ঘোষণা

করোনার ধাক্কায় জাপানি কোম্পানিগুলোর লোকসান ১ দশমিক ৪৭ ট্রিলিয়ন ইয়েন

| বুধবার, ০৩ জুন ২০২০ | পড়া হয়েছে 24 বার

করোনার ধাক্কায় জাপানি কোম্পানিগুলোর লোকসান ১ দশমিক ৪৭ ট্রিলিয়ন ইয়েন

ওমর শাহ : করোনা ভাইরাস মহামারীর কারণে জানুয়ারি-মার্চ তিন মাসে জাপানের তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলোর নিট লোকসান ১ দশমিক ৪৭ ট্রিলিয়ন ইয়েন বা ১ হাজার ৩৬০ কোটি ডলার হয়েছে বলে জাপানের সংবাদ মাধ্যম কিয়োদোর ৩ জুনের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।

কিয়োদোর প্রতিবেদনে বলা হয়, ১ জুন একটি সিকিউরিটিজ সংস্থার উপাত্তে দেখা গেছে, গত নয় বছরের মধ্যে প্রথম কোনো প্রান্তিকে লোকসান গুনেছে জাপানি কোম্পানিগুলো। ।

৩১ মার্চ শেষ হওয়া গত অর্থবছরে টোকিও স্টক এক্সচেঞ্জের প্রথম বিভাগের কোম্পানিগুলোর নিট মুনাফা পূর্ববর্তী অর্থবছরের তুলনায় ২৭ দশমিক ২ শতাংশ কমেছে।

এসএমবিসি নিক্কো সিকিউরিটিজ ইনকরপোরেটেড বলছে, ২০১২ সালে দ্বিতীয় দফায় প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হওয়া শিনজো আবে সরকারের আমলে এ নিয়ে টানা দুই বছর নিট মুনাফা হ্রাসে পেল।

নিট মুনাফা হ্রাসের পেছনে নেতৃত্ব দিয়েছে সফটব্যাংক গ্রুপ করপোরেশন ও নিশান মোটর কোম্পানি। গত অর্থবছরে এ দুটি কোম্পানি লোকসান গুনেছে যথাক্রমে ৯৬ হাজার ১৫৮ কোটি ইয়েন ও ৬৭ হাজার ১২২ কোটি ইয়েন।

তালিকাভুক্ত জাপানি কোম্পানিগুলো এর আগে ২০১১ সালের জানুয়ারি-মার্চ প্রান্তিকে নিট লোকসান গুনেছিল। তখন ভূমিকম্প ও সুনামির আঘাতে উত্তর-পূর্ব জাপানকে বিধ্বস্ত করেছিল এবং ফুকুশিমা দাইচি পারমাণবিক কমপ্লেক্স লোকসানে পড়েছিল। ওই সময়ে নিট লোকসানের পরিমাণ দাঁড়িয়েছিল ৫০ হাজার কোটি ইয়েন।

লেহম্যান ব্রাদার্স হোল্ডিংসের বিপর্যয়ের জেরে ২০০৮-০৯-এর বৈশ্বিক আর্থিক সংকটের ফলে ২০০৯ সালের জানুয়ারি-মার্চ প্রান্তিকে সম্মিলিত লোকসানের পরিমাণ ছিল প্রায় ৮ দশমিক ৫ ট্রিলিয়ন ইয়েন।

এবার গত অর্থবছরের সর্বশেষ প্রান্তিটিতে ৩৩টি খাতের মধ্যে ১৫টিই লোকসানে পড়েছে বলে জানিয়েছে। লোকসানি খাতগুলোর মধ্যে রয়েছে পরিবহন খাত, ইস্পাত শিল্প ইত্যাদি। করোনা মহামারীর ফলে বিশ্বজুড়ে বেশির ভাগ মানুষ ঘরে অবস্থানের কারণে বৈশ্বিক চাহিদায় পতনে বেশির ভাগ ব্যবসা প্রতিষ্ঠান তাদের কার্যক্রম বন্ধ রেখেছিল।

শুধু গাড়ি নির্মাতা ও ইলেকট্রনিকস কারখানাগুলোই তাদের উৎপাদন বন্ধ রাখেনি, বরং খুচরা খাত, উড়োজাহাজ সংস্থা ও রেলওয়ের মতো সেবা খাতগুলোও চলাচলের ওপর বিধিনিষেধের কারণে লোকসান গুনেছে।

উইওয়ার্কসহ বিভিন্ন স্টার্টআপ বিনিয়োগ লোকসান গোনায় গত ১৫ বছরের মধ্যে এই প্রথম প্রত্যাশার চেয়েও বড় আকারের লোকসান গুনেছে সফটব্যাংক। এতে মড়ার ওপর খাঁড়ার ঘা হিসেবে দেখা দিয়েছে নভেল করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাব।

নিশানের সাবেক সিইও ও চেয়ারম্যান কার্লোস গোনের গ্রেফতারের ফলে সৃষ্ট বিশৃঙ্খলায় মহামারীর আগেই ১১ বছরের মধ্যে সবচেয়ে খারাপ পরিস্থিতিতে ছিল জাপানের অন্যতম বৃহৎ এ গাড়ি নির্মাতা কোম্পানিটি। করোনা মহামারী আগে থেকেই নাজুক বৈশ্বিক বিক্রির ওপর সর্বশেষ পেরেক ঠুকে দেয়।

জাপানের বৃহত্তম ইস্পাত প্রস্তুতকারক কোম্পানি নিপ্পন স্টিল করপোরেশন লোকসান গুনেছে ৪৩ হাজার ১৫১ কোটি ইয়েন। এছাড়া ম্যারুবেনি করপোরেশন ও জেএক্সটিজি হোল্ডিংসের মতো ট্রেডিং হাউজগুলোও বড় আকারের লোকসান গুনেছে।

মার্চে শেষ হওয়া অর্থবছরের আয়ের উপাত্ত তৈরিতে ১ হাজার ৪২৮টি কোম্পানির ওপর নির্ভর করেছে এসএমবিসি নিক্কো সিকিওরিটিজ, যা মে মাসের শেষ নাগাদ টোকিও স্টক এক্সচেঞ্জের প্রথম বিভাগে তালিকাভুক্ত কোম্পানির ৯৬ দশমিক ৭ শতাংশ।

করোনা মহামারী থেকে উদ্ভূত অনিশ্চয়তার কারণে ৮১২টি কোম্পানি আগামী মার্চে শেষ হতে যাওয়া চলতি অর্থবছরের আয় পূর্বাভাস প্রকাশ স্থগিত রেখেছে।

তবে করোনা সংক্রমণে সৃষ্ট অচলাবস্থার পর দেশটির অর্থনীতি ধাপে ধাপে চালু হতে যাওয়ায় অর্থনীতি চাঙ্গা হওয়ার আশাবাদে জাপানের শেয়ারবাজারে ইতিবাচক প্রভাব পড়তে শুরু করেছে।

১ জুন নিক্কেই স্টক এভারেজ ১৮৪ দশমিক ৫০ পয়েন্ট বা শূন্য দশমিক ৮৪ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। তবে কিছু বিশ্লেষক বিনিয়োগকারীদের মধ্যে সম্ভাব্য অতিরিক্ত আশাবাদ সম্পর্কে সতর্কতা প্রকাশ করেছেন।

তথ্যসূত্র: কিয়োদো

Facebook Comments

বাংলাদেশ সময়: ৬:২৮ পূর্বাহ্ণ | বুধবার, ০৩ জুন ২০২০

জাপানের প্রথম অনলাইন বাংলা পত্রিকা |

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত