরিবার-পরিজন আত্মীয়-স্বজন সবাই থাকে সেজন্য দেশের মানুষকে মহান আল্লাহ তায়ালা যেন রক্ষা করেন এই কামনা ব্যক্ত করি এবং সর্বপরি আল্লাহ আমাদেরকে মাফ করুক, এই কঠিন পরিস্থিতি থেকে মুক্তি দান করুক।

জাপানে রাজনৈতিক আশ্রয়ে থাকা রনি মোদক জানান, করোনা ভাইরাসের কারণে আমাদের জাপানে নানা সমস্যায় পড়তে হয়েছে। এখানে আমাদের কোন কাজের ব্যবস্থা ছিল না। সমস্ত কোম্পানি, সকল প্রতিষ্ঠান হোটেল রেস্টুরেন্ট থেকে শুরু করে বিদেশীরা যে সকল কর্ম করে জীবন যাপন করে সমস্ত কিছু বন্ধ হয়ে যায়। বিশেষ করে জাপানীরা এমন একটা জাতি যারা এই করোনা রোগ বা যেকোন রোগের ব্যাপারে হোক যে কোনো বিষয়ে খুব সচেতন থাকে। ফলে সকল প্রকার প্রতিষ্ঠানই বন্ধ করে রাখে। এতে করে আমরা সকল প্রবাসীরাই বেকার হয়ে পড়েছি। যার কারনে আমাদের জীবন যাত্রা স্থগিত, কষ্টসাধ্য। জাপান সরকার থেকে যে অনুদান হিসাবে টাকা দিচ্ছে সেই টাকা ও রেসিডেন্স কার্ড না থাকার কারনে পাইনি। যার ফলে জাপানে আমাদের জীবন অতিবাহিত করতে অনেক কষ্ট হচ্ছে।

জাপানে ওয়ার্ল্ডোমিটারের তথ্য অনুযায়ী নভেল করোনা ভাইরাস (কোভিড-১৯) আক্রান্তর সংখ্যা এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত এসে দাঁড়ায় ১৯,২৮৪ জনে। তারমধ্যে চিকিৎসায় সুস্থ হন ১৬,৫৫৭ জন। মৃতের সংখ্যা দাঁড়ায় ৯৭৮জনে । তার মধ্যে বাংলাদেশের আক্রান্তের সংখ্যা ১৮ জন রয়েছেন। আক্রান্ত ১৮ জনের মধ্যে ১৮ জন চিকিৎসায় সুস্থ হয়ে নিজ বাসস্থানে অবস্থান করছেন।

এদিকে জাপানে নভেল করোনা ভাইরাসের আক্রান্তের সংখ্যা পূর্বের তুলনায় দিন দিন কমে এসেছে। যার ফলে জাপানে ৪৭ টি প্রদেশের মধ্যে ৪৭ প্রদেশেই জরুরি অবস্থা তুলে দেওয়া হয়েছে।

জাপানে বিগত প্রায় ২ মাস জরুরি অবস্থা জারি থাকার কারনণে বেকার হয়ে পড়েছেন জাপানে পড়তে আসা শিক্ষার্থী ও কর্মজীবিরা। যার ফলে জাপানে সবচেয়ে কষ্টে জীবন যাপন করতে হচ্ছে শিক্ষার্থীদের। ইতিমধ্যে জাপানে যারা কোম্পানীর আওতাধীন কাজ করছেন তাদেরকে কোনো কোনো কোম্পানী তাদের নিয়ম অনুযায়ী ৬০% বেতন প্রদান করছে।

Facebook Comments

বাংলাদেশ সময়: ৮:১৮ পূর্বাহ্ণ | সোমবার, ০৬ জুলাই ২০২০

জাপানের প্রথম অনলাইন বাংলা পত্রিকা |

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত