ঘোষণা

দক্ষিণ জাপানে জোরালো ভূমিকম্প, তীব্রতা ৬.৩

| রবিবার, ১৪ জুন ২০২০ | পড়া হয়েছে 25 বার

দক্ষিণ জাপানে জোরালো ভূমিকম্প, তীব্রতা ৬.৩

ওমর শাহ : ফের জোরালো ভূমিকম্প জাপানে (Japan earthquake )। দেশের আবহাওয়া সংস্থা জানাচ্ছে, শনিবার গভীর রাতে ৬.৩ কম্পাঙ্কের শক্তিশালী ভূমিকম্পটি আঘাত করে জাপানের আমামি দ্বীপপুঞ্জে (Amami archipelago)। কম্পনের গভীরতা ১৬০ কিলোমিটার। এখনও পর্যন্ত সুনামি সতর্কতা জারি হয়নি।

এর আগে গত ১৯ এপ্রিল আরও জোরদার ভূমিকম্প হয়েছিল জাপানে। রিখটার স্কেলে সেই ভূমিকম্পের তীব্রতা ছিল ৬.৯। বাকি বিশ্বের মতো করানো সংকট সামাল দিতে হিমশিম খাচ্ছে জাপান। তার মধ্যেই ফের একবার ভূমিকম্প।

গতবার ভূমিকম্প আঘাত হেনেছিল জাপানের ওগাসাওয়ারা দ্বীপের পশ্চিম উপকূলে। প্রথমে ৬.৯ কম্পাঙ্কেক কথা বলা হলেও, পরে ৬ কম্পাঙ্কের কথা জানানো হয়।

জাপানে ভূমিকম্প নতুন কিছু নয়। কারণ, জাপান প্রশান্ত মহাসাগরীয় ‘রিং অফ ফায়ার’ অঞ্চলে অবস্থিত। বাংলায় যার অর্থ হয় ‘আগুনের গোলা’। ‘রিং অফ ফায়ার’ এমন একটি কাল্পনিক বেল্ট, যা ঘোড়ার খুরের মতো প্রধানত প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলকে ঘিরে রেখেছে। রিং অফ ফায়ারে অন্তর্ভুক্ত অঞ্চলগুলি পৃথিবীর মধ্যে সবচেয়ে ভূমিকম্পপ্রবণ।

ভূ-তাত্ত্বিকরা জানান, রিং অফ ফায়ারই ৯০ শতাংশ ভূমিকম্পের কারণ। ৪০ হাজার কিলোমিটার দীর্ঘ এই ‘রিং অফ ফায়ার’ অঞ্চলে ৪৫২টি আগ্নেয়গিরি রয়েছে, যা পৃথিবীপৃষ্ঠে অবস্থিত মোট আগ্নেয়গিরির ৭৫ শতাংশ।

এশিয়ার জাপান, পলিনেশিয়ার টোঙ্গো, দক্ষিণ আমেরিকার ইকুয়েডর ‘রিং অফ ফায়ার’-এর অন্তর্ভুক্ত। তাই এসব অঞ্চলে বেশি ভূমিকম্প হয়ে থাকে।

চার দিন আগেই, ৯ জুন ইন্দোনেশিয়ার মালুকু প্রদেশে ৫.৮ কম্পাঙ্কের ভূমিকম্প হয়। কম্পনের উত্‍‌সস্থল ছিল, বুরু জেলার ১২৬ কিলোমিটার দক্ষিণপশ্চিমে, সমুদ্রতলের ১০ কিলোমিটার গভীরে।

তার আগে ৪ জুন ইন্দোনেশিয়ারই উত্তর মালুকু প্রদেশে ৬.৮ কম্পাঙ্কের ভূমিকম্পে ১০০টি বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

২০১৮-র অগস্টে ইন্দোনেশিয়ার জনপ্রিয় পর্যটনদ্বীপ লম্বকে শক্তিশালী ভূমিকম্পে কমপক্ষে ৮২ জন মারা যান। আহত হয়েছিল কয়েক হাজার মানুষ। ৭ মাত্রার শক্তিশালী ওই ভূমিকম্পের জেরে হাজার হাজার বাড়ি তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়েছিল। জনপ্রিয় ওই দ্বীপে তার ঠিক আগের সপ্তাহে আর একটি ভূমিকম্পে ১৬ জনের প্রাণ গিয়েছিল।

মার্কিন ভূ-তাত্ত্বিক সমীক্ষা সংস্থার তথ্যমতে, ওই ভূ-কম্পনটির উত্‍‌স ছিল ভূ-গর্ভের ১০ কিলোমিটার গভীরে। জাপানের মতো ইন্দোনেশিয়ায় ঘনঘন ভূমিকম্প হওয়ার একটা কারণ এটিও পৃথিবীর রিং অফ ফায়ারে অবস্থা করছে। প্রশান্ত মহাসাগরীয় এই অঞ্চলটিতে ঘনঘন ভূকম্পন এবং আগ্নেয়গিরির অগ্নুৎপাত দেখা যায়। সমুদ্রপৃষ্ঠের ওপরে বিশ্বের অর্ধেকের বেশি সক্রিয় আগ্নেয়গিরি এই রিং-এ রয়েছে।

Facebook Comments

বাংলাদেশ সময়: ৪:৪৯ পূর্বাহ্ণ | রবিবার, ১৪ জুন ২০২০

জাপানের প্রথম অনলাইন বাংলা পত্রিকা |

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত