ঘোষণা

দীর্ঘদিন পর বাইরে সাপ্তাহিক ছুটি উপভোগ করলেন জাপানিরা

| সোমবার, ০১ জুন ২০২০ | পড়া হয়েছে 20 বার

দীর্ঘদিন পর বাইরে সাপ্তাহিক ছুটি উপভোগ করলেন জাপানিরা

ওমর শাহ : দীর্ঘদিন পর শনি ও রবিবার সাপ্তাহিক ছুটি ঘরের বাইরে উপভোগ করল জাপানের নাগরিকরা। করোনা ভাইরাসের কারণে প্রায় তিন মাস জরুরী অবস্থা থাকার পরে ২৫ মে পুরোপুরি জরুরী অবস্থা শিথিল করেছে জাপান সরকার।

জরুরী অবস্থা শিথিলের পরে দেশটির মানুষ বিশেষ করে কর্মজীবীরা প্রথম সাপ্তাহিক ছুটি উপভোগ করতে ঘরের বাইরে বেরিয়ে পরেন। কানাগাওয়া প্রদেশের এনোশিমা সমুদ্র সৈকতে রঙিন পালে হাজির হন মাঝিরা। সৈকতের পানিতে ভেসে তা উপভোগ করেন দর্শনার্থীরা।

নোকো ইয়ামনোই (৪২) বলেন, করোনার কারণে জরুরী অবস্থা চলাকালে বাড়িতে থাকার সময়কালে আমরা বারান্দায় একটি ছোট পুল বানিয়েছিলাম, তবে সমুদ্রে এসে আরও ভাল লাগছে। তার ৮ বছরের মেয়েকে নিয়ে জোকোহামায় বেড়াতে এসেছিলেন নোকো ইয়ামনোই।

নোকো ইয়ামনোই আরো বলেন, আমি আশা করি আমার কন্যার স্কুল আবার চালু হওয়ার আগে তার হৃদয় খেলায় মেতে থাকতে পারবে। মহামারীর কারণে বিদ্যালয়ের গ্রীষ্মকালীন ছুটি নাও হতে পারে। তাই মেয়েকে নিয়ে সৈকতে ঘুরতে এসেছি।

এনোশিমার একটি সামুদ্রিক রেস্তোরাঁর কর্মচারী কাজুমা ফুজিওয়ারা (২৪) বলেন, শনিবার দর্শনার্থীর সংখ্যা স্বাভাবিক বছরের প্রায় ৪০ শতাংশ। আমরা আশা করি আরও বেশি গ্রাহক ফিরে আসবেন, তবে করোনার কারণে আগের মতো গ্রাহক আসতে পারবে কিনা তা অনিশ্চিত।

ওয়ানাকুদানি প্রদেশের হট স্প্রিং জেলা হাকোন। এখানেও দর্শনার্থীদের অনেক ভীড় দেখা গেছে।

টোকিওর পশ্চিমের শহর হাচিওজির জনপ্রিয় স্থান মাউন্ট টাকাওয়ে সাপ্তাহিক ছুটিতে কানায় কানায় দর্শনার্থী ভরে যায়।

কানাগাও প্রদেশেও শনিবার আবার খোলা হয়েছে। সেখানে পার্কিংয়ের জায়গাগুলো দুপুর ২ টার মধ্যে কানায় কানায় ভরে ওঠে। প্রায় ৫০ জন লোক স্থানীয় একটি বিশেষ দোকানে লাইন ধরে দাড়িয়েছিল।

শিজোকাকে থেকে আসা ৪৪ বছর বয়সী এক কর্পোরেট কর্মকর্তা বলেন, আমি এই প্রাকৃতিক পরিবেশে সতেজ বোধ করছি। আমি দীর্ঘ ভ্রমণ করতে চাই, তাই আমি আশা করি মহামারীটি খুব শীঘ্রই শেষ হবে।

স্থানীয় রেলওয়ে অপারেটর শিনিয়া মাচিদা বলেন, সাধারণ বছরগুলোতে প্রতি সপ্তাহান্তে প্রায় ১০ হাজার দর্শনার্থী পাহাড় ভ্রমণ করতে আসেন। এখন সে সংখ্যা মাত্র প্রায় ২০ শতাংশ। তবে দর্শকের সংখ্যা ধীরে ধীরে বাড়ছে বলেও জানান তিনি।

একটি কোম্পানিতে চাকরি করা টোকিওর বাসিন্দা নাকানো ওয়ার্ড ( ৪৭) বলেন, আমি টোকিওর বাইরের দিকে যাত্রা না করে নিকটবর্তী পাহাড়ে যেতে পছন্দ করতাম। পাহাড়ে আসতে খুব ভোরে ট্রেনে ওঠি। পাহাড়ে ওঠা আরোহীদের মধ্যে অনেককে মাতাল অবস্থায় দেখেছি। এ অবস্থা দেখে আমি আশঙ্কা করছি সংক্রমণ আবারও বাড়তে পারে।

তথ্যসূত্র: জাপান টাইমস

Facebook Comments

বাংলাদেশ সময়: ৭:৩৫ পূর্বাহ্ণ | সোমবার, ০১ জুন ২০২০

জাপানের প্রথম অনলাইন বাংলা পত্রিকা |

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত