ঘোষণা

তাসমিরা ইসলাম আর্নি’র তিন কবিতা

অনলাইন ডেস্ক | সোমবার, ০৩ আগস্ট ২০২০ | পড়া হয়েছে 58 বার

তাসমিরা ইসলাম আর্নি’র তিন কবিতা

তালাকনামা

শকুনের মতো পৃথিবী ছিঁড়ে খেয়েছিস তুই
সবুজ ডানা মেলতে পারিনি ছুরিকাঘাতের গ্রাসে
রৌদ্রের উচ্ছ্বাস হারিয়ে ফেলেছি অন্ধকারের গর্জনে-
তোর দিগন্ত-প্লাবিত অত্যাচার কেড়ে নিয়েছে সব,
মুখ থুবরে পড়ে ছিল অসংখ্য মৃত রাত
তোর ঠোঁটে লিখে দিলাম ‘এক তালাক’।
জীবনের পেয়ালায় আঁধো হয়ে শুয়ে ছিল পৌষের নিরব আঁধার
পাতাঝরা ভোরে থোকা হয়ে ফুঁটে ছিল বিষাক্ত প্রেম; তাতে ধুতুরার স্বাদ।
হেমন্তের হিম ঘাসের শিয়রে ছিল যে শকুন
তার চোখ দেখেছি, জ্বলেছিলো সাঁজদীপের অগ্নিশিখা;
আমার লাশের বুকে পা রেখে বাঁকাপথের ঘাটে, আত্নার চিৎকারে মৃত্যু দিলো ডাক
তোর চোখে লিখে দিলাম ‘দুই তালাক’।

মরণশিয়রে মাথা পেতে বসে ছিলাম, মরিচা লেগেছিলো প্রাণে
মৃত চোখে বসে ছিল মরা ভ্রমর বিলুপ্ত হয়েছি জগতের ‘পরে-
শুকনো কাঠ আসবাবের মতো সাজিয়ে রাখা ছিল হৃদয়ে,
কোনোদিন দেখিনি নিরবতার মুখ; বুকের নগরে আগুন জ্বলতেই নুয়ে পড়েছিলো একটিবার!
ভেঙ্গেচুড়ে গেলো ধূসর প্রাসাদ-ফাল্গুণী চাঁদ; হারিয়ে গেলো রক্তিম নগ্ন নির্জন রোদের হাত।
হাওয়ার বুক থেকে ছিঁটকে এলো ঝড়ের মতো আঘাত
তোর কপালে লিখে দিলাম ‘তিন তালাক।

*

ঘরের মতো ঘর
কেউ একজন থাকতো হাত ধরার মতো
আমার নামখানা ঠোঁটে ছুঁয়ে রাখতো
চোখের কার্নিশে স্মৃতির মতো থাকতো
বুকপকেটে যত্ন করে চিঠির খামে লিখতো।
আত্মীয়তার করুণতা অনেক তো দেখলাম
কেউ একজন থাকতো; আত্মায় জড়িয়ে নিতো
উষ্ণ বুকের স্নিগ্ধ ছোঁয়ায় ঘুম পাড়ানি গানের সুরে
মোহন-বাঁশি চাঁদের আলোয় জোনাক রঙের মতো।
আমার হাসির দিকে চেয়ে কান্না ভুলে যেতো
স্বপ্ন জুড়ে থাকতে সে ঘুম হারিয়ে রাতের
অচেনা-যেন চেনা নতুন পথে যেতো,
ছোট কুটির ঘরের তরে রাজপ্রাসাদের মায়াও ছেড়ে
দু’বাহুতে জড়িয়ে সকল ক্লান্তি ভুলে যেতো।
সকল ভুলের মালা গেঁথে খোপায় নিয়ে
কান্নার জল ঠোঁটে ছুঁয়ে বুকে আগলে নিতো।

কেউ একজন থাকতো; আত্মায় জড়িয়ে নিতো।
তুলোর মতো আশা নিয়ে ঘাসের বুকে বসে
কাকে ডেকে চেয়ে থাকি, কে জানে কে তাকে?
রাতের সামনে মাথা নুয়ে হাতের ধুলো মুছি
ঘরের দরজা খুঁজতে গিয়ে সে বাড়িতেই ফিরি।
কষ্টের গায়ে কেউ খুশির আলো লেপ্টে দিতো-
কেউ একজন থাকতো; আত্মায় জড়িয়ে নিতো।

*

এক পৌষের সোমবার
হৃদয় যখন পৌঢ়ত্বে ঠিক, টুপ করে আপনাকে ভালোবেসে ফেলেছি
পদ্ম পাতায় জল রেখে ভুলে যাই খোপার ফুল
অবসরে আপনাকে ভাবতে বসে ভোরের সংসারভরা কতোশতো ভুল।
দাদাকে আমি পৌষের সাতের কথা বলেছি,
সাপ্তাহিক বার আমার মনে রাখতে না পারায় ঠিকঠাক কোনো কাজই রূপায়িত হয় না,
লোকোমুখে সোমবারের কথা শুনলে শুধু দু’দণ্ড থমকে দাঁড়াই।
আমাদের প্রথম দেখায় ফ্রয়েডের শব্দ নিয়েছিলো নতুন মোড়
ঘাসের ভিতরে ফিরোজা রঙা নিয়তি শাড়ি জড়িয়ে সশরীরে
হৃদয়ের বিশ্বাসে মাছরাঙা পাখি ডানা ঝাপটালে
আপনাকে আসনে বসিয়েছি সেতারার সুরে বালুকার চরে।

আপনাকে দেখেছে জ্যোৎস্না, পেয়ালার চা, আঙুলের আগুন
আঙুল ছোঁয়ায় আমি অন্ধকার অতীত পেছনে রেখে হেঁটেছি;
দ্বীপশিখা জ্বেলে বসেছি অন্তহীন অপেক্ষায়
জন্মান্তরের সাঁকো পেরিয়েই দেখা হলো আবার।
শীতের সন্ধ্যা, অচেনা পথ, শহর, সময়ের স্রোত
শুভ্রতার কাটাতার পেঁচিয়ে নিয়েছি হৃদয়ে, নরম ব্যাথা
সূর্য নেই, আলো নেই, দেখা নেই
ফের আপনার স্তব্ধতায় পটচিত্র আঁকা।

আপনাকে যদি পাই
নদীর স্রোত হবো, ইতিহাস হবো, প্রেমিকা এমনকি নারী হবো।
কোনো উৎসবের মতো আপনি সাপ্তাহিক কোনো বারে হারিয়ে যাবেন না,
খুঁজে পেতে জন্মান্তর হয়ে যাবে

সূত্র : ডেইলি বাংলাদেশ

Facebook Comments

বাংলাদেশ সময়: ৫:০৫ অপরাহ্ণ | সোমবার, ০৩ আগস্ট ২০২০

জাপানের প্রথম অনলাইন বাংলা পত্রিকা |

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত