ঘোষণা

গান্ধী পরিবারের মহানুভবতার কথা ইতিহাসে থাকবে স্বর্ণাক্ষরে লেখা

| বুধবার, ২০ মে ২০২০ | পড়া হয়েছে 20 বার

গান্ধী পরিবারের মহানুভবতার কথা ইতিহাসে থাকবে স্বর্ণাক্ষরে লেখা

দিদার কচি, গুন্মা, জাপান।

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নিহত হবার পর দিল্লীর ক্ষমতা অনেকটাই পারিবারিক সূত্রে গান্ধী পরিবারের বড় ছেলে রাজীব গান্ধীর হাতে বর্তায়। রাজীব গান্ধী রাজনৈতিক পরিবারের সন্তান হলেও তিনি পেশায় তা ছিলেন না। পড়াশোনার সুবাদে বিদেশিনী বিয়ে করে ঘরসংসার করছিলেন বেশ ভালোই। হঠাৎ করেই বিরোধীদের টার্গেট হয়ে যান রাজীব গান্ধী। রাজীব গান্ধী তখন দিল্লীর ক্ষমতায়।

ক্ষমতা এমনই লোভনীয় বিষয়, যা কোন মানুষের মনে একবার বাসা বাধে তা সহজে নষ্ট হয় না। ভিতরে ভিতরে এই লোভ বড় হতেই থাকে। এই লোভকে জোড়ালো ও শক্তিশালী করতে পরিবেশ পরিস্থিতি যদি অনূকুলে থাকে তাহলে টার্গেটে পৌছতে বেগ পেতে হয় না অনেকের বেলায়। তবে এর সাথে অনেক হিংসা, সন্দেহ, ষড়যন্ত্র সহ নানা ধরনের বিষয় কাজ করে। শ্রী রাজীব গান্ধীর বেলাতেও তেমনটি ঘটেছিল।

রাজীব গান্ধীকে সড়িয়ে দিয়ে দিল্লীর ক্ষমতা অন্যের হাতে নেবার যে কুট কৌশল চালানো হচ্ছিল তা সফল করতে নলিনী নামের এক মহিলাকে কাজে লাগানো হয়। যে না এখনও জীবিত। শুধু জীবিতই নয়, এই নলিনী রাজীব গান্ধী হত্যার ষড়যন্ত্রকারীদের মধ্যে একমাত্র ধৃত এবং জীবিত আসামী। নলিনী যখন রাজীব গান্ধীর এই হত্যা কান্ডটি ঘটায় তখন সে ছিল গর্ভবতী।

জীবিত অবস্থায় নলিনী গ্রেফতার হলে পর বিটচারে তার ফাঁসির আদেশ হয়। অবাক করা হলেও সত্য যে রাজীব গান্ধীর বিদেশিনী স্ত্রী সোনিয়া গান্ধী, লিখিত আকারে খুনী নলিনী-র ফাঁসির আদেশ বদলে, যাবজ্জীবন কারাদন্ডের আবেদন জানান। যাতে নলিনী-র গর্ভের সন্তান মায়ের স্নেহ মমতা থেকে বঞ্চিত হয়ে না পড়ে।

১৮ ই অক্টোবর ২০০৮ সালে, প্রিয়াঙ্কা গান্ধী, নলিনী-র সঙ্গে দেখা করতে গিয়েছিলেন কারান্তরে। এর মধ্যে প্রায় ১৭ বছর অতিক্রান্ত। ভারতের অভ্যন্তরে এই ক্ষমতারই অনেক রদবদল হয়ে যায়। খুনী নলিনী বিষয়টি ভুলে না গেলেও কারাভ্যন্তরে সে গড়ে তুলেছিল তার মত করে নিজের জগৎ। এর মধ্যে রাজীব গান্ধির কন্যা তাঁর পিতার হত্যাকারীকে দেখতে গেলে নলিনী বেশ অবাক হয়। কারণ, নলিনী স্বপ্নেও ভাবেনি, তার সঙ্গে রাজীব গান্ধীর পরিবারের কেউ সাক্ষাত করতে যেতে পারেন এবং তার খোঁজ খবর নিতে পারেন।

প্রিয়াঙ্কা গান্ধীকে দেখে, নলিনী এতটাই অবাক হয়েছিল যে, লজ্জায় সংকুচিত হয়ে যায়। প্রিয়াঙ্কা কোথায় রাগান্বিত হবার কথা, তার বদলে নলিনী-কে বুকে জড়িয়ে ধরে জানতে চাইলেন, – আমার পিতা একজন ভালো মানুষ ছিলেন। ভীষণ শান্ত প্রকৃতির মানুষ। আমার পিতা তোমার তো কোনো রকম ক্ষতি করেন নি। তাহলে তাঁকে কেন হত্যা করতে গেলে ? তোমাদের কি এমন সমস্যা ছিলো, যা আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে সমাধান না করে তাঁকে হত্যা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলে?

কথা বলার সময় প্রিয়াঙ্কার চোখে অশ্রুধারা বইতে শুরু করে। নলিনীও তা দেখে অঝোরে কেঁদে ফেলে। এই কান্নায় বহু ক্ষোভ, বহু হিংসা
স্রোতের মতো প্রবাহিত হয়ে চলে শেষ হয়ে যায়। কাঁন্নার ফলে দুজনের মন অনেকটা হালকা এবং কোমল হয়ে উঠলো।

গান্ধী পরিবার এরপর সাফ জানিয়ে দেয়, রাজীব গান্ধীর হত্যাকারী নলিনী-কে কারাগার থেকে মুক্ত করে দিলেও, তাদের আর কোনো আপত্তি নেই। বিষয়টা আদালতে বিচারাধীন। আদালত এবং রাজ্য সরকার যে সিদ্ধান্ত নেবে, সেটাই কার্যকর হবে। এবং তাই হলো। ঘৃণা, হিংসা, বিদ্বেষ, এগুলোর স্থায়িত্ব ক্ষনিকের। কিন্তু প্রেম, প্রীতি, ভালোবাসা, এগুলো আদি এবং অনন্তকাল মানুষের হৃদয়ে গেঁথে থাকে।

ক্ষমা হলো, পৃথিবীর সর্বোত্তম উপহার। কেবলমাত্র মহান হলেই মানুষ পারেন, শক্রুকে ক্ষমা করতে। এমন ঘটনা পৃথিবীতে আগেও আরো ঘটেছে। যেসকল ঘটনা ইতিহাসের পাতায় সোনার অক্ষরে লেখা রয়েছে। গান্ধী পরিবারের এই ঘটনাও উল্লেখ থাকবে।

আমরা সকলেই চলে যাবো পৃথিবীর মায়া ছেড়ে। কিন্তু এআমাদের পরবর্তী জেনারেশনের হৃদয়ে অমর হয়ে যুগযুগ ধরে থাকবে মহান ব্যক্তিদের মহানুভবতার কথা। এবং কেবল এই ক্ষমাশীলতার কারনেই।

 

দিদার কচি, গুন্মা, জাপান।
তথ্যসূত্রঃ দ্য কুইন্ট পোর্টাল থেকে নেয়া।

Facebook Comments

বাংলাদেশ সময়: ১২:১৫ পূর্বাহ্ণ | বুধবার, ২০ মে ২০২০

জাপানের প্রথম অনলাইন বাংলা পত্রিকা |

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত