ঘোষণা

করোনায় বৃদ্ধি পাচ্ছে বেকারত্ব

রেজুয়ান রিজভী : | রবিবার, ০৫ জুলাই ২০২০ | পড়া হয়েছে 90 বার

করোনায় বৃদ্ধি পাচ্ছে বেকারত্ব

রেজুয়ান রিজভী :

উন্নয়নশীল বাংলাদেশের উন্নয়নের ধারা কয়েক বছর যাবত্ অব্যাহত আছে। তবে উন্নয়নের এই ধারাকে সব থেকে বেশি প্রশ্নবিদ্ধ করে দেশের বেকার সমস্যা। দেশের উন্নয়নের সঙ্গে সঙ্গে বেকারত্বও বেড়ে চলেছে।

বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর তথ্য মতে ২০১০ সালে বেকার সংখ্যা ছিল ২০ লাখ, ২০১২ সালে ২৪ লাখ, ২০১৬ সালের দিকে ২৬ লাখ। বৃদ্ধির এই ধারার তথ্য বিশ্লেষণ করলে বোঝা যায় ২০২০ সালে বেকার সংখ্যা ৩০ লাখের বেশি।

আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা (আইএলও) এর ভাষ্যমতেও প্রায় ৩০ লাখের বেশি বেকার আছে এখন বাংলাদেশে। দেশের এমন বেকার সমস্যা নিয়ে সরকার ও সাধারণ মানুষ উদ্বিগ্ন। যদিও এই সমস্যা রাতারাতি দূর করা সম্ভব না। সরকার বেকারত্ব নিয়ে কাজ করে যাওয়ার কথা বলছে। তবে সমস্যাটা আরো বাড়িয়ে দিচ্ছে করোনা।

করোনার এই সংকটকালে বাড়ছে বেকারত্ব। ২৬ মার্চ সাধারণ ছুটি ঘোষণা করে সবকিছু বন্ধ করে দিলেও মানুষের জীবিকার কথা ভেবে শিথিলতার পথ বেছে নিতে হয়েছে। তবু সব ধরনের প্রতিষ্ঠান চালিয়ে নিতে পারছে না তাদের কার্যক্রম। চলছে সীমিত আকারে। চাহিদা কমে যাওয়ায় সেবামুখী ও উত্পাদনমুখী প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের উত্পাদন কমিয়ে দিয়েছে। এতে বাধ্য হয়ে কর্মী ছাঁটাই করতে হচ্ছে। যা বেকারত্বকে বাড়িয়ে দিচ্ছে।

এদেশের কর্মক্ষম ৬ কোটির ওপরে থাকা মানুষের মাঝে ৫ কোটির বেশি মানুষ অপ্রাতিষ্ঠানিক কর্মসংস্থানের অন্তর্ভুক্ত। যাদের আয় নির্দিষ্ট নয়। এদের মধ্যে প্রায় ১ কোটি ১০ লাখের মতো পারিবারিক কর্মসংস্থানে জড়িত যারা কোনো মজুরির অন্তর্ভুক্ত নয়। করোনায় সব থেকে বড় ক্ষতি হচ্ছে দেশের এই সব অপ্রাতিষ্ঠানিক কর্মসংস্থানে যুক্ত ব্যক্তিদের। রেস্টুরেন্ট, রিকশাচালক, পরিবহনকর্মীসহ অনেক অপ্রাতিষ্ঠানিক ব্যক্তি কর্মহীন হয়ে পড়েছে।

শুধু বাংলাদেশে না করোনার গ্রাস থেকে বাঁচতে পারেনি বড় অর্থনীতির দেশগুলোও। যুক্তরাষ্ট্রে করোনার আগে থাকা সাড়ে ৩ শতাংশ বেকারত্ব হার এখন বেড়ে দাঁড়িয়েছে সাড়ে ১৪ শতাংশের ওপরে। প্রায় ৪ কোটির মতো মানুষ বেকার ভাতার জন্য আবেদন করেছে। করোনা মোকাবিলায় লকডাউন কার্যকর করতে গিয়ে এমন সমস্যায় প্রায় সব বড় অর্থনীতির দেশই পড়েছে। জার্মানি, ইংল্যান্ড, ফ্রান্স, ইতালি, স্পেনসহ বিশ্বের প্রায় সব দেশেই বেড়েছে বেকারত্ব।

আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা (আইএলও) এর একটি পরিসংখ্যানে উঠে এসেছে ৩৩০ কোটি কর্মক্ষম মানুষের মধ্যে ৮৫ শতাংশ মানুষ করোনায় ক্ষতিগ্রস্ত। এইসব তথ্য জানান দিচ্ছে বাংলাদেশের বেকার সমস্যা কত ভয়াবহ রূপ ধারণ করতে যাচ্ছে। বাংলাদেশের বেকারদের মাঝে সব থেকে বেশি বেকার শিক্ষিতরা। যত বেশি শিক্ষিত হবে বেকার হওয়ার আশঙ্কাটা যেন তত বেশি।

শিক্ষিতদের বেকার হওয়ার পিছনে কয়েকটি কারণ বিদ্যমান। সব থেকে বড় কারণ চাকরি নিরাপত্তা ও অন্যসব চাকরি থেকে সুবিধা বেশি বলে সরকারি চাকরির পিছনে ছোটা। সরকারের পক্ষে প্রতি বছর চাকরির বাজারে আসা লাখ লাখ মানুষকে চাকরি দেওয়া সম্ভব না। এতেই বেড়ে যায় বেকার সমস্যা।

শিক্ষিতদের বেকার হওয়ার পিছনে আরেকটি অন্যতম কারণ হচ্ছে শিক্ষিতরা কায়িকশ্রমে নিজেকে নিয়োজিত করতে চায় না সামাজিক পদমর্যাদার কারণে। তাছাড়া আরেকটি কারণ বাংলাদেশের শিক্ষাব্যবস্থা। তার ওপর এখন আবার নতুন করে কেউ চাকরির বাজারে প্রবেশ করতে পারছে না।

করোনা দেশে বাড়তে থাকা এই বেকার সমস্যাকে বাড়িয়ে একদম ঘাড়ের ওপর বসিয়ে দিয়েছে। এখন থেকেই এই সমস্যা নিয়ে আলোকপাত না করলে করোনা পরবর্তী সময়ে অনেক বেশি ক্ষতির সম্মুখীন হতে হবে। তাই সরকারের উচিত দেশের কর্মসংস্থান সৃষ্টি করে সমস্যার লাগাম টেনে ধরা। কোনো দেশের পক্ষেই বেকার সমস্যা একদম নিরসন করা সম্ভব নয়, তবে নিয়ন্ত্রণে রাখা গুরুত্বপূর্ণ। তার সঙ্গে বেকারদের নিজের কর্মসংস্থান নিজের করে নিতে হবে।

করোনার এই সময়ে অনলাইনে ছোট ছোট কিছু প্রশিক্ষণ নিয়ে আত্মকর্মসংস্থানের মাধ্যমে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করা এবং স্থানীয় সরকারেরও উচিত তাদেরকে ঋণের ব্যবস্থা করে দেওয়া থেকে সামাজিকভাবেও সর্বোচ্চ সাহায্য সহযোগিতা করা। এভাবেই ধীরে ধীরে এই সমস্যা থেকে রেহায় পাওয়া যাবে।

লেখক :শিক্ষার্থী, ব্যাংকিং অ্যান্ড ইন্সুরেন্স বিভাগ,

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়

Facebook Comments

বাংলাদেশ সময়: ৯:৩৫ পূর্বাহ্ণ | রবিবার, ০৫ জুলাই ২০২০

জাপানের প্রথম অনলাইন বাংলা পত্রিকা |

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত