ঘোষণা

এক বছরের মধ্যে পুরোপুরি ডিজিটালাইজড হচ্ছে জাপান

| বৃহস্পতিবার, ০৯ জুলাই ২০২০ | পড়া হয়েছে 146 বার

ওমর শাহ : আগামী এক বছরের মধ্যে দেশকে পুরোপুরি ডিজিটালাইড করার পদক্ষেপ নিয়েছে বিশ্বের অন্যতম ধনী দেশ জাপান।

দেশটির বার্ষিক অর্থনৈতিক নীতি নির্দেশিকার খসড়ায় ডিজিটালাইজেশনের প্রতি এক বছর নিবিড় সংস্কারের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে সরকার।

করোনা ভাইরাস মহামারীটি নেতিবাচক প্রভাব কাটিয়ে উঠতে এমন পদক্ষেপ নিয়েছে অ্যাবে সরকার।

পাশাপাশি প্রশাসনিক সেবা দিতে সবকিছু অনলাইনে করার নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

এ বিষয়ে অর্থনৈতিক ও আর্থিক পলিসি প্যানেলে খসড়া উপস্থাপন করা হয়েছে। খসড়ায় বিদেশিদের ড্রাইভিং লাইসেন্স ও আবাসিক কার্ডের সাথে ব্যক্তিগত সনাক্তকরণ সিস্টেম যা ” মাই নম্বর” নামে পরিচিত তা যুক্ত করা হয়েছে।

এখন থেকে জাপানে নিবিড় সংস্কারের বছর (সরকার) নির্ধারণ করা হয়েছে। ডিজিটালাইজেশনের দেরি ও করোনা ভাইরাস সংক্রমণ মোকাবেলায় যে চ্যালেঞ্জগুলো উপস্থিত হয়েছে তা বিশ্লেষণ করবে সরকার।

বিষয়টিকে গুরুত্ব দিয়ে প্রচার করা হবে একই সাথে সংস্কারকে ত্বরান্বিত করতে সব ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে খসড়ায় জানানো হয়েছে।

অর্থনৈতিক ও আর্থিক প্যানেলের বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন জাপানের প্রধানমন্ত্রী শিনজো আবে।

তিনি বলেন, “আমরা আগামী কয়েক বছরে কঠোর সামাজিক সংস্কার করব কিনা তার উপর আমাদের দেশের ভবিষ্যত নির্ভর করবে এবং এই খসড়া আসন্ন সঙ্কটের এমন উপলব্ধির ভিত্তিতে তৈরি করা হয়েছে।”

নগদ অর্থ লেনদেন না করা ও বিভিন্ন কাজের ধরণ পরিবর্তন কৌশল গ্রহণের দিকে মনোনিবেশ করতে সুপারিশ করেছে বিশেষজ্ঞ প্যানেল।

চলতি বছরের জুলাইয়ের মাঝামাঝি সময়ে সুপারিশগুলো মন্ত্রিসভা কর্তৃক অনুমোদিত হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

‘‘ মাই নম্বর ‘’ সিস্টেমটি জাপানে ২০১৫ সালে চালু হয়েছিল এবং প্রতিটি নাগরিক এবং বিদেশী বাসিন্দাকে ১২ সংখ্যার একটি নাম্বার সম্বলিত কার্ড দেওয়া হয়।

যার মাধ্যমে অনলাইনে সরকারী সেবা গ্রহণ করা যায়। জনসাধারণের সুবিধার্থে এই কার্ডের সুবিধা আরো বৃদ্ধি করার জন্য কাজ করছে জাপান সরকার।

তবে তথাকথিত এই পৃথক নম্বর কার্ড পাওয়ার কোনও আইনগত প্রয়োজন নেই বলে মনে করে দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্য মতে, ১ জুন পর্যন্ত জাপানি নাগরিকদের মধ্যে কেবল ১৬.৮ শতাংশ নাগরিকরা কার্ডধারীরা ছিলেন।

করোনা ভাইরাসের প্রভাব রোধে সরকারের ১ লাখ ইয়েন (৯৩০ ডলার) নগদ অর্থ প্রণোদনা পেতে নাগরিকদের অনেক সময় লেগেছিল যার কারণে সরকারের তীব্র সমালোচনা হয়।

সরকারি এই প্রণোদনা অর্থ পেতে সবার কাছে আবেদন ফরম পাঠানো হবে। তবে কার্ডধারীরাও অনলাইনের মাধ্যমে সরকারি ওয়েবসাইটে আবেদন করতে পারবেন।

খসড়ায় অন্তর্ভুক্ত অন্যান্য বিষয়ের মধ্যে রয়েছে টেলিযোগাযোগের বিস্তার ঘটানো। যার লক্ষ্য দেশের তৃণমূলের মানুষ দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে কাজ করতে পারবে বিশেষত ক্ষুদ্র ও মাঝারি কোম্পানিগুলোর কর্মীরা।

আগামী বছরের মার্চ মাসের মধ্যে কর্পোরেট ডিজিটালাইজেশন নিয়ে এগিয়ে যাওয়ার জন্য ব্যবসায়ীদের পরিচালনার জন্য গাইডলাইন তৈরি করা হয়েছে।

টোকিওতে জনসংখ্যার অত্যধিক ঘনত্ব ও সামাজিক ক্রিয়াকলাপ সংশোধন করার জন্যও সরকার প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।

করোনা ভাইরাসের কারণে শহরাঞ্চলে বসবাসের ঝুঁকির কারণে গ্রামাঞ্চলে বসবাস করতে মানুষের আগ্রহ বাড়ছে।

এই সুযোগটি সরকার কাজে লাগাবে তাতে একদিকে সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়বে না অন্য দিকে কর্মহীনদের সংখ্যা কমবে।

দেশটির অর্থনৈতিক ও আর্থিক ব্যবস্থাপনার সমস্যা সমাধানের ক্ষেত্রে জাপানের সরকার নানান পদক্ষেপ নিচ্ছে।

দেশের অভ্যন্তরীণ অর্থনীতিকে মজবুত করতে প্রাথমিক পর্যায়ে তা করা কঠিন হলেও অগ্রাধিকার ভিত্তিতে অর্থনীতিকে পুনরুত্থান করতে দৃঢ় প্রতিজ্ঞাবদ্ধ আবে সরকার।

তথ্যসূত্র: মাইনিসি নিউজ

Facebook Comments

বাংলাদেশ সময়: ৬:২৩ পূর্বাহ্ণ | বৃহস্পতিবার, ০৯ জুলাই ২০২০

জাপানের প্রথম অনলাইন বাংলা পত্রিকা |

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত