ঘোষণা

আবারও চাঙ্গা হচ্ছে দেশের অর্থনীতির চাকা

মোহাম্মদ রবিউল্লাহ | রবিবার, ০৯ আগস্ট ২০২০ | পড়া হয়েছে 89 বার

আবারও চাঙ্গা হচ্ছে দেশের অর্থনীতির চাকা

করোনা মহামারীর কারণে চার মাসের অনিশ্চয়তার পরে দেশের অর্থনীতিতে ঢাকা অন্ধকার কালো মেঘ দূরে চলে যেতে শুরু করেছে। দেশের অর্থনীতির সকল সূচকে ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা থাকায় দেশের অর্থনীতির আকাশে নতুন সূর্য উদিত হয়েছে।

ঈদুল আজহাকে ঘিরে আর্থিক ও ব্যবসায়িক ক্রিয়াকলাপ বাড়ায় বাজারে প্রচুর পরিমাণে নগদ অর্থ প্রবাহ হয়েছে। এটি ব্যবসায়ী, দোকানি এমনকি ফুটপাতের হকারদের মধ্যে লেনদেন বাড়িয়ে তোলেছে।

ঈদের ছুটির পর থেকে শুক্রবার (৭ আগস্ট) পর্যন্ত বহু সংখ্যাক মানুষ এক স্থান থেকে আরেক স্থানে চলাচল থাকায় পরিবহন খাতে বিপুল পরিমাণ তরল অর্থও লেনদেন হচ্ছে।
এ ছাড়া রেকর্ড বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ও রেমিটেন্সের প্রবাহ দেশের আর্থিক খাতকেও চাঙ্গা করেছে। এর বাইরে দেশের রফতানি আয় বৃদ্ধির হারও ইতিবাচক প্রবণতা দেখা যায়, যা ব্যবসায়ীদের মুখে হাসি এনে দিয়েছে।

ইতিমধ্যে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) এবং চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ (সিএসই )ও লাভজনক ধারা বজায় রেখেছে। কারণ আশাবাদী বিনিয়োগকারীরা পুঁজি বাজারে তাদের বিনিয়োগ অব্যাহত রেখেছেন।

অন্যদিকে, সরকারী গুদাম ও কৃষকদের ঘরে পর্যাপ্ত খাদ্যশস্য থাকায় দেশে এখন খাদ্য সংকট নেই। চলতি মৌসুমে বোরো ধানের বাম্পার ফলন হবে বলে আশা করা হচ্ছে। ইতোমদ্যে আমনের মৌসুমে ফসলের বাম্পার ফলন হয়েছে দেশে।
পাশাপাশি, করোনা ভাইরাস মহামারীতে বন্যাকবলিত ও দরিদ্র মানুষের মধ্যে খাদ্য ও কৃষিপণ্য সরবরাহ ও বিতরণ বজায় রাখার জন্য বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।
তবে এখনও রাজস্ব আদায় গতি পায়নি। আরও কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করার প্রয়োজন বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা।

বিশেষজ্ঞ ও ব্যবসায়ীরা বর্তমান পরিস্থিতি কাটিয়ে উঠার জন্য ক্ষতিগ্রস্থ খাতগুলোকে অবিলম্বে প্রদত্ত প্রণোদনা প্যাকেজ বাস্তবায়নের জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।
করোনার কারণে ৬৬ দিনের সাধারণ ছুটির পরে স্থগিত অর্থনীতি ধীরে ধীরে পুনরায় চালু করার জন্য সরকার দেশব্যাপী লকডাউন তুলে নিয়েছে।

এদিকে ব্যবসায়ীরা জানান, করোনাকালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার এমন সাহসী সিদ্ধান্ত দেশের অর্থনৈতিক ক্ষেত্রকে পুনরায় সক্রিয় করেছে। দেশের অর্থনীতির আচ্ছন্ন মেঘগুলো চলে যেতে শুরু করেছে। ২৩ মার্চ করোনা সংক্রমণের কারণে সরকার ২৬ মার্চ থেকে ৪ এপ্রিল পর্যন্ত দেশব্যাপী ১০ দিনের ছুটি ঘোষণা করে, প্রয়োজনীয় ও স্বাস্থ্যসেবা ব্যতীত সরকারী ও বেসরকারী অফিস বন্ধ করে দিয়েছিল। পরে এ ছুটি ৬৬ দিনের জন্য বাড়ানো হয়েছিল।

বাংলাদেশ শপ ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন জানিয়েছে, ঈদুল আজহায় সারাদেশে ১২ হাজার কোটি টাকার বেশি লেনদেন হয়েছে। এছাড়াও দেশজুড়ে গবাদি পশুর খামারিরা যারা বিপুল ক্ষতির আশঙ্কা করেছিলেন তারাও ন্যায্য দাম পেয়েছেন। কোরবানির পশুর ভাল দাম পাওয়ায় শেষ পর্যন্ত তারা বাজার থেকে হাসি ও আনন্দ নিয়ে বাড়ি আসেন।

অন্যদিকে, করোনা মহামারী সত্ত্বেও জুলাই মাসে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ও রেমিটেন্সের প্রবাহ দেশে নতুন রেকর্ড তৈরি করেছে। প্রবাসীরা ২.৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলার দেশে পাঠায় যা মাসের হিসেবে দেশের রেমিট্যান্সের ইতিহাসে সর্বকালের সবচেয়ে বেশি। জুনে দেশে রেমিট্যান্সের পরিমাণ ছিল ১.৮৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলার । একই সময়ে, দেশে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ৩১ জুলাই পর্যন্ত রেকর্ড হয়েছে ৩৭.২৮৭ বিলিয়ন ডলার ।
চলতি বছরের ৩০ জুন বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ছিল ৩৬.০১৬ বিলিয়ন ডলার, আগের বছরের জুনে তা ছিল ৩২.৭১৬ বিলিয়ন ডলার। বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ অভূতপূর্ব বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিল রেমিট্যান্স প্রবাহের বৃদ্ধি।

এছাড়াও করোনা মহামারীর প্রভাবের পরেও ২০১৯ সালের জুলাইয়ের তুলনায় এই বছরের জুলাইয়ে দেশের রফতানি আয়ও ০.৫৯ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জন করেছে। রফতানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) তথ্যের ভিত্তিতে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের জারি করা এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, জুলাই মাসে একক মাসের রফতানি আয় হয়েছে ৩৯১০.৯২ মিলিয়ন ডলার, যা গত বছরের জুলাই মাসে ৩৮৮৭.৮৬ মিলিয়ন ডলার ছিল।

Facebook Comments

বাংলাদেশ সময়: ৬:২১ অপরাহ্ণ | রবিবার, ০৯ আগস্ট ২০২০

জাপানের প্রথম অনলাইন বাংলা পত্রিকা |

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত