ঘোষণা

২০২১ সালের অলিম্পিকের জন্য টোকিও নিরাপদ

| সোমবার, ১৫ জুন ২০২০ | পড়া হয়েছে 41 বার

২০২১ সালের অলিম্পিকের জন্য টোকিও নিরাপদ

ওমর শাহ : করোনা ভাইরাস মহামারী আকার ধারণ করা সত্ত্বেও আগামী বছর অলিম্পিকের জন্য টোকিও সম্পূর্ণ নিরাপদ বলে দাবি জানিয়েছেন শহরটির গভর্নর ইউরিকো কোইকে। প্রথমবারের মতো স্থগিত হয়ে যাওয়া গেমসকে আগামী বছর নিরাপদে আয়োজনের জন্য তারা ১২০ ভাগ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।

আগামী মাসে টোকিওর গভর্নর পদে আবারও নিজের প্রার্থিতা ঘোষণা করেছেন কোইকে। বিশ্বব্যাপী চলমান ভাইরাসের বিপক্ষে এ গেমসকে ‘মানুষের জয়ের প্রতীক’ হিসেবেই আয়োজনে টোকিও বদ্ধপরিকর বলে কোইকে বিশ্বাস করেন। একই সঙ্গে তিনি স্বীকার করেছেন কোনোভাবেই গেমসকে খাটো হতে তিনি দেবেন না।

বার্তা সংস্থা এএফপির সঙ্গে এক সাক্ষাতকারে ৬৭ বছর বয়সী কোইকে বলেছেন, ‘গেমস পুনরায় আয়োজনের ব্যাপারে আমি ১২০ ভাগ প্রচেষ্টা করে যাচ্ছি।’ যদিও পরিপূর্ণ আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে তিনি বলতে পারেননি কীভাবে বিশ্বের এ সর্বোচ্চ ক্রীড়া আসর নিয়ে নতুন করে পরিকল্পনা জাপান করতে যাচ্ছে।

করোনা ভাইরাস বিশ্বব্যাপী মহামারী আকারে ছড়িয়ে পড়ায় অলিম্পিকের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো টোকিও অলিম্পিক ২০২০ গেমস স্থগিতের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। নতুন তারিখ অনুযায়ী ২০২১ সালের ২৩ জুলাই থেকে এ গেমস শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। তবে গেমসটি ২০২০ গেমস নামেই পরিচিত হবে। যদিও মেডিক্যাল বিশেষজ্ঞরা আগামী বছরও এ গেমস নিরাপদে আয়োজনে নিয়ে যথেষ্ট শঙ্কা প্রকাশ করেছেন। জাপানিজ আয়োজক কমিটি ও আন্তর্জাতিক অলিম্পিক কমিটি ইতোমধ্যেই সতর্ক করে বলেছে আগামী বছর না হলে এ গেমস আয়োজন আর সম্ভব নয়। কোইকে বলেছেন ভাইরাসের শঙ্কা কাটিয়ে সুষ্ঠু ও নিরাপদে গেমস আয়োজনে তিনি পুরোপুরি আশাবাদী। বিদেশি অ্যাথলেট থেকে শুরু করে কর্মকর্তা, সমর্থক, গণমাধ্যমকর্মী সবার জন্যই টোকিওকে নিরাপদ করে গড়ে তোলা হবে বলেও তিনি আত্মবিশ্বাসী মন্তব্য করেছেন।

করোনা ভাইরাস মোকাবিলায় বিশ্বের অন্যান্য দেশের তুলনায় জাপান বেশ সফলতা লাভ করেছে। এ পর্যন্ত দেশটিতে ১৮ হাজারের মতো মানুষ আক্রান্ত হয়েছেন। মারা গেছেন ৯০০ জনের কিছু ওপরে। যদিও অপেক্ষাকৃত কম পরীক্ষার কারণে জাপানকে নিয়ে বিশ্বজুড়ে বেশ সমালোচনা হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, করোনার নমুনা পরীক্ষা কম হওয়ায় সেখানে আক্রান্তের সংখ্যাও কম ধরা পড়েছে।

মৃত্যুর সংখ্যা কম হওয়ায় সম্প্রতি জাপান থেকে জরুরি অবস্থা তুলে নেওয়া হয়েছে। জাপান সরকার দাবি, করেছে জনগণের মধ্যে সচেতনতা তৈরি হওয়া ও কঠোর সামাজিক বিধিনিষেধ মানার কারণেই আক্রান্তের সংখ্যা ক্রমেই কমে এসেছে।

কোইকে বলেছেন, ‘টোকিওর জনগণ জানে করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব কমে না এলে আগামী বছর গ্রীষ্মকালীন অলিম্পিক গেমস আয়োজন কোনোভাবেই সম্ভব নয়। এ কারণেই তারা নিজেরাই সতর্কতা অবলম্বন করেছে।’

জাপানিজ ও অলিম্পিক কর্মকর্তারা বারবারই বলেছেন করোনা পরিস্থিতি ভবিষ্যতে কোথায় যায় তা নিয়ে এখনই বলার সময় আসেনি। যে কারণে পুনর্নির্ধারিত গেমস নিয়ে এখনই চূড়ান্ত করে কিছু বলা যাচ্ছে না। তবে এ মুহূর্তে আয়োজন সহজতর করা ও ব্যয় কমানোই তাদের মূল লক্ষ্য বলে জানিয়েছেন কোইকে।

স্থগিত হয়ে যাওয়া গেমসের শেষ পর্যন্ত ব্যয় কত দাঁড়াল তা নিয়েও ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে। বিলম্বিত হওয়ায় বেশ কিছু পৃষ্ঠপোষক প্রতিষ্ঠানও সরে আসার ইঙ্গিত দিয়েছে। চলতি সপ্তাহে একটি সার্ভেতে দেখা গেছে, টোকিও গেমসের দুই-তৃতীয়াংশ করপোরেট স্পন্সর নিজেদের প্রতিশ্রুতি টিকিয়ে রাখা নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করেছে। যদিও কোইকে বলেছেন এখনো পৃষ্ঠপোষকদের জন্য এ গেমস হতে পারে একটি দুর্দান্ত সুযোগ। তিনি পৃষ্ঠপোষকদের প্রতি সহায়তা অব্যাহত রাখার ব্যাপারে আহ্বান জানিয়েছেন।

Facebook Comments

বাংলাদেশ সময়: ৫:৪২ পূর্বাহ্ণ | সোমবার, ১৫ জুন ২০২০

জাপানের প্রথম অনলাইন বাংলা পত্রিকা |

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

সাকিব এখন বাংলাদেশে

০২ সেপ্টেম্বর ২০২০