ঘোষণা

জাপানে শিশু ও নবজাতকদের মেডিকেল চেকআপ বাধ্যতামূলক

ওমর শাহ | বুধবার, ০৮ জুলাই ২০২০ | পড়া হয়েছে 126 বার

জাপানে শিশু ও নবজাতকদের মেডিকেল চেকআপ বাধ্যতামূলক

ওমর শাহ : করোনা ভাইরাস ছড়িয়ে যাওয়ার উদ্বেগের কারণে দলগতভাবে মেডিকেল চেকআপ স্থগিত করার সিদ্ধান্তের পরে শিশু ও নবজাতকদের পৃথকভাবে মেডিকেল চেকআপ করছে জাপানের পৌরসভাগুলো। করোনা পৌরসভার দৃষ্টিভঙ্গি বদল করে দিয়েছে।

স্থানীয় পৌর সরকারের এই পদক্ষেপের লক্ষ্য হল স্বাস্থ্যসেবা কর্মী ও বৃহত্তর চিকিৎসা পদ্ধতিকে করোনা সংক্রমণের দ্বিতীয় ধাপ সামলানোর জন্য প্রস্তুত করা। করোনার দ্বিতীয় সংক্রমণ হতে পারে এমন কথা শোনা যাচ্ছে সর্বত্র।

তবে স্থানীয় পৌর সরকারের এই পদক্ষেপটি উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে। কারণ পৌরসভার সরকারী নার্সরা শিশু ও নবজাতকদের কম পর্যবেক্ষণ করবেন ও দক্ষ চিকিৎসক দল কম সময় দেবে বলে মনে করা হচ্ছে।

অন্যদিকে দলগতভাবে পরীক্ষাগুলো ব্যাপকভাবে নির্ভরযোগ্য ও সাবধানতার সাথে পরিচালিত হয় বলে মনে করেন কিছু বিশেষজ্ঞ।

ওকায়ামা প্রদেশের সোজা শহরে তাকাসুগি শিশু ক্লিনিক প্রতিদিন তিন বা ততোধিক বা ৪ মাস বয়সী শিশুদের পরীক্ষা করে, শরীরের পরিমাপ গ্রহণ করে, পিতা-মাতার সাথে সাক্ষাৎকার নেয় ও অসুখের লক্ষণগুলোর পরীক্ষা করছে।

আয়া হারুনা (২১) নামের একজন মা জানান, শিশু ক্লিনিকে পরীক্ষা করানোর পরে তার শিশু মেয়ে নোয়া সুস্থ ও ভালভাবে বেড়ে উঠছেন। সন্তানের এমন পরিস্থিতি দেখে তিনি বেশ স্বস্তি বোধ করছেন।

তিনি আরো জানান, করোনা ভাইরাসের কারণে দলগতভাবে পরীক্ষাটি বিলম্বিত হয় ও তিনি আশানুরূপভাবে ফল পাবেন কিনা তা নিয়ে উদ্বিগ্ন ছিলেন। পৃথকভাবে পরীক্ষা করানোর পরে তা অনেকটা স্বস্থির বলেও জানান তিনি।

৩০ বছর বয়সী ইয়ুকা ফুজিমোটো, যিনি তাঁর মেয়ে মিনাকে চেকআপের জন্য ক্লিনিকে নিয়ে এসেছিলেন, তিনি বলেন, ” ক্লিনিকে আলাদাভাবে পরীক্ষা করানোয় আমি স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করি। আমরা বিশাল সংখ্যক লোকের সাথে না মিশে পরীক্ষা করতে পারছি এটাই বড় বিষয়।”

সোজা পৌর সরকার এপ্রিল মাস থেকে ৪ মাস বয়সী শিশুদের গ্রুপ পরামর্শ বন্ধ করে দেয় এবং পিতা-মাতার অনুরোধে জুনে নগরীর পাঁচটি হাসপাতালের সহযোগিতায় আলাদাভাবে শিশু ও নবজাতকদের চেকআপ শুরু করে।

দায়িত্বে থাকা ওই নগরীর এক পৌর কর্মকর্তা বলেন, প্রায় দেড় শতাধিক শিশুকে পৃথকভাবে পরীক্ষা করানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। যা করোনা পরিস্থিতিতে “মায়েদের পক্ষে সুবিধাজনক ও জটিল পরিস্থিতি এড়ানো সহায়ক” বলেও জানান তিনি।

জানা যায়, জুলাই মাসের শেষ অবধি এই পরামর্শ দেওয়া হবে। করোনা সংক্রমণের দ্বিতীয় ধাপ মোকাবেলার প্রস্তুতিও বেশ ভালোভাবে চলছে জাপানে।

তবে কিছু বিশেষজ্ঞ পৌরসভাগুলো যে দলগতভাবে পরামর্শ দেয় সেই সিদ্ধান্তের সমর্থন জানিয়েছে। তারা মনে করেন যে গ্রুপ পরামর্শগুলোই বেশি ভালো। আলাদা করে পরামর্শ দেওয়া কঠিন বলেই মনে করেন তারা।

করোনা মহামারী সবকিছু পরিবর্তন করার আগে, নার্স ও অন্যান্য পেশাদাররা মা ও তাদের শিশুদের ঘনিষ্ঠভাবে সেবা দিতেন। তারা যাতে নিজেদের সামাজিকভাবে বিচ্ছিন্ন না মনে করেন। একই সাথে মায়েরা প্রসবোত্তর হতাশায় যাতে না ভুগেন তা নিশ্চিত করা হতো।

মায়েদের প্রসবোত্তর হতাশা রোধে নার্স ও অন্যান্য পেশাদাররা বাড়ি ঘুরে দেখতেন বা তাদের সন্তানদের লালন-পালনের ক্ষেত্রে বিশেষজ্ঞদের সাথে যোগাযোগ রাখতেন।

এ প্রসঙ্গে এক কর্মকর্তা বলেন, এই মহামারিজনিত কারণে যেসব পরিবর্তন আনা হয়েছে তার অধীনে “আমরা জানি না যে সমস্ত হাসপাতালগুলি কীভাবে নিবিড়ভাবে মানুষের যত্ন নিতে পারে।’’

হায়োগো প্রদেশের ইটামি সিটি সরকার ও ওইটা প্রদশের হিজি টাউন অফিস, অন্যদের মধ্যে ৪ মাস বয়সী শিশুদের চেকআপ দেওয়ার জন্য তাদের দৃষ্টিভঙ্গিও পরিবর্তন করেছে।

এছাড়াও কানাগাওয়া প্রদেশের ওসো শহরে মায়েদের পক্ষে তাদের শিশুদের প্রতিবেশী পৌরসভাগুলোতে এবং এর অধীনে থাকা শিশুদের শিশু হাসপাতালে নিয়ে আসা সম্ভব করেছে।

আকিতা প্রদেশের ইউরিহনজো শহর সরকার স্থানীয় স্বাস্থ্য কর্মকর্তাদের দ্বারা আইনত বাধ্যতামূলকভাবে তাদের শিশুদের পরীক্ষা করানোর জন্য ৪ মাস, ১৮ মাস ও ৩ বছর বয়সী শিশুদের পিতা-মাতার জন্য পৃথক চেকআপে উৎসাহিত করছে।

৪ মাস বয়সী শিশুদের আলাদাভাবে পরীক্ষার পরিবর্তিত নিয়ম চালু করেছে ফুকুওকা পৌরসভা সরকার। জুলাইয়ের পরে ১৮ মাসের শিশুদের যুক্ত করার পরিকল্পনা করেছে স্থানীয় সরকার।

যদিও এমন কয়েকটি পৌরসভা রয়েছে যারা গ্রুপ পরীক্ষায় ফিরে এসেছিল। তবে স্বাস্থ্য, শ্রম ও কল্যাণ মন্ত্রণালয় পৃথকভাবে পরীক্ষার জন্য তাদের উত্সাহ দেওয়ার জন্য চলতি অর্থবছরের দ্বিতীয় পরিপূরক বাজেটে ভর্তুকি অন্তর্ভুক্ত করেছে।

তথ্যসূত্র: মাইনিসি নিউজ

Facebook Comments

বাংলাদেশ সময়: ৭:২১ পূর্বাহ্ণ | বুধবার, ০৮ জুলাই ২০২০

জাপানের প্রথম অনলাইন বাংলা পত্রিকা |

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত