ঘোষণা

‘প্রধানমন্ত্রীর সফল কূটনৈতিক তৎপরতায় জাপান সরকারের সাথে বাংলাদেশ সরকারের চুক্তি স্বাক্ষর হয়’

| শুক্রবার, ১২ জুন ২০২০ | পড়া হয়েছে 23 বার

‘প্রধানমন্ত্রীর সফল কূটনৈতিক তৎপরতায় জাপান সরকারের সাথে বাংলাদেশ সরকারের চুক্তি স্বাক্ষর হয়’

ওমর শাহ : অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল বলেছেন, প্রধানমন্ত্রীর সফল কূটনৈতিক তৎপরতায় ২০১৯ সালে জাপান সরকারের সাথে বাংলাদেশ সরকারের একটি নতুন শ্রম বিষয়ক চুক্তি স্বাক্ষর হয়, যার ফলে বাংলাদেশ এখন জাপানে দক্ষ জনবল পাঠানোর জন্য ৯ম দেশ হিসেবে স্বীকৃতি লাভ করেছে।

তিনি বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে ‘অর্থনৈতিক উত্তরণ ও ভবিষ্যৎ পথপরিক্রমা’ শিরোনামে ২০২০-২১ অর্থবছরের জন্য ৫ লাখ ৬৮ হাজার কোটি টাকার বাজেট পেশ করেন অর্থমন্ত্রী। এ সময় লিখিত বাজেট বক্তৃতায় তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, প্রবাসীদের সামগ্রিক কল্যাণ ও সুযোগের সমতা নিশ্চিতকরণ, কূটনৈতিক প্রচেষ্টার মাধ্যমে নতুন নতুন শ্রমবাজার সৃষ্টি এবং উক্ত বাজারের চাহিদা অনুযায়ী প্রশিক্ষণের মাধ্যমে দক্ষ জনশক্তি তৈরিতে সরকার কাজ করছে।
তিনি বলেন, রেমিট্যান্স বাড়াতে আগামী অর্থবছরেও এ খাতে ২ শতাংশ হারে প্রণোদনা দেয়া হবে।

অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল বলেন, বর্তমানে বিশ্বের ১৭৪টি দেশে এক কোটি বিশ লাখের অধিক অভিবাসী কর্মী কর্মরত রয়েছে। গত দশ বছরে পেশাজীবী, দক্ষ, আধা দক্ষ ও স্বল্প দক্ষ ক্যাটাগরিতে সর্বমোট ৬৬ লাখ ৩৩ হাজারের বেশি বৈদেশিক কর্মসংস্থান হয়েছে, যা এ পর্যন্ত মোট কর্মসংস্থানের প্রায় ৬০ শতাংশ। তার মধ্যে ২০১৯ সালে ৭ লাখের বেশি মানুষের বৈদেশিক কর্মসংস্থান হয়েছে।

নারীর ক্ষমতায়নকে অগ্রাধিকার বিবেচনায় নারীকর্মীর বৈদেশিক কর্মসংস্থানের প্রচেষ্টার কারণে এ সরকারের গত দশ বছরে মোট ৭ লাখ ৭৮ হাজারের বেশি নারীকর্মী বিভিন্ন পেশায় চাকরি নিয়ে বিদেশ গমন করেছেন।

অর্থমন্ত্রী বলেন, নিরাপদ অভিবাসন প্রক্রিয়া ও প্রবাসীদের সার্বিক কল্যাণ নিশ্চিতকরণে নানামুখী উন্নয়নমূলক কার্যক্রম গ্রহণ ও বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। অভিবাসন ব্যবস্থাপনাকে আধুনিকীকরণ করায় বিদেশে কর্মী পাঠানো প্রক্রিয়ায় অধিকতর গতিশীলতা ও স্বচ্ছতা আনা সম্ভব হয়েছে এবং অভিবাসন ব্যয় হ্রাস পেয়েছে। বর্তমানে বিদেশগামী প্রত্যেক কর্মীর মাইক্রোচিপ সংবলিত স্মার্ট কার্ড/বহির্গমন ছাড়পত্র প্রদান করা হচ্ছে। বিদেশগামী কর্মীদের ফিঙ্গার প্রিন্ট কার্যক্রম স্ব স্ব জেলায় বিকেন্দ্রীকরণ করা হয়েছে। পুনরায় মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমে ভিসা যাচাই (সউদী আরব, সিঙ্গাপুর, বাহরাইন, কাতার, মালয়েশিয়া ও ওমান) উদ্ভাবনের ফলে বিদেশগামী কর্মীরা সহজেই ভিসা যাচাই করতে পারছেন।

এছাড়া, অভিবাসন ব্যয় নিয়ন্ত্রণ, বৈধ রিক্রুটিং এজেন্টদের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিতকরণ এবং নিরাপদ অভিবাসন নিশ্চিত করার লক্ষ্যে আইনি কাঠামোতে সংস্কার আনা হয়েছে। এর ধারাবাহিকতায় ‘বৈদেশিক কর্মসংস্থান ও অভিবাসী ব্যবস্থাপনা বিধিমালা ২০১৭, ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ড আইন, ২০১৮ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান ও অভিবাসী (রিক্রুটিং এজেন্ট লাইসেন্স ও আচরণ) বিধিমালা ২০১৯ প্রণয়ন এবং বৈদেশিক কর্মসংস্থান ও অভিবাসী (রিক্রুটিং এজেন্ট শ্রেণী বিভাগ) বিধিমালা ২০২০ চূড়ান্ত করা হয়েছে।

অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল বলেন, প্রবাস আয় বৃদ্ধিতে প্রধানমন্ত্রী গত অর্থবছরের বাজেটে ২ শতাংশ হারে প্রণোদনা প্রদানের ঘোষণা দিয়েছিলেন। উদ্দেশ্য ছিল, রেমিট্যান্স পাঠাতে বর্ধিত ব্যয় লাঘব করা এবং বৈধ পথে অর্থ প্রেরণ উৎসাহিত করা। এই পদক্ষেপের কারণে ২০১৯-২০ অর্থবছরে ১ মাস বাকি থাকতে রেকর্ড ১৬ দশমিক ৫৬ বিলিয়ন ডলার প্রবাস আয় অর্জিত হয়েছে, যা দেশের অর্থনৈতিক চালিকাশক্তি হিসেবে বিশেষ অবদান রাখছে। তবে প্রধান প্রধান শ্রমবাজারে করোনাভাইরাসের ব্যাপক প্রাদুর্ভাবের কারণে এবং বিশ্বব্যাপী জ্বালানি তেলের মূল্য হ্রাসের কারণে আগামী অর্থবছরে প্রবাস আয়ের প্রবৃদ্ধি শ্লথ হতে পারে। তাই আগামী অর্থবছরেও এখাতে ২ শতাংশ হারে প্রণোদনা দেয়া হবে।

Facebook Comments

বাংলাদেশ সময়: ৩:৫৯ পূর্বাহ্ণ | শুক্রবার, ১২ জুন ২০২০

জাপানের প্রথম অনলাইন বাংলা পত্রিকা |

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত