ঘোষণা

বাংলাদেশ ছিলো এমাজউদ্দিন স্যারের আশা ও আনন্দ

কাদের গনি চৌধুরী | শনিবার, ১৮ জুলাই ২০২০ | পড়া হয়েছে 66 বার

বাংলাদেশ ছিলো এমাজউদ্দিন স্যারের আশা ও আনন্দ

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভিসি ও আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন রাষ্ট্রবিজ্ঞানী অধ্যাপক ড. এমাজউদ্দীন আহমদ আর নেই। তিনি শুক্রবার ভোরে ইন্তেকাল করেছেন। ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন। তার বয়স হয়েছিল ৮৭ বছর। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে স্যারকে পেয়েছিলাম শিক্ষক ও অভিভাবক হিসেবে। স্যারের বাসায় কতো খেয়েছি তার হিসেব- নিকেশ নেই। বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রাবস্থায় সাংবাদিকতায় যোগ দেওয়ায় স্যারের সাথে ঘনিষ্ঠতা বেড়ে যায় আমার। অভিভাবকত্ব কতোটা দায়িত্বশীল হতে পারে, তাকে না দেখলে আমরা জানতেই পারতাম না। জ্ঞান ও প্রজ্ঞার সাথে তার মধ্যে মিলেমিশে একাকার ছিলো পিতার হৃদয়। বিনয় ও কোমলতার মিলিত জোছনা তাকে দিয়েছিল অতল গভীরতার স্নিগ্ধতা। সংকটে তিনি ছিলেন সকলের আশ্রয়,আশ্বাস। ওয়ান-ইলাভেনের সময় দুই নেত্রীর মুক্তির জন্য তিনি ছিলেন সোচ্চার। সে সময় শুধু লেখনির মাধ্যমেই নয়, তিনি সভা, সেমিনার ও সিম্পোজিয়ামে যোগ দিয়ে দুই নেত্রীর মুক্তির পাশাপাশি অনির্বাচিত সরকারের বিরুদ্ধেও প্রতিবাদ করেছেন সাহসিকতার সঙ্গে।

সংকটে তিনি ছিলেন সকলের আশ্রয়, আশ্বাস। তার আত্মার পরতে পরতে মিশে ছিলো এক পাললিক মানচিত্র, বাংলাদেশ ছিলো তার আশা ও আনন্দ। বাংলাদেশের সংকট যেন তার ব্যক্তিগত সংকটের অন্য নাম। দেশের স্বার্থই যেন ছিলো তার কাছে ব্যক্তি স্বার্থের পরিপূরক। তাই তো জাতির প্রতিটি সংকটে তিনি এগিয়ে এসেছেন অত্যন্ত সাহসিকতার সঙ্গে। এবার দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে গ্রেপ্তারের পর বুদ্ধিজীবীদের মধ্যে সবচেয়ে সোচ্চার ছিলেন তিনি। প্রতিবাদ জানিয়েছেন এ গ্রেফতারের। স্যারের স্নেহ-ভালবাসা কোন দিন ভুলতে পারবো না। স্যারের মহাপ্রস্থানের সংবাদে হৃদয়টা আজ ক্ষত-বিক্ষত। এমাজউদ্দীন আহমদ ১৯৩৩ সালের ১৫ ডিসেম্বর তৎকালীন ব্রিটিশ ভারতের অধিভুক্ত মালদা জেলায় জন্মগ্রহণ করেন। ১৯৯২ থেকে ১৯৯৬ সাল পর্যন্ত তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ২১তম ভিসি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। শিক্ষাক্ষেত্রে অনবদ্য অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে বাংলাদেশ সরকার ১৯৯২ সালে একুশে পদকে তাকে ভূষিত করে। সৃষ্টিশীল গবেষণা ও আলেখ্য রচনার জন্য ‘মহাকাল কৃষ্টি চিন্তা সংঘ স্বর্ণপদক’, জাতীয় সাহিত্য সংসদ স্বর্ণপদক, জিয়া সাংস্কৃতিক স্বর্ণপদক অর্জন করেন। এছাড়া তিনি মাইকেল মধুসুদন দত্ত গোল্ড মডেল, শেরে বাংলা স্মৃতি স্বর্ণপদক, ঢাকা সামাজিক এবং সাংস্কৃতিক স্বর্ণপদক, বাংলাদেশ যুব ফ্রন্ট গোল্ড মেডেল, রাজশাহী বিভাগীয় উন্নয়ন ফোরাম স্বর্ণপদকসহ জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ের বহু পুরস্কার-সম্মাননা অর্জন করেন।

Facebook Comments

বাংলাদেশ সময়: ৩:৩৪ অপরাহ্ণ | শনিবার, ১৮ জুলাই ২০২০

জাপানের প্রথম অনলাইন বাংলা পত্রিকা |

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত