ঘোষণা

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের দর্শনচিন্তা

| মঙ্গলবার, ১৬ জুন ২০২০ | পড়া হয়েছে 23 বার

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের দর্শনচিন্তা

নয়ন যোসেফ গমেজ, সিএসসি

পৃথিবীর ইতিহাসে অবিরাম কালের প্রবাহে দর্শন মাত্রই সত্যকে জানা। আর দার্শনিক মানেই সত্য অন্বেষী। তাই সত্যের আরাধনাই দর্শনের প্রাণ। বিশ^কবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কাছে ‘সত্য’ কোন শাস্ত্রীয় ভাষ্য বা যুক্তির মাধ্যমে প্রতিষ্ঠিত কোনো বিষয় নয়। একজন শিল্পী ও কবি হিসেবে তাঁর কাছে সত্য হলো অনুভূতি সঞ্জাত, সত্য সূর্যের মতই স্ব-প্রকাশ, সত্য আকস্মাৎ ধরা দেয়। তিনি সত্যকে দেখেছেন মুক্ত দৃষ্টিতে, অন্তরালোক দিয়ে। একজন দার্শনিকের সঙ্গে একজন কবির দৃষ্টিভঙ্গির পার্থক্য এইখানেই। দার্শনিক ‘সত্য’ অনুুসন্ধান করেন বিচারমার্গ অবলম্বন করে। তাঁর প্রধান হাতিয়ার যুক্তি ও বিচার বিশ্লেষণ আর কবি সত্যকে জানেন অনুভূতি মার্গের সাহায্যে। এখানে ‘জানা’ হলো দেখা, অপরোক্ষ অনুভূতি। আরেকটু বাড়িয়ে বললে, সত্যকে দেখা মানে সত্য হওয়া। এই পদ্ধতিতে জ্ঞাতা (যিনি জানেন) ও জ্ঞেয় (যা জনেন) অভিন্ন হয়ে যায়। এই দুইয়ের মাঝে কোন পার্থক্য থাকে না। কিন্তু দার্শনিক যখন কোন বস্তুকে জানেন তখন ‘জ্ঞাতা ও জ্ঞেয়’ বস্তুর মাঝে স্পষ্ট পার্থক্য থাকে। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের সমগ্র চিন্তাধারার মূল হল মানুষ। তাই রবীন্দ্র-দর্শন এক কথায় মানুষেরই পর্যালোচনা। রবীন্দ্র দর্শনে সত্ত্বা হচ্ছে মানবিক সত্য, ধর্ম হচ্ছে মানুষের ধর্ম, আর জগত মানুষের আবাসভূমি। অন্যভাবে বলা যায়, মানুষকে বাদ দিয়ে সত্য, ধর্ম ও বিশ^জগত কোন কিছুরই অস্তিত্ব নেই।
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের মতে, প্রেমের সাহায্য ছাড়া জগত ও জীবনের স্বরূপ কখনোই উপলদ্ধি করা যায় না। অনুসন্ধিৎসু জ্ঞান ও বিচার-বিশ্লেষণে আমরা যা পাই তা কতকগুলো তথ্য ছাড়া আর কিছুই নয়। জাগতিক সত্য আর মানুষের আত্মিক সত্য -এই দুই সত্যকে রবীন্দ্রনাথ সমন্বিত করেছেন তাঁর জ্যোতি-তত্ত্ব’র মাধ্যমে। তিনি বিশ^াস করেন, জড় ও চৈতন্য এই দুটি মহাজ্যোতির ভিন্ন প্রকাশ মাত্র। এই জগতে আমরা দু’টি ব্যাপার দেখতে পাই। একটি হল কাজের প্রকাশ ও অপরটি হল ভাবের প্রকাশ। কাজের ভিতর দিয়ে যা প্রকাশিত হচ্ছে তা সমগ্রভাবে আমরা উপলদ্ধি করতে পারি না। কেননা মননবৃত্তির সাহায্যে আমরা কাজের জ্ঞান আহরণ করে থাকি। অন্যদিকে ভাবের প্রকাশ ঘটে অপরোক্ষ অনুভূতির মাধ্যমে। বাইরের কোন শক্তি এই প্রকাশের ক্ষেত্রে বাঁধা দিতে পারে না। একমাত্র প্রেমের দ্বারাই ভাবের জগতের প্রকাশ ঘটে। রবীন্দ্রনাথ বলেন, অনুভূতি মার্গ অবলম্বন করে সত্যকে পাওয়া যায়। ভাবের জগতে সত্য প্রেমের বন্ধনে ধরা দেবার জন্য উৎসুক হয়ে বসে আছে। আমি আমাকে কেন ভালোবসি, আমি অন্যকে কেন ভালবাসি, আমি জগতকে কেন ভালবাসি তা অনুভূতিতেই প্রকাশ পায়। আমর অনুভূতি যখন অন্যের মধ্যে পাই তখন জিজ্ঞাসা করার প্রয়োজন পড়ে না কেন ভালবাসি । ভাবের জগতে এভাবে সত্য উদ্ভাসিত হয়। তিনি মনে করেন, জগতের বহু বিচিত্র রূপের মধ্যে ‘এক’ রিবাজমান। আর এই উপলব্ধিই মানুষকে অমৃতলোকের সন্ধান দিতে পারে। বহুর মধ্যে অন্তনির্হিত সেই ‘এক’কে না পেলে মনে শান্তি আসে না, পরম আনন্দও পাওয়া যায় না। বিশ^জগতের মধ্যে ‘এক’ অপ্রমাণিত ধ্রুবসত্য রয়েছেন। যিনি পরম সত্ত্বা; যিনি নিজেকে সবর্ত্র বিস্তৃত ক’রে রেখেছেন। তাই বিশেষ কোন স্থানে তাঁর অন্বেষণ করলেই যে তাঁকে পাওয়া যাবে তা নয় বরং তিনি জগতের সকল স্থানে, সকল কালে ও সকল কাজে সমরূপে বিদ্যমান। পরম সত্ত্বা সর্বব্যাপী অনুভবের বিষয়। মানুষের সঙ্গে পরম সত্ত্বার সম্পর্কও অনুভবের বিষয়। রবীন্দ্রনাথের দর্শন চিন্তায় এভাবে বিভিন্ন বিষয়ের গভীর বিশ্লেষণপূর্ণ আলোচনা লক্ষ্য করা যায়। তবে সবকিছুর পরও রবীন্দ্রনাথের দর্শনচিন্তায় মানুষই মুখ্য। তিনি বলেন, জগতের সঙ্গে মানুষের সম্পর্ক প্রেমের সম্পর্ক।
জীবনদর্শন: রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জীবনদর্শনের মূল সত্যটি বলতে গেলে এভাবে বলতে হয়, উপনিষদের যে বাণী, রবীন্দ্রনাথ আপন জীবনে সেই বাণীকেই পরম সত্য বলে গ্রহন করেছেন। এই সত্য ত্যাগের দ্বারা অলংকৃত, ভোগের দ্বারা খন্ডিত নয়। জীবনের পরম বিশ^াসের দ্বারা এই সত্য মানুষকে পরিচালিত করে, অবিশ^াসের দ্বারা নয়। রবীন্দ্রনাথের সমগ্র চিন্তাধারা তাঁর জীবনবোধ দ্বারা নিয়ন্ত্রিত। এই জীবনবোধই তাঁর জীবনদর্শন। শংকরাচার্যের দার্শনিক মতবাদ অনুযায়ী তিনি ঈশ^রকে নির্গুণ সত্ত্বা হিসাবে দেখেননি। বিশে^র নানা বৈচিত্র্যের মাঝে তিনি ঈশ^রকে উপলদ্ধি করেছেন। বিশ^ প্রকৃতির অপরূপ সৌন্দর্যকে তিনি নিজের জীবনে যখন উপলদ্ধি করেছেন তখন তিনি এর মাঝে জীবনদেবতা ঈশ^রের লীলাকেই প্রত্যক্ষ করেছেন। তিনি ঈশ^রকে দেখেছেন এইভাবে, ঈশ^র নিজেকে বিশে^র নানা ধর্মে প্রকাশ করেছেন। তিনি ‘ঈশ^র’ ব’লে যাকে দেখেছেন, তিনি বিশে^র সমগ্র সৃষ্টির মাঝে বিচিত্ররূপে প্রকাশমান। রবীন্দ্রনাথ প্রকৃতির অপূর্ব বৈচিত্রের মাঝে, সৌন্দর্যের মাঝে ঈশ^রের সন্ধান পেয়েছিলেন। তবে একমাত্র প্রকৃতির সৌন্দর্যের মাঝেই ঈশ^র প্রকাশিত নন। তিনি ঈশ^রের প্রকাশকে উপনিষদে তিন ভাগে ভাগ করে দেখিয়েছেন। একটির প্রকাশ জগতের মাঝে, একটির প্রকাশ মানব সমাজে এবং অন্যটির প্রকাশ মানব আত্মায়। যথা- শান্ত, শিবং (মঙ্গল) এবং অদ্বৈতং (একতা)। এজন্য রবীন্দ্রনাথ বলেন, চাঞ্চল্যের মধ্যে শান্তি, দুঃখ-কষ্টের মাঝেই সফলতা এবং বিভেদের মধ্যেই প্রেম। এই তিনের দ্বারাই নিয়ন্ত্রিত মানব জীবন। অর্থাৎ শান্ত, শিবং ও অদ্বৈতং জগতের মাঝে ঈশ^রের প্রকাশ। রবীন্দ্রনাথের জীবন-দর্শনের আরেকটি বিশেষ দিক হলো মানুষের অহংবোধ (আমিত্ব)। অহংবোধ ছড়িয়ে আছে দেশ-দেশান্তরে এবং যুগ-যুগান্তরে। অহংবোধের খেলা চলছে সৃষ্টির প্রথম থেকেই; চলবে প্রলয়ের পূর্বমূহুর্ত পযর্ন্ত। অহংবোধের এই সর্বব্যাপী বিস্তার রবীন্দ্রনাথের জীবনদর্শনের প্রেরণা। এজন্যই তাঁর চেতনা বিশ^চেতনার সঙ্গে মালাবদল করেছে, একাত্ম হয়েছে।
ধর্মদর্শন: জগত সংসারে প্রতিটি বস্তুই স্বতন্ত্র। প্রত্যেক বস্তুর একটা নিজস্ব রূপ-স্বরূপ আছে। বস্তু মাত্রই কতকগুলো গুণ বা ধর্মের সমাবেশ। যেমন সূর্যের ধর্ম তাপ দেয়া, জলের ধর্ম তৃষ্ণা নিবারণ করা। আগুন আছে অথচ পোড়ায় না, এটা সম্ভব নয়। অন্যান্য বস্তুর মত মানুষেরও একটা ধর্ম আছে। এই ধর্ম না থাকলে মানুষকে মানুষ বলা যাবে না। আহার, নিন্দ্রা, ভয়, মৈথুন এই চারটি বিষয়ে মানুষ ও পশুতে কোন তফাৎ নেই । তবুও মানুষকে মানুষ বলা হয় এই জন্য যে, তার একটা ধর্ম আছে; যার নাম হলো মানব ধর্ম। রবীন্দ্রনাথের জীবনের লক্ষ্য ছিলো মনুষ্যত্বের সাধনা। এই সাধনা দেশ কাল বা কোন ধর্র্মীয় গণ্ডিতে সীমাবদ্ধ নয়। রবীন্দ্রনাথ তাঁর ‘মানুষের ধর্ম’ গ্রন্থে মানুষের জীবন সাধনার কথাই তুলে ধরেছেন। তিনি বলেছেন মানুষের একটা দিক আছে যেখানে বিষয়বুদ্ধি নিয়ে সে সর্বদা আপন সিদ্ধি খোঁজে। তবে মানুষের আর একটা দিক আছে, যা এই ব্যক্তিগত বৈষিয়িকতার বাইরে। তিনি একেই মানুষের ধর্ম বলে অভিহিত করেছেন। যা মানুষকে ত্যাগ ও তপস্যার দিকে নিয়ে যায় তাই মনুষ্যত্ব, তাই মানুষের ধর্ম। মানুষের হৃদয়ে বিশ্বমানবের সঙ্গে একাত্ম হওয়ার একটা আর্তি আছে। আর সকল মানুষের মধ্যে এই আর্তি জাগিয়ে তোলাই মনুষ্যত্বের সাধনা। নিজের অন্তরআত্মার সঙ্গে বিশ্ব মানুষের অন্তরআত্মার একাত্মাবোধের বাসনা চিরন্তন, মানুষের এই বাসনা বিশ্বমানবধর্মে দীক্ষিত হওয়ার বাসনা। রবীন্দ্র দর্শনে এটাই মানব ধর্মের বিশেষ দিক।
বিশ্বে মনুষ্যত্বের সঙ্গে পশুত্বের দ্বন্দ্ব যুগ যুগ ধরে অব্যাহত রয়েছে। পশু টানছে পশুত্বের দিকে, আদিমতার দিকে। তাই মানুষকে তার মনুষ্যত্ব বাচাঁনোর চেষ্টা অবিরাম অবব্যাহত রাখতে হচ্ছে। এই মনুষ্যত্ব বাচাঁনোর দ্বন্দ্ব মানব ধর্মের সঙ্গে পশুধর্মের দ্বন্দ্ব অর্থাৎ আদর্শের সঙ্গে বাস্তবের। মানুষের সারা জীবনের সাধনাই হচ্ছে মনুষ্যেত্বের সাধনা। ‘মানুষের ধমর্’ গ্রন্থে রবীন্দ্রনাথ ‘ধর্মের’ ব্যাখা দিয়েছেন। যে ধর্ম মানুষ হয়ে মানুষকে লাঞ্চিত করে, তিনি তাকে ধিক্কার জানিয়েছেন। তাই ধর্মকে রাজনীতির সঙ্গে জড়িয়ে ফেলাকে তিনি কোনভাবে সমর্থন করেনি। ১৯৩১ খ্রীষ্টাব্দের ১২ই এপ্রিল হেমন্তবালা দেবীকে এক চিঠিতে তিনি লিখেছিলেন, ‘যেখানে ধর্মের নামে স্পষ্টই অন্যায়-অত্যাচার এবং অধর্ম চলছে তা কোন কারণেই আমি স্বীকার করে নিতে পারিনি। ভগবান, তিনি মানুষের সঙ্গেই বাস করেন।’ ধর্মের নামে অন্ধতা, পাপকে তিনি দৃঢ়ভাবে প্রত্যাখান করেছেন। তিনি মানুষের ধর্মবোধ ও নীতিবোধের মধ্যে এক সুন্দর সম্বন্বয় সাধন করেছেন। ব্যক্তিস্বার্থ ও গণস্বার্থের সংঘাতই নৈতিক জীবনের মূল সমস্যা। রবীন্দ্রনাথ মানবধর্ম আলোচনার মধ্য দিয়ে এ সমস্যার সমাধান করেছেন। তাঁর মতে, বিশ্বজনীন স্বার্থে আত্মনিয়োগ করে মানুষ ক্ষুদ্র ব্যক্তিস্বার্থ থেকে মুক্ত হয়ে সমগ্র মানব সমাজের মহত্তর কল্যাণে নিজেকে নিয়োজিত করতে পারে।
প্রকৃতি দর্শন: রবীন্দ্রনাথের প্রকৃতি দর্শনের ভিত্তি হচ্ছে সর্বেশ^রবাদ। তাঁর উপলব্ধি হচ্ছে, যে শক্তি এই বিশে^র মধ্যে লীলা করছেন তিনি সর্বত্রই বিরাজমান। তিনি সকল দেশ, সকল কাল, সকল মন, সকল বস্তু পরিব্যাপ্ত করে রয়েছেন। বাইরে যে বৈচিত্র্যপূর্ণ সমাবেশ প্রতিনিয়তই আমাদের ইদ্রিয়গোচর হয়, তাও একই সত্ত্বার বহুরূপে প্রকাশ। তিনি বলেন-“জগতের মাঝে কত বিচিত্র তুমি হে, তুমি বিচিত্ররূপিনী।” রবীন্দ্রনাথের মতে, “বিশ^জগতের মধ্যে যে প্রেমের ধ্রুব বহিয়াছেন তিনি এভাবে কোথাও প্রতিভাত নহেন-মনই ‘এক’কে দেখে, সেই ‘এক’কে প্রার্থনা করে, সে ‘এক’কে আশ্রয় করে আপনাকে চরিতার্থ করে। নানা বস্তুর মধ্যে সে ‘এক’কে না পাইলে মনের সুখ, শান্তি, মঙ্গল নাই।” তিনি বলেন যে, পরম সত্ত্বার কোন বিশেষ রূপ নেই । তিনি জগতের সকল রূপের মাঝেই বিদ্যমান; তিনি অপরূপ। এক্ষেত্রে বিশেষ কোন স্থানে তাকে খুজঁতে গেলে আমরা তাকে পাব না। পক্ষান্তরে বিশে^র ইন্দ্রিয়গোচর যে বর্ণ-বৈচিত্রময় রূপ তা তার আড়ালেই রয়ে গেছে। স্থান ও কালের এই জগতে তাঁর প্রকাশ খুঁজতে হলে তার মধ্যেই তাঁকে আমাদের খুজঁতে হবে, উপলব্ধি করতে হবে। আপাত দৃষ্টিতে যাকে মৃত্যু বলে মনে হয় তা চোখে দেখার ভুল, তা আদৌ মৃত্যু নয়। তিনি মৃত্যুর বিনাশকে আদৌ বিনাশ বলে স্বীকার করতে রাজি নন। তিনি বলেন মৃত্যু তা তো পরিবর্তন মাত্র। তাঁর চিন্তায় দেখি, বিশে^র রূপ প্রতিনিয়িতই বদলায় কিন্তু উপাদান চিরকাল এক থেকে যায়।
সমাজ দর্শন: সমাজের মানুষকে শিক্ষিত করার জন্যে তিনি আপ্রাণ চেষ্টা করেন। এজন্য তিনি ‘বিশ^-ভারতী বিশ^বিদ্যালয়’ গড়ে তুলেছিলেন। সমাজ, রাজনীতি, অর্থনীতি, সাহিত্য সবকিছুর ব্যাপারে তাঁর ছিলো অতি স্বচ্ছ ধারণা এবং তিনি এসব ব্যাপারে তাঁর মতামত ব্যক্ত করতেন। তাঁর চিন্তা ধারার মধ্যে সমাজের বিভিন্ন বিষয়ের প্রতিচ্ছবি ফুটে উঠেছে। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের মধ্যে পাশ্চাত্য চিন্তাধারা ব্যাপক ভাবে প্রভাব ফেলেছিলো। তিনি মনে করতেন, যদি জনগণকে নিজস্ব জাতীয়বাদের চেতনায় উদ্বুদ্ধ করা যায়, তাহলে কোন শক্তি ভারতীয় জাতিকে অবরুদ্ধ বা পরাজিত করে রাখতে পারবে না। পৃথিবীর যেকোন জায়গার যেকোন ধরনের নির্যাতনের বিরোধী ছিলেন তিনি। জীবনের প্রথম দিকে তিনি আমেরিকানদের প্রশংসা করতেন কিন্তু পরবর্তীতে বিভিন্ন জায়গায় তথা রাশিয়া ও অন্যত্র আমেরিকানদের নির্যাতনের কারণে তাদের তীব্র নিন্দা করেন। তিনি সকল প্রকার অত্যাচার ও নির্যাতনের বিরোধী ছিলেন। তাঁর মতে, এগুলো আসে আত্মীয়তার কারণে। আত্মীয়তার বিরোধ-ই মূলত সবচেয়ে বড় বিরোধ। অন্যথায় কেবল মুক্তি ও সাম্যের আবহাওয়াতেই মানুষ তার পূর্ণ আয়তনে বেড়ে উঠতে পারে। তার বিকাশের বড় বাধা হলো রাজনৈতিক আধিপত্য, অর্থনৈতিক শোষণ এবং সামাজিক অত্যাচার। কাজেই সেগুলো সরিয়ে ফেলতে হবে। সামাজিক ন্যায় বিচার শুধু ভারতীদের জন্য নয় বরং বিশে^র সকল মানুষের জন্য তিনি কামনা করতেন। তিনি ব্রিটিশদের দম্ভ ও ভারতীয়দের দাস্যবৃত্তিকে তীক্ষè ভাষায় ধিক্কার দিয়েছিলেন। রবীন্দ্রনাথ বলেন, ভারতবর্ষ পরের কাছে অধিকার ভিক্ষার কাজে ব্যস্ত ছিল। তিনি সবসময় একটি কথা বোঝাবার চেষ্টা করেন যে, মানুষকে অধিকার চেয়ে নিতে হবে না, অধিকার সৃষ্টি করতে হবে। বাইরের লাভে অন্তরের লোকসান ঘটে। রবীন্দ্রনাথ তাঁর ‘শতকের সূর্য্য আজি’ কবিতায় জাতি-প্রেমের নগ্ন আবেগের ধিক্কার দিয়েছেন। জাতাভিমানের অনুচিত উল্লাস সম্পর্কে তিনি ভারতবর্ষকে সাবধান করে দিয়ে বলেছিলেন যে, যতক্ষণ আত্মার স্বাধীনতা আছে ততক্ষণ সারল্য ও বিনয়ে কোন লজ্জা নেই ।
জীবন-দেবতা বা ঈশ^র দর্শন: রবীন্দ্রনাথ পরিষ্কার বলেছেন যে, ধর্মে আমরা যে ঈশ্বরের পূজা করি, যে দেবতাকে চাই, তিনি নির্গুণ ব্রহ্মা কিংবা জগতের বাইরে অবস্থিত কোনো অতিন্দ্রীয় সত্ত্বা নন। তাঁকে সর্বভূতে প্রত্যক্ষ করা যায়, প্রকৃতি জগতেই পাওয়া যায়। জীবনদেবতাকে নিছক জ্ঞান বুদ্ধি দিয়ে জানা যায় না, হৃদয় দিয়ে ভক্তি, প্রীতি ও কর্ম দিয়ে পেতে হয়। তিনি মানুষেরই সীমাহীন বিস্তৃতি, মানুষের মধ্যেই উপস্থিত। ‘মানব ধর্ম’ গ্রন্থে রবীন্দ্রনাথ বলেন, ‘জীবনদেবতাকে সম্পূর্ণ উত্তীর্ণ হয়ে কোনো অমানব বা অতিমানব বোঝাবার শক্তি আমার নেই; কেননা আমার বুদ্ধি মানব বুদ্ধি, আমার হৃদয় মানব হৃদয়, আমার কল্পনা মানব কল্পনা।’ এই জীবনদেবতা অবস্থান করেন মানুষের মধ্যে এবং মানুষের মধ্যে থেকেই তিনি পরিচালিত করেন তাঁর জীবনকে। তিনি একই সঙ্গে জীবনের অন্তবর্তী ও অতিবর্তী। তাঁর সঙ্গে মানুষের সম্পর্ক অনেকটা নাট্যকার এবং নাটক নিদের্শকের সম্পর্কের মতো। নাটক নির্দেশকের অভিনয়ের সঙ্গে যেমন একটা প্রীতির সম্বন্ধ আছে এবং তিনি তাকে কীভাবে কী অভিনয় করতে হবে শিখিয়ে দিচ্ছেন। আবার অভিনেতা ঠিকমতো অভিনয় করলে তা দেখে তিনি সাফল্যে আনন্দ পাচ্ছেন, অসাফল্যে বেদনা পাচ্ছেন, ঠিক তেমনি জীবনদেবতা জীবন নাট্যের অভিনয়েও আছেন তাঁর বাইরেও আছেন। তিনি ব্যক্তিবিশেষের মধ্যদিয়েই তাঁর সহযোগিতা নিয়ে নিজের ইচ্ছাটি পূরণ করতে চাইছেন। জীবনদেবতা অসীম ও স্বয়ংসম্পূর্ণ; কিন্তু সসীম জগতকে বাদ দিয়ে তিনি থাকতে পারেন না। লীলা উপভোগের আকাক্সক্ষা থেকেই বিশ্ব সৃষ্টি আর এই প্রেমলীলা প্রকাশের জন্য ঈশ্বরের প্রয়োজন তাঁর ভক্তকে। অসীম ঈশ্বর ও সসীম মানুষ উভয়েই পারস্পরিক সম্পর্কে আবদ্ধ, একে অপরের ওপর নির্ভরশীল। অসীম ঈশ্বর সসীম জীবের মাধ্যমে কাজ করেন। তবে মানুষের ইচ্ছা ও কর্মের স্বাধীনতা আছে। মানুষের বাস্তবতা সম্পূর্ণ লীন হয়ে যায় না। এ যেন জলবিন্দু ও সমুদ্রের মতো। অসীমের প্রেরণার উপস্থিতি মানুষেরই অন্তরে। এ প্রেরণা অবলম্বনে কর্মে প্রবৃত্ত হওয়া এবং সেই কর্ম দ্বারা ব্যক্তিগত, সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় জীবনকে তথা সমগ্র পৃথিবীকে ন্যায়, সত্য ও কল্যাণের পথে পরিচালনা করার দায়িত্ব প্রতিটি মানুষের।
শিক্ষা দর্শন: রবীন্দ্রনাথের শিক্ষা দর্শন তাঁর সমগ্র জীবনদর্শন দ্বারা প্রতিফলিত। দার্শনিক চিন্তার দিক থেকে তিনি ছিলেন ভাববাদী। আবার প্রকৃতিবাদীও বলতে পারি। তিনি ভাববাদ ও প্রকৃতিবাদের মধ্যে শিক্ষা প্রসঙ্গে সমন্বয় সাধন করেছেন। প্রচলিত শিক্ষা ব্যবস্থার একটি বড় ত্রুটি হল প্রাকৃতিক পরিবেশ থেকে বিচিছন্নতা। তাঁর মতে, প্রকৃতির সঙ্গে মানুষের এক নিবিড় সম্পর্ক রয়েছে। প্রকৃতির সান্নিধ্যে এসে শিশুর দেহমন সুসংগঠিত হয় এবং সে পরমসত্তাকে উপলব্ধি করতে শেখে। তাই প্রাচীন ভারতীয় তপোবনের শিক্ষার আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে তিনি ‘শান্তি নিকেতন’ প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। এখানে গুরু-শিষ্য (ছাত্র-শিক্ষক) সমন্বয় ঘটেছে। রবীন্দ্রনাথের শিক্ষা পরিকল্পনায় কোন বিদেশী অনুকরণের প্রচেষ্টা নেই। তিনি ভারতীয় ঐতিহ্যে একান্ত বিশ^াসী ছিলেন এবং প্রাচীন ভারতের সংস্কৃতিকেই তাঁর শিক্ষা ব্যবস্থায় রূপায়িত করতে চেয়েছিলেন। তবে তিনি প্রচলিত কুসংস্কার ও কৃত্রিম আচার-বিচারের বিরোধী ছিলেন। রবীন্দ্রনাথের শিক্ষা দর্শনে মানবপ্রেম একটি গুরুত্বপূর্ণ স্থান দখল করে আছে। তাই তাঁর শিক্ষা ঐক্য ও সাম্যের প্রতীক। কঠোর শাসন ও নিয়ন্ত্রণের পরিবর্তে শিশুকে কাজের অবাধ স্বাধীনতা দিলে শিশুর শৃঙ্খলা রক্ষায় কোন সমস্যা থাকবে না এবং তার চিন্তা ও বিচারশক্তির উন্মেষ ঘটবে একথা তিনি দৃঢ়ভাবে বিশ^াস করতেন। নারী শিক্ষা সম্পর্কে তাঁর মনোভাব অতন্ত্য উদার। শিক্ষা অজ্ঞতাকে দূর করে। তাঁর মতে, স্বাধীন চিন্তাশক্তির বিকাশই হবে শিক্ষার লক্ষ্য। তাই তিনি বলেছেন, ‘যে শিক্ষা আমাদের বুদ্ধিবৃত্তিকে জাগ্রত করে, আমাদের মনকে অ-বুদ্ধির প্রভাব থেকে মুক্ত করে, সেই শিক্ষার দ্বারাই আমদের সমস্ত দুঃখ দুদর্শার অবসান ঘটবে।’ তিনি মনে করতেন, শৈশব থেকেই শিশুকে ভ্রাতৃত্ববোধ ও সামাজিকতা শিক্ষা দিতে হবে যেন ব্যক্তিত্ব বিকাশের সঙ্গে সমাজিকতার বিকাশও ঘটে। রবীন্দ্রনাথ বিদ্যালয়ে শিক্ষাদানের চেয়ে ভ্রমনের মধ্যমে শিক্ষাদানের অধিকতর পক্ষপাতী ছিলেন। এজন্যই তিনি বলেন, ‘যে শিক্ষায় আনন্দ নেই, সে শিক্ষা প্রকৃত শিক্ষা নয়।’
জগৎ দর্শন: দার্শনকি কবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের মতে, কাজেই জগতে সত্যের যে রূপ প্রকাশিত হয় তাকে হৃদয়ঙ্গম করা অসম্ভব। তিনি এর পক্ষে দুটি কারণ উল্লেখ করেছেন। প্রথম কারণ হলো স্রষ্টার ধীশক্তি যেভাবে ব্যক্ত, তা আকারে এতই জটিল যে, মানুষের মননশক্তি তার লাগাল পায় না। দ্বিতীয় কারণ হলো এই যে, ‘আমাদের মন ও জগতের অন্তর্ভুক্ত যাকে আমরা জানতে চাই, আমি ও আমার মনন শক্তি তাঁরই অংশ। তাঁর অংশ হয়ে, তাঁর অন্তভুক্ত হয়ে, তাঁকে হৃদয়াঙ্গম করা আমার পক্ষে দুঃসাধ্য ব্যাপার। ঐ সৃষ্টির বাইরে যদি যেতে পারতাম, তবে তাঁকে পরীক্ষা করে দেখে শুনে তাঁকে বোঝাতে পারা সম্ভব হতো।’ রবীন্দ্রনাথের মতবাদের সমর্থনে এই দ্বিতীয় যুক্তি প্রখ্যাত দার্শনিক ইম্মানুয়েল কান্টের অভিমতের সাথে মিলে যায়। অতত্রব আমাদের নিকট এ কথা স্পষ্ট হয়ে উঠেছে যে, রবীন্দ্র-দর্শন সত্যের সমগ্র রূপ, সত্যের যর্থাথ রূপ, মনন মার্গের দ্বারা উপলব্ধির বাইরে। পক্ষন্তরে, অনুভূতি মার্গে প্রেমাস্পদরূপে সমগ্র সত্ত্বাকে একান্তে আপনার রূপে প্রত্যক্ষ অনুভব করা যায়। তিনি জগৎকে প্রচণ্ড শক্তি বলে অনুভব করেছেন। গতি দ্বারা তিনি প্রতিনিয়ত কম্পিত হন। সৃষ্টি বৈচিত্র্যের মূলে এই প্রচণ্ড গতি। এই গতির মধ্যেই মঙ্গল নিহিত। এই তত্ত্ব যিনি বুঝেছেন তিনিই আনন্দের সন্ধান পান। তিনি বলেন, ‘আমার কি কেবল চোখ আছে, কান আছে, আমার মধ্যে কি শক্তি নাই, আমার মধ্যে কি সত্য নাই, আনন্দ নাই; ইহা সমস্তই শক্তি, সমস্তই লীলা, সমস্তই আনন্দ।’ অর্থাৎ বীন্দ্রনাথ ঠাকুর এই জগৎ দর্শন দ্বারা পরমসত্ত্বাকে বাইরের কিছু মনে করেননি বরং জগতের মাঝেই তাঁর অবস্থান নিশ্চিত করেছেন। তবুও তাঁকে আমরা ধরতে পারি না, আমাদের বুদ্ধি দ্বারা তাঁকে বিবেচনাও করতে পারি না।
প্রেম ও মানবতা দর্শন: রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর এই জগৎ-সংসারকে নিরবকাশ প্রেমের লীলা হিসেবে দেখেছেন এবং এ প্রেমের প্রেরণায় উদ্বুদ্ধ ও প্রেম সংশ্লিষ্ট কর্মে প্রবৃত্ত হতে সকল মানুষকে পরামর্শ দিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘জ্ঞান ও কর্মকে সার্থক করে তুলতে হলে প্রেম অপরিহার্য। কেননা জ্ঞানহীন কর্ম মানুষকে অধঃপতিত ক’রে পশুত্বের স্তরে নিয়ে যায়, আর প্রেমহীন কর্ম হিংস্রতার দিকে চালিত করে। বুদ্ধিবৃত্তির অবলম্বনে জ্ঞানের পথে অগ্রসর হলে বিশে^র অখণ্ডবোধ আমাদের মনে জাগে। সেই অখণ্ডবোধ থেকে যখন প্রীতি সঞ্চারিত হয় তখনই আমরা পরহিত সাধনে অনুপ্রাণিত হই।’ এ প্রেম-প্রীতি কর্মকে সংকীর্ণ করে না, স্বার্থ চিন্তা করে না বরং সেটা বিশ^মানবাতাবোধ জাগ্রত করে। মা যেমন তার সন্তানের সেবা করে নির্মল আনন্দ পেয়ে থাকেন, কর্মের সাথে প্রেম-প্রীতির সংযোগ ঘটলে মানুষ সেই রকম সুখ শান্তি ও আনন্দ উপভোগ করেন। জীবনের মধ্যগগন পার ক’রে আসার পর রবীন্দ্রনাথের চিন্তাধারায় ধীরে ধীরে একটি পরিবর্তন আসে। প্রথম বিশ্বযুদ্ধের কঠিন অভিজ্ঞতা, যুদ্ধপূর্ব বছরগুলোতে ইংরেজ শাসকগোষ্ঠির ছলনা, কুটিলতা, দম্ভ আর নিপীরণ, পরাধীন ভারতবাসীর মর্মযাতনা সব মিলিয়ে কবির চিত্তলোকে যন্ত্রনায় সুর ধ্বনিত হয়। বিশ^কবির জীবনে মানবতাবাদের সবচেয়ে বড় পরীক্ষা আসে তখন, যখন জালিয়ানওয়ালাবাগের নৃশংস হত্যাকান্ড ঘটে। সারা পৃথিবী সেই ঘটনায় ইংরেজ সরকারের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ করে। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরও তখন সেই নিন্দা ও প্রতিবাদস্বরূপ ত্যাগ করেন ইংরেজ সরকার প্রদত্ত সর্বোচ্চ সম্মানসূচক ‘নাইট’ উপাধি। এরপর শুধু কাব্যজীবনেই নয়, কবির ধর্মীয় ভাবধারায়ও ঘটল ব্যাপক পরিবর্তন। পূর্বের মত আর ঈশ^র-বন্দনায় মুখর হলেন না তিনি। তিনি যেমন বাংলা ছোটগল্পকে বিশ্ব বরেণ্য লেখকের পাশাপাশি প্রতিষ্ঠিত করেছেন, তেমনি তাতে অধিষ্ঠিত করেছেন মানবতাবাদকে। তাঁর অধিকাংশ গল্পই ফাল্গুধারার ন্যায়, মানবতার রসের দ্বারা নিরবে প্রবাহিত। আপাতদৃষ্টিতে কৌতুককর গল্পগুলোতেও তাঁর হৃদয়ের ঔদার্য, মহানুভবতা ও দাম্পত্য নিষ্ঠা ফুটে উঠেছে। এগুলোর মধ্যে আবার সত্যকেই সবার ঊর্ধ্বে তুলে ধরেছেন। দর্শন-চিন্তার ক্ষেত্রে তাঁকে অনুপ্রেরণা দিয়েছে বাংলা ও বাংলার জনজীবন। তাঁর দর্শন বিশ্ববাসীর মধ্যে বিশ্বমানবতাবোধ জাগ্রত করেছে।

সহায়কগ্রন্থাবলী:
১. মুখোপাধ্যায়, বিমলকুমার: রবীন্দ্র-নন্দনতত্ত্ব, দে’জপাবলিশিং, কলকাতা, ১৯৯১ খ্রিস্টাব্দ।
২. হোসেন, বি.এম. জাকির: বাংলাদেশ দর্শন,সাকসেস প্রকাশনী, ঢাকা, ২০১৭ খ্রিষ্টাব্দ।
৩. রহমান, মো: মাহবুবুর: দর্শনশাস্ত্র, ইচ্ছামতি প্রকাশনী, ঢাকা, ১৪১৭ বঙ্গাব্দ।
৪. মুখোপাধ্যায়, প্রভাতকুমার: রবীন্দ্রজীবনী, ১ম ও ২য় খন্ড, বিশ^ভারতী।
৫. রহমান, মো: মাহবুবুর: বাংলাদেশের দর্শন, ইচ্ছামতি প্রকাশনী, ঢাকা, ২০১৩ খ্রিস্টাব্দ।

# লেখক: হলিক্রস স্কলাস্টিক, দর্শন শেষ বর্ষ,
পবিত্র আত্মা মেজর সেমিনারী, বনানী, ঢাকা।

 

 

Facebook Comments

বাংলাদেশ সময়: ৮:২০ অপরাহ্ণ | মঙ্গলবার, ১৬ জুন ২০২০

জাপানের প্রথম অনলাইন বাংলা পত্রিকা |

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত